নদীর ঘাটে অচেনা ছায়া ( পর্ব ১৩ )
Image Created by OpenAI
আজকে আপনাদের সাথে 'নদীর ঘাটে অচেনা ছায়া' গল্পের ১৩ তম পর্ব শেয়ার করে নেবো। তো ঘটনা এইরকম হওয়ার পরে কিন্তু তার মনে এখন একটা ভয়ংকর প্রশ্ন ঘুরতে থাকে, অর্থাৎ সে কি সত্যিই সেই মৃত ছেলেটা? নাকি আরও বড়ো কোনো রহস্য লুকিয়ে আছে এর মধ্যে? এরপর হরিদাস কাকার সঙ্গে সেদিন ঘাট থেকে ফেরার পর অয়ন যেনো পুরো বদলে গেল। তার চোখে এখন ভয় আছে, কিন্তু তার থেকেও বেশি একটা উত্তর খোঁজার তীব্র আকাঙ্ক্ষা তাকে অস্থির করে তোলে। সে বুঝে গেছে যে, এটা কোনো সাধারণ ঘটনা নয়। এটা তার সাথেই জড়িত রয়েছে তার অতীত, যা সে মনে করতে পারছে না। এরপর রাতে খাওয়ার পর অয়ন নিজের ঘরে চুপচাপ বসে ছিল। আজ আর সে পালাবে না এবং সে ঠিক করলো, আজ যদি কিছু আসে, তাহলে সে তার মুখোমুখি হবে।
ঘড়িতে তখন রাত ১টা, পুরো বাড়ি নিঃশব্দ এবং জানলার বাইরে হালকা কুয়াশা। অয়ন ধীরে ধীরে সেই লোহার লকেটটা হাতে নিল, যেটা সে ঘাট থেকে পেয়েছিল। এরপর সে আবার সেটার ভেতরটা খুললো এবং ভেতরে একটা ছোট্ট ছবি পেলো। ছবিটা অনেক পুরনো, প্রায় মুছে গেছে বলা যায়। কিন্তু তবুও বোঝা যাচ্ছে, সেখানে দুজন মানুষ আছে। একটা ছোট ছেলে আর তার পাশে একজন বড়ো মানুষ। ছেলেটা অয়ন নিজেই! কিন্তু পাশে থাকা মানুষটা কে? তার মুখটা আবার পরিষ্কার না, কিন্তু অয়ন অনুভব করলো- এই মানুষটা তার জীবনে খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। হয়তো তার বাবা? কিন্তু তার বাবা তো এখনো বেঁচে আছেন! তাহলে এই ছবি কবে তোলা? ঠিক তখনই ঘরের ভেতর হালকা ঠান্ডা হাওয়া বইতে শুরু করলো। জানলা বন্ধ, দরজা বন্ধ, তবুও বাতাস আসছে। অয়ন ধীরে ধীরে মাথা তুললো, কিন্তু তার বুকের ভেতর ধকধক করতে লাগে।....