আমার প্রিয় বাংলা ব্লগের বন্ধুরা আপনারা সবাই কেমন আছেন ?আশা করছি সবাই সুস্থ আছেন, ভালো আছেন।আমিও আল্লাহর রহমতে মোটামুটি ভাল আছি।
বন্ধুরা আজ আমি আপনাদের সামনে আমার কুয়াকাটা ভ্রমণের আরো কিছু মুহূর্ত শেয়ার করতে এসেছি।বিকেলের দিকে আমরা যখন বীচে গেলাম তখন বেশ কিছু ঘোড়া দেখতে পেলাম।আমার মেয়ে তো বায়না শুরু করে দিল ঘোড়ার পিঠে চড়বে।কিন্তু ও ছোট মানুষ ।ওকে তো ঘোড়ার পিঠে চড়তে দেওয়া যায় না।তার মধ্যেই আমরা দেখতে পেলাম একটা ঘোড়ার গাড়ি ছুটে আসছে।ঐটা দেখে আমাদের বেশ ভালো লাগলো।যাক সবাই মিলে ঘোড়ার গাড়িতে চড়া যাবে।তারপর আমরা ঘোড়ার গাড়িতে চড়ার জন্য গাড়িতে উঠে পড়লাম।সেই ফটোগ্রাফি ও কিছু সুন্দর মুহূর্ত গুলোই আজ আমি আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করব।আশা করছি আপনাদের বেশ ভালো লাগবে।তাহলে আর দেরি না করে চলুন ঘুরে আসি সমুদ্রের বীচে ঘোড়ার গাড়িতে করে। |



প্রথমে এই ঘোড়াটি দেখে আমার মেয়ে ঘোরায় চড়ার জন্য বায়না করেছিল। এখানে কয়েকটি ঘোড়া ছিল। অনেকেই ঘোড়ার পিঠে চড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছিল ।সমুদ্রের পার দিয়ে ঘোড়ার পিঠে চড়ার মজা অন্যরকম যেটা অন্যদের চড়া দেখেই বুঝতে পারছিলাম। কিন্তু আমার মনে হয় ঘোড়ার পিঠে চড়ার জন্য একটু সাহসের প্রয়োজন কিন্তু আমার সেই সাহস একেবারেই নেই, আমার খুবই ভয় লাগে। |




ঘোড়ার গাড়িটিকে দেখে আমরা হাত ইশারা করে ঘোরার গাড়ি টিকে থামতে বললাম ।তারপর লোকটি থামালো ।তারপর এটায় কিভাবে কতদূর পর্যন্ত চড়া যায় জানতে চাইলাম। লোকটি জানালো যে ১৫ থেকে ২০ মিনিট চড়াবে ঝাউবন পর্যন্ত। কিন্তু এদের প্রাইজটা অনেক বেশি ।তারপরেও আমরা কথা বলে গাড়িটিতে চড়লাম ।ঘোড়া যখন ছুটতে শুরু করলো বীচ দিয়ে সত্যি চমৎকার অনুভূতি কাজ করছিল।নিজেকে মনে হচ্ছিলো আগেকার দিনের রাজা বাদশার মতো।এত দারুন একটা অনুভূতি কাজ করছিল যেটা ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। আবহাওয়া টা যেমন চমৎকার ছিল বাতাস ও বৈছিল। আর ঘোড়া ছুটছিল দ্রুত বেগে। সত্যিই এই ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মুহূর্তটা আমার কাছে অসাধারণ লেগেছিল। |



চোখের নিমিষে যেন এই সময়টা পার হয়ে গিয়েছিল। আমরা ঝাউবন পর্যন্ত গিয়েছিলাম আবার ফিরে এসেছিলাম। মনে হচ্ছিল যেন আরও বেশ কিছুক্ষণ চড়তে পারলে ভালো হতো ।তাই ঠিক করছিলাম আরও একটু চড়বো ।কিন্তু এই বীচে মাত্র এই একটি ঘোড়ার গাড়ি দেখেছিলাম। তাই এর চাহিদাটাও একটু বেশি ছিল ।আমাদের নামার সময় আরো অনেকে দাঁড়িয়েছিল। তাই আমরা আর এটিকে আটকে রাখলাম না অন্যদের জন্য ছেড়ে দিলাম ।সত্যি এই মুহূর্তটা চমৎকার ছিল। আপনারা কেউ কুয়াকাটায় ঘুরতে গেলে এই ঘোড়ার গাড়িতে চড়া মিস করবেন না কিন্তু। |




