গরুর দুধের সর দিয়ে তৈরি দেশীয় খাঁটি ঘি এর প্রস্তুত প্রণালী।
দেশীয় খাঁটি ঘি
প্রিয় স্টিমীট বন্ধুরা,
আপনারা সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। আল্লাহর রহমতে আমিও আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি। আজকে আমি আপনাদের আপনাদের সাথে একটি রেসিপি শেয়ার করব। অল্প সময়ে সুস্বাদু এবং স্বাস্থ্যকর কুকিজ বা বাঙালির খাদ্য তালিকায় এই খাবারটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই খাবারটির নাম হলো ঘি। গরম ভাতের সাথে এই ঘি থেকে দারুণ লাগে। চলুন শুরু করি আজকের রেসিপি,
ব্যবহৃত উপকরণ
| উপকরণের নাম | পরিমাণ |
|---|---|
| দুধের স্বর | ১ বাটি |
| ঠান্ডা পানি | ১/২ টি লিটার |
[বি.দ্র]- আপনি চাইলে বেশি করে বানানোর জন্য উপাদান গুলোর পরিমাণ বাড়িয়ে বানাতে পারবেন।
ধাপ-০১
আমি দীর্ঘদিন ধরে গরুর দুধের সর ফ্রীজে রেখে সংরক্ষণ করছিলাম। মূলত দুধ গরম করার পর যে সর হয় তা প্রায় মাসখানেক সংরক্ষণ করার পর সেই সরের পরিমান বেশী হলে তা দিয়েই ঘি বানানো হয়। প্রথমে আপনার জমানো গরুর দুধের সর ফ্রিজ থেকে নামিয়ে রাখুন। আমি এখানে এক কেজির রসমালাই মিষ্টির বাটি ভর্তি সর নিই।
ধাপ-০২
এখন সেই সরটুকু মথে নিতে হবে। এজন্য আপনি আপনার হাতের কাছে যা আছে সেটিই ব্যবহার করতে পারবেন। আপনি ব্লেন্ডার, কাটা চামচ, হ্যান্ড বিটার বা শিল-পাটার সাহায্য নিতে পারেন।বাঙালিরা বহু কাল থেকে এই কাজটি শিলপাটায় করে আসছেন তাি আমিও শিলাপাটার সাহায্যে তা বেটে নিই। বেটে নেওয়ার পর দুধের সর নিচের ছবির মত হয়ে যাবে।
ধাপ-০৩
এখন আগে থেকে ঠান্ডা করে রাখা পানি সেই মথে নেওয়া সরে ঢেলে দিন। পানি ঢালার পর বেটে রাখা সব সর একসাথে মিশিয়ে নিতে হবে।
ধাপ-০৪
এবার কিছু সময় পর ঠান্ডা পানি থেকে দুধের সরের বাটার বা ননি হাত দিয়ে তুলে নিতে হবে। নিচের ছবিতে আপনারা দেখতে পারছেন বাটারের অংশটুকু গোল করে একত্রে করে রাখা হয়েছে। পানি এবং বাটার দুটো আলাদা হয়ে গিয়েছে।
ধাপ-০৫
এবার একটি ফ্রাই প্যান নিন এবং তা চুলায় বসিয়ে দিন। তবে খেয়াল রাখবেন চুলার তাপ যেন খুব বেশী না থাকে এবং কড়াই গরম হওয়ার আগেই দুধের বাটারটুকু ফ্রাই প্যানে দিয়ে দিন। আমি এখানে তুলনামূলক বড় সাইজের একটি ফ্রাইপ্যান ব্যবহার করেছি।
ধাপ-০৬
এখন হালকা হাতে ভাজা কাঠির সাহায্যে নাড়াতে থাকুন যেন নীচে লেগে না যায়। অল্প তাপে কিছুক্ষণ নাড়ানোর পর এটি কালার পরিবর্তন হতে থাকবে। কড়াইে বুদ বুদের সৃষ্টি হবে এবং এটির রং ক্রমশ গাঢ় হতে থাকবে। উপরে ফেনার মত হবে বাটারের অংশ। নীচের ছবিতে আশা করি আপনারা দেখতে পারছেন বিষয়টি।
ধাপ-০৭
এভাবে নাড়াতে নাড়াতে একসময় ঘি তৈরি হওয়া শুরু হবে এবং অবশিষ্ট অংশ শুরুতে উপরের দিকে ঘন হয়ে ভেসে উঠবে। তারপর আরো কিছুক্ষণ তো তাপ দেয়ার পর সম্পূর্ণ ঘি উপরে উঠে যাবে এবং গাঢ় বাদামি রঙের অবশিষ্ট অংশ নিচে পড়ে থাকবে।
ধাপ-০৭
