ঈদে বন্ধুদের সাথে কাটানো কিছু সুন্দর মুহূর্ত।
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারোকাতুহ।
সবাই কেমন আছেন? আশা করি আপনারা সবাই ভালো আছেন। আলহামদুলিল্লাহ আমিও ভালো আছি। আবারও আপনাদের মাঝে হাজির হয়ে গেলাম আমার আরেকটা নতুন পোষ্ট নিয়ে। ঈদের দ্বিতীয় দিন বন্ধুদের সাথে কাটানো কিছু সুন্দর মুহূর্ত আপনাদের সাথে শেয়ার করব।
কলেজ জীবন শেষ করার পর থেকে আর তেমন ভাবে ইচ্ছা করলেও বন্ধুদের সাথে সময় কাটানো, আগের মতো আড্ডা দেয়া হয় না। আমার সময় থাকলেও বন্ধুরা সব নিজেদের কাজে ব্যস্ত। কাউকে তো বেশির ভাগ সময় কল দিয়েও পাওয়া যায় না। কেউ জব করে, কেউবা ভার্সিটিতে পরে, কেউ বিয়ে করে নিজের সংসার নিয়ে ব্যস্ত। আবার কেউ বেকার জীবন যাপন করতেছে আমার মতো। সবার বাড়ী ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় হওয়ার কারণে এখন দেখা হয় না। আগে পড়াশুনার জন্য যখন মেসে থাকতাম তখন বন্ধুদের সাথে সময় কাটানো হতো। তবে ঈদের সময় আসলে বা কোনো অনুষ্ঠানের আয়োজন হলেই তখন বন্ধুদের সাথে দেখা হয়, কথা হয়, হয় বিভিন্ন মোলাকাত।
এবার ঈদের দুই দিন আগে আমার বড় খালা মারা যাওয়ার কারণে, মনটা তেমন ভালো ছিল না৷ এজন্য ঈদে তেমন কিছু কেনাকাটাও করেছিলাম না৷ ঈদের দিন নামাজ শেষে গোরস্থানে গিয়ে খালার কবর দেখে এসে চলে গিয়েছিলাম, ছোট খালাদের বাসায়, সেখান থেকে গিয়েছিলাম বোনের বাড়ীতে। এভাবে দিনটা কাটিয়েছিলাম। বন্ধুদের সাথে সময় কাটানোর সময় পেয়েছিলাম না৷ ঈদের দিন রাতে আমার কয়েকজন বন্ধুদের সাথে অনলাইনে কথা হয়, দেখা করার বিষয়ে। আমরা সন্ধার পর, আমাদের বাড়ীর পাশে গড়াই নদীর উপর নির্মিত ব্রীজে দেখা করার কথা বলি সন্ধার পর। মূলত আমাদের কুমারখালি শহরে আমরা যারা থাকি তারা দেখা করব। বেশির জনই আমরা বিভিন্ন উদ্দেশ্যে বাইরে ( ঢাকা) থাকি।
সন্ধার পর আমি আমার বন্ধু ইমনকে কল দিয়ে ব্রীজে আসার জন্য বলি। আমিও রেডি হয়ে ব্রীজের দিকে হাটতে শুরু করি। আমার বাড়ী থেকে ২ মিনিট হাটলেই ব্রীজে চলে যাওয়া যায়। ইমন আর আমি ব্যাচমেট। ডিপ্লোমা শেষ করে আমি এডমিশনের জন্য গাজিপুর চলে যায়, আর সে একটা বেসরকারি চাকরিতে যুক্ত হয়৷ তারপর থেকে তেমন দেখা হয় না। শুধু ঈদের ছুটিতে দুই জনের দেখা হয়। কুমারখালি শহরের মধ্যেই ইমনের বাড়ী। আমাদের সাথে ইকরা সহ আরও অনেকে যুক্ত হলো দেখা করার জন্য। আমরা প্রথমে দেখা করে একটা ফুসকার দোকানে যায়। সেখানে গিয়ে আমাদের সবার জন্য ফুসকার অডার দেয়।
