ছুটির দিনে ঘুরাঘুরি। পর্ব-২
সবাই কেমন আছেন? |
|---|
Edited by Canva
গতকালকে ছুটির দিনে ঘোরাঘুরি-পর্ব ১ শিরোনামে একটি ব্লগ শেয়ার করেছিলাম যেখানে জলসিড়ি কেন্দ্রীয় মসজিদ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছি। আজকে আমি ছুটির দিনে ঘোরাঘুরি এর ২য় পর্ব নিয়ে হাজির হয়েছি। আশা করি আজকেও আমার সাথে থাকবেন।
১৬ই ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে সরকারি ছুটি, তো আমরা প্রথমে কেন্দ্রীয় মসজিদ ঘুরা শেষ করে বাইকে করে রওনা দিলাম জলসিড়ি ক্যান্টিনমেন্ট পাব্লিক স্কুলের দিকে। সেখানে গিয়ে দেখি গেট বন্ধ তাই আর ঢুকতে না পেরে আবারো যাত্রা শুরু করলাম। উদ্দেশ্য জলসিড়ির একদম উত্তর দিকের শেষ মাথা। যেখানে শেখ রাসেল ক্যান্টনমেন্ট স্কুল রয়েছে। আমরা আস্তে ধীরে বাইক চালিয়ে ১০ মিনিটের মধ্যে স্কুলে গেটের সামনে চলে এলাম। এই স্কুলটিও বন্ধ।
এই স্কুলে এর আগে একবার গিয়েছি। ভেতরে অনেক সুন্দর। বিশেষ করে এই স্কুলের খেলার মাঠ। এই কারণেই গিয়েছিলাম। কিন্তু মেইন গেইট বন্ধ থাকায় আর ভেতরটা বন্ধুকে দেখাতে পারলাম না।
স্কুলে ঢুকতে না পেরে আমরা চলে গেলাম ১১ নং সেক্টরের পাশে। মেইন রোডের পাশে অনেক গুলো প্লট বরাদ্দ হয়েছে। প্রতিটি সেক্টরের রাস্তা গুলো অসম্ভব সুন্দর। ভেতরের রাস্তা গুলো কোলাহল মুক্ত৷ সদ্য পিচ ঢালা রাস্তায় গেলেই আপনার হাটতে ইচ্ছে করবে।
আমার মেয়ে সেখানে গিয়ে কোল থেকে নেমেই দে দৌড়। মনে হচ্ছে যেন সে খাচা থেকে মুক্তি পেল। এমন খোলামেলা যায়গা পেলে বাচ্চারা ছুটাছুটি করতে ভালোবাসে। আমিও তাকে উৎসাহ দিলাম। সে তার মত করে দৌড়ে বেরাক।
আমরা সেখানে বেশ কিছুক্ষন সময় কাটালাম। সবাই মিলে বেশ কিছু ছবি ক্যাপচার করলাম। মানুষ কোথাও ঘুরতে গেলে সেই স্মৃতি গুলো বড়জোর ২-৩ মাস মনে করতে পারে। এর পর সব স্মৃতি মনে থাকে না। তাই ঘুরতে গেলে স্মৃতি গুলোকে আমি যতটুকু পারি ক্যামেরাবন্দী করে রাখি। কারণ আজ থেকে ১০ বছর পর পুরনো ছবির এলবাম ঘাটলেই আমার এই দিন গুলির কথা মনে পড়বে।
এদিকে সন্ধ্যে নেমে আসছে। এবার বাড়ির দিকে যেতে হবে। আমরা বাইক নিয়ে বাড়ির দিকে রওনা হলাম। ১০০ ফিটের মাথায় এসে নতুন ব্রীজের উপর দেখলাম অনেক ভীড়। সবাই পশ্চিমা আকাশের ডুবন্ত সূর্য ক্যামেরাবন্দী করতে ব্যস্ত। আমরাও এই অপরূপ সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে ব্রীজের উপরে নেমে গেলাম।
ঢাকায় বসে এমন সূর্যাস্থ দেখতে পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার। বড় বড় দালান কোঠার আড়ালে কখন সূর্য ঊঠে আর কখন ডুবে যায় টের ই পাওয়া যায়ানা। আমরা ভালোই কাটালাম। ব্রীজের রেলিং এর দিকে তাকিয়ে দেখলাম একটা ছোট ফড়িং। তারাতারি তাকে ক্যামেরা বন্দী করে ফেললাম।
ওই দিকে সন্ধ্যা প্রায় নেমে এলো। আমরা বাড়িতে চলে এলাম। মেয়েকে বাসায় রেখে সোজা মসজিদে গিয়ে মাগরিবের সালাত আদায় করে নিলাম জামাতের সাথে।
নামাজ শেষে বন্ধুকে নিয়ে চলে গেলাম পাশের রেস্টুরেন্টে। এই রেস্টুরেন্ট দেখতে অনেক সুন্দর। বিশেষ করে বসার জায়গা গুলো।
