"রবিবারের স্পেশাল মেনু- চিকেন বিরিয়ানির রেসিপি"
-:বাড়িতে তৈরি চিকেন বিরিয়ানি:-
Hello,
Everyone,
আশা করছি সকলে ভালো আছেন,সুস্থ আছেন এবং আপনাদের সকলের আজকের দিনটি অনেক ভালো কেটেছে।
আপনাদেরকে গতকালকে জানিয়েছিলাম শশুর মশাইয়ের শরীরটা আবার বেশ খারাপ হয়েছে। বেশ কিছুদিন ধরেই তিনি বিরিয়ানি খাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন, কিন্তু নানান কারণে বাড়িতে বিরিয়ানি তৈরি করা হচ্ছিল না।
দোকান থেকে অবশ্য কিনে আনা যেতো, কিন্তু তিনি দোকানের বিরিয়ানি খেতে পছন্দ করেন না। আসলে বিরিয়ানি তৈরি করা আমার কাছে অনেক বেশি ঝামেলার মনে হয়, এই কারণে আমি তৈরি করতে চাই না।
অন্যদিকে আমিও বাইরের কেনা বিরিয়ানি খাই না। যে কারণে ভাবলাম, তাহলে বাড়িতেই আজ তৈরি করি,তাহলে শ্বশুর মশাইয়ের সাথে সাথে আমিও একটু খেতে পারবো 😊।
এইসব ভেবেই আজ বিরিয়ানি তৈরি করলাম। আসলে বিরিয়ানি অনেকেই অনেক রকম ভাবে তৈরি করে থাকেন, আমিও চেষ্টা করেছি নিজের মতন করে করার। আজকে সেই রেসিপিটি শেয়ার করব আপনাদের সাথে।
প্রথমে আপনাদেরকে জানাই, বিরিয়ানি তৈরি করতে আমি কি কি উপকরণ ব্যবহার করেছি, -
-:বিরিয়ানি তৈরীতে প্রয়োজনীয় উপকরণ:-
| উপকরন | পরিমাণ |
|---|---|
| ১.চিকেন | ৫০০ গ্ৰাম। |
| ২.আলু | ৪ (বড় সাইজের) |
| ৩.পেঁয়াজ | ৬ টি (মাঝারি সাইজের) |
| ৪.বাসমতি চাল | ৫০০ গ্রাম |
| ৫.আদা | ছোটো এক টুকরো |
| ৬.রসুন | ৮-৯ কোয়া |
| ৭.কাঁচা লঙ্কা | ৭-৮ টি |
| ৮.হলুদগুঁড়া | ১½ চা চামচ |
| ৯.কাশ্মীর লঙ্কাগুঁড়া | ১ চা চামচ |
| ১০.জিরা গুঁড়া | ১½ চা চামচ |
| ১১.ধনে গুঁড়া | ১চা চামচ |
| ১২.সরষের তেল | ছোটো এক কাপ |
| ১৩.লবন | স্বাদ অনুসারে |
| ১৪.কেওড়া জন | ২ চা চামচ |
| ১৫.মিঠা আতর | ৬-৭ ফোঁটা |
| ১৬.বিরিয়ানি মশলা | ৩ চা চামচ |
| ১৭.ফুড কালার | ½ চা চামচ |
| ১৯.ঘি | ১ চা চামচ |
| ২০.গোটা গরম মশলা | ১ চামচ |
| ২১.তেজপাতা | ৩ টি |
-:বিরিয়ানি তৈরীর পদ্ধতি:-
প্রথমে আমি মাংসগুলোকে ধুয়ে, ভালো করে জল ঝরতে দিলাম, পাশাপাশি বাসমতি চাল গুলো জলের মধ্যে কিছুক্ষণের জন্য ভিজিয়ে রাখলাম।
এরপর আমি বেরেস্তা ভাজার জন্য আলাদা করে পেঁয়াজ কেটে রাখলাম এবং কিছুটা পেঁয়াজ মাংস রান্না করার জন্য কাটলাম। তার সাথে সাথে আমি আদা ও রসুনের খোসা ছাড়িয়ে নিলাম ও কাঁচা লঙ্কা ধুয়ে নিলাম।
বিরিয়ানিতে ব্যবহার করার জন্য আমি যে তিনটি আলু ব্যবহার করেছি, সেগুলোকে টুকরো করে কেটে অল্প লবণ দিয়ে হালকা সিদ্ধ করে নিয়েছি। তারপর আমি তার মধ্যে অল্প একটু ফুড কালার ব্যবহার করেছি। কিছু ক্ষনের জন্য আলু গুলোতে লবণ এবং ওই ফুড কালার মেখে রেখেছিলাম।
এরপর আমি পরিমাণ মতন জিরে, ধনে, কাঁচা লঙ্কা, ও আদা শিল নোড়ায় ভালো করে বেটে নিলাম এবং তার সাথে পরিমাণ মতো হলুদ গুঁড়ো এবং কাশ্মীরি লঙ্কার গুঁড়ো মিশিয়ে রাখলাম।
