মাটির তৈরি ঐতিহ্যবাহী মসলা বাটার হস্তযন্ত্র "বাটনা"
আসসালামু আলাইকুম,প্রিয় স্টিম ফর ট্রাডিশন কমিউনিটির ব্লগারবৃন্দরা সকলে কেমন আছেন? আশা করি আল্লাহ তায়ালার অশেষ কৃপায় আপনারা সকলে ভালোই আছেন। আমিও আল্লাহর রহমতে ভালো আছি
আমাদের উত্তরাঞ্চলের প্রায় প্রতিটি পরিবারের সাথে সম্পর্ক আছে এই বাটণা ও বাটনের সাথে। সাংসারিক কাজে আমাদের নানা ভাবে সাহায্য করে আসছে এই বাটনা ও বাটন।বাটনায় মসলা বাটলে তার স্বাদ অনেক ভালো হয়। এতে অনেক রকমের মসলা বাটা হয় যেমন জিরা,গরম মসলা,লঙ্কা,আদা, রসুন ইত্যাদি। সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হয় ভর্তা করার কাজে। অনেক ধরনের ভর্তা করা হয় এই বাটনায় যেমন আলু ভর্তা, রসুন ভর্তা,ডাল ভর্তা ইত্যাদি।আগে গ্রামে গাঁয়ে এই বাটনায় চাল বেটে আটা করা হতো। এটি মাটির তৈরি। এটা সাধারণত গ্রামে গাঁয়ে তৈরি করা হয়। এটা একটু ভারি হয়। দেখতে অনেক সুন্দর ও এর ওপর নকশা তৈরি করা হয়। কুমাররা এই বাটনা বেঁচে তাদের সংসার চালিয়ে থাকে।
কুমাররা আর ও অনেক ধরনের মাটির জিনিস তৈরি করে থাকে যেমন বাটনা,কলসি, হাড়ি,বাটি ইত্যাদি। এগুলো তারা মাথায় বা পায় টানা ভ্যনে নিয়ে গিয়ে গ্রামে গ্রামে বিক্রি করে। এগুলো শুধু গ্রামে গাঁয়ে নয়,শহরেও বিক্রি করা হয়। তবে শহরের তুলনায় গ্রামে বেশি ব্যবহার করা দেখা যায়। গ্রামে প্রায় প্রতিটি নারী এই বাটনা ও বাটনের সাথে সম্পর্ক করে তুলেছে। গ্রামে গাঁয়ে বলা হয় বাটনায় মসলা বাটলে রান্নার স্বাদ অনেক ভালো পাওয়া যায়। তবে এখন আধুনিকতার ছোঁয়ায় পাল্টে গেছে সব কিছু।তাই ভালো রান্নার স্বাদ পাওয়া যায় না।
বাটনায় পেষার জন্য যে ছোট লাঠি ব্যবহার হয় সেগুলো কাঠ বা বাঁশের তৈরি হয়ে থাকে।কাঠ দিয়ে তৈরি লাঠিটি মেশিন দিয়ে বা হাত দিয়েও বানানো হয়, এগুলো তৈরি করাও কুঁটির শিল্পের অন্তর্ভুক্ত। গ্রামে বাঁশের তৈরি লাঠিটি বেশ জনপ্রিয়। এগুলো দিয়ে বাটনায় পেষা হলে তা অতি তারাতারি ব্লেন্ড হয়ে যায়।অন্যান্য বাঁটাবাঁটি কাজে ব্যবহারিত জিনিস গুলোর থেকে বাটনায় বাঁটার স্বাদটা একটু আলাদা হয়ে থাকে।কোনো কিছু বাঁটার পর এটি খুব সহজেই পরিষ্কার করে রাখা যায়।
গ্রামের কুমারেরা এই মাটির তৈরি বাটনা গুলো তৈরি করে থাকে।তারা এটি তৈরি করতে খুব ভালো মানের মাটি ব্যবহার করে, কারন এটা বাঁটাবাঁটি করতে ভেঙে যেতে পারে, তাই ভালো মানের মাটি ব্যবহার করলে এর বৃদ্ধি বেশি পায়। এছাড়া এগুলো তৈরির পর খুব ভালো করে পোড়ানো হয়।বাটনার মধ্যে বিভিন্ন ধরনের নকশা আঁকা হয় যা পেষার কাজে সহায়তা করে।এই নকশ গুলো যতদিন পর্যন্ত ঠিক থাকে ততদিন পর্যন্ত মসলা খুব তারাতারি গুড়ো হয়ে যায়। গ্রামে কুমারেরা তাদের ভ্যানে করে এসব জিনিস পত্র নিয়ে গ্রামে গ্রামে ঘুরে ঘুরে বিক্রি করে।এছাড়া হাট বাজারেও এগুলো দেখতে পাওয়া যায়।
আর বাটনার পিছনের দিকে সুন্দর করে একটা গোল বিত্ত দেওয়া থাকে যাতে করে বাটনাটি পরে না যায়। আর আমরা যেখানে সেখানেও যেন রাখতে পারি,আজকে এই ছিল আমার বাটনা নিয়ে কিছু আলোচনা। আপনারা সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন।
