নিষিদ্ধ ঘড়ির কাঁটা ( পর্ব ১ )
| হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি। |
|---|
Image Created by OpenAI
আজকে আপনাদের সাথে "নিষিদ্ধ ঘড়ির কাঁটা" গল্পের প্রথম পর্ব শেয়ার করে নেবো। এক শীতকালের কথা। শীতের শেষ বিকেল, আকাশে সূর্যের আলো তখন ধীরে ধীরে ফিকে হয়ে আসছে। শহরের ব্যস্ত রাস্তা থেকে একটু দূরে, পুরোনো বাজারের সরু গলিগুলো যেন অন্য এক সময়ের গল্প বলে যাচ্ছে। আধুনিকতার স্পর্শ সেখানে খুব একটা পৌঁছায়নি। ভাঙাচোরা দালান, পুরোনো সাইনবোর্ড, আর অদ্ভুত নীরবতা জায়গাটাকে যেন আরও রহস্যময় করে তুলেছিল। ঋত্বিক সেন, পেশায় একজন লেখক। অদ্ভুত ও রহস্যময় বিষয় নিয়ে গবেষণা করা তার নেশা।
কয়েকদিন ধরেই সে একটি নতুন উপন্যাসের জন্য বিষয় খুঁজছিল। কিন্তু মাথায় কোনো গল্প আসছিল না। তাই এক বিকেলে শহরের সেই পুরোনো বাজারের দিকে চলে এসেছিল। হয়তো পুরোনো কোনো জিনিস বা মানুষের কাছ থেকে নতুন কোনো গল্পের সন্ধান মিলবে। গলির এক কোণে হঠাৎ তার চোখে পড়ল একটি অদ্ভুত দোকান। অন্য সব দোকান বন্ধ হলেও, এই দোকানটির দরজা আধখোলা ছিল। দরজার ওপরে ঝুলছিল মরিচা ধরা একটি বোর্ড- সময়ের স্মৃতি- প্রাচীন ঘড়ির সংগ্রহশালা। বোর্ডের অর্ধেক অক্ষর মুছে গেছে। দেখে মনে হয়, বহু বছর ধরে কেউ সেটি বদলায়নি।
ঋত্বিক ভেতরে উঁকি দিল। দোকানের ভেতরে অসংখ্য পুরোনো ঘড়ি। দেয়াল জুড়ে ঝুলছে নানা আকৃতির ঘড়ি। কোথাও দোলক ঘড়ি, কোথাও পকেট ঘড়ি, আবার কোথাও শতবর্ষ পুরোনো হাতঘড়ি। আশ্চর্যের বিষয়, সব ঘড়ির কাঁটাই যেন থেমে আছে। ঠিক তখনই অন্ধকার কোণ থেকে ভেসে এল এক বৃদ্ধ কণ্ঠ- কিছু খুঁজছেন? ঋত্বিক চমকে উঠে তাকাল। সামনে দাঁড়িয়ে আছে এক বৃদ্ধ। সাদা দাড়ি, কুঁচকানো মুখ আর গভীর কালো চোখ। মনে হচ্ছিল, যেন সে বহু বছর ধরে এই দোকান ছেড়ে কোথাও যায়নি। ঋত্বিক বললো- আমি শুধু দেখছিলাম। বৃদ্ধ হালকা হেসে বলল-মানুষ এখানে দেখতে আসে, কিন্তু সবাই কিছু না কিছু নিয়ে যায়।
ঋত্বিক মুচকি হেসে বলল- আপনার কাছে অনেক পুরোনো জিনিস আছে দেখছি। বৃদ্ধ তখন বললো- পুরোনো? না, এগুলো সময়ের স্মৃতি। মানুষ ভুলে যায়, কিন্তু সময় ভুলে না। বৃদ্ধের কথাগুলো অদ্ভুত লাগছিল। দোকানের এক কোণে একটি কাঠের বাক্স রাখা ছিল। বাক্সটির ওপরে কালো কাপড় ঢাকা। বাক্সটির দিকেই বারবার বৃদ্ধের চোখ চলে যাচ্ছিল। ঋত্বিক জিজ্ঞেস করল- ওখানে কী আছে? বৃদ্ধের মুখের হাসি মুহূর্তেই হারিয়ে গেল। এরপর বললো- ওটা বিক্রির জন্য নয়। তাহলে এত লুকিয়ে রাখছেন কেন? কারণ কিছু জিনিস মানুষের হাতে যাওয়া উচিত নয়। কথাটা শুনে ঋত্বিকের কৌতূহল আরও বেড়ে গেল।....
শুভেচ্ছান্তে, @winkles
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |


