বাড়ির পুজোর প্রস্তুতি (পর্ব ১)

in Incredible India2 months ago

নমস্কার বন্ধুরা,

সকলে কেমন আছেন? আজকে চলে এসেছি আপনাদের সাথে একটি নতুন গল্প শেয়ার করার জন্য ‌। আশা করছি আপনাদের সকলের ভালো লাগবে।

গতকাল ছিল বুদ্ধ পূর্ণিমা। এই দিনে অনেকেই নিজেদের বাড়িতে কিংবা দোকানে লক্ষ্মীনারায়ণ দেব দেবীর পুজো করে থাকেন। তাই গতকাল আমাদের বাড়িতেও নারায়ন দেবের পুজো ছিল। সেই উপলক্ষ্যে তার আগের দিন রাত থেকেই আমাদের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তাই গতকাল সকালবেলায় খুব তাড়াতাড়ি আমরা সকলে ঘুম থেকে উঠে পড়েছিলাম। যেহেতু পুজো করার কথা ছিল বাবার মানে শ্বশুরমশাই এর আর ওনার আমাদের বাড়িতে পুজোর পরেও আরো অনেকগুলো পুজো ছিল তাই খুব সকাল সকাল সমস্ত কিছু গুছিয়ে নিতে হতো।

1000426028.jpg
সেই মতো সকালবেলায় ঘুম থেকে উঠে সবার প্রথমেই আমি আমাদের বাড়ির ফুল গাছ থেকে ফুল তুলে নিয়েছিলাম। তার আগে দিন রাতে বৃষ্টি হওয়ায় বাজার থেকে ফুল কিনে আনা সম্ভব হয়নি। তবে নিজেদের বাড়িতেই বেশ কয়েকটি ফুল গাছ রয়েছে। সেই ফুল দিয়েই পুজো হয়ে যেত। তাই আর ফুল কিনতে যেতে হয়নি। ফুলতলার পর আমি স্নান করে একটা লাল পাড় সাদা শাড়ি পরে রেডি হয়ে গিয়েছিলাম। তার আগে দিন রাতে আমার মা চলে এসেছিল আমার শ্বশুর বাড়িতে। মাও আমাকে সাহায্য করছিল। রেডি হয়ে আমি চলে গিয়েছিলাম ঠাকুর ঘরে। তারপর ফল কেটে নিয়েছিলাম।

1000426007.jpg
এরপর আমার শাশুড়ি মা ও ঠাকুর ঘরে এলেন। উনি পুজো করতে খুব ভালোবাসেন। সারা বছর বাড়ির পুজো উনি নিজেই করেন। পুজোর বিভিন্ন নিয়ম-কানুন সম্পর্কে উনি অনেক ভালো জানেন। তাই ঠাকুর ঘরে এসে সমস্ত কিছু গোছাচ্ছিলেন। আমিও হাতে হাতে সাহায্য করে দেখছিলাম। বাবা আমাদের সকলকে তাড়াতাড়ি রেডি করতে বলছিল কারণ ওনার আবার অন্য জায়গায় পুজো ছিল। ব্রাহ্মণ বাড়ির এই এক দারুণ সুবিধা। ঠাকুর মশাই বাড়িতেই থাকে তাই আর পুরোহিত/ ঠাকুর মশাই এর জন্য অপেক্ষা করতে হয় না। যদিও এই সুবিধা আমি আমার বাবার বাড়িতেও পেতাম, কারণ আমার বাবারবাড়িও ব্রাহ্মণ। যাইহোক অল্প সময়ের মধ্যেই আমরা সমস্তটা গুছিয়ে নিয়েছিলাম।

1000426008.jpg
যেহেতু বহু বছর ধরে আমাদের ঠাকুর ঘরের ঠাকুর গুলো দুটো জল চৌকির ওপর বসানো আছে তাই আমার শাশুড়ি মা সিংহাসনে ঠাকুর বসাতে চান না। যদিও আমার ইচ্ছে আছে এই বছর মাকে মানিয়ে একটা সিংহাসন বানানোর। দেখা যাক, সেটা সফল হয় কি না। নারায়ণ দেবতার খুব পছন্দের প্রসাদ হলো সিরণী, যেটা আটা, দুধ, কলা, আখের গুড়, নারকেলকোড়া, সন্দেশ ইত্যাদি দিয়ে মাখিয়ে বানানো হয়। নারায়ণ পুজোয় এই প্রসাদ রাখতেই হয়। তাই মা সিরণী প্রসাদ বানিয়ে নিয়েছিল। সমস্ত প্রসাদ ঠাকুরের সামনে গুছিয়ে দিয়েছিলাম। পুজোর জন্য প্রথমে অল্প ফল কাটা হয়েছিল। পুজো শেষ হলে বাকি ফলগুলো কেটে নিয়েছিলাম।

1000426010.jpg
এইভাবেই সকাল থেকে আমরা আমাদের পুজোর প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছিলাম। এরপর কিভাবে আমাদের পুজো সম্পন্ন হল এবং তারপর আমরা কি কি করলাম সেই বিষয়ে আপনাদের সাথে আমার পরবর্তী পোস্টে আমি শেয়ার করব। আজ তাহলে এখানেই শেষ করছি। আগামীকাল আবার আপনাদের সাথে গল্প হবে।

Sort:  
Loading...

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.32
JST 0.090
BTC 62666.97
ETH 1762.17
USDT 1.00
SBD 0.39