
হ্যালো বন্ধুরা,
আজকের দিনটি খুব বেশী ভালো ছিলো না আমার জন্য, একটু অন্যরকম ফ্যাঁকাসে টাইপের ছিলো, হৃদয়ের কোনায় মানবতার জায়গাটা অন্ধকারে ঢেকে গিয়েছিলো। সত্যি বলতে মাঝে মাঝে পত্রিকা পড়ার পর বড্ড বেশী হতাশ হয়ে পড়ি। কারন কিছু কিছু খবর হৃদয়ের উচ্ছ্বলতাকে দারুণভাবে থামিয়ে দেয়, মানুষ নামের সত্যতা খুঁজে পাই না তখন, আয়নার সম্মুখে গিয়ে নিজের চেহারাটা বার বার দেখতে মন চায়। মানুষ নামের এই চেহারার আড়ালে কেমন করে এতো কুৎসিত একটা হৃদয় লুকিয়ে থাকে আমাদের মাঝে।
আমরা আধুনিক প্রযুক্তির উৎকর্ষতার যুগে বসবাস করে নানা ধরনের প্রসাধনী সামগ্রীর ব্যবহার নিশ্চিত করে এই মুখটাকে মানে উপরের খোলসটাকে কত উজ্জ্বলভাবে প্রকাশ করার চেষ্টা করি কিন্তু ভেতরের হৃদয়টাকে কখনো কি পরিবর্তন করার চেষ্টা করি? কখনো কি চেষ্টা করি মানবতার বিষয়টিকে সম্মুখে আনার? প্রশ্নগুলো প্রশ্ন হয়েই ধুলোর আস্তরে ঢেকে যায় কিন্তু আমাদের বিবেক কে কখনো ন্যাড়া দেয় না, আমরা কখনো মুখোশের আড়াল হতে নিজেদের বের করতে চাই না বরং লোভের মানসিকতাকে উত্তোরত্তর আরো বৃদ্ধি করে চলি, নিজের কামনার চাহিদাকে আরো বড় করে তুলি।
সত্যি আধুনিক সভ্যতার শীর্ষে অবস্থান করেও মাঝে মাঝে নিজেকে বড্ড বেশী তুচ্ছ মনে হয়, মানুষ হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিতে কুণ্ঠাবোধ হয়। মানুষ কিভাবে এতোটা নিষ্ঠুর হয়, কিভাবে পারে একজন অবুঝ শিশুর সাথে অমানবিক আচরণ করতে, শুধু মাত্র কিছু টাকার লোভে, হায়রে মানুষ! ধিক্কার জানাই সেই সকল মানুষরুপি অমানুষগুলোর অস্তিত্বকে, তাদের দেখে মাঝে মাঝে নিজেকে অস্বীকার করতে মন চায়!
আজকের প্রথম আলোর পত্রিকার মাধ্যমে জানতে পারলাম, হাসপাতালের বিল পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ার সন্তানের অক্সিজেনের নল খুলে ফেলেন হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ, যার কারনে শিশুটি মারা যান। এ কোন সভ্যতায় বসবাস করছি আমরা, যেখানে জীবনের নূণ্যতম মূূল্য নেই, যেখানে সেবার নামে মানুষ হত্যাকে বৈধতা দেয়া হয়! খবরটি পড়ার পর সত্যি মনটা অনেক খারাপ হয়ে যায়, নিজেকে কোথায় যেন হারিয়ে ফেলি। যার ফলশ্রুতিতে আজ সকালে খুব একটা এ্যাকটিভ ছিলাম না আমার বাংলা ব্লগের ডিসকর্ডে, আসলে খারাপ হলেও নিজের মাঝে কিছু একটার অস্তিত্ব এখনো অনুভব করি, বিবেকের আয়নায় নিজেকে দাঁড় করাই এবং কিছু উত্তর জানার ব্যর্থ চেষ্টা করি। যাইহোক, মন খারাপের দিনে আজ একটি কবিতা শেয়ার করছি আপনাদের সাথে-

মাঝে মাঝে বড্ড বেশি হতবাক হই
পত্রিকার খবরে মর্মাহত হই,
মানবতা আজ শুধুই কথায়
বাস্তবতায় খুঁজে পাওয়া না যায়।
মানুষ নাকি মানুষের জন্য
গানের বাণীতে মেলায় কণ্ঠ,
হৃদয়ের মাঝে বসবাস ভিন্ন কিছু
লোভের কাছে মানবতা ভূলুণ্ঠিত।
চাকুরী হতে ব্যবসা অথবা চিকিৎসা
কোথাও নেই আজ সত্যিকার সেবা,
চকচকে সাইনবোর্ডের আড়ালে
লুকায়িত স্বার্থে মোড়ানো ব্যবসা।
শিশু কিংবা নারী, হোক না বৃদ্ধা
অসহায়-দরিদ্র তাতে নেই চিন্তা,
টাকা ছাড়া সহযোগিতার কামনা
এ যেন নির্মম অযথার্থ ধারণা।
মানুষ আসে আবার হারিয়ে যায়
স্মৃতির পাতায় থেকে যায় নাম,
শূণ্যতায় হয়েছিলো যার আগমন
শূণ্য হাতের হয় আবার প্রস্থান।
সবকিছুর মূলে রয়েছে লোভ
প্রাপ্তির অতিরিক্ত কামনা,
মানবত্ব গুনাবলী পড়ছে চাপা
অস্বচ্ছতায় বিবেক থাকছে ঢাকা।
Image taken from Pixabay 1 and 2
ধন্যবাদ সবাইকে।
@hafizullah



আমি মোঃ হাফিজ উল্লাহ, চাকুরীজীবী। বাংলাদেশী হিসেবে পরিচয় দিতে গর্ববোধ করি। বাঙালী সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য লালন করি। ব্যক্তি স্বাধীনতাকে সমর্থন করি, তবে সর্বদা নিজেকে ব্যতিক্রমধর্মী হিসেবে উপস্থাপন করতে পছন্দ করি। পড়তে, শুনতে এবং লিখতে ভালোবাসি। নিজের মত প্রকাশের এবং অন্যের মতামতকে মূল্যায়নের চেষ্টা করি। ব্যক্তি হিসেবে অলস এবং ভ্রমন প্রিয়।

ভাইয়া আপনি একটি বাস্তব মানুষ রূপি হায়নাদের গল্প আমাদের মাঝে তুলে ধরেছেন। শরৎচন্দ্র একটা কথা ছিল বাঘের পেট থেকে বাঘ হয়, কুকুরের পেট থেকে কুকুর হয় কিন্তু মানুষের পেট থেকে কখনো মানুষ হয় না। আপনার পোষ্টটি পড়ে আমার সে কথা মনে পড়ে গেল। আমাদের চারপাশে মুখোশধারী মানুষের সংখ্যা এত বেশি যে যারা সামান্যটুকু স্বার্থের জন্য সামান্যটুকু অর্থের জন্য অন্যের জীবন নিতে দ্বিধা বোধ করে না। তাদের কাছে মনুষ্যত্ব মানুষের প্রেম কখনো স্থান পায় না। তারা যে কাজটি করেছে সামান্য অর্থের জন্য অক্সিজেনের নল খুলে ফেলে একটি শিশুকে হত্যা করেছে অথচ তাদের হওয়ার কথা ছিল মানবিক হৃদয়ের। তাদের দেখে সমাজ শিক্ষা নেওয়ার কথা ছিল অথচ তাদের হীন পশুত্ব প্রকাশে সমাজ আজ বিপন্ন প্রায়।মানুষ নামটি কলঙ্কিত প্রায়।
Congratulations, your post has been upvoted by @dsc-r2cornell, which is the curating account for @R2cornell's Discord Community.
