একটি ত্রিভুজ প্রেমের গল্প পর্ব -৩
আসসালামু আলাইকুম
আমার প্রিয় বাংলা ব্লগের বন্ধুরা আপনারা সবাই কেমন আছেন ?আশা করছি সবাই সুস্থ আছেন, ভালো আছেন।আমিও আল্লাহর রহমতে মোটামুটি ভাল আছি।
বন্ধুরা আজ আমি আপনাদের সামনে একটি গল্প নিয়ে হাজির হয়েছি । আসলে গল্প মানেই আমাদের আশেপাশে ঘটে যাওয়া ঘটনা । যেই ঘটনা গুলো এক একটি গল্প আকারে আমাদের কাছে এসে ধরা দেয় ।আসলে প্রতিটি গল্প আমাদের সমাজে ঘটে যাওয়া কোন ঘটনা। আজ আমি যে গল্পটি আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করব সেটি মূলত একটি বাস্তব ঘটনাকে কেন্দ্র করে লেখা । আশা করছি আপনাদের কাছে গল্পটি ভালো লাগবে । তাহলে আর কথা না বাড়িয়ে চলুন চলে যাই মূল গল্পে।
একটি ত্রিভুজ প্রেমের গল্প পর্ব -৩
এদিকে মেলা মিলনের বন্ধুত্ব এতটাই ঘনিষ্ট হয়ে গিয়েছিল যে সারা কলেজ জুড়ে মেলা মিলনকে সবাই এক নামে চিনতো । অনেকে আবার মিলনকে দুষ্টামি করে মুরগি মিলন বলত । কারণ সে সারাক্ষণ মিলার সঙ্গে সঙ্গে থাকতো । আবার অনেক সময় দেখা যেত কলেজের দেয়ালে মিলা মিলনের ছবি এঁকে অনেকে অনেক কিছু লিখে রাখত এবং তাদের মধ্যে ভালোবাসার সম্পর্ক এসব লিখে রাখত । মিলার বান্ধবী ও অন্যান্যরা এই বিষয়টা মিলাকে বলতো কিন্তু মিলা মিলনের মধ্যে এ বিষয়টা নিয়ে তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা যেত না ।এভাবে সময় যেতে থাকলো।
এভাবে মিলা মিলন সেকেন্ড ইয়ার, থার্ড ইয়ার পাস করে ফোর্থ ইয়ারে উঠে গেল । যত সময় যেতে লাগলো তাদের বন্ধুত্ব তত বেশি ঘনিষ্ট হতে থাকলো । এদিকে তাপস ও কিছুটা মিলা মিলনের বন্ধুত্বের কাছে অসহায় হয়ে পড়ল । একদিন তাপস মিলাকে জিজ্ঞাসা করল তুমি কি মিলনকে পছন্দ করতে শুরু করেছো । তখন মিলা ব্যাপারটা হেসেই উড়িয়ে দিল। তাপস কে বলল তোমার মাথা খারাপ আমি শুধু তোমাকেই ভালবাসি । মিলন আমার খুব ভালো বন্ধু ।কিন্তু বিষয়টা তাপসের খুব একটা বিশ্বাস হলো না ।তার পরেও সে নিরুপায় ছিল।
এভাবে আরও সময় যেতে যেতে একটা সময় এমন অবস্থা হল দেখা গেল যে মিলা তাপস কে সময় দিচ্ছে না । সারাক্ষণ মিলনের সঙ্গে ঘোরাঘুরি করে । তাপস যখনি দেখা করতে চায় তখনই বলে আজ কলেজে গুরুত্বপূর্ণ ক্লাস আছে, কাল বন্ধ । বিভিন্ন অজুহাত দিতে থাকে ।এভাবে তাদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হতে থাকে । কিন্তু মিলনের সঙ্গে সারাক্ষণই দেখা-সাক্ষাৎ করতে থাকে ।
এদিকে মিলার বান্ধবী ও ইয়ারমেটরা মিলাকে বলতে থাকে তুই কি মিলনকে ভালোবেসে ফেলেছিস । তখন মিলা তার বান্ধবীদের কাছেও বিষয়টা অস্বীকার করে । কিন্তু তার বান্ধবীদের মনে হয় মিলা মিথ্যে বলছে। সে তাপস কে নয় সে এখন মিলনকে ভালোবাসে । এদিকে মিলনও বিষয়টা বুঝতে পারে এখন মিলা তাপসের সঙ্গে দূরত্ব সৃষ্টি করছে এবং তার সঙ্গে বেশি ঘনিষ্ট হচ্ছে । বিষয়টা তার কাছে বেশ ভালই লাগে এবং সে বেশ খুশি হয় ।কারণ সে তো এটাই চেয়েছিল ,বন্ধুত্ব তো একটা বাহানা ছিল।
এভাবে আরো বেশ কিছুদিন যেতে যেতে তাপসের বিষয়টা আর ভালো লাগছিল না ।সে স্ট্রেট একটা কথা জানতে চাইলো মিলার কাছে ।তুমি কি সত্যি সত্যি আমাকে চাও ?নাকি মিলনকে চাও ? কিন্তু মিলা এবারও বলে আমি তোমাকেই ভালবাসি । তারপর তাপস মিলাকে দুটি কিউট চাবির রিং দেয় । বলে এ দুটি তোমাকে দিলাম । একটি তুমি রাখবে আরেকটি তুমি যাকে ভালোবাসো তাকে দিবে । মিলা বলে ঠিক আছে তাহলে এখনই তোমাকে একটা দিয়ে দেই । তখন তাপস বলে না এখন নিবো না । তোমাকে এক সপ্তাহ সময় দিলাম । এই এক সপ্তাহ তুমি ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নাও। তারপর তুমি চাবির রিং টা যাকে ইচ্ছে দিও আমি কিছুই বলবো না।এই বলে তাপস চলে যায়।
চলবে
আজকের মতো এখানেই শেষ করছি ।আগামীতে আবার দেখা হবে নতুন কোন লেখা নিয়ে ।সে পর্যন্ত সবাই ভাল থাকুন, সুস্থ থাকুন ।আমার ব্লগ টি পড়ার জন্য সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
| ফটোগ্রাফার: | @wahidasuma |
|---|---|
| ডিভাইস: | স্যামসাং গ্যালাক্সি এ৪০ |
🔚ধন্যবাদ🔚
@wahidasuma
আমি ওয়াহিদা সুমা।আমি একজন হাউজ ওয়াইফ। সমাজবিজ্ঞানে অনার্স মাস্টার্স করেছি।ঘুরে বেড়াতে , ঘুমাতে এবং গান শুনতে আমি ভীষন পছন্দ করি।বাগান করা আমার শখ।এছাড়াও আর্ট , বিভিন্ন রেসিপি ট্রাই করতেও ভালো লাগে। আমি 🇧🇩বাংলাদেশি🇧🇩।বাংলা আমার মাতৃভাষা।আমি বাংলায় কথা বলতে ও লিখতে ভালোবাসি।ধন্যবাদ আমার বাংলা ব্লগকে এই সুযোগটি করে দেওয়ার জন্য।
আজকে এই গল্পটির তৃতীয় পর্ব পড়ে আমার কাছে অনেক ভালো লেগেছে। এই গল্পটির আগের পর্বগুলো পড়া হয়েছিল। আজকের পর্বটা পড়ে আমার কেন জানি না মনে হচ্ছে ওই দুটি কিউট চাবির রিং এর মধ্যে থেকে একটা রিং মিলা এক সপ্তাহ পরে মিলন কে দিবে। আর মিলা মনে হয় নিজের অজান্তে মিলনকে অনেক বেশি ভালোবেসে ফেলেছে। দেখা যাক ঐ রিংটা এক সপ্তাহ পরে কাকে দেয়? আশা করছি, খুব তাড়াতাড়ি পরবর্তী পর্ব শেয়ার করবেন।
