চিকেন দিয়ে তৈরি এঁচোড়
নমস্কার বন্ধুরা। আপনারা সকলে কেমন আছেন? আজ আবারও চলে এসেছি আপনাদের সাথে নতুন কিছু শেয়ার করে নেওয়ার জন্য। এই সময়কার আমার একটি পছন্দের সবজি হলো এঁচোড়। কাঁঠাল আমার বিশেষ পছন্দ না হলেও, এঁচোড় খেতে আমি ভীষণ ভালোবাসি। তাই এই সময় বাজার থেকে প্রায়ই এঁচোড় কিনে আনা হয়।
শুধু আমি নই, আমাদের পরিবারের সকলেই এঁচোড় খেতে খুব ভালোবাসে। আর আমার বৌদির রান্নার প্রশংসা তো আমি আমার অনেক পোস্টেই করেছি। গতকাল আজ পড়ানোর বাড়ি থেকে আমাকে বেশ কিছু সবজি দিয়েছিল। ওরা ওদের বাড়িতেই বিভিন্ন রকমের সবজির গাছ শখ করে লাগায় এবং খুব যত্নও করে। যার ফলে গাছগুলোতে ফলনও খুব ভালো হয়। তাই আমাকে ওই সবজি থেকেই বেশ অনেকগুলো টমেটো, শিম, কাঁচালঙ্কা, উচ্ছে ও একটা এঁচোড় দিয়েছিল। আর বাড়িতে কিছু বোনলেস চিকেন ছিল। খাসির চর্বি দিয়ে কিংবা মেটে দিয়ে অনেকেই এঁচোড় রান্না করে থাকে। তবে এগুলোর পাশাপাশি আমরা মাঝে মাঝে চিকেন দিয়েও এঁচোড় রান্না করি। আমি বৌদির কাছ থেকে জেনে নিয়েছিলাম কিভাবে বৌদি এত সুন্দর ভাবে এঁচোড় রান্না করে।তাই আজ আমি আপনাদের সাথে সেই রেসিপিটাই শেয়ার করতে চলেছি।
চলুন তাহলে জেনে নিই আমরা কিভাবে আমি আজকে রেসিপি টা বানিয়েছিলাম----
| নং | সামগ্রী | পরিমাণ |
|---|---|---|
| ১ | চিকেন | ৩০০ গ্রাম |
| ২ | আদা | পরিমাণ মতো |
| ৩ | নুন | স্বাদ অনুযায়ী |
| ৪ | হলুদ | পরিমাণ মতো |
| ৫ | সর্ষের তেল | পরিমাণ মতো |
| ৬ | এঁচোড় | ছোট সাইজের একটা |
| ৭ | টমেটো | ২ টো |
| ৮ | পেঁয়াজ | ২ টো |
| ৯ | আলু | ৩ টে |
| ১০ | রসুন | পরিমাণ মতো |
| ১১ | কাঁচা লঙ্কা | স্বাদ অনুযায়ী |
| ১২ | জিরে গুঁড়ো | ১ চামচ |
| ১৩ | এলাচ | ৩টে |
| ১৪ | তেজপাতা | ১টা |
| ১৫ | গরম মশলা | ১ চামচ |
| ১৬ | লঙ্কার গুঁড়ো | ১ চামচ |
| ১৭ | গোটা জিরে | সামান্য |
ধাপ ১ :
প্রথমেই এঁচোড় এবং আলু গুলোকে গোটা গোটা করে কেটে নিয়েছিলাম। যেহেতু এঁচোড়ের আঠা বটিতে এবং পাত্রে লেগে যেতে পারে তাই সরষের তেল ভালোভাবে লাগিয়ে নিয়েছিলাম। এরপর এঁচোড় ও আলু গুলোকে ভালোভাবে ধুয়ে নিয়েছিলাম।
ধাপ ২:
এরপর একটি পাত্রে পরিমাণ মতো জল নিয়ে সেটি গরম করে নেব। এরপর তার মধ্যে সামান্য লবণ ও হলুদ দিয়ে দেব। এরপর ভালোভাবে ফুটিয়ে নেব।
ধাপ ৩ :
জল ফুটে এলে তার মধ্যে কেটে রাখা আলু ও এঁচোড়গুলো দিয়ে দেব। তারপর এগুলো অর্ধেক সিদ্ধ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করব।
ধাপ ৪ :
অন্যদিকে বোন লেস চিকেন গুলোকে ছোট ছোট পিস করে কেটে নেব।
ধাপ ৫ :
এরপর পরিমাণ মতো পেঁয়াজ, রসুন, আদা , কাঁচা লঙ্কা ও টমেটো কেটে নেব।
ধাপ ৬ :
