পুরনো দিনের ঐতিহ্যবাহী হারিকেনবাতি
প্রিয় বন্ধুরা আশা করি সকলেই ভালো আছেন। আমিও ভালো আছি। আমি আজকে একটি বিশেষ ঐতিহ্য আপনাদের সাথে শেয়ার করব।
হারিকেন কথাটি এসেছে স্প্যানিশ শব্দ থেকে।গ্রামে যখন আলো জ্বালাবার কিছু ছিলো না তখন ছিলো হারিকেন।হারিকেন টিনের তৈরি কাচের চিমনি দিয়ে মোড়ানো থাকে ভিতরের প্রদীপ । দেখতে আনারসের মতো আর নিচের অংশে থাকে তেলের ট্যাংক। যার ভেতরে ঢালা হতো কেরোসিন তেল। পেঁচানো রশি বা সাদাফিতা দিয়ে বানানো হতো সলতা। এর বেশির ভাগ অংশ ঢুকানো থাকে তেলের ট্যাংকের ভিতরে আর অল্প অংশ থাকত বাহিরে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার জন্য। দিয়াশলাই দিয়ে এই অংশটিতে আগুন জ্বালিয়ে দিলেই আলো জ্বালিয়ে উঠত হারিকেনে।
হারিকেনের পাশে থাকে একটা রেগুলেটর যা দিয়ে আলো কমানো-বাড়ানো যায়। কাঁচের চিমটি থাকার কারনে ঝড় বাতাসেও সহজে আলো নিভে জাইত না। অনেকের পড়ার টেবিলে অথবা দেয়ালে সোভা পেতো এই হারিকেন।
হারিকেনের কেরোসিন তেল রাখার জন্য গ্রামের প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই ছিল এক ধরনের কাচের ও বা প্লাস্টিকের বোতল। সেই বোতলের গলায় রশি লাগিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হতো বাঁশের খুঁটিতে বা দরজার কোনে।সন্ধ্যাবেলা হারিকেল জ্বালানোর আগে গ্রামের মায়েরা এইগুলা তেনা কাপড় দিয়ে পরিষ্কার করত তারপর কেরোসিন তেল দিয়ে বই পড়ার জন্য বা অন্যন্য কাজের জন্য জ্বালিয়ে দিত।এখনো গ্রামের দু-একটি বাড়িতে হারিকেন পাওয়া যায় সেগুলো এখন ময়লা ও মরিচা পড়ে ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।
ঘরেঘরে,রাস্তা-ঘাটে, হাট-বাজারে এখন বৈদ্যুতিক আলোয় বেশি জ্বলে। প্রযুক্তির এখন অনেক উন্নত হওয়ায় হারিকেনের স্থান করে নিয়েছে পল্লীবিদ্যুৎ,আর বিদ্যুৎ না থাকলে জ্বালানো হয় সোলার লাইট । জ্বালানিতে ব্যাপক উন্নয়নে হারিকেন বিলুপ্তির প্রায় দারপ্রান্তে। হারিকেন জ্বালিয়ে রাতে হাট-বাজারে যেত গ্রামের লোকজন, দোকানিরা বেচাকেনাও করত হারিকেনের আলোতে। অমাবস্যার রাতে ঘোর অন্ধকারে হারিকেনের আলো জ্বালিয়ে পথ চলার স্মৃতি এখনো বহু মানুষ মনে করে। আমার এখনো মনে পড়ে বই পড়ার সময় মধ্যরাতে ফুরিয়ে যেত সেই হারিকেনের কেরোসিন তেল আর সেই তেল আনার জন্য দুই কিলো পায়ে হেটে কিনে আনতাম কেনোসিন তেল।আর তেল কিনে আনার পর মনে একটা আনান্দ নিয়ে আবার নতুন করে হারিকেন জ্বালিয়ে পড়তে বসতাম।অনেক সময় হাতিকেন থেকে তেল বাহির করে বল বানিয়্র সেখানে কেরোসিন তেল মাখিয়ে আকাশে ছুড়ে মারতাম। হারিকেন নিয়ে অনেক সৃতি জড়িত আছে আমার নিজের কাছেও। নতুন প্রজন্ম হয়তো জানবেও না হারিকেন কী আর হারিকেন নিয়ে মানুষের কত সৃতি জড়িত আছে মনের ভিতর।
|
|---|
বন্ধুরা এই ছিল আমার আজকের আলোচনার বিষয়। আপনাদেরকে অসংখ্য ধন্যবাদ আমার পোস্টটি মনোযোগ সহকারে পড়ার জন্য।
ডিভাইস - রেডমি নোট ১০ প্রো
লোকেশন - পার্বতীপুর,দিনাজপুর।