এবার গ্যাস জ্বালিয়ে কড়াই বসিয়ে তার মধ্যে প্রয়োজনীয় তেল দিয়ে দিলাম। তারপর বেরেস্তাগুলো ভালো করে ভেজে তুলে রাখলাম। ওই তেলের মধ্যেই আমি ফুড কালার ও লবণ দিয়ে মেখে রাখা আলু গুলোকে দিয়ে, ভালো করে ভেজে তুলে নিলাম।
এরপর আমি মাংস রান্না করার জন্য পেঁয়াজ কুপিয়ে রেখেছিলাম সেগুলো দিয়ে ভালো করে ভেজে নিলাম। পেঁয়াজগুলো একটু ভাজা হয়ে গেলে, তার মধ্যে রসুন বাটা দিয়ে দিলাম। তারপর বেটে রাখা মশলার মিশ্রণ দিয়ে ভালো করে কষে নিলাম।
এরপর জল ঝরিয়ে রাখা চিকেনগুলো আমি ওই মশলার মধ্যে দিয়ে খুব ভালো করে মাংসগুলো কষে নিলাম। বেশ কিছুক্ষণ ঢাকা দিয়ে কষার পর মাংসগুলো নরম হয়ে গেলো।
এরপর ওর মধ্যে আমি গরম মশলার গুঁড়ো ছড়িয়ে দিলাম।তার সাথে অল্প একটু বিরিয়ানি মশলাও দিলাম। বলে রাখা ভালো বিরিয়ানি মশলাটা আমি বাড়িতেই তৈরি করে থাকি। পরিমাণ মতো সকল গোটা মশলা ভেজে গুঁড়ো করে ফ্রীজে রেখে দিই।
মাংসগুলো নামিয়ে নেওয়ার আগে আমি ওর মধ্যে অল্প পরিমাণে কেওড়া জল ও দুই ফোঁটা আতর দিয়ে দিলাম। যাতে মাংসগুলোর মধ্যে থেকেও বিরিয়ানির গন্ধ আসে।
মাংস হয়ে এলে আমি অন্যদিকে হাড়ি বসিয়ে দিলাম ভাত রান্না করার জন্য। পরিমাণ মতো জলের মধ্যে আমি তেজপাতা এবং গোটা গরম মশলা দিয়ে দিলাম। তার সাথে পরিমাণ মতো লবণও দিয়ে দিলাম। এরপর জলটা ভালো ভাবে ফুটে এলে, আমি ভিজিয়ে রাখা চাল গুলো ভালো করে ধুয়ে দিয়ে দিলাম।
ভাতগুলো অর্ধেকের বেশি হয়ে এলে, আমি ভালো করে মাড় ঝরিয়ে নিলাম। এরপর সব থেকে কঠিন কাজ সেটি হচ্ছে বিরিয়ানির লেয়ারিং করা। তবে আমার জন্য আজ কোনো সমস্যাই হয়নি। কারণ আমি অল্প পরিমাণে বিরিয়ানি করেছিলাম। তাই মাত্র দুটো লেয়ারেই সেটি সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছিল।
প্রথমে আমি মাংসের অল্প একটু ঝোল কড়াই এর একদম নিচে দিয়ে দিয়েছি। যেহেতু পরিমাণে অল্প তাই আমি কড়াইয়ের মধ্যেই দমে বসিয়েছিলাম। কারণ আমাদের বাড়ির বিরিয়ানির হাড়িটা অনেকটাই বড়।
ঝোল দেবার পর আমি অল্প পরিমাণে ভাত দিয়ে দিলাম এবং ভাতের উপরে অল্প পরিমাণে লবণ, বিরিয়ানি মশলা, ভেজে রাখা বেরেস্তা দিয়ে দিলাম। তারপর মাংস এবং আলু গুলো সাজিয়ে দিলাম। অল্প ফুড কালার দিলাম।
এরপর বাকি ভাতগুলো উপর থেকে দিয়ে দিলাম। আমি গোলাপ জলের গন্ধ একদমই পছন্দ করি না, এই কারণেই বাড়িতে বিরিয়ানি তৈরি করলে আমি গোলাপ জল ব্যবহার করি না। শুধুমাত্র কেওড়া জল ব্যবহার করি। যাইহোক ভাতগুলো দিয়ে,তার উপরে সব প্রথম লেয়ারের সবকিছু দিয়ে দিলাম।
সবশেষে আমি উপর থেকে ঘি, সামান্য কেওড়া জল ও তিন-চার ফোঁটা আতর দিয়ে দিলাম। সামান্য ফুড কালার দিয়ে, একটা থালা দিয়ে কড়াইটা ঢাকা দিয়ে, তার ওপরে নোড়া রেখে দিলাম, যাতে ভিতরের ভাঁপটা বাইরে বেরিয়ে না যায়।
