ঐতিহ্যবাহী বাঁশের তৈরি মাঁচা
আজ মঙ্গলবার
২৭ এ জুন ২০২৩
প্রিয় স্টিমবাসি সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। আমিও আল্লাহর রহমতে ভালো আছি। আপনাদের জন্য রইলো অন্তরের অন্তস্থল থেকে ভালোবাসা এবং শুভকামনা। আজকে আমি আপনাদের বাঁশের তৈরি মাঁচা সম্পর্কে বলবো এবং দেখাবো, আশা করি আপনাদের ভালো লাগবে। তো দেরি কেনো চলেন শুরু করা যাক।
গ্রাম গঞ্জের আসল সৌন্দর্য হচ্ছে বাঁশের তৈরি মাঁচা, যা গ্রামগঞ্জের আড্ডাখানা। গ্রামের মানুষ বিকেল বেলা সবাই মিলে এই মাঁচার উপর বসে আড্ডা দেয়। যুগ যুগ ধরে প্রতিটি বাড়িতে এই মাঁচা ব্যবহার করা হয়। মাঁচা মূলত বাঁশ দিয়ে তৈরি। বাঁশ কাটার পর পানিতে ভিজিয়ে রাখা হয় কিছু দিন, তারপর সেখান থেকে তুলে, ফালি করা হয়। সেই ফালি রৌদ্রে শুকিয়ে কাটি মেরে মাঁচা তৈরি করা হয় ।
গ্রামের মানুষ এই মাঁচার উপর বসে আড্ডা দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। যখন বিদ্যুৎ না থাকে, তখন রাতভর আড্ডা চলে এই মাঁচার উপর। মাঁচা মূলত রাস্তার পাশে থাকার কারণে রাস্তা দিয়ে লোকজন চলাচল করার সময় এখানে বসে একটু সময় নিয়ে শরীর জুড়িয়ে নিতে পারে।
এই মাঁচার উপর বসেই এলাকার সকল খবরা খবর পাওয়া যায়, এটা এমন একটা বৈঠকখানা যে বৈঠকখানায় ভালো মন্দ সমস্ত আলাপ-আলোচনা হয়। বয়স্ক মানুষ এই মাঁচায় শুয়েও থাকে ।সকল ক্লান্তি দূর করার জন্য মাঁচা একটি উত্তম স্থান। সকল বয়সের ছেলেমেয়ে থেকে শুরু করে বৃদ্ধ-বৃদ্ধা সকলের আড্ডার স্থান এই মাঁচা।
মাটি থেকে এক দেড় ফুট উঁচুতে এই মাঁচা তৈরি করা হয়। মাঁচাতে আড্ডার ফাঁকে ফাঁকে চলে অনেক গল্পের মেলা। আগে গ্রামের মুরুব্বির এই মাঁচাতে বসে গ্রামের ধুয়া গান করতো। এখন সেগুলো বিলুপ্তপ্রায়। গরমের সময় রাতভর আড্ডা চলে গান-বাজনা চলে এই মাঁচার উপরে। জ্যোৎস্না রাতে এই মাঁচার উপরে বসে রাত্রিবেলা চাঁদের আসল সৌন্দর্য দেখা যায়। এই মাঁচার উপর বসে অনেক কথাই মনে পরে যায়। সোনালী শৈশব এর দিনগুলো মনে পরে যায়।
আমি মাঝে মাঝে মাঁচায় বসে আড্ডা দেই ,আমার বেশ ভালো লাগে। বন্ধুদের সাথে মাঁচাতে সময় কাটাতেও বেশ ভালো লাগে, তেমনি আজ ঘুরতে বের হয়েছিলাম বন্ধুদের সাথে, গুরতে গুরতে যখন ক্লান্ত হয়ে গেছি, তখনি একটি বাঁশের তৈরি মাঁচা দেখতে পেলাম । সেই মাঁচাতে আমরা অনেক সময় গল্প করলাম । বেশ ভালো লাগলো। গ্রামের কথা মনে পড়ে গেলো। আমাদের গ্রামের বাড়িতে এরকম মাঁচা ছিলো। যেখানে বসে সবাই আড্ডা দিতো। অনেকদিন গ্রামে যাওয়া হয় না, তাই মাঁচাতেও বসা হয় না ।এই মাঁচা দেখার পরে বসার লোভটা সামলাতে পারলাম না৷ তাই অনেকক্ষণ বসে থাকলাম । এবং আপনাদের সামনে তুলে ধরলাম, কেমন লাগলো বাঁশের তৈরি মাঁচা নিয়ে আমার এই সামান্য লেখাটা ,সেটা কমেন্টের মাধ্যমে জানাবেন। কারো যদি মাঁচা নিয়ে কোন স্মৃতি থাকে সেটা কমেন্টের মাধ্যমে জানাবেন। সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন আজ এ পর্যন্তই। আবারো লিখবো অন্য কোন বিষয় নিয়ে আপনাদের মাঝে।
