অভাব কি মানুষের স্বভাব নষ্ট করে দিতে পারে?**
অভাব এই ছোট্ট শব্দটির মধ্যে লুকিয়ে আছে, আমাদের মতো কিছু মানুষের জীবনের অনেক বড় বড় কষ্ট, সংগ্রাম আর পরিবর্তনের ইতিহাস। এই প্রশ্নটি আজকে আমি সবার কাছে রাখতে চাই“অভাব কি মানুষের স্বভাব নষ্ট করে দিতে পারে?”এটি কিন্তু শুধুঊ একটি সাধারণ অনুসন্ধান নয়; এটি এক গভীর মনস্তাত্ত্বিক, সামাজিক এবং নৈতিক প্রশ্ন আমার কাছে মনে হয়, যার উত্তর খোঁজার মধ্যেই লুকিয়ে আছে আমাদের সমাজের বাস্তব চিত্র।
বর্তমান সময়ের মানুষ মূলত স্বভাবগতভাবেই নির্দিষ্ট কিছু গুণ ও নীতিতে বিশ্বাসী হয়ে বেড়ে ওঠে। ভালো-মন্দের পার্থক্য, ন্যায়-অন্যায়ের বিচার, সহানুভূতি ও নৈতিকতা এসবই একটি মানুষের স্বভাব গঠন করে বলে আমরা বিশ্বাস করি। কিন্তু বাস্তবতার কঠিন চাপে, বিশেষত অভাবের করাল গ্রাসে, অনেক সময় সেই গুণগুলো আমাদের মধ্যে স্থায়ী থাকে না। কোন না কোন একসময় অভাব আমাদের বাধ্য করে নিজের মূল্যবোধের সঙ্গে আপস করতে।
একজন দরিদ্র পিতা তার অসুস্থ সন্তানের জন্য যখন ওষুধ কিনতে পারে না, তখন চুরি করার চিন্তা তার মনে জেগে উঠে। একটি ক্ষুধার্ত শিশু যদি দিনের পর দিন না খেয়ে থাকতে হয়, হয়তোবা সময়ের সাথে সাথে সে একদিন অন্যের খাবার চুরি করতে শেখে। তখন কেউ যদি বলে, “এই ছেলেটি অসভ্য, চোর স্বভাবের,” সে হয়তোবা কখনোই বুঝতে পারে না, সেই অসভ্যতা জন্ম নিয়েছে তার গভীর অভাব থেকে।
এই অভাব মানুষকে শুধু আর্থিক দুর্বলতার মধ্যে ফেলে না, এটি তার আত্মবিশ্বাস ও আত্মসম্মান বোধকে ও ক্ষতিগ্রস্ত করে তাকে একজন দুর্বল মানুষ হিসেবে, সমাজের সামনে উপস্থাপন করতে সক্ষম হয়।। দিন দিন অভাবী মানুষ গুলো তাদের চারপাশের মানুষের কাছ থেকে অবহেলা পেতে পেতে একটা সময় তারা আত্মকেন্দ্রিক, রুক্ষ ও হতাশাগ্রস্ত হয়ে ওঠে। অনেক সময় সে সমাজের প্রতি প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে ওঠে,আর ঠিক তখনই তার স্বভাবের মধ্যে পরিবর্তন দেখা যায়।
আচ্ছা তাহলে সব ক্ষেত্রেই কি অভাব মানুষের স্বভাব নষ্ট করে? না, সব সময় তা কখনোই হয় না। অনেকেই কিন্তু এই অভাবকে নিজের শক্তি হিসেবে গ্রহণ করে, নিজের নীতিকে আঁকড়ে ধরে সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তারা জীবনের কষ্ট গুলোকে শিক্ষার উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করতে শিখে, ধীরে ধীরে তাদের স্বভাব আরও দৃঢ় ও সাহসী হয়ে ওঠে। যেমন বলা যায় বিশ্ববিখ্যাত অনেক সফল ব্যক্তির জীবন কিন্তু শুরু হয়েছিল দারিদ্র্যের তার মধ্য দিয়ে। তারা অভাবকে পরাজিত করলেও নিজেদের স্বভাবকে কখনোই বিকৃত হতে দেয়নি।
হ্যাঁ তবে এটি সত্য যে, সব মানুষ সমান মানসিক শক্তি বা সহায়তা পায় না। যার ফলে কিছু মানুষ অভাবের মুখে নিজের স্বভাব হারিয়ে ফেলে, আর কিছু মানুষ সেই অভাব থেকেই নিজের চরিত্র গড়ে তোলে।
উপসংহার
অভাব নিজে কখনো কোনো মানুষকে স্বভাবহীন করে তোলে না, কিন্তু অভাবের প্রভাব যখন সীমাহীন হয়ে যায়, যখন সহানুভূতি, সাহায্য ও মানবিক মূল্যবোধের অভাব ঘটে, ঠিক তখনই মানুষের স্বভাব বিপথে গিয়ে পড়ে। তাই সমাজকে শুধু অভাব দূর করার দায়িত্ব নিলে কখনোই চলবে না, বরং অভাবগ্রস্ত মানুষের পাশে গিয়ে দাঁড়িয়ে তাদের মানবিক মূল্যবোধ ধরে রাখতে সাহায্য করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে বলে আমি মনে করি। কারণ, একজন মানুষের স্বভাব—তার সত্যিকারের পরিচয়, আর সেটিকে ধরে রাখতে হলে দরকার তার মধ্যে সহানুভূতির, সম্মানের এবং সমর্থনের তাহলেই একটি একটি সুস্থ সমাজ আমরা আমাদের আগামী প্রজন্মের জন্য রেখে যেতে পারবো।
@tipu curate
;) Holisss...
--
This is a manual curation from the @tipU Curation Project.
Upvoted 👌 (Mana: 4/7) Get profit votes with @tipU :)