অল্প পরিমাণে যখন বিরিয়ানি করা হয়, তখন আমি এই ভাবেই করি। আপনারা চাইলে ছোট হাড়ির মধ্যেও এই ভাবেই দমে বসাতে পারেন। এরপর গ্যাস জ্বালিয়ে রুটির তাওয়া বসিয়ে, তার উপরে আমি কড়াইটি বসিয়ে রাখলাম বেশ কিছুক্ষণের জন্য। এই সময় গ্যাস একদমই কমিয়ে রাখতে হবে, তা না হলে বিরিয়ানি তলা দিয়ে পুড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে।
এইভাবে আমি প্রায় ২০ থেকে ২৫ মিনিট বসিয়ে রেখেছিলাম। তারপর গরম গরম সার্ভ করেছিলাম। বাড়িতে তৈরি করা চিকেন বিরিয়ানি খেতে যথেষ্ট ভালো হয়েছিল। যদিও বিরিয়ানি রান্না করতে বেশ অনেকটা সময় যায়, কিন্তু সবশেষে রান্নাটা যদি ভালো হয়, তাহলে মনটাও ভালো লাগে।
আমি হয়তো অনেকবারই আগে বলেছি, রান্না করতে আমি একদমই পছন্দ করি না। কিন্তু এই ধরনের কিছু কিছু রেসিপি করতে ভালোই লাগে। তবে অবশ্যই যদি খাওয়ার পরে সকলে ভালো বলে তবেই।
আপনাদের কেমন লাগলো আমার তৈরি করা বিরিয়ানি রেসিপিটি? অবশ্যই কমেন্টের মাধ্যমে জানাবেন। সকলে ভালো থাকবেন। শুভ রাত্রি।
রবিবারের স্পেশাল রান্না চিকেন বিরিয়ানি তৈরি করার পদ্ধতিটা, আপনি আমাদের সাথে শেয়ার করেছেন। আমিও ঠিক একই ভাবে চিকেন বিরিয়ানি রান্না করে থাকি। তবে আপনার শেয়ারকৃত প্রত্যেকটা ফটোগ্রাফি জাস্ট অসাধারণ।
আমাদের এখানে বাজারে বেশিরভাগ খাসির মাংসের বিরিয়ানি পাওয়া যায়। যেটা আমি একেবারেই পছন্দ করি না। কিন্তু আমার ছেলেরা বেশ পছন্দ করে। আর আমি তাই চেষ্টা করি বাড়িতে রান্না করার জন্য। বাড়িতে রান্না করলে অন্তত চিকেন দিয়ে রান্না করা যায়। অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে, চিকেন বিরিয়ানি রান্না করার পদ্ধতিটা আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য। ভালো থাকবেন।
চিকেন বিরিয়ানির কথা টা শুনলে খাওয়ার আগ্রহ এবং অনেক ইচ্ছে বেড়ে যায়। আমার সব থেকে প্রিয় খাবার চিকেন বিরিয়ানি ।আর আপনি আজকে আমাদের সাথে আমার প্রিয় খাবার এর রেসিপি শেয়ার করেছেন আর তাই আমি আপনার পোস্টটি পেয়ে অনেক খুশি হলাম।আর আমার জেনে অনেক ভালো লাগলো যে আপনার চিকেন বিরিয়ানি টি খেতে ভালোই হয়েছে আর দেখে মনে হয়েছে যে ভালো হবে। ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন আর পরিবার ও নিজের খেয়াল রাখবেন আর আপনার পরবর্তী আকর্ষণীয় রেসিপির জন্য অপেক্ষা করছি।
রবিবারের স্পেশাল মেনু- চিকেন বিরিয়ানির রেসিপি আপনি আমাদের মাঝে খুবই সুন্দর ভাবে সাজিয়ে উপস্থাপনা করেছেন যা দেখে খুবই ভালো লাগছে দিদি। এবং আপনার চিকেন বিরিয়ানি দেখে নিজেদের তৈরি করার আগ্রহ অনেক বেড়ে গিয়েছে। অবশ্যই আপনার রেসিপি তৈরি করার জন্য চেষ্টা করব। ভালো এবং সুস্থ থাকবেন ধন্যবাদ আপনাকে।
আপনি অনেকটা আমারই মতো তাহলে।আামারও রান্না করতে একদমই ভালো লাগে না।রান্নাঘরে ঢুকতেই ইচ্ছে করে না আমার।
