মামীর জন্মদিনের ছোট্ট আয়োজন
নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন ?আশা করছি সকলেই ভালো আছেন। আজকে আবারো নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে। আশা করছি সকলেই ভালো লাগবে।
আজকের কাটানো সুন্দর মুহূর্ত আপনাদের মাঝে শেয়ার করব। আজ ২৪ শে বৈশাখ আজকে ছিল আমার বড় মামির জন্মদিন। গতকাল ২৫ শে বৈশাখ কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মদিন। তাই তার আগের দিনটি আমার মামীর জন্মদিন ।তাই প্রত্যেকবার মনে থাকে। কোন বার ভুল হয় না। একটা মজার বিষয় হলো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আগের দিন যেমন আমার মামীর জন্মদিন ঠিক তেমনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মৃত্যুর আগের দিন আমার মামার মেয়ের জন্মদিন ।মানে বাইশে শ্রাবণ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মৃত্যু দিন আর একুশে শ্রাবণ আমার বড় মামার মেয়ের জন্মদিন। এর আগে বহুবার পোস্টে শেয়ার করেছি যে মামার বাড়িতে কোন কিছু হলেই আমাকে তারা সবকিছুতেই নিমন্তন্ন করে ।কোন কিছু থেকেই বাদ দেয় না। বিশেষ করে বড় মামা আর মামি।
কিন্তু এ বছরে আমি নিজে থেকেই বারণ করেছিলাম যে আমাকে কোন কিছুর সাথে না জড়ানোর জন্য। তবুও মামা দিদার কিছুতেই শুনবে না ।আমাকে মামীর জন্মদিনের দিন দুপুরবেলায় চলে যেতে বলেছিল। বর যেহেতু কাজে ব্যস্ত তাই তাকে আর বিরক্ত করিনি । মামার বাড়িতে যাওয়ার জন্য জোর করিনি। সকাল হতে না হতেই দিদা ব্যস্ত হয়ে পড়ে কখন তার কাছে ছুটে যাব। আসলে সকলের থেকে দিদা আমাকে বেশি ভালোবাসে। তাই আজকে সকাল বেলায় ঘুম থেকে ওঠার পর বাড়ির কিছু কাজকর্ম সে চলে গিয়েছিলাম মামার বাড়িতে ।আমি মামার বাড়িতে যাওয়া মাত্রই দিদা ভীষণ খুশি ।আমি প্রত্যেকদিনই দিদার বাড়িতে যাই দিদার সাথে সময় কাটানোর জন্য ।তবুও যেন তাদের কাছে আমি গেলেই তারা সকলেই খুশি হয়।
দিদা প্রত্যেকবার বাংলা মাস পড়ার সাথে সাথে আমার কাছে জিজ্ঞেস করে মামীর জন্মদিনের আগের দিন আমাকে মনে করিয়ে দিস ।আমি মামিকে পায়েস রান্না করে দেবো। তাই আমাকেই প্রত্যেকবার দিদাকে মনে করিয়ে দিতে হয়। আসলে বয়স্ক মানুষ মনে থাকে না। মামী ও দিদার হাতে পায়েস খেয়ে ভীষণ খুশি হয়। কারণ মামীর মা নাকি কোনদিন সেভাবে মামীর জন্মদিনে পালন করতেন না। তাই মামি শাশুড়ি মায়ের হাত থেকে প্রত্যেকবার পায়েস খেয়ে ভীষণ খুশি হয়। প্রত্যেক মেয়েরা এইরকম শ্বশুর বাড়ি চায়। সমস্ত রান্না আজকে বড়ো মামা নিজের হাতে করেছিল ।আজকে যেহেতু মামীর জন্মদিন ।তাই আজকের দিনটা মামীর জন্য রান্না বান্না থেকে ছুটি ছিল।
একদম ঘরোয়া ভাবে যেরকম পাঁচ তরকারি ,ভাত রান্না করে জন্মদিন পালন করা হয়। ঠিক সেই রকম ভাবেই মামীর জন্মদিন পালন করা হয়েছিল ।এর থেকে বেশি কিছু হয়নি। দুপুরবেলায় সুন্দরভাবে আমি নিজের হাতে সাজিয়ে গুছিয়ে মামিকে খেতে দিয়েছিলাম। মামি কে খেতে দেওয়ার পর দিদা মামিকে দুহাত ধরে আশীর্বাদ করল ।এরপর আমরা বাড়ির সকলে মিলে একসাথে বসে খাওয়া দাওয়া করেছিলাম। আসলে এই ক্ষণিকের আনন্দই আমাদের জীবনে স্মৃতি হয়ে থেকে যায়। প্রত্যেক বছর মামির বাবা আসে মামীর জন্মদিনে। কিন্তু এ বছরে দু মাস আগেই তিনি গত হয়েছে। তাই মামির একটু মন খারাপ ছিল। স্মৃতির পাতা থেকে একদিন আমরা ও মুছে যাবো।এই ছোট ছোট মূহুর্ত গুলো সকলের মনের কোণে থেকে যাবে।
সন্ধ্যা বেলায় কথা ছিল কেক কাটবার। কিন্তু মামি আর মামীর মেয়ের মধ্যে বেঁধে যায় ঝামেলা। তাই রাগ করে আর মামা কেক আনিনি ।আর কেক কাটাও হয়নি। মামি কেক কাটা জিনিসটা একটু অপছন্দ করে। কারণ কোনদিন সেভাবে তার জন্মদিন পালন করা হয়নি। প্রত্যেক বছর এইভাবেই পালন করা হয়।তাই এইসব বিষয়গুলো থেকে এড়িয়ে চলে ।আমরা জোর করেছিলাম কিন্তু মামী বলল শাশুড়ি মায়ের হাতে পায়েস খেয়েছি এর থেকে আর বেশি কিছু চায় না। আজকের দিনের মুহূর্ত এই টুকুনি সুন্দরভাবে মামার বাড়ি সকলের সাথে আনন্দে দিনটি কাটিয়েছি। সেই মুহূর্তে আপনাদের মাঝে তুলে ধরলাম।
আজ এইখানেই শেষ করছি। আবার নতুন কোন গল্প নিয়ে হাজির হব আপনাদের মাঝে।
@tipu curate
Upvoted 👌 (Mana: 6/9) Get profit votes with @tipU :)
center>

Curated by : @edgargonzalez
যতটুকু দেখলাম আপনারা ছোট ছোট মুহূর্তগুলোকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য বিভিন্ন ধরনের জিনিসের আয়োজন করে থাকেন যেমন আপনার মামীর জন্মদিনে আপনারা চমৎকারভাবে কিছু আয়োজন করেছেন যদিও আয়োজন ছোট তার পরেও বলল এটা কিন্তু খুবই চমৎকার ছিল বিশেষ করে ছোট ছোট মুহূর্তগুলো জীবনের ভালো থাকার কারণ হয়ে থাকে যাইহোক আপনার মামীর জন্মদিনে আপনাদের অল্প আয়োজনের বিষয়টা আমাদের সাথে তুলে ধরার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ ভাল থাকবেন।