চাকরি জীবনের শেষ কর্মদিবস, একজন কর্মচারীর বিদায় অনুষ্ঠান
আজ বুধবার
৭ জুন ২০২৩
প্রিয় স্টিমবাসি সবাই কেমন আছেন? আমিও আল্লাহর রহমতে ভালো আছি। আপনাদের জন্য রইল অন্তরের অন্তস্থল থেকে ভালোবাসা ও শুভকামনা। প্রত্যেকটা মানুষের কর্মের অবসর রয়েছে। সেটা হোক চাকরি কিংবা ব্যবসা, অথবা কৃষি কাজ। প্রত্যেকটা কাজ থেকে মানুষকে একসময় অবসরে যেতে হয়। আজকে আমি সেই অবসর জীবন নিয়ে বলবো, আশা করি আপনাদের ভালো লাগবে। তো দেরি কেন চলেন শুরু করি।
অবসরপ্রাপ্ত জীবন সুখের হোক প্রত্যেকটা মানুষের। সব কাজের একটা শেষ রয়েছে। ৫৯ বছর বয়স হলে সরকারি চাকুরিতে অবসর এ যেতে হয়। তার চাকরি জীবনের সমাপ্ত ঘটে । সেই যৌবন এ চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর কেমনে কেটে যায় একজন কর্মচারীর জীবনের ৩৫ বছর। তা হয়তো টের পাওয়াই যায় না।
বিদায়, শব্দটা শুনলেই বুকের ভিতর কেমন জানি একটা কষ্টের অনুভূতি হয়। তবু তো বিদায় নিতে হবে, সেই ছোট জীবন থেকে শুরু করে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত বিদায় প্রত্যেকটা মানুষের জীবনের সাথে জড়িয়ে রয়েছে, যখন কোন মানুষ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়, পাঁচটি বছর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ করে বিদায় নিয়ে তারপর মাধ্যমিক বিদ্যালয় ভর্তি হতে হয়। সেখান থেকে বিদায় নিয়ে ভর্তি হতে হয় উচ্চ মাধ্যামিক বিদ্যালয়ে। তারপর শুরু হয় কর্মজীবন , সেখান থেকেও একসময় বিদায় নিতে হয়। শুরু হয় অবসরপ্রাপ্ত জীবন।
আজকে যার বিদায় অনুষ্ঠান ছিল, তার নাম ইউনুস আলী, উনি বাংলাদেশ রেলওয়েতে ১৯৮৩ সালে যোগদান করেছিল। আজ তার কর্ম জীবনের শেষ দিন। কাল থেকে তার অবসরপ্রাপ্ত জীবন । তবে আল্লাহ তাকে অনেক সুস্থ এবং সবল রেখেছে, অনেকে হয়তো চাকরি জীবন শেষ করতেই পারে না। তার আগেই হয়তো অসুস্থ নয়তো আল্লাহতালার ডাকে সাড়া দিয়ে চলে যেতে হয় দুনিয়া থেকে। বিশেষ কোনো আয়োজন ছিল না। হুটহাট করে তাকে বিদায় দেওয়া হয়েছিল।
সে অনেক ভালো মানুষ ছিল। পিতৃ সমতুল্য এই মানুষটা অনেক আদর করে আমাদের কাজ শিখাতেন। বাংলাদেশ রেলওয়ের গর্ব ছিলেন উনি । উনি একজন দক্ষ কারিগর। তার চাকরি জীবনে কখনো কাজে ফাঁকি দেয় নাই। সঠিক সময় ডিউটি করতেন। আজ তার চোখে মুখে হতাশার ছাপ , কি যেনো শেষ হয়ে গেলো তার জীবন থেকে। কান্না কান্না কন্ঠে বলতাছে তোমরা সবাই ভালো থেকো। তার কথা শুনে আমার চোখেও পানি চলে আসলো।
সে এতটাই ভালো মানুষ ছিল যে। তার শেষ কর্মদিবস এ সবার চোখে পানি চলে আসছিলো। দোয়া করি তার অবসরপ্রাপ্ত জীবন সুখের হোক। পরিবার-পরিজন নিয়ে ভালো থাকুক। আনন্দে কাটুক তার বাকিটা জীবন। বিদায় অনুষ্ঠানে আমরা তাকে সম্মাননা স্মারক ও কিছু উপহার সামগ্রী তাকে দিলাম। কাল থেকে তাকে আর অফিসে দেখবো না। অনেক মিস করবো তার সাথে কাটানো সময়গুলো। এভাবেই একজন সরকারি চাকরি জীবনের সমাপ্তি ঘটে। আজ এ পর্যন্তই, আবারও লিখবো অন্য কোন বিষয় নিয়ে আপনাদের মাঝে। সে পর্যন্ত সবাই ভালো থাকেন সুস্থ থাকেন।
