মুভি রিভিউ: "ব্রেক "( Break )
হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি।
আজকে আপনাদের সাথে একটা মুভি রিভিউ শেয়ার করবো। এই মুভিটির নাম হলো "ব্রেক"। এই মুভিটি আমি আগে দেখিনি, আজকে প্রথম দেখলাম। আর এই মুভিটির বয়সও বেশিদিন না। মুভিটি এডভেঞ্চার এবং থ্রিলার মিলিয়ে তৈরি করা। এখানে লেখক ডেনিস কস্যাকভ নিজেই অভিনয়ে নিযুক্ত হয়েছেন। আশা করি আজকের এই মুভি রিভিউটি আপনাদের কাছে ভালো লাগবে।
♚কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:♚
✔মূল কাহিনী :
মুভির শুরুতে দেখা যায় কিছু লোক পাহাড়ের উপরে জমাট বাঁধা বরফের মধ্যে দিয়ে হেঁটে হেঁটে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এখানে এই লোকগুলো সাধারণত এক জন আরেকজনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। সেখানে তারা সবাই মোজ মস্তি করতে করতে কোনো একটা স্থানে যাচ্ছিলো। এরপর পথে সেখানে তারা যেতে যেতে কিছু ছবি তুললো নিজেদের মধ্যে এবং পাহাড়ের উপরে একটা কেবিনে পৌঁছালো। এখানে সাধারণত কেবিন বলতে পাহাড়ের উপরে যেসব সিস্টেমের মাধ্যমে এক স্থান থেকে আরেক স্থানে পৌঁছানো যায় আর কি, এটাকে একপ্রকার লিফ্টও বলে । যাইহোক এরপর সেখানে কেবিনের মধ্যে হালকা করে কয়েকজনের মধ্যে কিছু একটা বিষয় নিয়ে ঝামেলা সৃষ্টি হয় আর সেখানে মেশিনটির চালককে তারা কিছু টাকা দিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে। এরপর তারা সেই ঝুলন্ত কেবিনে করে চলা শুরু করে এবং যেতে যেতে মাঝপথে হঠাৎ করে বিদ্যুৎ চলে যায় আর কেবিনটি থেমে যায়। কারণ এই কেবিন চালিত মেশিনটি বিদ্যুতের সংযোগে চলে । এরপর তারা সবাই মনে করেছিল হয়তো এটা সাময়িক সময়ের জন্য গেছে আবার চলে আসবে। এর মধ্যে সেখানে একজন সেই সময়টাকে একটু বেশি ইনজয় করতে লাগে আর জানালা খুলে হাওয়া খেতে লাগে। অনেক্ষন হয়ে যাওয়ায় এদিকে চালক এসে ইঞ্জিনগুলো একটু চেক করতে লাগে আর কোনো একটা সুইচ চাপার সাথে সাথে একটা ঝটকা খায় মেশিনটি আর সেই লোকটি তখন ওই অবস্থায় জানালার কাছে দাঁড়িয়ে ছিল, ফলে সে পড়েই যাচ্ছিলো অতো উঁচু স্থান থেকে। একজন দৌড়িয়ে গিয়ে তাকে টেনে ভিতরে নিয়ে আসে তখন। এরপর চালকটি মেশিন পুনরায় চালু করলেও মেশিনের যে বড়ো মতো চাকাটি ঘুরছিল সেখানে একটা দড়ি কিভাবে আটকিয়ে যায় আর সেই দড়িটি ছিল চালকটির গোলায়। ফলে চাকার ঘূর্ণনের সাথে সাথে দড়ি উপরে যাওয়ায় তার গলায় ফাঁস আটকিয়ে যায় আর মারা যায়।
