মুভি রিভিউ: রবার্ট
হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই সুস্থ, স্বাভাবিক আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি।
আজকে আমি আপনাদের সাথে একটা হরর মুভি রিভিউ শেয়ার করে নেবো। এই হরর মুভিটির নাম হলো "রবার্ট"। এই মুভিটি আমি আগে বেশ কয়েকবার দেখেছি, বেশ ভালো মুভিটি। আর আমার কাছে হরর মুভি বরাবরের মতো দেখতেও অনেক ভালো লাগে। হরর মুভি মূলত রাত ২ টার পরে না দেখলে জমে না ঠিক। এই হরর মুভিটি একটি পুতুলকে কেন্দ্র করে করা।
☬কিছু গুরুত্বপুর্ণ তথ্য:☬
✔মূল কাহিনী:
মুভির শুরুতে দেখা যায় একটা ঘরে কিছু অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটতে থাকে। সেখানে বাড়িতে ৩ জনের একটা পরিবার বসবাস করতো। এরপর তাদের বাড়িতে একজন বয়স্ক মহিলা কাজ করতো এবং তাদের মুখে বিষয়গুলো শুনতে পায় যে রাতের বেলা ঘরের মধ্যে অদ্ভুত আওয়াজ হয়, ঘরের মধ্যে ফার্নিচারগুলো নড়াচড়া করে। ফলে তারা ভাবে এই ঘরে আত্মা আছে এবং তারা বাড়ি ছেড়ে দেওয়ার কথা বলে। এরপর ওই বৃদ্ধ মহিলাটি বলে যে এই ঘর কোনোভাবে অভিশপ্ত না, এইসবের কারণ হচ্ছে একটি পুতুলের জন্য। এরপর বৃদ্ধ মহিলাটি সেই পুতুলটিকে নিয়ে আরেকটা ফ্যামিলিতে চলে যায় । তবে সেই পুতুলটি ওই বৃদ্ধ মহিলা তার রুমে একটি ট্যাঙ্কের মধ্যে রেখে দিয়েছিলো। এরপর একদিন জেম নামক ছোট ছেলেটির এর বাবা ওই বৃদ্ধ মহিলাটিকে কাজের থেকে একদিন ছাড়িয়ে দেয়, কারণ সে বয়স অনুযায়ী কাজ করে পেরে উঠছিলো না তাই। যাইহোক এরপর সেই বৃদ্ধ মহিলাটি সবকিছু গুছিয়ে নিয়ে চলে যেতে লাগে, তবে তার আগে জেম নামক বালকটির কাছে যায় দেখা করতে। এরপর সে বালকটিকে সেই পুতুলটিকে দিয়ে দেয় যার নাম রবার্ট। সে জেমকে পুতুলটিকে তার কাছে সর্বক্ষণ রাখতে বলে কারণ বৃদ্ধ মহিলাটি তাকে এটি বলেছিলো যে সবসময় বিপদে এই রবার্ট নামক পুতুলটি তাকে রক্ষা করবে। এরপর তার বাবা, মা সবাই জেম এর নতুন বন্ধু পুতুলকে দেখে একটু মজা করে কারণ জেম বলেছিলো যে পুতুলটি তার সাথে কথা বলে আর খেলাও করে।
জেম এর বাবা তার রুমের থেকে আসার পরে চিন্তা করতে লাগে এই বয়েসে একটা পুতুলের সাথে খেলাধুলা করছে বিষয়টা কেমন যেন একটা, আর তারপর কোর্টে ওনার ক্লাইন্ট এর সাথে একটু ঝামেলা হয়ে যায় তাই নিয়ে একটু খারাপ ফিল করে। এরপর রাতে সবাই ঘুমিয়ে পড়লে জেম এর মা বাইরে বেরিয়ে আসে এবং একটা শব্দ শুনতে পায়। এরপর আস্তে আস্তে একটা খোলা রুমের দিকে যেতে লাগে এবং দেখে কিছু একটা পরে আছে। এরপর সেটি তুলে গুছানোর সময় দেখতে পায় যে কে যেন তার পাশ দিয়ে দৌড়িয়ে চলে গেলো, সে মনে করেছিল হয়তো জেম। এরপর জেম এর রুমে গিয়ে দেখে না সে ঘুমাচ্ছে। তারপর সকালে উঠে জেম এর কাছে জিজ্ঞাসা করে যে সে রাতে দৌড়াদৌড়ি করছিলো কিনা, জেম বলে বসে ওটা রবার্ট ছিল। সবাই বিষয়টিকে তখন আর গুরুত্ত্ব দেইনি। এরপর আবার রাতের দিকে সবাই যখন ঘুমাতে যাচ্ছিলো তখন জেম এর মা একটা পেইন্টিং এর কিছুটা শেষ করার জন্য সেই রুমে চলে যায়। আর এর মধ্যে তার পিছন পিছন রবার্ট আস্তে আস্তে লুকিয়ে লুকিয়ে যেতে থাকে। জেম এর মা পেইন্টিং এর ঘরে কিছু একটা আনতে চলে যায় আর এর পরে এসে দেখে পুরো পেইন্টিং এর উপর কালী লেপে দিয়ে গেছে এবং পেইন্টিংটা খারাপ করে দেয়। সে মনে করেছিল এটি মনে হয় জেম করেছিল তাই তার মা গিয়ে জেম কে গালিগালাজ করে রাগের মাথায়। এরপরে দেখা যায় জেম এর মা একটি কাজের মেয়েকে বাড়িতে আসতে বলে ঘরের কাজকর্মগুলো করে দেওয়ার জন্য। এরপর মেয়েটি এসে বার্থরুম পরিষ্কার করতে যায় এবং উপরে ওঠার সময় জেম এর ঘরে সেই পুতুলটিকে দেখে আর দেখতে খারাপ বলে পুতুল সম্পর্কে কিছু খারাপ কথা শুনিয়ে দেয়। এরপর মেয়েটি পরিষ্কার করতে করতে হঠাৎ তার সামনে দেখে সেই পুতুলটি দাঁড়িয়ে আছে আর এটি দেখে সে খুবই ভয় পেয়ে যায়।
কাজের মেয়েটি তারপর সেই রবার্ট নামক পুতুলটিকে তুলে আবার চেয়ারে বসিয়ে দেয় কিন্তু সে সেখান থেকে চলে আসতেই রবার্ট তাকে পিছন দিক থেকে ধাক্কা দিয়ে সিঁড়ি থেকে নিচে ফেলে দেয় আর সে আহত হয় ভীষণভাবে। এরপর জেম এর মা বাইরের থেকে এসে দেখলে এম্বুলেঞ্চ কে ফোন করে ডেকে আনে এবং তাকে হসপিটালে পাঠিয়ে দেয়। তবে মেয়েটির কাছে যখন শুনেছিলো যে এটি কে করেছে তখন মেয়েটি পুতুলটির কথা বলে। এরপর জেম এর মা এটা শুনে আশ্চর্য হয় আবার ভয়ও পেয়ে যায়। জেম এর বাবার সাথে এটি বললে গুরুত্বও তেমন একটা দেয় না, জেম এর মায়ের মন ভালো করার জন্য তারা বাইরে ঘুরতে যাওয়ার প্ল্যান করে তবে রুমে যখন গিয়ে রেডি হতে লাগে তখন আয়নার গায়ে লিপিস্টিক দিয়ে মৃত্যু লেখা ছিল যেটি সেই রবার্ট পুতুলটি করেছিল। এরপর জেম এর ঘরে গিয়ে দেখে লিপিস্টিকটি সেই পুতুলের হাতে আর এটি দেখে আরো ঘাবড়িয়ে যায়। জেম পরে উপরে আসলে জেম কে আবার বলে যে এটি সে করেছে কিনা। এরপরে জেম এর মা জেম এর বাবা কে আয়নায় যেটা লেখা ছিল সেইটা দেখানোর জন্য নিয়ে যায় কিন্তু গিয়ে দেখে সেই লেখাটা আর সেখানে নেই, যেটা জেম এর মায়ের কাছে আজব ব্যাপার লাগে। এরপর তারা দুইজন রাতে বাইরে চলে যায় এবং ঘরে জেম আর তার মাসি থাকে। তারা দুইজন বাইরের থেকে এসে দেখে মেইন দরজা খোলা এবং এটি দেখে ভাবে জেম এর কিছু হলো কিনা। রুমে গিয়ে দেখে জেম শুয়ে আছে কিন্তু তার মাসি কে খুঁজে পায় না। এরপর মেয়েটির বাড়িতে ফোন করে শোনে যে সে মারা গেছে অর্থাৎ ওই রাতেই রবার্ট পুতুলটি মেয়েটিকে মেরে ফেলে।
জেম এর মা জেম এর সাথে রাতে রুমে দেখা করে এবং তাকে জিজ্ঞাসা করে যে রবার্ট পুতুলটি তার সাথে কি কি কথা বলে। এরপর জেম তার মা কে সব সত্যি বলে দেয় এবং রবার্ট পুতুলটির উপরে জেম এর মা রেগে যায় খুব আর পাগলের মতো রবার্ট কে জিজ্ঞাসা করতে লাগে যে এসব কেন করলো। এরপর পুতুলটিকে বাইরের একটা বদ্ধ করে রেখে বন্ধ করে দেয়। এরপর সকালে জেম এর মা সেই বৃদ্ধ মহিলাটির বাড়িতে যায় এই রবার্ট এর রহস্য উদঘাটন করার জন্য। কিন্তু তার বাড়িতে গিয়ে জানতে পারে যে সেও আর বেঁচে নেই। এরপর জেম এর মা পুরানো আগের একটা পরিবারের সাথে দেখা করতে যায় যেখানে এই বৃদ্ধ মহিলা আগে কাজ করতো। আর তাদের কাছে জানতে চায় যে এই পুতুলের রহস্যটা কি আর এর থেকে বাঁচা কিভাবে যায়। ওই বাড়ির একটি মহিলা তারপর তাকে সেই কাহিনী সব বলে দেয় যে এই পুতুলটির মধ্যে একটা খারাপ আত্মা আছে আর এটি একটি বাচ্চার। আর সেই বাচ্চাটির নামও ছিল রবার্ট ক্রু। আর সেই বৃদ্ধ মহিলাটি কালো জাদু করে ওই পুতুলের ভিতরের আত্মা কে জাগিয়ে তুলেছিল। এরপর এইসব শুনে বাড়িতে চলে যায় কিন্তু তার আগেই রবার্ট পুতুলটি মাথায় আঘাত করে জেম এর বাবাকে অজ্ঞান করে ফেলে। এরপর জেম এর মা জেম কে ডাকাডাকি করতে লাগে রুমের পাশে গিয়ে কিন্তু বের হয় না, আর পিছন দিক থেকে রবার্ট মারতে আসে কিন্তু জেম এর বাবার জ্ঞান ফিরলে পিছন থেকে ছুরি মেরে দেয়। এরপর সেই আত্মাটি বেরিয়ে জেম এর শরীরে প্রবেশ করে কিন্তু তার বাবা মা বুঝতে পারে না। ৩ সপ্তাহ যাওয়ার পরে দেখা যায় জেম এর বাবা যখন বার্থরুমে স্নান করতে যায় তখন জেম ছুরি দিয়ে তার বাবা কে মেরে ফেলে।
✔ব্যক্তিগত মতামত:
এই রবার্ট মুভিটির গল্প আসলে একটা পরিবারকে কেন্দ্র করে। একটা পরিবারে পুতুল এর ভিতরের আত্মাটি তার খুনি খেলা শুরু করেছিল। আসলে এই কাহিনীর সূত্রপাতটা ওই বৃদ্ধ মহিলা শুরু করে দিয়ে গিয়েছিলো। যারা রবার্ট পুতুলটিকে খারাপ বলতো বা পছন্দ করতো না একমাত্র তাদেরই পছন্দ করতো না পুতুলটি আর তাদের মেরে ফেলার খেলায় মেতে উঠতো।
✔ব্যক্তিগত রেটিং:
০৭/১০
✔মুভির ট্রেইলার লিঙ্ক:
বাপরে ভাইয়া!ভালোই ভয়ংকর ছিলো।কারণ পুতুলের মধ্যে ভুতের অভিনয় গুলো দেখতে খুব ভয় লাগে।আর আপনিও এতো দারুণ ভাবে লিখেন।
লাস্টের দিকে একটু ছিল ঘটনাটা এইরকম। তবে সেটাও দেখার মধ্যে একটা আকর্ষণীয়তা কাজ করে। আমার কাছে তো সবসময় ভালো লাগে এইসব কাহিনীগুলো।
খুবই ভয়ঙ্কর মুভিটা, পড়ে অনেক বেশি ভালো লাগলো , তবে আমি এখন এই ভূত মুভি দেখা ছেড়ে দিয়েছি কারণ আমি এখন খুবই ভয় পাই আর মনে হয় যেন সব আমার চোখের সামনে ভেসে উঠে। তবে মুভি টা দারুন লাগলো।
রাতে ভয় পেলে দিনের বেলা দেখবেন, তাহলে আর বেশি ভয় লাগবে না। তবে দিনের বেলা এইসব গল্পের মুভি দেখলে তেমন আকর্ষণীয়তা আর থাকে না। চোখের সামনে ওটা কাল্পনিক ভাবে আসে বেশি ওইসব সিনগুলো মনে করলে।
এই মুভিটি আমি দেখলাম অনেকদিন পরে।যখন দেখেছিলাম তখন অবশ্য খুব একটা ভয় লাগে নায় আমার।তবে আপনার লিখা পড়ে ভয় লাগছে।
এই মুভিটা আমি বেশ কয়েকবার দেখেছি, তবে এই মুভিটির মাঝখান আর লাস্ট পর্যায়ের কাহিনীতে একটু এইরকম সিন্ করেছে।
আমি এই রকম একটা আদালত দেখেছি পুতুলকে কেন্দ্র করে।দাদা ভয়ংকর মুভি কম দেখবেন ,না হলে আবার আপনাকে ধরবে হা হা হা।যাইহোক আপনি সুন্দর করে রিভিউ দিয়েছেন। ধন্যবাদ আপনাকে।
আমি প্রায় দেখি বলতে গেলে। এখন আর তেমন ভয় করে না দেখলে। তবে সিনগুলো দেখার পরে রাতে যদি মনে পরে তাহলে মনের মধ্যে একটু ভয়ভীতি কাজ করবে।