ধাপ-০৮
এখন আমি একটি কাঁচের গ্লাস নিই এবং একটি পরিষ্কার ছাঁকনি তাতে সেট করে নেই। এরপর কড়াই থেকে উপরের ঘি গুলো সাবধানে ছাঁকনীর সাহায্যে ছেঁকে নিচে ঢালতে শুরু করি।
শেষ -ধাপ
শেষ ধাপে গ্লাসে ঘি ঢালার পর তা আমি খোলা অবস্থায় রেখে দেই কেননা ঘি অনেক গরম।এভাবে দীর্ঘ সময় রেখে দেয়ার পর উপরের ঢাকনা লাগিয়ে আমি সংরক্ষণ করে রেখে দেই।
| ডিভাইস | স্যামসাং গ্যালাক্সি এ-১২ |
|---|---|
| ফটোগ্রাফার | @pea07 |
| লোকেশন | JJHH+X6 Dinajpur |
টুইটার শেয়ার লিংক
https://twitter.com/pea079/status/1676237796909154304?t=NWVUKQijC5S2GSdmdmnl5g&s=19
গরুর দুধের সর দিয়ে ঘি তৈরির প্রক্রিয়া অনেক সুন্দর করে উপস্থাপন করেছেন পোস্টে।ঘি সাধারণত গরম ভাত দিয়ে খেতে বেশ ভাল লাগে।ঘি তৈরির ধাপ গুলো বেশ সুন্দর সাজিয়ে গুছিয়ে লিখেছেন আপু।
ধন্যবাদ আপনাকে
গরুর দুধের সর দিয়ে তৈরি দেশীয় ঘি তৈরির প্রক্রিয়া নিয়ে অনেক সুন্দর লিখেছেন। ঘি সাধারণত গরম ভাত দিয়ে খেতে ভাল লাগে। আমি ঘি দিয়ে ভাত খাই। দেশীয় খাটি ঘি সচরাচর পাওয়া যায় না। যাদের বাড়িতে গাভী আছে শুধু তাদের বাসায় খাঁটি ঘি পাওয়া যায়।
ধন্যবাদ ভাইয়া আপনাকে
ঘি তেমন একটা খাওয়া হয় না। তবে খেতে অনেক ভালো লাগে।আমি তো প্রথমে ভেবেছিলাম মনে হয় কোনো কফি বা চা। তারপর পোস্ট দেখে বুঝলাম এটা হলো ঘি।অনেক সুন্দর একটা পোস্ট করেছেন। ধন্যবাদ আপনাকে
ধন্যবাদ আপনাকে
ঘি খুবই উপকারী একটা খাবার। তবে এখন খাটি ঘি তেমন পাওয়া যায় না। সব খাবারেই ভেজাল। খুবই সুন্দরভাবে খাটি ঘি এর প্রস্তুত প্রনালীটি দেখিয়েছেন।
ধন্যবাদ আপনাকে
গরু বা মহিষের খাটি দুধ থেকে ঘি বানানো হয়। ঘি আমাদের শরীরের জন্য খুবই উপকারী। আপনি ঘি তৈরির প্রতিটি ধাপ খুব সুন্দর ভাবে সাজিয়ে গুছিয়ে উপস্থাপন করেছেন। আম্মুও বাসায় এই ভাবে ঘি বানিয়ে থাকে।ধন্যবাদ আপু বাসায় ঘি তৈরির সুন্দর রেসিপিটি আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
ধন্যবাদ
ঘি আমাদের জন্য এতই উপকার যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছিলেন রিন করে হলেও ঘি খাও তাহলে সারাজীবন ভালো থাকবে। আমার মনে হয় দুধের স্বরের চেয়ে ননির ঘি অনেক ভালো হয়। ঘি বানানোর প্রক্রিয়াটা অনেক সুন্দর ছিলো আপু।
ধন্যবাদ আপনাকে
গরুর দুধের সর দিয়ে তৈরি দেশীয় খাঁটি ঘি একবারে মানসম্মত। ঘি শরীরের হজম উন্নতি এবং পুষ্টির মান শোষনের অন্যতম।খাবারের সঙ্গে ঘি মিশিয়ে খেলে তা ডায়াবেটিস রুগিদের জন্য ভালো।ধন্যবাদ ভাই সুন্দর একটা পোস্ট আমাদের মাঝে উপস্থাপন করার জন্য।
ধন্যবাদ আপনাকে ভাইয়া
ঘি অনেক খেয়েছি তবে খাওয়ার পর সব সময় সন্দেহ কাজ করতো ঘি খাঁটি ছিল কিনা। আপনার পোষ্টের মাধ্যমে প্রস্তুত প্রণালী টা আজকে জেনে নিলাম। বাসায় একদিন তৈরি করার চেষ্টা করব। চমৎকার একটি পোস্ট শেয়ার করার জন্য অনেক ধন্যবাদ আপু।শুভকামনা রইল আপনার জন্য
ধন্যবাদ ভাইয়া