আমরা এক কাপ করে কফি খেয়ে আমাদের ঘুরাঘুরি পর্বের ইতি টানলাম।
সপ্তাহের ছুটির দিনটি কেমন যেন দ্রুত ফুড়িয়ে গেলো। অনেক জায়গায় ঘুরেও যেন মনে হচ্ছিল আরো কিছু সময় পেলে ভালো হতো। অনেক দিন পর এভাবে ঘুরতে পেরে খুব ভালো লাগলো। আমার আজকের ঘোরাঘুরি কেমন লাগলো অবশ্যই জানাবেন
জলসিড়ি কেন্দ্রীয় মসজিদের পরে গেলেন জলসিড়ির উত্তরের একেবারে শেষ দিকে। মাঝে যে স্কুলে ঢুকতে চেয়েছিলেন গেট বন্ধ থাকায় তা সম্ভব হলো না। তবে কোলাহল মুক্ত পরিবেশে, সদ্য পিচঢালা রাস্থায় শুধু মেয়ে নয়, সাথে আপনিও বেশ ভালো সময় কাটিয়েছেন দেখলাম। ক্যামেরাবন্দি করার এই অভ্যাসটা খুব ভালো, যা ভবিষ্যতে এই সকলস্মৃতি রোমন্থন করার সুযোগ দেয়। বিজয় দিবস উপলক্ষে ছুটিটি শেষ করলেন বন্ধুর সাথে এক কাপ কফি খেয়ে। এর থেকে ভালো আর কি হতে পারে। ধন্যবাদ আপনাকে এতো সুন্দর একটি ভ্রমনীয় দিনের স্মৃতি আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য। ভালো থাকবেন।
নতুন পিচঢালা রাস্তা গুলো আসলেই অনেক মন কাড়া হয়।
ভবিষ্যতে স্মৃতি গুলো মনে রাখতে তা ক্যামেরাবন্দী করার কোন বিকল্প নেই। তাই আমি বেশি বেশি পিক তুলি কোথাও ঘুরতে গেলে।
ধন্যবাদ দিদি, আমার ২য় পর্বটিও পড়ে এত সুন্দর মন্তব্যের জন্যে
বিজয় দিবসের উপলক্ষে সরকারি ছুটি তাই ঘুরতে গিয়েছেন জলসিড়ি কেন্দ্রীয় মসজিদ।। আপনার মেয়ের হাসি মাশাআল্লাহ।।
আর আপনি শেখ রাসেল ক্যান্টনমেন্ট স্কুল সম্পর্ক কিছু কথা বলেছে সেই সাথে আরো যা যা দেখেছেন সবকিছুই খুব সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করেছেন।।
ভ্রমণ করতে কে না ভালোবাসে আর ভ্রমন করলে মনটা অনেক ফ্রেশ থাকে।।
ধন্যবাদ ভাই। মেয়ের জন্যে দোয়া করবেন।
অবশ্যই ভাই মন থেকে দোয়া করি আপনার মেয়ে সবসময় ভালো থাকুক আর আপনাদের ইচ্ছা পূরণ করুক।
বিজয় দিবসের সরকারি ছুটির উপলক্ষে বাবা মেয়ে জলসিটি কেন্দ্রীয় মসজিদে। সেখানে বেশ কয়েকটি ফটোগ্রাফি করলেন। এবং আপনি শেখ রাসেল ক্যান্টনমেন্ট স্কুল সম্পর্ক কিছু কথা বলেছে এবং আরো যা যা দেখেছেন খুব সুন্দর ভাবে উপস্থাপনা করলেন।
অসংখ্য ধন্যবাদ বাবা মেয়ে খুব সুন্দর একটা জায়গায় ভ্রমন করতে গেলেন থ্যাঙ্ক ইউ।
আওনাকেও ধন্যবাদ আপু, আমাদের ঘোরাঘুরি পোস্ট পড়ে মন্তব্য করার জন্যে। ভালো থাকবেন।
প্রথমে বলবো আপনার তোলা প্রত্যেকটু ছবি অনেক সুন্দর হয়েছে। বিশেষ করে রক্তিম সূর্যের ছবিটি। তবে হ্যা ঠিক বলেছেন শহরের বড় বড় দালান কোঠার জন্য এরকম সূর্যাস্ত দেখা যায় না। রাস্তা গুলে কত সুন্দর পরিষ্কার এরকম পরিষ্কার রাস্তায় কত খালি পায়ে হেঁটেছি শেখ রাসেল স্কুলটির পরিবেশ দারুণ সুন্দর। মসজিদের ভিতরে লর জায়গা তো অনেক বিশাল। ছুটির দিন গুলো যেন চোখের পলকেই শেষ হয়ে যায়। ধন্যবাদ আপনাকে এত সুন্দর একটা ছুটির দিনের গল্প ও সুন্দর সুন্দর ছবি আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য।
একদম সত্য যে ছুটির দিন নিমিষেই শেষ হয়ে যায়। প্রতিবারই মনে হয় যদি আরো কিছু সময় পাওয়া যেত।
