Book Review:- "সাতকাহন" - সমরেশ মজুমদারের কালজয়ী উপন্যাস❗
Hello,guys. Assalamualaikum! Eid Mubarak. How are you all?
◾আজকের স্টিম বাংলাদেশের কনটেস্ট হলো "BOOK REVIEW ".
◾আজকে আমি এই কনটেস্ট এ পার্টিসিপেট করছি।আমি আজকে যেই বইটি রিভিউ করবো,তা হলোঃ
◾ বইয়ের নামঃসাতকাহন
◾ লেখকঃসমরেশ মজুমদার
sourceইন্ট্রোডাকসন:-
◼️আমি এই বইটি বেঁছে নেওয়ার কারণ হলো, কালে কালে অনেক লেখক,লেখিকা এসেছেন।তবে পুরোনো লেখকদের সাথে হয়তো তুলনা করা খুবই কঠিন।আর আমি একটু পুরোনো বইপত্র ই পছন্দ করি।তাই আমার ভালোবাসার মধ্যে সমরেশ মজুমদার একজন।
সাতকাহন:-
◼️এই গল্পে আমরা দেখবো এক সাধারণ মেয়ের অসাধারণ হয়ে উঠা।এই উপন্যাসটি শুধুমাত্র একটি উপন্যাস নয় এটি একটি নারীর জাগরণের গল্প।অনেকের দাবী এই লিখাটি সমরেশ মজুমদারের মাস্টারপিস।
সাতকাহনের বিবরণি:-
sourceবইয়ের,
◾নামঃসাতকাহন
◾প্রকাশঃ১৯৬৪
◾লেখকঃসমরেশ মজুমদার
◾প্রকাশকঃআনন্দ পাবলিশার্স
◾ভাষাঃবাংলা
◾ধারাবাহিকঃদীপাবলির কাহিনী
◾পেইজ সংখ্যাঃ৩৭৭ টি
◾ধরণঃউপন্যাস
◾ক্যাটাগরিঃসমকালীন উপন্যাস
সাতকাহন নিয়ে লেখককে করা প্রশ্নের উত্তর:-
◾ প্রশ্নঃআপনি কি দীপাবলিকে নিকট থেকেই চেনেন?
উত্তরঃজ্বি। আমি যেখানে থাকতাম সেই পাড়াতেই দীপাবলি থাকত, সে আমার প্রতিবেশী ছিলো।
সাতকাহনের মধ্যকথা:-
◾লেখকের শৈশব কাটে পশ্চিমবঙ্গের ডুয়ার্সের চাবাগানে, তখন সালটা ১৩৯৭।সেখানেই সাক্ষাৎ হয় এই দীপাবলি চরিত্রের সাথে।কারণ সাতকাহনের কাহিনীতে চাবাগানের বিষদ কাহিনী আছে যা লেখকের শৈশব কালের জায়গায় ছিলো।সেখানেই বেড়ে উঠা এক দুরন্ত বালিকার।এই গল্পের মূল উপজীব্য বিষয় হলো চা বাগানের সহজ সরল জীবিকা।
এই গল্পে উঠে এসেছে দুরন্ত বালিকা কঠিন হয়ে উঠলে তার আশপাশের পরিবেশ ও কতটা কঠিন হয়ে যায়।আর এই কাঠিন্যতাতে গল্পের শেষে আমরা দেখেছি দীপাবলির পরিবর্তন, কঠিন হয়ে যাওয়া।
সাতকাহন উপন্যাসটি কোন বিষয়টি নির্দেশ করে?
◾সাতকাহন উপন্যাসে কবি বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে নারীর অবস্থা তুলে ধরেছে।তখন আমাদের সমাজ প্রচন্ড রকমের পুরুষশাসিত ছিলো।লেখক আরো তুলে ধরেছেন নারীবাদী চেতনা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। প্রোটাগনিস্ট দীপাবলির বড় হওয়া চা-বাগানের জলপাইগুড়িতে।এই গল্প আপোষহীন -সংগ্রামী নারী চরিত্রের। তাই বলা যায় এই উপন্যাস সমরেশ মজুমদারের অন্যতম সৃষ্টি।
◾লেখক আরো যে বিষয়টি উল্লেখ্য করেছেন তা হলো,পুরুষশাসিত সমাজের বিরুদ্ধে লড়াই করা একজন যোদ্ধার গল্প।এখানে আরো রয়েছে,নারী শিক্ষার গুরুত্ব।
সাতকাহনের কাহিনী পর্যালোচনা ও সংক্ষেপ:-
source◾উপন্যাসটির গল্প হলো মূলত নারী কে কেন্দ্র করে।এই গল্পটি হলো সমাজের অনেক অনেক পিছিয়ে পড়া নারীর সামনে এগিয়ে আসার গল্প।
◾উপন্যাসটির শুরু - আজ সারাটা দিন সূর্যদেব উঠলোনা।কাঠ কয়লার মতন মেঘ ভূটান পাহাড় থেকে নেমে সাড়া আকাশ জুড়ে অনড় হয়ে রয়েছে সেই শেষ রাত থেকেই.......
◾দীপাবলির বয়স যখন দশ ছুঁই-ছুঁই তখন থেকেই তার জীবনের স্ট্রাগল শুরু হয়।সে মুখোমুখি হয় অনেকটা অপ্রিয় সত্যের।অপ্রিয় সত্যেগুলো জানার পরই ই যেনো চেনা জগৎটাই হঠাৎ করে অচেনা হয়ে উঠে।
◾কিন্তু সে কোনো থেমে যায়নি কোনোভাবেই।দীপা নিজের সম্মান প্রতিষ্ঠার জন্য সর্বশেষ নিশ্বাস দিয়ে চেষ্ঠা করে গেছে।সে নিজের চেষ্ঠার মধ্যে অস্ত্রবল বানিয়েছিলো অর্জিত জ্ঞান,অর্জিত মেধা কেও।
◾শেষ সময়ে এসে সে হয়েছিলো সফল।সে প্রতিটাক্ষণ যুদ্ধ করেছে নিজের অস্তিত্বের সাথে,পরিবার,সমাজের সাথে।দীপা দেখিয়্ব দিয়েছে পুরুষের চেয়ে নারী কোনো অংশেই কম নই।
◾এই উপন্যাসে শুধু দীপাবলির জীবন ই আসেনি এসেছে আরো অনেক নারী চরিত্রের।যেমনঃদীপাবলির ঠাকুমা মনোরমা সেকেলের মানুষ তবে ছিলো আজকাল যুগের অনেকের চেয়েও আধুনিক।
◾আরো একটি ব্যাপারের ধারণা লেখক তার উপন্যাসে দিয়েছেন।তা হলো,চা বাগানের খেটে খাওয়া মানুষদের না জানা বুকের চেপে থাকা কষ্ট।লেখক এতোটাই নিখুঁত ভাবে সব কিছু উল্লেখ করেছেন যে, পড়তে পড়তে চা-বাগানের ঝিরিঝিরি বৃষ্টির মধ্যে হারিয়ে যাবেন।
◾লেখক আমাদের আরো জানিয়েছেন,পঞ্চাশ দশকের দিকে ভারতের অনেক জায়গায় ছিলোনা বিদ্যুৎ।গল্পের চা বাগানটিও ছিলো সেরকম,যেখানে মাত্র আধুনিকার পদচারণা শুরু হয়েছে।
◾এ গল্পে আরো পাবো সমাজের বিরুদ্ধে গিয়ে একটি নারীর নিজের জায়গা করে নেওয়া।উপন্যাসটির শুরু থেকেই তার চরিত্রের বিকাশ,জীবন বোধের পরিবর্তন গল্পকে দিয়েছে অন্য রূপ।
◾এই গল্পটি পড়লে দীপাবলির সাথে প্রত্যেক নারীই তা জীবনের কিছু অংশ খুজে পাবে।দীপা সাধারণের মাঝে অসাধারণতা।দীপার চরিত্রটি প্রবল স্বকীয়তায় পরিপূর্ণ।
◾উপন্যাসটি ২ খন্ডের তবে তা পড়তে কোনো পাঠক ই বিরক্ত হবেনা কারণ আমাদের চলতি জীবনে নারীদের যে কষ্ট আমরা দেখিনা তা সমরেশ মজুমদার আমাদের চোখের আঙুল দিয়ে দেখিয়েছেন।
◾দীপাবলি এক অল্পবয়সী মা হারা মেয়ে ছিলো,বাবা মেনে নেয়নি,মাসি মেসো বিয়ে দিয়ে দিয়েছিলেন রোগগ্রস্ত এক পাত্রের সাথে কিন্তু অল্পদিনেই হয় বিধবা।এসবের মাঝ থেকেই উঠে আসে কঠিন, জাগ্রত এক দীপাবলি।
সাতকাহন এবং আমার রিভিউ:-
source◾প্রথমেই আসি লেখকের কথায়।লেখক সমরেশ মজুমদার অত্যন্ত উঁচু মাপের একজন লেখক।তার সাতকাহন থেকে গর্ভধারিণী সব পাঠকদের মধ্যে ঝড় তুলেছে।
◾এখন আসি উপন্যাসটি নিয়ে আমার আবেগ,
বইটি পড়েই আমি জানতে পেরেছি একজন মেয়ের ছোট থেকে বড় হওয়াতে এতোটা বাধা আসে।আমি ৩ বার পড়েছি বইটি।মাঝেমধ্যে নিজের পরিবারের অনেককেই যেনো দীপাবলির সাথে মেলাতে পারি।মেয়েদের নিত্যদিনের সংগ্রাম আমরা কজন দেখি?
◾আমি বলবো আপনি সাতকাহন পড়লে অবশ্যই মনের অন্তঃগহীনে সমরেশ মজুমদারের আরো বই পড়ার প্রয়োজনীয়তা বোধ করবেন।
সাতকাহন নিয়ে নিজের বিবেচ্য রেটিং:-
◾১০/১০◾
সমাপ্তি:-
◾আমার রিভিউ এখানেই শেষ করলাম।আপনারা কেও যদি এই বইটি না পড়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই অবশ্যই পড়বেন এবং জানবেন আমাদের সমাজের নারীরা আসলে কতটা অবহেলিত। আমাদের মধ্যে যে পুরুষেরা ভাবে তারাই সর্বেসর্বা তাহলে তা যে কতটা ভুল ধারণা তার পরিষ্কার প্রমাণ এই বইয়ে আছে।আশা করছি সবাই এই বইটি পড়বেন।
◾সবাই খুব ভালো থাকবেন,সুস্থ থাকবেন এবং আমাকে আপনাদের দোয়ায় রাখবেন যেনো আমি সামনে আরো বেশি ভালো ভালো বইয়ের রিভিউ দিতে পারি।
আজকের জন্য বিদায়।
https://twitter.com/Sahadat46306951/status/1393535056451309577?s=19
খুব সুন্দর হয়েছে।
Thanks
Great work brother

ধন্যবাদ ভাই