শৈশবে স্মৃতি বিজড়িত মাটির তৈরি খেলনা।
বৃহস্পতিবার,
তারিখ -১৫ জুন ২০২৩
আসসালামু আলাইকুম,
প্রিয় ভাই ও বোনেরা, সকলে কেমন আছেন। আশা করি আল্লাহ তায়ালার অশেষ মেহেরবানিতে আপনারা সবাই ভালোই আছেন। আমিও আল্লাহ তায়ালার রহমতে ভালোই আছি। স্টিম ফর ট্রাডিশন কমিউনিটিতে আজ আমি শৈশবের মাটির তৈরি খেলনা নিয়ে উপস্থাপন করতে যাচ্ছি। আশা করি সকলের ভালো লাগবে।
শৈশবের স্মৃতির কথা মনে পড়লেই চোখের সামনে ভেসে উঠে কতনা মধুর স্মৃতি। যে স্মৃতি গুলো চাইলেও আর কখনো ফিরে পাওয়া যাবে না।এই শৈশবের স্মৃতি গুলো কখনো ভোলার নয়। লুকোচুরি খেলা,কড়ি খেলা,পুকুরে গোসল করা,গোল্লাছুট, চোরপুলিশ খেলা ও মাটির তৈরি হাঁড়িপাতিল দিয়ে খেলার মতো মজার সব খেলার স্মৃতি।
ছোট বেলায় আমি মাটির জিনিস দিয়ে খেলতে বেশি পছন্দ করতাম।পুকুর থেকে লাল মাটি নিয়ে এসে গাছের নিচে বসে হাঁড়ি পাতিল ও পুতুল বানাতাম। এগুলো বানিয়ে রোদে ২-৩দিন শুকাতাম।শুকানো হয়ে গেলে আমি আব্বুর কাছ থেকে রং কিনে এনে নিতাম এবং রং গুলিয়ে এসব বানোনো খেলনায় রং করে আবার রোদে শুকোতে দিতাম।ভালাভাবে শুকানো হলে মাটির তৈরি এসব খেলনা দিয়ে খেলতাম।খেলা শেষে আমি এই খেলনাগুলো একটি ব্যাগে করে রান্নাঘরের এক কোনে রাখতাম। কিন্তু একদিন দাদি অন্ধকারে না দেখতে পেয়ে পা চড়ে দিয়ে ভেঙে ফেলে।পরের দিন স্কুল থেকে বাসায় এসে খেলতে গিয়ে দেখি সব খেলনা ভেঙে গেছে। তখন আমি খুব কান্না করতে থাকি।
ঐ সময়েই আবার ছোট মামা আসে আমাদের বাসায়। সবকিছু শুনে মামা আমাকে বলে এগুলোর থেকে ভালো খেলনা আমাকে কিনে দিবে।আমার দাদুর এবং নানুর পরিবারের সবাই আমাকে খুব ভালোবাসে।বিশেষ করে আমার ছোটমামার প্রিন্সেস ছিলাম আমি। কিছুদিন পরেই মামা কলেজ থেকে পিকনিক যায় স্বপ্নপুরীতে। ঐখান থেকে মামা আমার জন্য এসব খেলনা নিয়ে আসে।এসব খেলনা পেয়ে আমি খুব খুশি হয়েছিলাম।সবথেকে বেশি ভালো লেগেছিল আমার তরমুজ ওআমটি।মাটির তৈরি এসব খেলনা দেখতে আসলেই অনেক সুন্দর। এসব খেলনা দিয়ে স্কুল ছুটির দিনে আমি খেলতাম।
এসব খেলনায় আবার টাকা ও ঢুকানো যেত।আমি মাটির আপেলের মধ্যে খুচরা পয়সা জমা করেছিলাম।কিন্তু টাকাগুলো বের করার সময় আপেলটি ভেঙে আমাকে টাকাগুলো বের করতে হয়েছিল। তাই পরবর্তীতে আমি আর কখনো এসব খেলনায় টাকা জমা করিনি। এই খেলনাগুলো এখনো আম্মু খুব যত্ন করে রেখে দিয়েছে। একটা খেলনা ও নষ্ট হতে দেয়নি।আমি যখন প্রথম শ্রেনিতে পড়ি তখনকার খেলনা এগুলো। সেসময় মামা এগুলো ১৫০টাকা দিয়ে কিনেছিল।
এখন আর মাটির তৈরি এসব খেলনা তেমন দেখা যায় না। বর্তমানে আধুনিক ছোঁয়ায় ছেলেমেয়েরা এসব খেলনা দিয়ে না খেলে তারা ছোট বেলা থেকেই মোবাইল গেম ও কার্টুনের প্রতি বেশি আসক্ত। স্কুল থেকে ফিরে এসে তারা বসে পড়ে কার্টুন দেখতে কিংবা মোবাইলে গেম খেলতে।