ফুসকা খেতে খেতে আমরা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলি। এরপর ফুসকার বিল পরিশোধ করে আমরা হাটা শুরু করি। ব্রীজের উপর দিয়ে হাটতে হাঁটতে আমরা চলে যায় নদীর অপর পাড়ে। সেখানে ব্রীজের নিচে একটা বড় রেস্টুরেন্ট আছে। সেখানে বসে মানুষ নদীর সুন্দর প্রকৃতি দেখতে দেখতে সময় কাটায়। এর আগেও আমি সেখানে গিয়েছিলাম। রেস্টুরেন্টটা আমার এক স্কুল ফ্রেন্ড এর বাবা করছে। যার ফলে সেখানে গেলে আমরা বেশ কিছু সুবিধা পেয়ে থাকি। আমরা মোট সাতজন ছিলাম। প্রথমে গিয়ে কোনো বসার জায়গা পাচ্ছিলাম না। ঈদের জন্য প্রচন্ড ভির ছিল। যার ফলে জায়গা পাওয়া কষ্ট। আমরা একটা গোল ঘরের সামনে বেশ কিছুটা সময় অপেক্ষা করার পর সেটা খালি হলে আমরা সেখানে গিয়ে বসলাম।বসে আমরা কি খাবার অডার করব সেটা নিয়ে আলোচনা করতে করতে খাদ্য তালিকা দেখতেছিলাম।
অনেক ভেবে আমরা দুইটা মোগলাই পরোটা আর একটা এক লিটার মোজো অডার দিলাম। যে ছেলেটা মেনু কেটে নিয়ে গেল সে জানালো ২০ মিনিট মতো সময় লাগবে। এই সময়টা আমরা সবাই গল্প করতে ব্যস্ত। এর মাঝে আমি আমার এক বন্ধুর সাথে রেস্টুরেন্টের কমিউনিটি সেন্টারের ভিতরে ঢুকলাম। সেখানে ঢুকে বেশ কিছু ছবি তুললাম। জায়গাটা লাইটিং করে বেশ সুন্দর ভাবে সাজানো ছিল। ছবি তোলা শেষ করে এসেও বেশ কিছুটা সময় অপেক্ষা করা লাগছিল। তারপর আমাদের অডার করা খাবারটা চলে আসল।
খাওয়া দাওয়া শেষ করে আমরা আরও কিছুটা সময় সেখানে বসে ছিলাম এবং বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলাপ করতে ছিলাম। খাবারের ছবি তুলতে মনে ছিল না, যার জন্য আপনাদের সাথে শেয়ার করতে পারলাম না। মুহূর্তটা বেশ সুন্দর ভাবে কেটেছিল। দীর্ঘ দিন পর এভাবে বন্ধুদের সাথে সময় কাটালাম। আশা করি আপনাদের সবার কাছেও ভালো লাগছে। সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন। আবারও দেখা হবে আমার নতুন কোনো পোষ্ট নিয়ে।
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
ঈদ মানেই আনন্দ ঈদ মানেই খুশি আর ঈদ আসবে বন্ধুদের সাথে সময় কাটাবেন না ফুচকা খাবেন না সবাই মিলে আনন্দ করবেন না এটা তো আর হতে পারে না সাধারণত দেখেছি মেয়েরা ফুচকার প্রতি অনেক বেশি দুর্বল হয়ে থাকে তবে আপনারা ছেলেরাও যে ফুচকা খেতে পছন্দ করেন এটা আজকে আপনার পোস্ট পরিদর্শন করে বুঝতে পারলাম যাইহোক অসংখ্য ধন্যবাদ বন্ধুদের সাথে কাটানো আনন্দঘন মুহূর্তগুলো আমাদের সাথে তুলে ধরার জন্য ভালো থাকবেন।
অনেক ধন্যবাদ
আজকে আপনি বন্ধুদের সাথে ঈদে কাটানো মুহূর্ত শেয়ার করেছেন। ঈদ যেহেতু কেটে গেছে তাও আপনাকে জানাই ঈদের অনেক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। যে কোন উৎসব বা অনুষ্ঠানে বন্ধুদের সাথে সময় কাটাতে খুব ভালো লাগে। একসাথে বন্ধুদের সাথে অনেক প্ল্যানিং করা যায় এছাড়া জমিয়ে খাওয়া দাওয়া মজার আড্ডা গল্প দিয়ে দিনটা খুব সুন্দর ভাবে কেটে যায়। ঈদের দিনের সুন্দর মুহূর্তটা বন্ধুদের সাথে কাটিয়ে শেয়ার করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
অনেক ধন্যবাদ আপনার সুন্দর মন্তব্যের জন্য।