জামাইষষ্ঠী (শেষ পর্ব)
নমস্কার বন্ধুরা,
সকলে কেমন আছেন? আজকে চলে এসেছি আপনাদের সাথে আমার গত দিনের পোস্টের বাকি পর্ব শেয়ার করার জন্য। আগে পোস্টে আমি আমাদের প্রথমবারের জামাইষষ্ঠীর কিছু গল্প শেয়ার করেছি। প্রথম পর্বে আপনাদের সাথে শেয়ার করেছিলাম সকালবেলায় পুজো দিয়ে আসার পর আমরা চলে গিয়েছিলাম আমার বাবার বাড়ি এবং সেখানে আমরা কিভাবে সকালটা কাটিয়েছিলাম সেটাও ইতিমধ্যে শেয়ার করেছি। তারপর দুপুরবেলায় আমরা বেরিয়ে পড়েছিলাম মাসির বাড়ি যাওয়ার উদ্দেশ্যে। আজকে আমি আপনাদের সাথে আমার মাসির বাড়িতে জামাইষষ্ঠী উপলক্ষ্যে কাটানো কিছু মুহূর্ত শেয়ার করবো।
আমরা গিয়েছিলাম বাইকে করে। মাসির বাড়ি যেতে আমাদের সময় লেগেছিল ৩০ মিনিট মতো। মাসির চার মেয়ে , তার মধ্যে তিন মেয়ের বিয়ে হয়ে গিয়েছে। তাই আমি আগে থেকেই জানতাম যে এই দিন বাড়িতে অনেক মানুষের ভিড় থাকবে। তিন মেয়ে, তিন জামাই, তিন মেয়ের ৫ টা ছেলে মেয়ে। তাই মনে মনে খুব আনন্দে ছিলাম যে এত দিন পরে সকলের সাথে আবার দেখা হবে, আর সুন্দর একটা সময় কাটাতে পারব। তবে মাসির বাড়ি পৌঁছে আমার সব আনন্দ যেন শেষ হয়ে গেল। কারণ সেখানে গিয়ে জানতে পারি কিছু কারণবশত একটা দিদি এই বছর আসতে পারবে না। আর বাকি দুই দিদি এই বছর রাতে আসবে। আমরা যেহেতু সন্ধ্যের আগে আগেই বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেব তাই ওদের কারো সাথেই আমার দেখা হবে না জানতে পেরে খুব কষ্ট পেয়েছিলাম। দিদিরা যেহেতু প্রতিবছরই জামাইষষ্ঠীতে মাসির বাড়িতে আসে তাই আমি আগে থেকে ওদের কারো সাথে কথা বলে রাখিনি। ভেবেছিলাম দুপুরেই আসবে।
যাই হোক, কিছুক্ষণ বসার পর মাসি বললো আগে নিয়ম গুলো পালন করবে। তাই একটা আসন পেতে দিয়েছিল। সেখানে আমার বরকে বসতে বলেছিল। তারপর বট তলা থেকে পুজো দিয়ে আসা সামগ্রী দিয়ে আমার বরকে আশীর্বাদ করেছিল।
এরপর, আমরা কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিচ্ছিলাম। অন্যদিকে মাসি, আর মাসির ছোট মেয়ে নিশা রান্না করছিল। আমি কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেওয়ার পর রান্নায় সাহায্য করেছিলাম। সেই দিন যেহেতু শনিবার ছিল তাই রান্নার মেনুতে সব নিরামিষ আইটেমই ছিল। রান্না করতে বেশ অনেকটা সময় লেগেছিল। তারপর আমাদের খেতে দিয়েছিল। যেহেতু এই দিনটা জামাইদের জন্য খুবই স্পেশাল, তাই জামাইদের খুব সুন্দর করে সাজিয়ে খেতে দেওয়া হয়। খাবারের মেনুতে ছিল ---ফ্রাইড রাইস, স্যালাড, পাঁপড় ভাজা, ভেজা ডাল, আলু পটলের রসা, আলুর দম, পনির মাসালা, মিষ্টি লাল দই, রসগোল্লা, কালোজাম, ফ্রুটি, এক থালা রকমারি ফল আর তার সঙ্গে ছিল একটি থালায় চিঁড়ে, মুরখি, আম, কলা, কাঁঠাল, মিষ্টি।
সত্যি বলতে এত খাবার খাওয়া আমাদের পক্ষে সম্ভব হয়নি। খুব যৎসামান্যই আমরা খেতে পেরেছি। খাবার খুব টেস্টি হয়েছিল। খাওয়ার পর আমরা মাসির জন্য আনা গিফ্ট টা দিয়েছিলাম। মাসির জন্যেও একটা induction oven আর এক হাঁড়ি মিষ্টি নিয়ে গিয়েছিলাম। মাসিও আমাকে একটা শাড়ি আর আমার বরকে একটা শার্ট আর প্যান্ট দিয়েছিল। তারপর কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়েই আমরা সন্ধ্যের আগে আগে বাড়ি ফিরে এসেছিলাম।
এই ভাবেই আমরা এই দিনটা কাটিয়েছিলাম। আজ তাহলে এখানেই শেষ করছি। আগামীকাল আবার অন্য কোনো লেখা নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হব। সকলে ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন।