মাকে নিয়ে দীর্ঘদিন পর ঘুরাঘুরি ও খাওয়া দাওয়া (শেষ পর্ব)
আসসালামু আলাইকুম
আমার প্রিয় বাংলা ব্লগের বন্ধুরা আপনারা সবাই কেমন আছেন ?আশা করছি সবাই সুস্থ আছেন, ভালো আছেন।আমিও আল্লাহর রহমতে মোটামুটি ভাল আছি।
মাকে নিয়ে দীর্ঘদিন পর ঘুরাঘুরি ও খাওয়া দাওয়া (শেষ পর্ব)
ওখানে যাবার পর আমার কাছে দোকানটি সম্পূর্ণ নতুন লেগেছিল। কেননা অনেকদিন আগে এখানে এসেছিলাম ।তখন এই দোকানটি দেখি নি। তাই মনে হয়েছিল দোকানটি নতুন হবে হয়তো ।যাইহোক আমার ভাই দোকানে যেয়ে লাচ্ছির অর্ডার দিল ।তারপর আমরা রাস্তার ওপারে বেশ কিছু সময় দাঁড়িয়ে আছি। তখন আমার মনে হল ভেতরে যেয়ে দেখি বসার জায়গা হবে কিনা। এই চিন্তা থেকে দোকানে যেয়ে দোকানদারকে জিজ্ঞাসা করলাম বসার জায়গা আছে কিনা। তখন লোকটি বলল ভেতরে সিট খালি আছে। তারপর আমার মা ও আপুকে ডাকলাম ভেতরে এসে ফ্যানের নিচে বসার জন্য ।তারপর আমরা ভেতরের দিকে একটি টেবিল পেয়ে গেলাম ।সেখানে যেয়ে আমরা বসলাম ।তখন মনে হচ্ছিল শুধু শুধু বাইরে গরমের মধ্যে দাঁড়িয়ে কষ্ট করছিলাম।
যাইহোক ওদের লাচ্ছি বানাতে বানাতে আমরা ওদের সেট ম্যেনু দেখছিলাম। তখন সেখানে দেখতে পেলাম বিভিন্ন রকমের জুস রয়েছে ।তবে অরেঞ্জ জুসের অর্ডার করেছিলাম।দোকানদার বলল যে এখন পাওয়া যাবে না। যাইহোক রাত হয়ে গিয়েছিল যার কারণে জুসগুলো তখন আর দিচ্ছিল না ।তারপর আমরা দেখলাম যে সেখানে ঐতিহ্যবাহী মটকা চা রয়েছে। তারপর সবাইকে জিজ্ঞাসা করলাম কে কে চা খাবে? দেখলাম আমি আর আমার বোন ছাড়া আর কেউই খাবে না ।তারপর আমাদের দুজনের জন্য দুটি চা অর্ডার করলাম।
তারপর ৫ মিনিটের মধ্যে আমাদের লাচ্ছি চলে এলো। কিন্তু দুঃখের বিষয় দোকানদার লাচ্ছির সঙ্গেই চা দুটো একসঙ্গে দিল ।তখন তাদেরকে বললাম দুটো একসঙ্গে কিভাবে খাব ? চা টা একটু পরে দিতে পারতেন। যাই হোক কি আর করার ।চা টা ঢেকে রেখে তাড়াহুড়ো করে লাচ্ছি টা খেয়ে নিলাম। লাচ্ছিটা খেতে কিন্তু খুবই চমৎকার ছিল ।বেশ ভালো লেগেছিল খেতে ।অবশ্য অনেক গরম ছিল যার কারণে ঠান্ডা জাতীয় খাবার খেয়েছি সেজন্য মনে হয় অনেক বেশি ভালো লেগেছিল। যাইহোক লোকটাকে জিজ্ঞাসা করলাম এই দোকানটা নতুন কিনা। তখন লোকটি বলল এক সপ্তাহ আগে এরা ওপেন করেছে। কিন্তু এক সপ্তাহের মধ্যে দেখলাম সেখানে বেশ ভালো রেসপন্স পাচ্ছে তারা।অনেক কলেজ পড়ুয়া ছাত্ররা এসে চা কফি খাচ্ছে ,জুস খাচ্ছে ।বেশ ভালই জমে উঠেছে দোকানটা। আমার মায়ের কাছে জিজ্ঞাসা করলাম লাচ্ছি টা কেমন লেগেছে তার কাছে লাচ্ছি টা দুর্দান্ত লেগেছে খুবই মজা পেয়েছে সে খেয়ে।
তারপর আমরা আমাদের চায়ে চুমুক দিলাম। যেটা সত্যিই চমৎকার ছিল ।চিন্তা করিনি এতটা ভালো লাগবে। যদিও আমার কাশির সমস্যা ছিল ।সেখানে লাচ্ছি খাওয়ার পর চা টা খাওয়া বেশ ভালোই হয়েছিল। কেননা কাশির মধ্যে ঠান্ডা লাচ্ছি খেয়েছি কাশি আরো বেড়ে যাবে এই ভয়ে ছিলাম। কিন্তু গরম চা টা খেয়ে বেশ উপকারে এসেছিল। যাই হোক খাওয়া দাওয়া শেষ করে আমরা ওখান থেকে বেরিয়ে একটি অটো নিয়ে বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম ।এভাবেই সেদিনের ঘোরাফেরা শেষ হয়েছিল ।বেশ ভালো সময় কেটেছিল পরিবারের সবাই মিলে। এরকম মাঝেমধ্যে পরিবারের আপনজনদের সঙ্গে ঘুরতে পারলে বেশ ভালো লাগে।
