"প্রথমবার অপূর্ব সুন্দর চাঙ্গু লেক পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা"
|
|---|
Hello,
Everyone,
আশাকরি আপনারা সকলে ভালো আছেন, সুস্থ আছেন এবং আপনাদের সকলের আজকের দিনটি খুব ভালো কেটেছে।
সিকিম ভ্রমণের পরবর্তী পর্বে আপনাদেরকে স্বাগত জানাই। গতকালের পোস্টেই আমি আপনাদের জানিয়েছিলাম, আজ আপনাদের সাথে চাঙ্গু লেক পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা শেয়ার করবো।
চাঙ্গু লেক আবার সোমগো লেক নামেও পরিচিত। গ্যাংটক থেকে প্রায় ৩৮ কিমি দূরে ১২,৪০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত এই লেকটি একটি পবিত্র হিমবাহী হ্রদ হিসেবে বিখ্যাত। হ্রদটি শীতকালে বরফে ঢাকা থাকে এবং বসন্তকালে চারিদিকের ফুলগাছে ফোঁটা ফুলে ঘেরা থাকে। প্রধানত রঙ পরিবর্তনের জন্যই পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণীয় এই হ্রদটি।
|
|---|
গ্যাংটক-নাথুলা হাইওয়েতে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১২,৩১৩ ফুট (৩,৭৫৩ মিটার) উঁচুতে অবস্থিত এই হ্রদ। এখানকার প্রধান আকর্ষণ হলো চারপাশের বরফাবৃত পাহাড়, ইয়াকের পিঠে চড়ার অভিজ্ঞতা এবং মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্য। আর এটি দেখার জন্য ভারতীয় পর্যটকদের সিকিম ট্যুরিজম বিভাগ থেকে পারমিট সংগ্রহ করতে হয়। আমাদের জন্য অবশ্য আগে থেকেই আমাদের ড্রাইভার দাদা পারমিট করিয়ে রেখেছিলেন।
আবহাওয়া ও ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে হ্রদের জলের রঙ বদলে যায়, তবে শীতকালে এটি সম্পূর্ণ জমে বরফ হয়ে যায়। আর গ্রীষ্মকালে এর জল নীল রঙ ধারণ করে। সিকিম পরিদর্শনের সময় পর্যটকরা সাধারণত একই রুটে নাথুলা পাস, যেটা ভারত-চীন সীমান্ত হিসেবে পরিচিত এবং বাবা হরভজন সিং মন্দিরও পরিদর্শন করে থাকেন।
|
|---|
আবার অনেকেই আছেন শুধুমাত্র চাঙ্গুলেক দেখেই ফিরে আসেন। কারন নাথুলা পাস ও বাবা হরভজন সিং এর মন্দির দেখতে আরও অনেকটা উপরে উঠতে হয়, সেটা হয়তো অনেকের পক্ষে সম্ভব হয় না। তবে আমরা নাথুলা পাস দেখার উদ্দেশ্যেই গিয়েছিলাম। তার সাথে বাবা হরভজন সিং এর নতুন এবং পুরনো দুটো মন্দিরই দর্শন করার প্ল্যান ছিলো আমাদের।
তাই চাঙ্গু লেকে খুব বেশি সময় আমরা কাটাইনি। এমনকি ইয়াকের পিঠে চড়ার কোনো অভিজ্ঞতাও অর্জন করার সুযোগ পাইনি। অবশ্য আমাদেরকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন আমরা ইচ্ছুক কিনা, কিন্তু আমরা কেউই তাতে সম্মতি জানাইনি বলে, আর খুব বেশি সময় সেখানে নষ্ট করিনি।
|
|---|
শুধুমাত্র লেকের সামনে দাঁড়িয়ে চারিপাশের সৌন্দর্য্য দুচোখ ভরে উপভোগ করেছি। আমাদের ড্রাইভার দাদাও আমাদের সাথে ওখানে নেমেছিলেন। আসলে একটানা গাড়ি চালাতে চালাতে কখনো কখনো ওনারও একটু ব্রেক দরকার।
চাঙ্গু লেকের যেখানে আমরা দাঁড়িয়ে ছিলাম, তার উল্টোদিকেই আর্মিদের কোয়ার্টার ছিলো। সেখানে ছবি তোলা একেবারেই নিষিদ্ধ ছিলো। তাই গাড়ি থেকে নামার সময় আমাদের ড্রাইভার দাদা এই বিষয়ে আমাদেরকে বারংবার সতর্ক করেছিলেন।
|
|---|
লেকের সামনে দাঁড়িয়ে যতটা সম্ভব দুচোখ ভরে প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করলাম। দূরে বরফে ঢাকা পাহাড় গুলো এই লেকটিকে আরও অনেক বেশি সুন্দর করে তুলেছিলো। তবে মেঘের কারণে তা স্পষ্ট বোঝাও যাচ্ছিলো না। তবে যতদূর চোখ যাচ্ছিলো সবটাই অবর্ণনীয় সুন্দর ছিলো।
তবে ওই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে শীতকালে এই লেকটার সৌন্দর্য্য কিরকম হতে পারে, সেটা পরিকল্পনার চেষ্টা করছিলাম। যেহেতু শীতকালে আর এই নীল রঙের জল নয়, শুধু সাদা রংয়ের বরফ দেখা যায় এই লেকে।
|
|---|
যাইহোক ওখানে দাঁড়িয়ে সকলেই নিজেদের ইচ্ছামত কয়েকটা ছবি তুললো। প্রচন্ড ঠান্ডা ছিলো সেই সময়। তাই আমি খুব বেশি সময় আর দাঁড়িয়ে থাকিনি। তাড়াতাড়ি করে গাড়িতে উঠে বসেছিলাম।
সবমিলিয়ে আমরা হয়তো ওখানে ১০ থেকে ১৫ মিনিট সময় অতিবাহিত করেছি। তবে এই দশ পনেরো মিনিট চাঙ্গু লেকের যে অপূর্ব দৃশ্য চোখের দেখার সৌভাগ্য হয়েছিলো, তা সারাজীবন আমার মনের মণিকোঠায় রয়ে যাবে।
সেদিনের তোলা কিছু ছবি আমি আপনাদের সাথেও শেয়ার করলাম। আপনাদের কেমন লাগলো সেটা অবশ্যই মন্তব্যের মাধ্যমে জানাবেন। সকলে ভালো থাকবেন। শুভরাত্রি।