বাটনা নিয়ে অনেক সুন্দর একটি পোস্ট করেছেন।দৈনন্দিন জীবনে বাটনা আমরা প্রতিদিনে ব্যবহার করে থাকি। বাটনা নিয়ে অনেক সুন্দর ভাবে সাজিয়ে গুছিয়ে লিখেছেন আপু। অসাধারন হয়েছে পোস্টি। ধন্যবাদ আপু সুন্দর একটি পোস্ট আমাদের মাঝে উপস্থাপন করার জন্য।
ধন্যবাদ আপনাকে
বাটনা নিয়ে অনেক সুন্দর পোস্ট করছেন আপু। মসলা বাটার জন্য একটা অনেক উপকারী একটা মাধ্যম, তবে এখন আধুনিকতার ছোঁয়ায় অনেক ইলেকট্রনিক অনেক যন্ত্র বের হয়েছে সেগুলো দিয়ে মানুষ বেশি ব্লেন্ডার করে। আপনি অনেক গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট করছেন অনেক ধন্যবাদ আপু
ধন্যবাদ
বাটনা আমাদের দৈনন্দিন কাজের অতীব গুরুত্বপূর্ণ একটি তৈজসপত্র। এটা আমরা মসলাসহ বিভিন্ন দ্রব্যাদী বাটার কাজে ব্যবহার করে থাকি।তাছাড়া এটি একটি সুন্দর হস্তশিল্প। কুমোররা তাদের সুনিপুণ হাতের জাদু দিয়ে এসব শিল্প তৈরি করেন।এসব তৈরি করে তারা তাদের জীবিকা নির্বাহ করে। বাটনা আমাদের ঐতিহ্যের অংশ। বাটনা নিয়ে আপনি অনেক সুন্দর করে সাজিয়ে গুছিয়ে উপস্থাপন করেছেন। ধন্যবাদ
ধন্যবাদ আপনাকে
আমাদের এলাকায় মসলা বাটার এই পাত্রটিকে বলে মসুন। এই পাত্রটি প্রায় প্রতিটি বাসায় দেখতে পাওয়া যায়। প্রাচীন কাল থেকেই এই পাত্রটি মসলা বাটার কাজে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। আপনি অনেক সুন্দর তত্ব দিয়েছেন আপু।
ধন্যবাদ
বাহ আপনি খুব সুন্দর করে পোস্ট করেছেন। তবে এর মূলত নাম হচ্ছে শারওয়া। যদিও আমি বাটনা নাম টা জানি না। আপনার কাছ থেকে জানতে পারলাম। আপনি খুব সুন্দর করে সাজিয়ে গুছিয়ে লিখছেন আপু। আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
ধন্যবাদ
মাটির তৈরি হস্তযন্ত্র নিয়ে অসাধারণ লেখছেন আপু, আমাদের প্রতিটা বাসায় ঘরে ঘরে এই হস্তযন্ত্র আছে। এই বাটনায় আমরা অনেক ধরনের জিনিস গুড়ো করি।মসলা বাটা থেকে অনেক কিছু বাটা বাটি করি। আপনি অনেক সুন্দর লেখছেন আপু। আপনাকে অসংখ্য অসংখ্য ধন্যবাদ সুন্দর একটা পোস্ট উপস্থাপন করার জন্য
ধন্যবাদ
ঐতিহ্যবাহী কাসা নিয়ে সুন্দর একটি উপস্থাপনা। কাসা আমাদের গ্রাম অঞ্চলে ব্যবহার করা হয়। কাসায় মসল্লা,মরিচ ও রসুন বাটা হয়।
আপনি বাটনা নিয়ে খুব সুন্দর একটি পোস্ট করেছেন। সত্যি বলতে বাটনার মত আপনার পোস্টের লেখা গুলোও সেরকম লাগছে। ভালো সাজিয়ে লিখেছেন। তবে আমাদের এলাকায় বাটনাকে সারোয়া বলে ডেকে থাকে। জানিনা এর কারন কি?? আসলে আঞ্চলিক মানে আঞ্চলিক কেন বা কি জন্য এগুলোর উত্তর পাওয়া খুব মুসকিল। আগে বিকেল বেলা আমরা বরই নিয়ে এসে বড় আপু, বড় ফুপুদের দিতাম তারা সুন্দর করে বরই শুকনা মরিচ, লবম দিয়ে অনেক সময় ভাবে গুজ্জাল বানাতো। ঐতিহ্যবাহী বাটনা নিয়ে একটি সুন্দর পোস্ট করেছেন। আপনার উপস্থাপনা অনেক সুন্দর হয়েছে।
মাটির তৈরি ঐতিহ্যবাহী বাটনা নিয়ে খুব সুন্দর লিখেছেন আপনি। আমাদের বাড়িতে এটি রয়েছে প্রায় প্রতিদিনের কাজেই এই বাটনা আমার মা ব্যবহার করে। যেমন ঝাল গুড়া করতে এই বাটনা ব্যবহার করা হয়। খুব সুন্দর পোস্ট উপস্থাপন করেছেন আপনি কথাগুলো বেশ ভালই লিখেছেন ধন্যবাদ আপনাকে এত সুন্দর একটি পোস্ট উপস্থাপন করার জন্য।