| মোবাইল | TECNO CAMON 16 PRO |
|---|---|
| ধরণ | ঐতিহ্যবাহী বাঁশের তৈরি মাঁচা। |
| ক্যামেরা | ৬৪ মেগাপিক্সেল |
| ফটোগ্রাফার | @aslamarfin |
| অবস্থান | সৈয়দপুর, নীলফামারী। |
গ্রাম অঞ্চলে বাঁশের তৈরি এসব মাচা া সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। বাসায় বাঁশতলায় অথবা গাছের নিচে এসব মাচা া বেশি দেখা যায়। তবে আমাদের এইখানে এগুলোকে টং বলে।
ধন্যবাদ ভাই সুন্দর মন্তব্য করার জন্য
টুইটার লিংকঃ-
https://twitter.com/Aslamarfin64366/status/1673634490865061888?t=jMQhYm5qNRNL10YZRvmyZA&s=19
আমাদের এলাকায় এই মাচাকে টং বলে থাকে।এই টংগুলো বাঁশ দিয়ে তৈরি করা হয়।এসব টং সাধারণত গ্রামেই বেশি লক্ষ্য করা যায়। আমাদের বাসার সামনেও এইরকম টং রয়েছে। বিকেল বেলা এই টঙ্গে বসে আমরা আড্ডা দেই।ধন্যবাদ ভাইয়া টং নিয়ে সুন্দর একটি পোস্ট উপস্থাপন করার জন্য।
ধন্যবাদ আপু এত সুন্দর মন্তব্য করার জন্য।
আমাদের এলাকায় এটাকে বাশের তৈরি টং বলা হয়। গ্রামের মানুষেরা সারাদিনের কাজকর্ম করে এসে এই টং এই সস্তির বিশ্রাম নেয়। টং নিয়ে খুবই চমৎকার একটি পোস্ট করেছেন।
ধন্যবাদ ভাই সুন্দর মন্তব্য করার জন্য।
এই বাঁশের তৈরি মাচা গুলো গ্রামে পুকুর ঘাট অথবা দোকানের সামনে বেশি লক্ষ্য করা যায়৷ গরমের সময় এই মাচা গুলোতে শুয়ে থাকতে বেশ ভালো লাগে৷ আরাম করার জন্য ভালো একটি মাধ্যম এটি।
অসংখ্য ধন্যবাদ ভাই সুন্দর মন্তব্য করার জন্য।
বাঁশের তৈরি মাচা গুলো সবচেয়ে বেশি গ্রামাঞ্চলে দেখা যায় ৷ কেননা গ্রামাঞ্চলে মানুষ অবসর সময়ে এইভাবে বাঁশের তীরে মাচা তৈরি করে তার উপরে বিশ্রাম নেয় ৷ অবশ্য আপনার পোস্টটি পড়ে ভালই লাগলো ৷ দারুন লিখেছেন আপনি I ধন্যবাদ
ধন্যবাদ ভাই সুন্দর মন্তব্য করার জন্য।
ঐতিহ্যবাহী বাঁশের তৈরি মাঁচা নিয়ে অনেক সুন্দর একটা পোস্ট লিখেছেন। গ্রাম অঞ্চলে এই বাঁশের তৈরি মাঁচাকে আমরা টং বলে থাকি। সুন্দর একটি পোস্ট উপস্থাপন করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।
ধন্যবাদ ভাই সুন্দর মন্তব্য করার জন্য
মাচায় বসে আড্ডা দেওয়ার মজাই আলাদা।গ্রামীণ সমাজে সব থেকে বেশি এই মাচা দেখা যায়। আমাদের বাড়ির বাইরে একটি এরকম মাচা রয়েছে দোকানের সঙ্গে। দারুন একটি পোস্ট শেয়ার করেছেন ভাই ধন্যবাদ আপনাকে।
ধন্যবাদ ভাই সুন্দর মন্তব্য করার জন্য।
ঐতিহ্যবাহী বাঁশের মাচা বা টং নিয়ে অনেক সুন্দর লিখেছেন। গ্রামাঞ্চলে বাঁশের তৈরি টং দেখা যায়।গরমের সময়ে টং বসে আড্ডা দেয়। মাচা বা টং আমাদের এলাকায় ও আছে। সব জায়গায়,এরকম মাচা বা টং দেখা যায়।
অসংখ্য ধন্যবাদ ভাই সুন্দর মন্তব্য করার জন্য।