ঐতিহ্যবাহী হারিকেন নিয়ে সুন্দর লিখেছেন।হারিকেন কিভাবে ব্যাবহার করা হয় তার বর্ণনা সুন্দর করে স্থাপন করেছেন। আপনার ছবিগুলো বেশ সুন্দর হয়েছে। সবমিলিয়ে সুন্দর পোস্ট লিখেছেন। কিন্তু আপনার পোস্টে ১টি বানান ভুল হয়েছে।পোস্ট ভালোভাবে রিভিশন দিবেন। ধন্যবাদ
হারিকেন দেখে শৈশবের এর কথা মনে পরে গেলে। রাতে এই হারিকেন এর আলোতে পড়াশোনা করতাম। স্কুল থেকে বাড়ি এসে বিকাল বেলা হারিকেন এ তৈল ভরে এবং গ্লাস মুছে রাখতাম রাতে পড়াশোনা করার জন্য।অনেক সুন্দর লিখছেন ভাই শুভ কামনা নিরন্তর
এই ঐতিহ্যবাহী হারিকেনের অনেক কদর ছিল। আগে হারিকেন ছাড়া মানুষের একটা দিন কাটাতে পারত না, কারণ আগে বিদ্যুৎ ছিল না। হারিকেন ছিল মানুষের একমাত্র অবলম্বন। পোস্টটি শেয়ার করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ ।
ধন্যবাদ আপু।
আগে যখন বেশিরভাগ জায়গায় বিদ্যুৎ ছিল না তখন দেখতাম এই হারিকেনের ব্যবহার। হারিকেনের একটা সুবিধা ছিল যে বাতাসে ও এর আগুনটা নিভতো না কারণ কাচ দিয়ে ঢাকা থাকতো। বর্তমানে আমাদের দেশে বেশিরভাগ জায়গায় বিদ্যুৎ রয়েছে তাই এখন হারিকেনের ব্যবহার নেই বললেই চলে। অসাধারণ একটি পোস্ট করেছেন শুভকামনা রইল
কেরোসিন তেল দিয়ে হারকিনের আলো দিয়ে ছোটবেলায় অনেক পড়াশুনা করেছি। কিন্তু এখন আরে হারকিন দেখাই যায় না, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ আসার কারণে অনেক সুন্দর হয়েছে আপনার পোস্ট।
We expected you to be friendly and active in the Steem For Tradition Community. We appreciate your effort. Thank you for sharing your beautiful content with us ❤️.
হারিকেন আমাদের গ্রাম অঞ্চলের ঐতিহ্য। একসময় গ্রামঅঞ্চলে বিদ্যুৎ না থাকায় হারিকেন জালিয়ে রাতের বেলা বই পরতাম। এখন গ্রামে বিদ্যুৎ আসায় দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে হারিকেন। সুন্দর একটি পোস্ট করেছেন। ধন্যবাদ ভাই।
হারিকেন ভাতি অনেক পুরনো একটি মাধ্যম আলো জ্বালানোর। আমরাও হারিকেন জ্বালিয়ে বই পড়তাম। গ্রামের কমবেশি প্রতিটি বাড়িতেই সন্ধ্যা হলেই যেন হারিকেন জালিয়ে বাড়ি আলোকিত করা হতো।হারিকেন এর ব্যবহার এখন একদম নেই বললেই চলে। হারিকেন নিয়ে আপনি অনেক সুন্দর একটি উপস্থাপনা করেছেন ।আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
ধন্যবাদ আপু
এই হারিকেন এখন আর দেখা যায় না। আগে এটি সবার বাড়িতে দেখা যেত।হারিকেন তেল এর সাহায্যে জ্বালিয়ে আমরা বই পড়তাম আগে কারেন্ট চলে গেলে। ধন্যবাদ আপনাকে এত সুন্দর একটি পোস্ট আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য।
ধন্যবাদ ভাইয়া।
হারিকেন বাতি নিয়ে অসাধারণ লেখছেন ভাই, হারিকেন বাতি হলো আমাদের এক পুরনো দিনের ঐতিহ্য, যা এক সময় হারিকেন না থাকলে আমরা কিছুই করতে পারতাম না, হারিকেন বাতি দিয়ে আমরা অনেক কিছু করতাম।আগে আমাদের বাসায় বেশির ভাগ কারেন্ট ছিল না, আমরা হারিকেন বাতি দিয়ে রাত কাটায়ছি,আপনাকে অসংখ্য অসংখ্য ধন্যবাদ ভাই সুন্দর একটা পোস্ট উপস্থাপন করার জন্য।