এরপর পরিমাণ মতো আদা, রসুন , কাঁচা লঙ্কা ও পেঁয়াজের একটা পেস্ট বানিয়ে নেব।
ধাপ ৭:
*ইতিমধ্যে এঁচোড় হাফ সিদ্ধ হয়ে এলে সেটিকে একটি ঝাঁঝরি থালার মধ্যে নামিয়ে নেব। এরপর ঠান্ডা জল দিয়ে সেটাকে ধুয়ে রাখবো। এঁচোড় খুব বেশি সিদ্ধ হয়ে গেলে আমার সেরকম ভালো লাগেনা তাই আমি রান্না করলে প্রথমে হাফ সিদ্ধ করে নিই। এবং পরে মসলা দিয়ে আরো একটু সিদ্ধ করি। *
ধাপ ৮:
এরপর কড়াইতে পরিমাণ মতো সর্ষের তেল দিয়ে, তেল গরম হয়ে এলে তাতে তিনটে গোটা এলাচ, সামান্য জিরে, ও একটা তেজপাতা দিয়ে দেব। এরপর তার মধ্যে পরিমাণ মতো পেঁয়াজ কুচি দিয়ে একটু নাড়াচাড়া করে নেব।
ধাপ ৯:
এরপর কেটে রাখা টমেটো কুচি তার মধ্যে দিয়ে দেবো। এরপর কিছুক্ষণ নাড়াচাড়া করব।
ধাপ ১০:
এরপর তৈরি করে রাখা মশলাটি এর মধ্যে ঢেলে দেবো এবং ভালোভাবে কষিয়ে নেব।
ধাপ ১১:
এরপর তার মধ্যে পরিমাণ মতো লবণ, এক চামচ লঙ্কার গুঁড়ো, এক চামচ জিরা গুঁড়ো ও এক চামচ হল দিয়ে দেব এবং এরপর মসলাটাকে ভালোভাবে কষিয়ে নেবো।
ধাপ ১২:
এরপর কিছুক্ষণ কষানোর পর মসলা থেকে তেল ছেড়ে এলে তার মধ্যে কুচি করে রাখা মাংসগুলো দিয়ে দেব এবং ভালোভাবে রান্না করে নেব।
ধাপ ১৩:
এরপর মাংসটা মসলার সাথে মিশে এলে তার মধ্যে অর্ধ সিদ্ধ করে রাখা আলু ও এঁচোড়গুলো দিয়ে দেব।
ধাপ ১৪:
এরপর ভালোভাবে নাড়িয়ে তার মধ্যে পরিমাণ মতো গরম জল দিয়ে দেব।
ধাপ ১৫ :
১২-১৫ মিনিট ভালোভাবে সিদ্ধ করে নিলেই তৈরি হয়ে যাবে আমাদের এঁচোড়। এরপর তার মধ্যে গরম মসলা দিয়ে নামিয়ে নেব।
তাহলেই তৈরি হয়ে যাবে আমাদের চিকেন - এঁচোড় ।
আজ তাহলে এখানেই শেষ করছি। আমার রান্না আপনাদের কেমন লাগলো সে কথা জানাতে ভুলবেন না। আগামীকাল আবার অন্য কোন গল্প নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হব। সকলে ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন।
এঁচোড় আসলে কোন জাতীয় খাবার সেটা আমার জানা নেই তবে আপনারা দেখছি চিকেন দিয়ে বেশ সুন্দরভাবেই এটা রান্না করেছেন দেখতে অনেক বেশি লোভনীয় দেখাচ্ছে আসলে একেক দেশের রান্না একেক রকম হয়ে থাকে এটা আমি বিশ্বাস করি যাইহোক অসংখ্য ধন্যবাদ চমৎকার রন্ধন প্রণালী আমাদের সাথে তুলে ধরার জন্য ভালো থাকবেন।
গরম পড়তেই এঁচোড় খেতে বেশ ভালই লাগে শুধু গরমকালে বলেই নাই এখন সারা বছরই কমবেশি এঁচোড় পাওয়া যায়। তবে এঁচোড় চিকেন কখনোই সেভাবে খাওয়া হয়নি। নামটাও কখনো শুনিনি। তবে মানুষ চাইলে সবকিছুই নিচের পছন্দমত রান্না করতে পারে। তুমি সমস্ত উপকরণ ছবিসহ প্রত্যেকটা ধাপে ধাপে তুলে ধরেছ। আমিও রেসিপিটি বাড়িতে তৈরি করার চেষ্টা করব ।সুন্দর রেসিপিটি শেয়ার করার জন্য তোমাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।