রান্না করি শুধু সবার প্রয়োজনে।বাসায় একা থাকলে একবেলা না খেয়ে থাকলেও রান্না করি না।
যা-ই হোক, আপনার বিরিয়ানির ছবি দেখে মনে হচ্ছে খেতেও ভালো হয়েছে। আর একদম ঝরঝরেও হয়েছে।
এত সুন্দর করে বিরিয়ানি রান্নার রেসেপি শেয়ার করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
শুভকামনা রইলো আপনার জন্য।
TEAM 5
Congratulations! Your post has been upvoted through steemcurator08.বিরিয়ানির বরাবরের মতো আমারও অনেক প্রিয়। তবে সময়ের কারনে ঘরে তৈরি করা হয়। বাইরের বিরিয়ানির থেকেও ঘরের বিরিয়ানি তৃপ্তি ভরে খাওয়া যায় এতে পেট আর মন দুটোই ভরে। আপনার তৈরি করা বিরিয়ানির রঙ অনেক লোভনীয় দেখাচ্ছে। আর অনেক ঝরঝরে হয়েছে তাই দেখতে বেশ সুন্দর দেখাচ্ছে। যাই হোক দেওয়া রেসিপি দিয়ে একবার চেষ্টা কটে দেখবো আপনার মত বিরিয়ানি করার।
আপনার পোস্ট পড়ে বুঝতে পারলাম আপনার শশুরমশাই অনেক দিন থেকে বিরিয়ানি খেতে চাচ্ছে ৷ আর বিরিয়ানি রান্না করতে আপনার ঝামেলা লাগে কারন বিরিয়ানি তে অনেক কিছু দিতে হয় এবং সময় ও লাগে ৷ তারপর আপনার শশুরমশাই দোকানের বিরিয়ানি খেতে পছন্দ করেন না , তার জন্য অবশেষে আপনি বাড়িতেই বিরিয়ানি রান্নার করার সিদ্ধান্ত নেন ৷ অবশেষে দেখতে পেলাম বিরিয়ানি রান্নার করার সব ধরনের উপকরণ এবং তার পাশাপাশি ধাপে ধাপে দেখিয়ে দিয়েছেন কিভাবে বিরিয়ানি রান্না করতে হয় ৷
যাই হোক দিদি আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ এত সুন্দর একটি বিরিয়ানির রেসিপি আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য ৷ ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন ৷ দিনটি আপনার শুভ হোক ৷ 🙏
দিদি আমার পছন্দের খাবারটা আজ আপনি শেয়ার করেছেন বিরিয়ানি নাম শুনলে কেমন যেন খাওয়ার একটা ইচ্ছা প্রকাশ করা হয়। তাছাড়া প্রকাশ না করেই উপায় কি আপনি যে সুন্দর ফটোগ্রাফি গুলো করেছেন দেখলেই তো চোখ ও মন জুড়িয়ে যায়😁
তবে আপনাকে তো অবশ্যই ধন্যবাদ দিতেই হবে কারণ ,যে সুন্দর করে ধাপে ধাপে রান্নার পদ্ধতিটা শেয়ার করেছেন, এটা থেকে আমি বিশেষ করে অনেক উপকৃত হয়েছি যে কেউ ঝটপট চাইলেই বাসায় বানিয়ে নিতে পারবে আপনার রেসিপিটা ফলো করে।
দিদি আবারো ধন্যবাদ দিচ্ছি কেননা আমি চাচ্ছি আপনি এরকম মজার মজার রেসিপি শেয়ার করবেন, যেটা দেখে আমরাও শিখতে পারবো ধন্যবাদ আপনাকে।
চিকেন বিরিয়ানির কথা মনে হলে জিভে পানি এসে যায়। সত্যি এটি অত্যন্ত লোভনীয় খাবার। আর আপনি ধাপে ধাপে যেভাবে বর্ণনা করেছেন বাবুর্চিরাও ঠিক সেভাবেই করে। কিন্তু ওদের কিছু আলাদা টেকনিকের কারণে বাড়ির থেকে তাদের রান্নার স্বাদ কিছুটা ভিন্ন হয়। আপনার রান্না একেবারেই ঘরোয়া রান্না এবং খুব চমৎকার ভাবে আপনি রান্না করেছেন। আপনার মত আমিও গোলাপ জল পছন্দ করি না। কেওড়া জল দিয়েই বিরিয়ানি রান্না করি।