আমার লেখা পোস্ট পড়ার জন্য সকলকে জানাই অসংখ্য ধন্যবাদ। সকলে সুস্থ ও ভালো থাকবেন।
| মোবাইল | Tecno 9t spark |
|---|---|
| ক্যামেরা | ৩৮ মেগাপিক্সেল |
| পোস্টের ধরণ | মাটির তৈরি খেলনা |
| লোকেশন | চিরিরবন্দর, গুড়িয়া পাড়া। |
ধন্যবাদ,
@siza
আমার বাসায় এখনও এরকম মাটির তৈরি খেলনা অনেক রয়েছে। আগে বিভিন্ন মেলায় থেকে এইরকম মাটির খেলনা কিনতাম। এখনো বেশ কিছু রেখে দিয়েছি স্মৃতি হিসেবে। লিখেছেন অনেক ভালো শুভকামনা রইল আপনার জন্য
ধন্যবাদ ভাইয়া
https://twitter.com/siza37854890783/status/1669244494045384706?t=OAzvfG2cxDY5Panv7kSVag&s=19
এগুলো সাথে শৈশবের অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে। ছোটবেলায় এগুলো দিয়ে অনেক খেলা করেছি। স্মৃতিগুলো মনে পড়লে অনেক ভালো লাগে।
ধন্যবাদ ভাইয়া
আপনার মাটির খেলনা গুলো অনেক সুন্দর। শৈশবে আমরাও কাদামাটি দিয়ে খেলনা বানাতাম। আমার বড় আম্মু অনেক সুন্দর খেলনা বানাতে পারেন। আমাদের প্রায়ই বানিয়ে দিতেন। আমরা পরে সেগুলো চারু ও কারুকলা পরীক্ষায় জমা দিতাম। অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।
ধন্যবাদ আপু
মাটির তৈরি জিনিসপত্র আমাদের দেশে এখনো স্থান দখল করে আছে।মাটির তৈরী খেলনা গুলো মেলায় দেখা যায়। ছোটবেলায় মাটির খেলনায় অভ্যস্ত ছিলাম কিন্তু বর্তমান সময়ে এই খেলা তেমন দেখা যায় না।
ধন্যবাদ ভাইয়া
আপনার মাটির খেলনা গুলো অনেক সুন্দর। ছোটবেলায় আমরাও কাদা মাটি দিয়ে খেলনা বানাতাম। এগুলো রোদে শুকাতে দিতাম। আমার বড় আম্মু হাতি, ঘোড়া এসব বানিয়ে দিত।পরে এগুলো আমরা চারু ও কারুকলা পরীক্ষায় জমা দিতাম । অনেক ধন্যবাদ।
ধন্যবাদ আপু
শৈশবের মাটির তৈরি খেলনা নিয়ে দারুণ লেখছেন আপু। ছোট বেলায় এইরকম আমরাও অনেক খেলছি,এগুলো খেলতেও অনেক ভালো লাগে। আপনি শৈশবের স্মৃতি নিয়ে সুন্দর আলোচনা করছেন আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ আপু।
ধন্যবাদ ভাইয়া
অনেকে ছোটবেলায় এই মাটির তৈরি খেলনা দিয়ে খেলছে। তাদের ছোটবেলার এই মাটির তৈরি খেলা গুলো এখন স্মৃতি হয়ে আছে। আমি অবশ্য এই মাটির তৈরি খেলনা দিয়ে খেলিনি কখনও। সুন্দর একটি পোস্ট করেছেন।
ধন্যবাদ ভাইয়া
মাটির তৈরি জিনিসপত্র আমাদের দেশে এখন ও বিভিন্ন জায়গা দেখা যায় ৷ তবে বিশেষ করে মাটির তৈরি জিনিসপত্র পূজার সময় বেশি দেখা যায় ৷ মাটির তৈরি জিনিসপত্রে দারুণ ফটোগ্রাফি করেছেন। ধন্যবাদ
আপনাকে ও অসংখ্য ধন্যবাদ ভাইয়া।
শৈশবের মাটির খেলনা নিয়ে অনেক বায়না ধরতাম, পূজার সময় এসব খেলনা বেশি পাওয়া যেত। খুবই সুন্দর উপস্থাপন করেছেন আপু। অসংখ্য ধন্যবাদ আপু এত সুন্দর পোস্ট আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
ধন্যবাদ ভাইয়া