প্রতিযোগিতার বিষয়- আপনার এলাকার যেকোনো একটি নদী অথবা বিল নিয়ে লিখুন
সবাই কেমন আছেন? আশা করি ভালো আছেন। আজকে আমি স্টীম ফর ট্রাডিশন কমিউনিটি কর্তৃক আয়োজিত অংশগ্রহণ করব। আজকের প্রতিযোগিতার বিষয় আপনার এলাকার যেকোনো একটি নদী অথবা বিল নিয়ে লিখুন । চলুন শুরু করি আজকের লিখা,
বাংলাদেশ এবং নদীর সম্পর্ক
নদীর দেশ হলো বাংলাদেশ তাই তো বাংলাদেশকে বলা হয় নদীমাতৃক দেশ। এই কথাটির অর্থ হল বাংলাদেশে যে সকল নদী রয়েছে সেগুলো বাংলাদেশের মাতা বা মায়ের মত । নদী মাতার মত যে দেশের সেটিই হল নদীমাতৃক দেশ। একজন মা যেমন তার সন্তানকে আগলে রাখে তেমনিভাবে এদেশের নদী গুলো বাংলাদেশকে আগলে রেখেছে এবং বাঁচিয়ে রেখেছে। বাংলাদেশের কৃষিজমিকে উর্বরা এবং শস্য সমৃদ্ধ করার পেছনে এই নদীর অবদান অনেক বেশি। বাংলাদেশের ছোট বড় অসংখ্য নদনদী রয়েছে। উইকিপিডিয়া হতে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, " শাখা-প্রশাখাসহ প্রায় ৭০০ টি নদ-নদী বিপুল জলরাশি নিয়ে ২২,১৫৫ কিলোমিটার জায়গা দখল করে দেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। "
আমার এলাকার একটি নদী
বাংলাদেশের অনেকগুলো বড় নদীর মধ্যে আমার গ্রামে একটি শাখা নদী হয়ে চলেছে।এটি আসলে নদী নয় এটি হলো ব্রহ্মপুত্র নদের শাখা। এই নদীর নাম হলো মৃগী নদী। এই নদী ভিন্ন ভিন্ন রূপ ধারণ করে সারা বছর ধরে । নদীর এই অপার সৌন্দর্য শুধুমাত্র যাদের বাড়ির কাছে নদী রয়েছে তারাই দেখতে পারে। যেহেতু আজকের প্রতিযোগিতার বিষয়বস্তু আমার এলাকার একটি নদী তাই আমি চেষ্টা করব এই পোস্টের মাধ্যমে আমার এলাকার নদীটির ভিন্ন ভিন্নরূপ আপনাদের সামনে উপস্থাপন করার জন্য। "একই অঙ্গে বহু রূপ" এই কথাটি যথার্থতা যেন নদীর ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।
গ্রীষ্মকাল ও আমার এলাকার নদী
গ্রীষ্মকাল মানেই উত্তপ্ত সূর্য এবং চারদিকে প্রচুর গরম। সূর্যের এই প্রচন্ড তাপে সারা দেশের নদী-নালা, খাল-বিল শুকিয়ে যায়। আমার এলাকায় যে নদীটি রয়েছে সেটিও গ্রীষ্মকালে অনেকটা শুকিয়ে যায়। তখন এই নদীর মাঝখান দিয়ে বালুচর ভেসে ওঠে। এ সময়টাতে মানুষ পায়ে হেঁটে নদী পার হতে পারে। নদীর পানির সর্বোচ্চ গভীরতা হাটু পানিতে নেমে যায় এবং কোন কোন স্থানে পায়ের গোড়ালি পর্যন্ত পানি দেখা যায়। নদীর এই সৌন্দর্যটি আসলে বলে বোঝানো সম্ভব নয়। গ্রীষ্ম কালে আমার এলাকা নদীটির কিছু ছবি আপনাদের সাথে শেয়ার করছি। এই সময়টাতে নদীর পাড়ে গেলে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আমাদের ছোট নদী কবিতাটি মনে পড়ে যায়।
বৈশাখ মাসে তার হাঁটু জল থাকে। "
শীতকাল ও আমার এলাকার নদী
শীতকালে আমাদের এলাকার নদীর সৌন্দর্য থাকে অপরূপ।কেননা এই নদীকে কেন্দ্র করে এর দুপাশে চাষাবাদ করা হয়ে থাকে । আমরা জানি শীতকাল মানে হচ্ছে সরিষা চাষের সময়। শীতকালে নদীর পানিও তুলনামূলক কম থাকে এবং তার দুপাশে যেন হলুদের চাদর বিছানো থাকে। এছাড়াও কুয়াশায় ঢেকে যায় নদী।
বর্ষাকাল ও নদী
বর্ষাকালে শুকিয়ে যাওয়া নদী তার পুরনো রূপ ফিরে পায়। বর্ষাকালে নদী পানিতে কানায় কানায় পূর্ণ থাকে। বর্ষাকালে নদীর গভীরতা এবং প্রশস্ততা অনেকটা বেড়ে যায়। এ সময় বড় বড় নৌকায় করে মানুষ যাতায়াত করে নদীর পথে। অনেকে আবার বড় নৌকা ভাড়া করে পিকনিক করে থাকে মাঝ নদীতে। আমার কাছে মনে হয় বর্ষাকালেই একটি নদীর প্রকৃত সৌন্দর্য উপভোগ করা সম্ভব। বর্ষাকালে যখন নদীতে নতুন পানি আসতে শুরু করে তখন মাছ ধরা ধুম পড়ে যায়। তবে বর্ষাকালে নদীর পার্শ্ববর্তী এলাকার মানুষদের অনেক সচেতন তার সাথে চলাফেরা করতে হয় কেননা এই সময় সাপের প্রকোপ বৃদ্ধি পায় এবং বেশি পানি থাকার কারণে বাচ্চা সহ অনেক বড় মানুষ পানিতে ডুবে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
শরৎকাল ও নদী
শরৎকালে নদীর সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে এর দুই দুধারের কাশবনগুলো। শরৎকালের নদীর দু'পাশে কাশফুল ফুটে থাকে যেটি দেখতে অনেক বেশি সুন্দর দেখা যায়। কাশফুলের সৌন্দর্য দেখতে শরৎকালে বহু মানুষ নদীর পাড়ে বেড়াতে যে গিয়ে থাকেন। শরতের নীল আকাশে যখন সাদা সাদা মেঘ ঘুরে বেড়ায় এবং তা নদীর পানিতে প্রতিফলিত হয় তখন নদীর পানিও নীল রং ধারণ করে। এই সৌন্দর্য যারা দেখেছেন তারাই বলতে পারবেন কতটা সুন্দর।
নদী এবং নৌকা
নদী নিয়ে কোন লেখা পরিপূর্ণ হবে না ততক্ষণ পর্যন্ত যতক্ষণ পর্যন্ত সেখানকার নৌকা দিয়ে লেখা হবে। আমাদের নদীটিতে ডিঙ্গি নৌকায দেখা যায় সব সময়। এই সকল ডিঙি নৌকা গুলো নদী পারাপার, মাছ ধরার কাজে ব্যবহার করা হয়। এই নদীতে পালতোলা নৌকা ও বড় বড় নৌকা খুব কম দেখা যায় । মাঝে মাঝে ইঞ্জিন চালাতে নৌকা দেখা যায়।
এই নদীকে ঘিরে বহুমুখী কাজ
- সারা বছর এই নদীতে মাছ ধরে আমাদের গ্রামের কিছু মানুষ তাদের জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। এছাড়াও যখন বর্ষাকাল নদীতে অনেক বেশি পানি হয় তখন গ্রামের অনেক মানুষই শখের বশে নদী থেকে মাছ ধরে থাকেন।
- এই নদীতে মাঝে মাঝে নৌকা বাইচ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।এছাড়াও বছরের বিভিন্ন সময় নদীতে নৌকা বাইচের প্রতিযোগিতার অনুশীলন দেখা যায়।
- সারা বছর এই নদীতে ছোট বড় সবাই গোসল করে থাকে। আমাদের গ্রামের বাচ্চারা তাদের দুরন্ত শৈশব এই নদীতে সাঁতার কেটে এবং নদীকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ধরনের খেলা খেলেই বড় হয়।
পড়ন্ত বিকেলে এই নদীর সৌন্দর্যের ছবি
পড়ন্ত বিকেলে এই নদীর পাড়ে সৌন্দর্য অমায়িক হয়ে যায়।নিচে আমি আপনাদের সাথে পড়ন্ত বিকেলের এই নদীর কিছু ছবি উপস্থাপন করছি।
আমি এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করার জন্য আমন্ত্রণ জানাচ্ছি
@pathanapsana
@elisilva05
@majo12
@ahlawat
| ডিভাইস | Samsung Galaxy A12, Samsung Galaxy A10, Asus |
|---|---|
| ফটোগ্রাফার | @pea07 |
প্রথমে আপনার জন্য শুভকামনা রইল আপু।ব্রহ্মপুত্রের শাখা নদীটি নিয়ে আপনি অনেক সুন্দর একটি পোস্ট আমাদের সাথে শেয়ার করেছেন আপু। আপনার প্রতিটা ফটোগ্রাফি প্রশংসার দাবিদার। কিন্তু আপনাদের এলাকার এই নদীটির নাম কি?? প্রতিটি ঋতুতেই নদীর রূপ কেমন হয় তা আপনি আমাদের সাথে শেয়ার করেছেন যা আমার কাছে অনেক ভালো লেগেছে আপু। নদীর তীরে বসে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে আমার অনেক ভালো লাগে। আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ এত সুন্দর একটা পোস্ট আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য।
নদীর নাম লিখি নাই??🧐🧐🧐
ধন্যবাদ আপনাকে এটা বলার জন্য। আমি এডিট করে নামটি লিখে দিচ্ছি।
বিশাল বড় পোস্ট করেছেন আপু। ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ে আমি বেশ কয়েকটি সিনেমার সুটিং দেখেছিলাম। নদীতে নৌকা নিয়ে ঘুরতে বেশ ভালই লাগে আমার। আপনার পড়ন্ত বিকালের ছবি গুলো অনেক সুন্দর হয়েছে। নদীতে হাঁস ধরে অনেক আমারা খেয়েছি আপু 😀। আপনার হাঁসের ছবি গুলো দেখে মনে পড়লো।
প্রতিযোগিতার পোস্টগুলো একটু ডিটেইলে করার চেষ্টা করি। ধন্যবাদ আপনাকে।
এক্স শেয়ার লিংক : https://twitter.com/pea079/status/1696529746476339663?t=OwxORF4TblrIZw8Jetxzzw&s=19
নদী নিয়ে খুবই সুন্দর পোস্ট উপস্থাপন করেছেন আপু। বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। ব্রহ্মপুত্র নদীর শাখা নিয়ে খুবই সুন্দর লিখেছেন, ফটোগ্রাফি দারুণ হয়েছে। নদীতে নৌকা দিয়ে ঘোরাঘুরি করতে অনেক ভালো লাগে। আপনি নদীর স্থির চিত্র গুলো অনেক সুন্দর ভাবে সাজিয়েছেন। অনেক ভালো লাগলো আপু। শুভকামনা রইল সুন্দর একটি পোস্ট আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
অনেক ধন্যবাদ আপনাকে
বাহ!!আপনার এলাকার নদীটি নিয়ে চমৎকার একটি উপস্থাপনা।আপনার পোস্টটি আমার দারুণ লেগেছে। সবগুলো বিষয় আপনি তুলে ধরেছেন। একেক ঋতুতে নদীটি একেক রূপ ধারণ করে। কাশফুলের ছবিটি আমার খুবই ভাল লেগেছে। প্রত্যেকটি ছবি অসাধারণ লেগেছে আমার। আপনার জন্য শুভকামনা জানাচ্ছি।ধন্যবাদ আপনার সুন্দর পোস্টটি শেয়ার করার জন্য।
অনেক ধন্যবাদ আপনাকে আপু
নদী সম্পর্কে সুন্দর সব তথ্য তুলে ধরেছেন আপু। আর আপনার ফটোগ্রাফির অওথা কি বলবো। এক কথায় অসাধারণ। বিভিন্ন ঋতুর ছবি শেয়ার করে আপনার পোস্টটিকে আরো ইউনিক করে তুলেছেন। শরৎকালে যখন নদীর ধারে কাশফুল ফোটে তখন নদীর সৌন্দর্য বহুগুনে বৃদ্ধি পায়। নদী নিয়ে সুন্দর একটি পোস্ট উপস্থাপন করেছেন। কন্টেস্টের জন্য শুভকামনা রইলো।
অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া আপনাকে
আপনার এলাকার নদী বা বিল নিয়ে সুন্দর একটি পোস্ট করেছেন। বর্ষাকালে নদী বা বিলের পানি চারিদিকে থই থই করে। আপনার তোলা ফটোগ্রাফি গুলো অসাধারণ হয়েছে।
আপনার তথ্য প্রদান করা নদীটির রূপ বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রকমের যা দেখে আমার বেশ ভালই লাগলো। আসলেই ছোটখাটো নদীতে বৈশাখ মাসে হাটুতে জল চলে আসে। সবচেয়ে আমার দৃষ্টিনন্দন নজর গেছে শরৎকালে নদীর ধারে কাশফুল। সব মিলিয়ে আপনি অসাধারণ একটি পোস্ট শেয়ার করেছেন। ধন্যবাদ আপু সুন্দর একটি পোস্ট আমাদের মাঝে উপস্থাপন করার জন্য। আপনার জন্য শুভকামনা রইল।
ব্রহ্মপুত্র নদের শাখা,মৃগী নদী নিয়ে আপনি অনেক সুন্দর করে বিস্তারিত লিখেছেন।আপনি এখানে বিভিন্ন ঋতুর ছবি দিয়েছেন এবং বিস্তারিত লিখেছেন সে ঋতুতে পরিবেশ যেমনটা থাকে নদীতে।যা অনেক সুন্দর উপস্থাপন। আমি এ নদী কখনো দেখিনি আপনার পোস্ট পড়ে অনেক কিছু জানলাম,উইকিপিডিয়া থেকে কিছু তথ্য দিয়েছেন তাও জানা হলো,এবং আপনার সুন্দর ফটোগ্রাফিতে তা দেখতেও পেলাম।অনেক সুন্দর হয়েছে পোস্টের উপস্থাপন এবং ফটোগ্রাফি।ধন্যবাদ আপনাকে।