বীচে এই চেয়ারগুলো সারিবদ্ধ ভাবে অনেক দূর পর্যন্ত ছিল। এখানে প্রতিটা চেয়ারের ভাড়া ছিল এক ঘন্টা 40 টাকা করে। আমরা দুটো চেয়ার নিয়েছিলাম। আমরা সন্ধ্যার পর থেকে এই চেয়ারে বেশ কয়েক ঘন্টা বসেছিলাম। রাতের বেলায় এই চেয়ারে বসার অনুভূতি সত্যিই চমৎকার । শুয়ে শুয়ে রাতের সমুদ্রের গর্জন শোনার আনন্দ অন্যরকম ।কখন যে ঘন্টা পার হয়ে যায় বুঝতেই পারা যায় না। |


জোয়ারের সময় সমুদ্রের পানি একদম তীরে চলে এসেছে। এটি তারই ফটোগ্রাফি। এমনিতে পানি অনেক অনেক দূরে থাকে। কিন্তু জোয়ারের সময় বীচে যে চেয়ারগুলো ছিল একদম চেয়ারের কাছে পর্যন্ত পানি চলে আসে। |

আজকের মতো এখানেই শেষ করছি ।আগামীতে আবার দেখা হবে নতুন কোন লেখা নিয়ে ।সে পর্যন্ত সবাই ভাল থাকুন, সুস্থ থাকুন ।আমার ব্লগ টি পড়ার জন্য সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

| ফটোগ্রাফার: | @wahidasuma |
| ডিভাইস: | স্যামসাং গ্যালাক্সি এ৪০ |
| লোকেশন | কুয়াকাটা |
🔚ধন্যবাদ🔚
আমি ওয়াহিদা সুমা।আমি 🇧🇩বাংলাদেশি🇧🇩।বাংলা আমার মাতৃভাষা।আমি বাংলায় কথা বলতে ও লিখতে ভালোবাসি।ধন্যবাদ আমার বাংলা ব্লগকে এই সুযোগটি করে দেওয়ার জন্য।

Building a better world through information ℹ🛡🤝
কুয়াকাটায় ঘুরতে গিয়ে আপনার বিশেষ মুহূর্তের কথা গুলো জানতে পেরে আমার খুবই ভালো লাগলো। অনেকগুলো সুন্দর সুন্দর কুয়াকাটার ফটোগ্রাফি আপনি আমাদের সাথে শেয়ার করেছেন। ১০ নম্বর ফটোগ্রাফিটি আমার কাছে সবচাইতে বেশি আকর্ষণীয় মনে হয়েছে।
ভাইয়া আপনার কাছে আমার ফটোগ্রাফি গুলো ভালো লেগেছে জেনে বেশ ভালো লাগলো। ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য। ভালো থাকবেন।
কুয়াকাটা ঘুরে বরাবরই আপনি অনেক সুন্দর সুন্দর ফটোগ্রাফি আমাদের মাঝে তুলে ধরেছেন। দেখতে দেখতে আজ পঞ্চম পর্বের চলে এসেছি ।আজকের পর্বে অনেক সুন্দর সুন্দর আলোকচিত্র তুলে ধরেছেন। বিশেষ করে ঘোড়া এবং ঘোড়ার গাড়ির ফটোগ্রাফি সবথেকে বেশি ভালো লেগেছে আমার কাছে।
ভাইয়া আপনার কাছে আমার ঘোড়ার গাড়ির ফটোগ্রাফি গুলো বেশি ভালো লেগেছে জেনে বেশ ভাল লাগল। এভাবে মন্তব্য করে পাশে থাকবেন আশা করছি ।আপনার জন্য শুভকামনা রইল।
আপনি খুব চমৎকারভাবে আমাদের মাঝে কুয়াকাটা ঘুরে আসার দিনগুলো শেয়ার করে যাচ্ছেন এর আগে পর্বগুলো আমি দেখেছিলাম খুবই ভালো লেগেছিল আমার কাছে। সুন্দর উপস্থাপনার মাধ্যমে শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ।
ভাই আপনি আমার কুয়াকাটার আগের পর্ব গুলো দেখেছেন জেনে বেশ ভাল লাগল ।এভাবেই পাশে থাকবেন আশা করছি ।আপনার জন্য অনেক অনেক শুভকামনা।