আজকে আপনার ঘুরতে যাওয়ার দ্বিতীয় পর্ব আমাদের সাথে শেয়ার করেছেন, ছুটির দিন আসলেই এদিক-সেদিক ঘুরতে যেতে মনে চায়। আপনারা জলসিঁড়ি মসজিদ দেখে এর পরে রওনা করেছিলেন শেখ রাসেল ক্যান্টনমেন্ট স্কুল এন্ড কলেজ দেখার জন্য, কিন্তু সেখানে মেন গেট তালা বদ্ধ থাকার কারণে ভিতরে ঢুকতে পারেননি।
আসলে বাইক থাকলে অনেক জায়গায় ঘোরাফেরা করা যায়, কিন্তু গাড়িতে সেভাবে চলাফেরা করা যায় না কারণ রাস্তায় জ্যামের অবস্থা খুবই খারাপ।
পরিশেষে বলবো আপনার কিউট বেবির যত্ন নেবেন এবং ছোট থেকেই ভালো কিছু শিখিয়ে গড়ে তোলার চেষ্টা করবেন ইনশাআল্লাহ।
ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন,আপনার জন্য শুভকামনা রইল।
বাইক নিয়ে ঘুরে একটু বেশি শান্তি পাই। কারণ যখন যেদিকে ইচ্ছে মুভ করা যায় যেটা নরমাল বা অয়াব্লিক ট্রান্সপোর্ট এ সম্ভব নয়। আমার ভ্রমণের সাথি এই বাইক।
প্রথমেই বলতে চাই আপনার মেয়ের ও আপনার ফটোগ্রাফি গুলো খুবই মন কাড়া হয়েছে। আপনারা বাবা মেয়ে বেশ ভালোই ঘুরে বেড়ালেন। আপনার মেয়েটি নিশ্চয়ই অনেক শান্ত থাকে আপনার সাথে থাকলে। আপনি ক্যান্টনমেন্ট ও জলসিঁড়ির চারপাশে অনেকক্ষণ
ঘুরে বেড়ালেন। এদিক থেকে ৩০০ ফিটের রাস্তায় গাড়ি চালাতে খুবই ভালো লাগে। আপনার ঘোরাঘুরির দুটি পর্ব পড়লাম। খুব ভালো লাগলো পড়ে।
একদম ই আপনার ভুল ধারণা, আমার মেয়ে অনেক দুরন্ত সভাবের। তাকে সামলিয়ে রাখা ইনেক কষ্টের, বিশেষ করে বাইরে নিয়ে গেলে যেন আর বেশি দুরন্ত হয়ে যায়।
প্রথমে আপনার আর আপনার মেয়ের ফটোগ্রাফি সত্যিই অসাধারণ। আলহামদুলিল্লাহ আপনার মেয়ে যথেষ্ট কিউট তার জন্য অনেক অনেক ভালোবাসা ও দোয়া রইল
আপনি আপনার বন্ধুকে এবং আপনার মেয়েকে নিয়ে এসেছেন ১৬ই ডিসেম্বর সরকারি ছুটির দিনে ঘোরাফেরা করার জন্য।অসাধারণ একটা দিনের কার্যক্রম গুলো শেয়ার করেছেন।
ধন্যবাদ আপু, আমাদের জন্যে মন থেকে দোয়া করবেন।
Congratulations! This post has been upvoted through Curation Team#2. We support quality posts , good comments anywhere and any tags.
Curated by : @fombae
@fombae
Thanks for your apparition.
আপনার প্রথমত কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে ঘুরেছেন। এরপর শেখ রাসেল ক্যান্টনমেন্ট স্কুল এন্ড কলেজে ঘুরতে গিয়েছেন। আসলে বাইক থাকলে মাঝে মাঝেই ঢাকা শহরের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ানো যায়। কিন্তু বাইক না থাকলে ঘুরে বেড়ানোটা অসম্ভব। কেননা জ্যামের মধ্যে পড়ে থাকতে হয় ঘন্টার পর ঘন্টা। রাস্তার মধ্যে নিরিবিলি বসে বাবা-মেয়ে অনেক মজা করেছেন। আসলেই আপনি ঠিক বলেছেন ঢাকা শহরে বসে এমন সূর্যাস্ত দেখাটা অনেক বেশি ভাগ্যের ব্যাপার। অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে, আপনার বন্ধুর সাথে কাটানো আনন্দঘন মুহূর্তটা আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য। শীতের সময় আপনার মেয়ের দিকে একটু লক্ষ্য রাখবেন। ভালো থাকুন।
অসংখ্য ধন্যবাদ আপু, আমাদের ঘোরাঘুরি পর্ব সম্পূর্ণ পড়ে এত সুন্দর মতামত দেয়ার জন্যে। দোয়া করবেন।