বাঁশ দিয়ে অত্যন্ত দক্ষতা ও নিপুণতার সাথে তৈরি -কুলা||
🌿ঐতিহ্যমূলক পোস্ট🌿 |
|---|
প্রিয় ব্লগার বৃন্দ,
আমরা সবাই বাঁশের তৈরি বিভিন্ন ধরনের জিনিস দেখি এবং বিভিন্ন জিনিসের ব্যবহার সম্বন্ধে জানি। ঠিক তেমনি বাঁশ দিয়ে তৈরি কুলা এমন এক ধরনের জিনিস যা গ্রামে প্রতিটি বাড়িতেই বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হয়। কুলার ব্যবহার শহরের বাসা গুলোতে নেই বললেই চলে। বাঁশের তৈরি কুলা আমাদের প্রতিদিনের বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হয়। এই কুলা কেউ ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের শস্য পরিষ্কার করার কাজে, কেউবা কুলায় করে কোন কিছু শুকাতে দেওয়ার জন্য, আবার কেউবা ধান চাল থেকে আবর্জনা পরিষ্কার করার জন্য। এছাড়াও আরো বিভিন্ন ধরনের কাজে কুলা ব্যবহার করা হয়।
আমরা যারা গ্রামে বাস করি তাদের কাছে বাঁশের তৈরি কুলা খুবই পরিচিত একটি জিনিস। বাঁশ এর সাহায্যে অত্যন্ত দক্ষতা ও নিপুণতার সাথে এই কুলা তৈরি করা হয়। কুলা গুলো দেখতে চমৎকার। বর্তমানে বাজারে বাঁশের তৈরি এক একটি কুলা প্রায় ৭০-৯০ টাকা দরে বিক্রি করা হয়।বর্তমানে রংবেরঙের বিভিন্ন রকম কুলা বাজারে কিনতে পাওয়া যায়। এখন তো বাজারে বাঁশের তৈরি কুলা ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি কুলা কিনতে পাওয়া যায়। তবে এসব প্লাস্টিকের কুলার গুণগত মান বাঁশের তৈরি কুলার তুলনায় অনেক খারাপ। বাঁশের তৈরি কুলা ঠিকমত যত্ন করে রাখলে ও প্রতিবার কাজ শেষে পরিষ্কার করে রাখলে দীর্ঘদিন টেকসই করে।
আগে গ্রামের বিয়ে গুলোতে কুলার উপর বিভিন্ন ধরনের জিনিস ব্যবহার করে কুলাটি সাজিয়ে হলুদের স্টেজে রাখা হতো। কিন্তু বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের প্লাস্টিক পণ্য এসব হলুদের স্টেজ সাজানোর জন্য কিনতেই পাওয়া যায়।আর এটাই সবাই সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি মনে করে অল্প কিছু টাকার বিনিময়ে বাজার থেকে এসব জিনিস কিনে আনে। তাই সেক্ষেত্রেও আর কুলার কোনরকম ব্যবহার করা হচ্ছে না। অপরিপক্ক বাঁশের তুলনায় পরিপক্ক বাঁশের তৈরি কুলা গুলো বেশি মজবুত ও টেকসই সম্পন্ন হয়। প্লাস্টিকের তৈরি কুলা এর দাম তুলনামূলক কম থাকায় এর ব্যবহার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।সর্বোপরি বলা যায়, বাঁশ দিয়ে তৈরি কুলার ব্যবহার দিন দিন কমছে।
বর্তমানে এমন একটি পরিস্থিতি আমাদের সামনে উপস্থিত হয়েছে যেখানে, মানুষ তাদের প্রতিদিনের বিভিন্ন ধরনের কাজ সম্পন্ন করার জন্য নিত্যনতুন সব প্রযুক্তি ব্যবহারে বেশি স্বাচ্ছন্দ বোধ করে। এসব প্রযুক্তি ব্যবহারে আমাদের জীবন সহজ হলেও ,আমরা হারিয়ে ফেলছি আমাদের পুরনো সেই ঐতিহ্যগুলোকে। যেসব ঐতিহ্য আমাদের দেশ ও দেশের মানুষের সাথে গভীরভাবে সম্পর্কযুক্ত। আমাদের সকলের উচিত আমাদের দেশের ঐতিহ্য গুলোকে টিকিয়ে রাখা এবং যত্ন নেয়া।
আশা করি, আমার পোস্টটি আপনাদের ভালো লেগেছে ।ভুল ত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন ।সকলে ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন। নিজের দেশ ও দেশের ঐতিহ্যকে সম্মান করবেন। আর এতক্ষন আপনার মূল্যবান সময় দিয়ে আমার পোস্টটি পড়ার ও দেখার জন্য আপনাদের সকলকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
| ডিভাইস | Redmi Note 11 |
|---|---|
| ফটোগ্রাফার | @rumana12 |
| লোকেশন | দিনাজপুর |
ধন্যবাদান্তে,
@rumana12
আসসালামু আলাইকুম, আমার নাম রুমানা পারভীন। আমার steemit আইডি নাম @rumana12 আমার বাসা দিনাজপুর জেলার চিরিরবন্দর উপজেলায়।আমি দিনাজপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এ কম্পিউটার ডিপার্টমেন্টে পড়াশোনা করি। আমি ভ্রমণ করতে এবং নতুন কিছু শিখতে খুব পছন্দ করি। অবসর সময় গান শুনতে আমার অনেক ভালো লাগে। আমি steemit এ কাজ উপভোগ করি।
You can also vote for @bangla.witness witnesses
গ্রাম অঞ্চলে প্রায় প্রিতিটি বাড়িতেই ব্যবহার হয় কুলা। বাঁশের তৈরি ওই ঐতিহ্যবাহী কুলা আসলেই শহরে দেখতে পাওয়া যায় না। ধান ঝাড়ার সময় আসলেই বেশি প্রয়োজন পড়ে কুলার। আপনি ঠিক বলেছেন প্রযুক্তি আমাদের জীবকে সহজ করেছে কিন্তু আমরা হারিয়ে ফেলেছি ঐতিহ্য।
আপনার সুন্দর মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ ভাই।
https://twitter.com/rumana4102/status/1692086860661850437?t=ana8WQj11cA1RW99DQlkDw&s=19
গুলা আমাদের গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য। গ্রামের মানুষজন চাল ধান গম ইত্যাদি পরিষ্কার করার কাজে কুলা ব্যবহার করে থাকেন। প্রাচীন যুগ থেকেই আমি চাল ধান গম পরিষ্কারের কাজে কুলা ব্যবহার করতে দেখে আসতেছি। কুলা নিয়ে অনেক সুন্দর একটি পোস্ট আমাদের সাথে শেয়ার করেছেন। শুভকামনা রইল আপনার জন্য।
আপনার সুন্দর মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
গ্রাম বাংলার একটি ঐতিহ্য হলো বাঁশের তৈরি কুলা। যারা এটি তৈরি করে তারা খুব ভালোভাবে ও দক্ষতার সাথে তৈরি করে থাকে। কুলার বিভিন্ন রকম ব্যবহার রয়েছে এর ভিতর অন্যতম হলো চাল বা ধান পরিষ্কার করা।তবে কুলার চাহিদা দিন দিন কমে যাচ্ছে আমাদের কাছ থেকে।কুলা সম্পর্কে দারুণ লিখেছেন আপনি ফটোগ্রাফি গুলো খুব সুন্দর হয়েছে। ধন্যবাদ আপনাকে এত সুন্দর একটি পোস্ট উপস্থাপন করার জন্য।
আপনার এত সুন্দর মন্তব্যের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।
বাঁশের তৈরি কুলা আমাদের দৈনন্দিন গৃহস্থালির কাজে ব্যবহার করা হয়। ধান কাটার পর ধান থেকে হালকা খড় পরিষ্কার করার জন্য, কুলার সাহায্য বাতাশের মাধ্যমে ধান পরিষ্কার করা হয়। এবং চাল পরিষ্কার করতেও কুলার ব্যবহার হয়। সুন্দর লিখছেন আপু। ফটোগ্রাফি দারুণ হয়েছে। অসংখ্য ধন্যবাদ আপু।
এত সুন্দর মন্তব্যের জন্য আপনাকেও ধন্যবাদ ভাই।
জ্বি আপু এই কুলা গ্রামের অনেক প্রাচীন কালের একটি ঐতিহ্য। আগে গ্রামের মানুষেরা এইগুলোতে করে তাদের চাল ঝাড়তো। এবং এই কুলাগুলো আসলেই গ্রামের অনেক কাজে ব্যবহৃত হয়। ধন্যবাদ আপনাকে এরকম সুন্দর একটি পোস্ট আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য
আপনার সুন্দর মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
আগে দেখতাম আমার নানি প্রতিদিন সকালবেলা এভাবে কুলায় করে চাল পরিষ্কার করতে। আসলে মরাচালগুলো ভালো চালের কাছ থেকে পরিষ্কার করতেন। কিন্তু এখন আর তেমন দেখি না। বাজার থেকে চাল নিয়ে আসে তাই মরা চাল আর তেমন একটা দেখা যায় না। ধন্যবাদ সুন্দর একটা পোস্ট করার জন্য।
আপনার সুন্দর মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
বাঁশের কুলা নেই আপনি জানেন আলোচনা করেছেন। এগুলো আমাদের দেশের প্রাচীন ঐতিহ্য। কুলা দিয়ে মূলত দানাদার জাতীয় শস্য ছাড়াই করা হয়। এগুলো বিভিন্ন হাটে কিনতে পাওয়া যায়। অনেকেই আবার গ্রামে ফেরি করে বেড়ান। আপনি অনেক সুন্দর একটি বিষয় তুলে ধরেছেন। ধন্যবাদ আপনাকে।
আপনার সুন্দর মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।