| মোবাইল | TECNO CAMON 16 PRO |
|---|---|
| ধরণ | শেষ কর্মদিবস |
| ফটোগ্রাফার | @aslamarfin |
| ক্যামেরা | ৬৪ মেগাপিক্সেল |
| অবস্থান | সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা। |
https://twitter.com/Aslamarfin64366/status/1666410617870389249?t=PJ3mG2z2zoK4gafxZjgk7A&s=19
অবসর সবার জীবনে আসে।এটা আমাদের জীবনের একটা অংশ। বিদায় শব্দটি শুনলেই মনটা ভারী হয়ে আসে।তবুও একদিন বিদায় নিয়ে হবে।অসংখ্য ধন্যবাদ ভাইয়া।
অসংখ্য ধন্যবাদ আপু সুন্দর মন্তব্য করার জন্য।
চাকরি জীবনের শেষ কর্মদিবস, একজন কর্মচারীর বিদায় অনুষ্ঠান নিয়ে অনেক সুন্দর একটি পোস্ট করেছেন।সবার চাকরি জীবনে অবসর নেওয়ার লাগে।অনেক সুন্দর একটি পোস্ট আমাদের মাঝে সেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ।
অসংখ্য ধন্যবাদ ভাই সুন্দর মন্তব্য করার জন্য।
অনেক সময় একসাথে কাজ করার ফলে একে অপরের মধ্যে অনেক সুন্দর সম্পর্ক তৈরি হয়। সেই সম্পর্ক এতটাই মজবুত হয় যে রক্তের বাঁধনের চেয়েও শক্তিশালী।
ধন্যবাদ ভাই মন্তব্য করার জন্য।
যেকোনো ধরনের বিদায়ই আসলে কষ্টকর। দীর্ঘদিন যাদের পাশে থেকে কাজ করা হয় তাদের বা সহকর্মীদের বিদায়ে খারাপ লাগে। আপনাদের যেমন খারাপ লাগছে তেমনি যিনি আজকে অবসর নিলেন তিনিও অনেক কষ্ট পেয়েছেন। ধন্যবাদ আপনাকে ভাইয়া।
অসংখ্য ধন্যবাদ আপু সুন্দর মন্তব্য করার জন্য।
বিদায় জিনিসটা খুবই কষ্টের।কারণ দীর্ঘদিন যাবত একসাথে কাজ করার পর, কোন কর্মচারী যখন বিদায় নেয় তখন তার মনে অনেক স্মৃতিময় কষ্ট জমে থাকে। সুন্দর উপস্থাপন করেছেন ভাই আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
অসংখ্য ধন্যবাদ ভাই সুন্দর মন্তব্য করার জন্য।
বিদায় শব্দটি অনেক বেদনার বড় ভাই। প্রত্যেক কাজ থেকে একটা সময় আমাদের বিদায় নিতে হয়। ৩৫ বছর উনি চাকরিতে কাটিয়েছেন এটি অনেক লম্বা সময় ভাই। আজ ওনার বিদায় ঘন্টা। আপনার পিতা সমতূল্য মানুষটার জন্য রইল ভালোবাসা ও দোয়া।
বিদায়ের ঘন্টা বাজার সুর বড় বেদনার। যাই হোক সেই ব্যক্তির পরবর্তী দিনগুলোর জন্য শুভকামনা রইল। বাকি সময়টা তিনি পরিবারের সাথে কাটুক এই কামনাই করি। হঠাৎ করে যখন অফিসে দেখতে পারবেন লোকটি নেই তখন মনের মধ্যে একটি হাহাকার সৃষ্টি হবে।
সকলকেই একটা সময়ে বিদায় নিতে হয়৷ চাকরিতে ঢুকে সবার সাথে দীর্ঘ দিন কাজ করার পর যখন অবসহ নেন একজন কর্মচারী তখন তার কাছে মনে এইতো সেদিনই কাজে যোগ দিলাম৷ আর আজ আমার চাকরী শেষ হয়ে গেলো৷ আমার বাবাও কিছুদিন আগে অবসরে গেছেন৷ আমার বাবা'র অনুষ্ঠানে আমরা গিয়েছিলাম৷