শেষ ফোনকলের রহস্য ( পর্ব ৪ )
| হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি। |
|---|
Image Created by OpenAI
আজকে আপনাদের সাথে একটা নতুন গল্প শেয়ার করে নেবো। গল্পটির নাম হলো "শেষ ফোনকলের রহস্য"। এর চতুর্থ পর্ব শেয়ার করবো। এরপর বৃদ্ধ জিজ্ঞাসা করলো- আপনার নাম অর্ণব? অর্ণব ধীরে মাথা নাড়ল। বৃদ্ধের মুখের রঙ বদলে গেল। তিনি ফিসফিস করে বললেন-তাহলে, এতদিন পরে আপনি ফিরে এলেন? অর্ণব সব ঘটনা খুলে বলল না। শুধু জিজ্ঞেস করল- সেদিন কী হয়েছিল? বৃদ্ধ দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। মেয়েটা প্রায় দুই ঘণ্টা এখানে দাঁড়িয়ে ছিল। বারবার ফোন করছিল। তারপর হঠাৎ খুব ভয় পেয়ে যায়। কারও সঙ্গে ঝগড়া করছিল বলেও মনে হচ্ছিল। এরপর তিনি থেমে গেলেন।
এরপর? একটা কালো গাড়ি এসেছিল। তারপর? আমি আর কিছু দেখিনি।কারণ তখন একটা ট্রেন ঢুকেছিল। অর্ণব লক্ষ্য করল, বৃদ্ধের হাত কাঁপছে। যেন তিনি ইচ্ছা করেই কিছু কথা লুকিয়ে যাচ্ছেন। বিকেলে বাড়ি ফিরে অর্ণব পুরোনো একটি বাক্স বের করল। সেখানে মেঘলার দেওয়া ছোট ছোট উপহার, কিছু ছবি আর একটি ডায়েরি রাখা ছিল। ডায়েরিটি সে গত পাঁচ বছরে কখনও খোলেনি, আজ খুলল।পাতাগুলো ধীরে ধীরে উল্টাতে লাগল। প্রথমে সাধারণ লেখা- কলেজের স্মৃতি, ছোটখাটো ঝগড়া, স্বপ্ন এবং ভবিষ্যতের পরিকল্পনা। হঠাৎ শেষের দিকের একটি পাতায় লাল কালি দিয়ে লেখা একটি লাইন তার চোখে পড়ল।
যদি কোনোদিন আমি হঠাৎ হারিয়ে যাই, তাহলে সবাই যা দেখবে, সত্যি তা হবে না। অর্ণবের হাত কেঁপে উঠল। পরের পাতাটি ছেঁড়া, তারপরের পাতায় মাত্র তিনটি শব্দ- প্ল্যাটফর্ম নম্বর তিন। তার নিচে একটি তারিখ, সেই তারিখই যেদিন মেঘলার মৃত্যু হয়েছিল। ঠিক তখনই দরজার ঘণ্টা বেজে উঠল। অর্ণব দরজা খুলে অবাক হয়ে গেল। বাইরে একজন কুরিয়ার বয় দাঁড়িয়ে এবং হাতে একটি পুরোনো বাদামি রঙের খাম। সে কথা বললো- অর্ণব সেন? জি, আপনার নামে এসেছে। কে পাঠিয়েছে? জানি না স্যার। স্বাক্ষর করে খামটি হাতে নিল অর্ণব। ভেতরে একটি পুরোনো সাদা-কালো ছবি। ছবিতে মেঘলা দাঁড়িয়ে আছে এবং তার পাশে একজন অচেনা মানুষ।
আর একটু দূরে দাঁড়িয়ে আছে অর্ণব নিজে। কিন্তু এই ছবিটি তোলা হয়েছিল কবে? সে তো এমন কোনো ছবি কখনও দেখেনি। ছবির পেছনে কাঁপা হাতে লেখা- সত্যিটা ছবির ভেতরে লুকিয়ে আছে। আরও একটি ছোট্ট কাগজ। তাতে মাত্র একটি বাক্য- আজ রাত ২টা ১৭ মিনিট। একা আসবে, কাউকে জানাবে না। রাত বাড়তে লাগল, ঘড়িতে তখন ১টা ৫০। অর্ণব ব্যাগে টর্চ, পাওয়ার ব্যাংক, নোটবুক এবং মোবাইল রেখে বেরিয়ে পড়ল। রাস্তা প্রায় ফাঁকা, আকাশে মেঘ এবং বাতাসে কেমন যেনো একটা ঠান্ডা গন্ধ। স্টেশনের প্রধান ফটকে পৌঁছে সে অবাক হয়ে গেল। দিনের ব্যস্ত স্টেশন যেন রাতের অন্ধকারে সম্পূর্ণ অন্য এক জগতে পরিণত হয়েছে। প্ল্যাটফর্ম নম্বর তিনে পৌঁছাতে তার শরীর কাঁপছিল।.....
শুভেচ্ছান্তে, @winkles
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |


