সারাদিন দারুণ খাওয়া-দাওয়া

in Incredible India15 hours ago

নমস্কার বন্ধুরা,

সকলে কেমন আছেন? আজকে আবারো চলে এসেছি আপনাদের সাথে নতুন একটি গল্প শেয়ার করে নেওয়ার জন্য। আশা রাখছি আপনাদের সকলের ভালো লাগবে।

বেশ কয়েকদিন আগে আমি আপনাদের সাথে আমার এই বছরের প্রথম জামাইষষ্ঠীর অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছি। সারা বছর তো জামাইরা তাদের শ্বশুরবাড়িতে বিশেষ আপ্যায়ন পেয়েই থাকে। তবে এই জামাইষষ্ঠীর দিনটা তাদের জন্য আরো অনেক বেশি স্পেশাল। এইদিন শ্বশুর বাড়ির সবাই তাদের জামাইকে নানা ভাবে আপ্যায়ন করতে ব্যস্ত থাকে। আর লোভনীয় সব রান্নার পদ ছাড়া কি এই আপ্যায়ন জমে! যদিও এই বছরের জামাইষষ্ঠী পড়েছিল শনিবারে। আর শনিবার দিন আমরা আমিষ খাই না। তাই সেই দিন হব নিরামিষ খাবার রান্না হয়েছিল। তবে জামাইকে তো আর শুধু নিরামিষ খাওয়ে শাশুড়িরা সন্তুষ্ট হতে পারেন না। তাই আমার মা বাড়িতে না থাকলেও বৌদিকে বলেছিল পরেরদিন মানে রবিবারে আমিষ রান্না করে জামাইকে আপ্যায়ন করতে। আজকে আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করব আমরা আর রবিবার সকাল থেকে কি কি খেয়েছিলাম।

1000455628.jpg

আমরা শনিবার দিন মাসির বাড়ি থেকে রাতের মধ্যে নিজেদের বাড়ি ফিরে এসেছিলাম। তারপর সকালবেলায় ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে বাড়িতেই কিছু খেয়ে নিয়েছিলাম। তারপর স্নান করে রেডি হয়ে চলে গিয়েছিলাম মায়ের বাড়িতে। সেখানে যেতেই আমাদেরকে লুচি, চিকেন কষা ও মিষ্টি খেতে দিয়েছিল। লুচি আমার বরাবরই খুবই প্রিয়। তাই আমি চারটে লুচি খেয়ে নিয়েছিলাম। খাওয়া-দাওয়া সেরে দুপুরের রান্নার কাজ শুরু হয়ে গিয়েছিল। যদিও বৌদি অনেক আগে থেকেই রান্নার কাজ শুরু করেছিল। তবে তখনো বেশ কিছু আইটেম রান্না করা বাকি ছিল। তাই আমিও বৌদিকে সাহায্য করার জন্য রান্না ঘরে গিয়েছিলাম। তারপর ননদ বৌদি মিলে গল্প করতে করতে সমস্ত রান্না করা শেষ করে ফেলেছিলাম।

1000455754.jpg

এরপর দুপুর আড়াইটা তিনটার দিকে জামাই কে নানা রকমের পদ সাজিয়ে খেতে দেওয়া হল। মেনুতে অনেক রকমের আইটেম ছিল। যেমন -- সাদা ভাত, পোলাও, ফ্রায়েড রাইস, মাছ ভাজা, শাক ভাজা, আলু ভাজা, পটল ভাজা, বেগুন ভাজা, ঝুড়ো আলু ভাজা, স্যালাড, ভেজা ডাল, চিংড়ি মালাইকারি, সর্ষে ইলিশ, পাবদা, ভেটকি পাতুরি, মটন, পনির পাসিন্দা, চাটনি, পাঁপড়, রসগোল্লা, কালোজাম, রসমালাই, দই, আরও হরেক রকমের মিষ্টি, লস্যি, জ্যুস, আইসক্রিম। সমস্ত খাবার গুলো পোড়া মাটির থালায় খুব সুন্দর ভাবে বৌদি সাজিয়ে দিয়েছিল। সত্যি কথা বলতে গেলে এত রকমের খাবার একবারই খাওয়া কোনভাবেই সম্ভব নয়। তবে প্রথমবারের জামাইষষ্ঠীটাকে আরও বেশি স্মরণীয় করে রাখতে বৌদি এতসব রান্না করেছিল। বৌদিদের বাপের বাড়ি জামাইষষ্ঠীর নিয়ম নেই তাই বৌদির জামাইষষ্ঠীর দিন নিজের বাবার বাড়ি যায় না। পরে গিয়ে কয়েকদিন থেকে আসে। তবুও আজকালকার দিনে দাঁড়িয়ে এত ভালো বৌদি পাওয়া সত্যিই খুব ভাগ্যের ব্যাপার। আমি হয়তো সেই দিক থেকে খুবই ভাগ্যবতী।

1000451832.jpg

আজ তাহলে এখানেই শেষ করছি। যদিও এখনো অনেক কিছু দেখানোর বাকি আছে। সেই সবকিছু না হয় আমি আমার পরবর্তী পোস্টে আপনাদের সাথে শেয়ার করছি। সকলে ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.32
JST 0.090
BTC 62154.06
ETH 1736.43
USDT 1.00
SBD 0.38