লিফ্ট চালিত সেই কেবিনটি আবার চলতে চলতে থেমে গেলো কারণ চাকাটি হঠাৎ করে এমনভাবে থেমে গেলো যে শর্টসার্কিট হয়ে সব ফিউজ উড়ে যায়। এরপর কেবিনের মধ্যে থাকা সবাই নতুন বছরের সেলিব্রেশন আর মজা করতে লাগে, কারণ ওই সময় তাদের নতুন বছরের শুরু হয়েছিল। যাইহোক এদিকে চালক যে মারা গেছে সেটা সম্পর্কে তারা কিছুই জানে না। এদিকে তারা সারা রাত কেবিনের মধ্যে অনেক মজা করার পরে সবাই গভীর নিদ্রায় শুয়ে পড়ে। সকালে ওঠার পরে সবাই চিন্তাভাবনা করতে লাগে যে এখান থেকে কিভাবে বেরোনো যায়। সেখানে তাদের মোবাইলের কোনো নেটওয়ার্কই কাজ করছিলো না। তারপর ওখানে একজন কেবিনের ভিতরে এমার্জেন্সি সাইট দেখতে পায় এবং সেখান থেকে তারা বেরোনোর চেষ্টা করতে লাগে। কিন্তু প্যারাসুট না হলে সেখান থেকে বেরোনো কঠিন বিষয় কারণ অনেক উঁচুতে তারা সেই সময় অবস্থান করছিলো। আর সেখানে বরফে ঢাকা চারিদিকে, প্রচন্ড ঠান্ডার মধ্যে সবাই আটকে আছে বহু সময় ধরে, খাবারও তাদের কাছে কম। কন্ট্রোল রুমে একজন মহিলা জানতে পারে যে মাঝ পথে এই লিফ্টটি বন্ধ হয়ে পড়ে আছে। তারা কোনোমতে এমার্জেন্সি গেট খুলে ফেলে এবং সেখান থেকে বেরোনোর জন্য তারা সর্বশেষ উপায় দড়ি খুঁজে পায় এবং উপরে কয়েকজন দড়িটিকে লিফ্ট এর রডের গায়ে বেঁধে রাখে আর একজন প্রথমে নিচের দিকে চলে যায় কিন্তু কিছু নিচে যেতেই দেখে সেখানে জমাট বাঁধা বরফে ভেঙে গিয়ে গর্ত মতো সৃষ্টি হয়ে যায় ফলে তাকে আবার উপরের দিকে টানতে বলে কিন্তু কেবিনের রড ভেঙে যায় আর সেই সাথে আরো একজন ভারি মানুষ নিচে চলে যায় আর এদিকে একটা মেয়ে সেই দড়িটা অনেক কষ্টে তার হাতে পেঁচিয়ে ধরে রেখেছিলো। ভারী মতো সেই লোকটি স্বার্থপরের মতো নিজে বাঁচার তাগিদে নিচের থেকে দড়িটা কেটে তাকে নিচে ফেলে দেয়। এদিকে কন্ট্রোল রুমের থেকে তাদের সাহায্য করার জন্য কোনো লোক আসেনি দুইদিন কেটে যাওয়ার পরেও, ফলে তারা সেখানেই আটকে থাকলো।
ভারী মতো দেখতে লোকটি নিচে থেকে কোনোমতে উপরে উঠে আসে এবং তাকে একটা মেয়ে বলতে লাগে তাকে কেনো মেরে ফেললো সে। সে তাকে বললো তাকে না ফেলে দিলে বাকি আমরা সবাই মারা যেতাম, আরেকটা মেয়েও লোকটার সাথে শায় দিলো। এরপর সেখানে তারা একটা হেলিকপ্টার আসার শব্দ শুনতে পায় এবং তাদের সাহায্যের জন্য ডাকতে লিফ্ট এর ছাদে চলে যায়। নিচে থেকে তখন একটা মেয়ে উপরে উঠে এসে আগুন জ্বালিয়ে তাদের কাছে বার্তা পৌঁছানোর চেষ্টা করে কিন্তু তারা দেখতে পায় না আর চলে যায় সেখান থেকে। এরপর ওই লোকটির ওই সময় এক প্রকার মাথা খারাপ হয়ে যায় আর মেয়েটির উপর দোষারোপ করতে লাগে যে তোমার জন্য এইসব হয়েছে। আর মেয়েটিকে মারার জন্য বা নিচে ফেলে দেওয়ার জন্য উতালা হয়ে পড়ে। এদিকে লিফ্ট এর উপরের দরজাটাও আটকিয়ে যায় আর তখন লিফ্ট এর ভিতরেও যেতে পারছিলো না তারা দুইজন। মেয়েটিকে মারতে লাগলে সে বুদ্ধি করে লিফ্ট এর রড ধরে একটু নিচে এসে মেইন দরজাটাকে চাবি দিয়ে খুলে নিচে চলে যায় কারণ তার কাছে একটা চাবি ছিল। এরপর লোকটি অনেক ধস্তাধস্তি করে উপরের দরজাটি খোলার চেষ্টা করে কিন্তু খুলতে পারে না। গায়ের জোর খাটিয়ে খুলতে গিয়ে একটা ঝটকা খায় লিফ্টে আর ব্যালেন্স হারিয়ে নিচে পড়ে মারা যায়। এরপর মেয়েটি নিচে লিফ্টের মধ্যে এসে দেখে যে অন্য সেই মেয়েটি মারা যায় কারণ তার গুরুতর চোট লেগেছিলো শরীরে আর প্রচন্ড ঠান্ডার কারণে নিজেকে রক্ষা করতে পারিনি। অন্য মেয়েটিও ঠান্ডায় একপ্রকার জর্জরিত হয়ে পড়ে কারণ এমার্জেন্সি গেট খোলার কারণে সেখান থেকে শীতল ঠান্ডা ঢুকছিল আর লিফ্টের মধ্যে বরফে পরিণত হচ্ছিলো একপ্রকার। বৃষ্টির মতো একপ্রকার তুষারপাত হচ্ছিলো।
লিফ্টে সর্বশেষ আটকে থাকা মেয়েটি যাকে ভালোবাসতো তাকে এই সবকিছুর ঘটনাবলী জানানোর জন্য ভিডিও করে সবকিছু বলে। তবে মেয়েটিকে বাঁচানোর জন্য তার মানুষটি ওই তুফানের মধ্যে রাতে কোনো লিফ্ট এর সহযোগিতা পেলো না। ঐদিন আবহাওয়া খারাপ ছিল ফলে তুষার ঝড় হচ্ছিলো। যাইহোক এরপর কন্ট্রোল রুমের লোকটি তাকে উপরে যাওয়ার জন্য লিফ্ট না দিলে সে গাড়ি করে উপরের দিকে যেতে লাগে মেয়েটির কাছে। এদিকে লিফ্টটি প্রায় ভেঙে নিচে পড়ার মতো অবস্থা একপ্রকার। মেয়েটি লিফ্ট এর উপরের দরজা যখন কোনো ভারী জিনিস দিয়ে আঘাত করে ভাঙতে যায় তখন লিফ্ট এর নিচের বড়ো অংশটি ভেঙে পড়ে যায়। তবে মেয়েটির কিছু হয়নি কারণ সে উপরের রড ধরে রেখেছিলো সেই মুহূর্তে। এদিকে তার প্রিয়জন পাহাড়ের উপরে কন্ট্রোল রুমে গিয়ে দেখে কোনো বিপদ ঘটেছে এবং কোনো আশা না দেখে ভেবেছিল হয়তো তাকে আর দেখতে পাবো না। তারপর মেয়েটি কিছু একটা উপরের দিকে তার দিশা থেকে উড়িয়ে দিয়েছিলো এবং লোকটি সেইটা দেখতে পেয়েছিলো এবং সাথে সাথে সে কন্ট্রোল রুমে গিয়ে সেই আটকে থাকা ইঞ্জিনটি চালু করার চেষ্টা করে। অবশেষে ইঞ্জিন চালু করলে মেয়েটি তাদের কাছে পৌঁছিয়ে যায় কিন্তু প্রচন্ড ঠান্ডার কারণে মেয়েটি নিস্তেজ হয়ে পড়ে আর শরীরে অক্সিজেনের ঘাটতিও পড়ে যায়। তারপর তার মুখে অক্সিজেন লাগিয়ে হসপিটালে নিয়ে যায়।
✔ব্যক্তিগত মতামত:
এই মুভিটি আমার কাছে ভালো লেগেছে। থ্রিলার মুভিগুলো আমার একটু ভালো লাগে। কাহিনীটা শেষ পর্যন্ত বেশ ভালো লাগলো দেখে। এই মুভির কাহিনীটা বোঝার কাছে ভালো লাগবে। কাহিনী না বুঝলে তেমন ইন্টারেষ্টিং লাগবে না মুভির পার্টগুলোতে। এটা থ্রিলার থাকলেও বেশি একটা থ্রিলার না, তবে এডভেঞ্চার আছে। লেখক নিজের চরিত্রে অভিনয় করে বিষয়টিকে ফুটিয়ে তুলেছে একপ্রকার।
✔ব্যক্তিগত রেটিং:
৭/১০
✔মুভির ট্রেইলার লিংক:
মুভিটির গল্প আমার কাছে অসাধারণ লেগেছে ।পুরোটা পড়ে ভালই লাগলো মুভিটি না দেখে ভালোভাবে বুঝতে পারব না ।আপনার মাধ্যমে মুভিটি দেখার সুযোগ পেলাম দাদা। এত সুন্দর মুভি আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।
এই মুভিটা একমাত্র বোঝার কাছেই ভালো লাগবে। হ্যা এটা একটু না দেখলে পড়ে সবটা বুঝতে পারবেন না। পড়ে নিয়েছেন, এখন দেখলে বিষয়টা আরো ক্লিয়ার হয়ে যাবে আপনার কাছে।
দাদা মুভিটি আমিও এখনো দেখিনি। আপনি যে রিভিউ লিখেছেন তাতে আমি চোখের সামনে সম্পূর্ণ কাহিনী দেখতে পাচ্ছি। মনে হচ্ছে মুভিটি আর না দেখলেও চলবে। এত ডিটেইল মুভি রিভিউ এখন পর্যন্ত আমার চোখে পড়েনি। ধন্যবাদ আপনাকে শেয়ার করার জন্য
হ্যা কাহিনীটা আমি একটু ডিটেলস দেওয়ার চেষ্টা করেছি। আপনি রিভিউটি সম্পূর্ণ পড়েছেন আর বুঝতে পেরেছেন জেনে অনেক ভালো লাগলো। তবে সময় যদি পান তাহলে মুভিটি একবার দেখবেন, তাহলে আরো ভালোভাবে বুঝতে পারবেন।
হলিউডের মুভিগুলো অত্যন্ত ভয়ানক হয়।যা দেখে রাতে মনে পড়ে ভয়ের সৃষ্টি করে মনে।কেমন ভুতুড়ে আর রক্ত টাইপের ।দেখেই গা শিউরে ওঠে।সুন্দর রিভিউ দিয়েছেন,ধন্যবাদ দাদা।
হ্যা ওরা মুভিগুলো একটু এই টাইপ এর করে থাকে। তবে এই মুভির থাম্বনেইল দেখে যেটা মনে হচ্ছে কাহিনীর ভিতরে কিন্তু অতটা সিরিয়াস না। তবে মুভিটি সম্পূর্ণ বোঝার উপরে ভালো লাগবে।
ব্রেক মুভিটি আপনি খুবই সুন্দরভাবে রিভিউ করেছেন। এই মুভিটি আমি কয়েকবার দেখেছি। মুভিটির যত দেখি ততই ভালো লাগে। আপনি খুবই সুন্দর ভাবে মুভির রিভিউ করেছেন। মুভির রিভিউ দেখে আমার খুবই ভালো লাগলো। কারণ আপনি ঘটনা সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করেছেন। আপনার জন্য শুভেচ্ছা রইলো।
ও আপনি কয়েকবার দেখেছেন তাহলে তো কাহিনী ভালোভাবে আপনি বুঝতে পেরেছেন, ফলে এই বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। রিভিউটি আপনার কাছে ভালো লেগেছে জেনে ভালো লাগলো।
আপনি "ব্রেক" সিনেমাটি যেভাবে বর্ণনা করেছেন তা দুর্দান্ত ছিল। এই ছবিতে আমার আগ্রহ এখনো কমেনি। আপনি ফিল্ম সংক্ষিপ্ত একটি চমৎকার কাজ করেছেন. ছবিটির রিভিউ ছিল একটি আনন্দদায়ক চমক। আপনি ইভেন্ট উপর নির্বাণ একটি চমৎকার কাজ করেছেন. তোমার সর্বোত্তম কামনা করছি।
মুভিটি লাস্টের দিকে বেশ ইন্টারেষ্টিং ছিল। এই মুভিটি যত ভালো বোঝা যাবে দেখতে তত আগ্রহ বাড়বে। আপনি রিভিউটি পড়েছেন আর আপনার ভালো লেগেছে জেনে ভালো লাগলো।
এ ধরনের থ্রিলার এবং অ্যাডভেঞ্চার মুভি গুলো দেখতে আমার খুবই ভালো লাগে। দাদা মুভি রিভিউ পড়ে মনে হল মুভিটি দারুণ রোমাঞ্চকর। আপনার পোস্টটি পড়ে মুভিটি দেখতে খুব ইচ্ছে করছে। আশা করছি খুব দ্রুত মুভিটি দেখে নেব। দাদা আপনার জন্য অনেক অনেক শুভকামনা রইল।
আমারও এইধরণের এডভেঞ্চার মুভিগুলো দেখতে খুব ভালো লাগে। তবে এই মুভিতে বেশি থ্রিলার বা রোমাঞ্চকর বিষয় না, বেশিরভাগটাই এডভেঞ্চার। মুভিটি দেখে নেবেন তাহলে আরো ক্লিয়ার বুঝতে পারবেন।
ব্রেক মুভিটি আমি এর আগে কখনো দেখিনি। আপনার মুভি রিভিউ টি পড়ে ছবিটি দেখার খুব ইচ্ছা জাগলো। আমার এই ধরনের অ্যাডভেঞ্চার ও থ্রিলার মুভি খুবই বেশি পছন্দের। শুভকামনা রইল আপনার জন্য ভাইয়া।
হ্যা রিভিউটি পড়ে নিয়েছেন, এখন দেখলে আরো ভালো লাগবে আপনার। দেখে নেবেন তাহলে সময় করে, আশা করি ভালো লাগবে আপনারও।