আপু মনোযোগ সহকারে আমার গল্পটি পড়ে মন্তব্য করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। পরবর্তী পর্ব পড়ার আমন্ত্রণ রইল। খুব শীঘ্রই শেয়ার করব ধন্যবাদ।
গল্পটি আসলে এর আগে পড়া হয়নি। তবে আপনার আজকের এই পর্ব পড়ে এবং নামকরণ দেখে আমার খুব আগ্রহ জাগলো বাকি পর্ব পড়ার।ধন্যবাদ আপু আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।ভালো থাকবেন সর্বদা এই কামনা করি।
ভাই আপনার কাছে আমার গল্পটি ভালো লেগেছে জেনে ভালো লাগলো। ধন্যবাদ আপনাকে মন্তব্য করার জন্য।
এই গল্পটির প্রথম পর্ব এবং দ্বিতীয় পর্ব যখন পড়েছিলাম তখন অনেক ভালো লেগেছিল। তবে দ্বিতীয় পর্বটা পড়ে খারাপ লাগলো তাপসের জন্য। সে তার ভালোবাসার মানুষটার কাছ থেকে এখন একটু সময়ও পায় না। মিলা তো এখন সব সময় মিলনকে নিয়ে পড়ে থাকে। আসলে একটা ছেলে এবং মেয়ে এভাবে চলাফেরা করলে সবাই তো এরকম মন্তব্য করবেই। সবশেষে হয়তো মিলা তাপস কে ছেড়ে দিয়ে মিলনের সাথে বন্ধুত্ব থেকে ভালোবাসার সম্পর্ক শুরু করবে। সবশেষে কি হয় এটা দেখারই অপেক্ষায় থাকলাম।
ভাইয়া আগামি পর্বেই গল্পটি শেষ করে দেব ।তখন দেখবেন কার সঙ্গে মিল হয়। ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য ।ভালো থাকবেন।
এই গল্পের আগের পর্ব গুলো পড়েই বুঝতে পেরেছিলাম,মিলনের সঙ্গে মিলার প্রেম হয়ে যাবে। বাস্তবেও এমন অনেক ঘটনা দেখা যায় যে,প্রেমের প্রস্তাবে কোনো মেয়ে রাজি না হলে, পরবর্তীতে বন্ধুত্বের সম্পর্ক তৈরি করার চেষ্টা করে অনেক ছেলেরা। তারপর ধীরে ধীরে ঠিকই ভালোবাসার সম্পর্ক তৈরি হয়ে যায় একে অপরের মধ্যে। মিলন সেই বুদ্ধিটা খাটিয়েছিল এবং সেটা খুব ভালোভাবে কাজ করেছে। তবে তাপসের জন্য খারাপ লাগছে। পরবর্তী পর্বের অপেক্ষায় রইলাম আপু।
হ্যাঁ ভাইয়া এটি একদম বাস্তব ঘটনাকে কেন্দ্র করেই লেখা। আসলে এগুলোই হচ্ছে এখন। যাই হোক ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য।
এিভুজ প্রেমের গল্প টি পড়ে ভালো লাগলো কিন্তুু গল্পের চরিত্রের মেয়েটার চরিত্র একটুও ভালো লাগলো না।সে কি করে একজনকে ছেরে অন্যজনকে ভালোবাসতে পারে।তবে এটাই বর্তমান সমাজের কমন একটি চলচিত্র। মিলার উচিত,তাপসকে বলে দেয়া যে সে তাপসকে নয় মিলন কে ভালোবাসে।পোস্ট টি ভালো লেগেছে আমার।ধন্যবাদ
আসলে আপু এখন কে কাকে ভালোবাসবে সেটাই বুঝে উঠতে পারে না ,সেটাই তো সমস্যা ।যাই হোক আপনার কাছে গল্পটি ভালো লেগেছে জেনে ভালো লাগলো। ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য।