মানুষ আর মানুষের মত নেই। এখন যে কোন কিছুতেই স্বার্থ ছাড়া এক পা এগিয়ে আসে না।ভাইয়া আপনি এ কবিতা এক বারে বাস্তববাদী কবিতা।ধন্যবাদ ভাইয়া।
মানুষ নামের মানুষগুলো মানসিকতার দিক হতে অনেকটাই পরিবর্তন হয়ে গেছে, শুধু মুখশে ঢেকে রেখেছে উপরটা। ধন্যবাদ
আইয়ামে জাহেলিয়াতের যুগ এর থেকেও খারাপ মনে হয় আজকের এই আল্ট্রা মডার্ন যুগ কে । শুধুমাত্র কিছু মানুষরূপী অমানুষ গুলোর জন্য । টাকার জন্য শিশুর মুখ থেকে অক্সিজেন খুলে ফেলা কতটা নিষ্ঠুর এবং নির্মম হলে এমন কাজ করা যায় ।
ভাইয়া আপনার কবিতার এই অংশে মানুষরূপী অমানুষ গুলোর সত্তিকারের চরিত্রকে ফুটিয়ে তুলেছেন । 👌❤️
মাঝে মাঝে আমারও তাই মনে হয়, জাহেলিযাতের যুগও মনে হয় এর চেয়ে ভালো ছিলো। ধন্যবাদ
সমাজের বাস্তব চিত্রটা কবিতায় দারুণ ভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। লোভ আর অতিরিক্ত প্রাপ্তির নেশায় বুদ হয়ে সবাই জীবনকে আনন্দহীন আর কলুষিত করছে। ভালো লাগলো কবিতাটা।
সেটাই, অতিরিক্ত প্রাপ্তির আশা আমাদের বিপদগামী করে দেয়, ভুল কিছু করতে উৎসাহিত করে। ধন্যবাদ
ভাইয়া এগুলো কিয়ামতের আলামত। যখন মানুষের মধ্যে কোন মনুষ্যত্ব থাকবে না এবং সবকিছুই টাকার আওতায় চলে যাবে তখন এই দুনিয়াটা আর স্বাভাবিক থাকবে না এগুলো তার প্রমাণ। তবে এখনো কিছু ভালো মানুষ অবশ্যই আছে যার কারণে পৃথিবীতে টিকে আছে। মানবতার জয় হোক। আপনার রচিত কবিতাটির খুবই ভালো লেগেছে ভাইয়া। প্রতিটি লাইনের কথাই চমৎকার করে লিখেছেন আপনি।সত্যি, হয়তো আর খুব বেশী দেরী নেই কেয়ামতের, যার কারনে মানুষগুলো একটু বেশী আগ্রাসী হয়ে উঠছে। ধন্যবাদ
🥺🥺🥺🙏🙏🙏
পৃথিবী উন্নত হচ্ছে, মানুষ উন্নত হচ্ছে তবে মানুষের ভেতরের মনুষত্ব দিনদিন অন্ধকারের অতল গভীরে তলিয়ে যাচ্ছে। আজকাল মানুষ তার স্বার্থের আগে সব কিছুকে তুচ্ছ মনে করে। এমনকি পয়সার বিনিময়ে জীবণটাও মূল্যহীন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কর্মকান্ড দেখে সত্যি নিজেদেরকে মানুষ হিসেবে পরিচয় দিতে লজ্জা লাগছে। ঘৃণা হচ্ছে মানুষ জাতির উপর। আজকাল দুনিয়াতে এমন হয়েছে যে, "যেমন পানির অপর নাম জীবন। ঠিক তেমনই মানুষের অপর নাম স্বার্থ হয়ে দাঁড়িয়েছে"।
মানুষরূপী অমানুষদের নিয়ে খুব সুন্দর কবিতা লিখেছেন ভাইয়া। শুভকামনা রইল আপনার জন্য।
ভাইয়া অসাধারন সুন্দর একটি কবিতা উপহার দিয়েছেন আপনি। আপনার কবিতাটি বর্তমান মানুষের স্বভাব চরিত্রের বাস্তবতার সাথে শতভাগ মিল রয়েছে। বর্তমান সমাজের মানুষ মুখে যতই ভালো বক্তব্য দিয়ে বেড়ায় কিন্তু তাদের ভিতর মন্দে পরিপূর্ণ। সুন্দর একটি কবিতা উপহার দেয়ার জন্য ভাইয়া আপনাকে জানাই অসংখ্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা।
সত্যিই শিশুটির জন্য খারাপ লাগছে।কিন্তু খবরের কাগজে প্রতিনিয়ত এই ধরনের খবর দেখা যায়, সেখানে মানবতা নামের লেশমাত্র নেই।একদম কলিযুগকে শক্ত করে আঁকড়ে ধরেছে এইসব মানুষ নামের বিবেকহীন মানুষগুলো।যারা প্রতিনিয়ত এই ধরনের কাজকর্ম করে চলেছে সব বিবেককে জলাঞ্জলি দিয়ে।আর আমাদের মতো সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে খেলছে।ভালো লিখেছেন কবিতাটি।ধন্যবাদ ভাইয়া।
আমার সারাদিনই মনডা খারাপ ছিলো সত্যি, মানুষ কেমনে পারে এতোটা নিষ্ঠুর হতে!
এটা পড়ার জন্যে প্রস্তুত ছিলাম না।আসলেই আমরা মানুষ হিসেবে অমানুষ হয়ে যাচ্ছি।