আজকের মতো এখানেই শেষ করছি ।আগামীতে আবার দেখা হবে নতুন কোন লেখা নিয়ে ।সে পর্যন্ত সবাই ভাল থাকুন, সুস্থ থাকুন ।আমার ব্লগ টি পড়ার জন্য সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
| ফটোগ্রাফার: | @wahidasuma |
|---|---|
| ডিভাইস: | OPPO Reno8 T |
🔚ধন্যবাদ🔚
@wahidasuma
আমি ওয়াহিদা সুমা।আমি একজন হাউজ ওয়াইফ। সমাজবিজ্ঞানে অনার্স মাস্টার্স করেছি।ঘুরে বেড়াতে , ঘুমাতে এবং গান শুনতে আমি ভীষন পছন্দ করি।বাগান করা আমার শখ।এছাড়াও আর্ট , বিভিন্ন রেসিপি ট্রাই করতেও ভালো লাগে। আমি 🇧🇩বাংলাদেশি🇧🇩।বাংলা আমার মাতৃভাষা।আমি বাংলায় কথা বলতে ও লিখতে ভালোবাসি।ধন্যবাদ আমার বাংলা ব্লগকে এই সুযোগটি করে দেওয়ার জন্য।
মাকে নিয়ে ঘুরাঘুরি ও খাওয়া-দাওয়ার প্রথম পর্ব আমার পড়া হয়েছিল আপু।আজ আপনি শেষ পর্ব শেয়ার করেছেন। আপনারা ফুচকা খেয়ে ঠান্ডা কিছু খেতে লাচ্ছির দোকান খোঁজ করলেন আর পেয়েও গেলেন।দোকানটি আগে দেখেননি।নতুন দিয়েছে দোকানটি।আপনারা লাচ্ছি অর্ডার করলেন। আর দু বোনের জন্য চা অর্ডার করলেন।কিন্তু তারা একই সাথে দুটো খাবার দিল।আপনার দ্রুত লাচ্ছি খেয়ে চায়ে চুমুক দিলেন।লাচ্ছিটা খুব ই মজার ছিল। মায়ের কাছে খুবই ভালো লেগেছে।তবে তো সার্থক হলো।চা ও বললেন মজার।নতুন দোকান তারা কাস্টমার ধরতে সবকিছুই স্বাদের করার চেষ্টা করেছে। আশা করা যায় এই গরমে এই নতুন দোকানটি বেশ ভালোই চলবে।ধন্যবাদ আপু অনুভুতি গুলো শেয়ার করার জন্য।
হ্যাঁ আপু সেদিনকার সময়টা বেশ ভালই কাটিয়েছিলাম। অনেক ধন্যবাদ আপনাকে মন্তব্য করে পাশে থাকার জন্য ।ভালো থাকবেন সব সময় ।শুভকামনা রইল।
আসলে মাঝেমধ্যে মাকে নিয়ে এভাবে বাহিরে বের হবেন ঘুরাঘুরি করার জন্য। তাহলে উনার কাছেও খুব ভালো লাগবে, আর ভালো কিছু সময়ও তিনি বাহিরে অতিবাহিত করতে পারবেন। আপনার আম্মুর সাথে ঘুরাঘুরিও খাওয়া দাওয়া করার মুহূর্তের, আগের পোস্টটা আমি পড়েছিলাম। আজকে শেষ পোস্ট শেয়ার করলাম দেখে ভালো লাগলো। লাচ্ছি টা দেখেই বুঝতে বুঝতে পারতেছি অনেক বেশি মজাদার ছিল। আর চা দেখে তো আরো বেশি লোভ লেগে গিয়েছে। এরকম জায়গায় গেলে আমি তো চা খাওয়া ছাড়া আসি না। নতুন হিসেবে কিন্তু দোকানটা বেশ ভালোই লেগেছে। সুন্দর করে বেশ কিছু ফটোগ্রাফিও করেছেন।
আসলে ভাইয়া আম্মা কোথাও বের হতে চায় না ।যার কারণে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ হয়ে ওঠে না ।আর চা টা কিন্তু খুবই চমৎকার ছিল। ধন্যবাদ আপনাকে মন্তব্য করার জন্য।
বাহিরে গিয়ে সময় কাটাতে আমি অনেক বেশি পছন্দ করি। আর ফ্যামিলির সবাইকে নিয়ে কোথাও গেলেও ভালো সময় কাটানো যায়। আপনি আপনার আম্মু এবং বোন আর ভাইকে নিয়ে বাহিরে ভালো সময় অতিবাহিত করেছেন। আর বেশ ভালো খাওয়া দাওয়াও করেছিলেন যেটা অনেক ভালো লেগেছে। বাহিরে গিয়ে চা খেতে আমার কাছে সব থেকে বেশি ভালো লাগে। আমি তো আমার হাজব্যান্ড কে প্রায় সময় বলে থাকি রাতের বেলায় শুধুমাত্র চা খাওয়ার জন্য বাহিরে যেতে। আপনাদের দুজনের চায়ের কাপ দেখে তো বুঝতে পারছি চা টা দারুন ছিল।
আপু আপনি বাইরে চা খেতে ভীষণ পছন্দ করেন এবং ভাইয়াকে নিয়ে শুধু চা খাওয়ার জন্য বের হন ।বেশ ভালো লাগলো ব্যাপারটা ।আমিও চা খেতে ভীষণ পছন্দ করি ।ধন্যবাদ আপনাকে মন্তব্য করার জন্য।
আসলে সেদিন ঘোরাঘুরি করার মুহূর্তটা অন্যরকম ছিল । অনেকদিন পরে অনেক ভালো একটি সময় কাটিয়েছিলাম । আর চটপটি ফুচকা সবকিছু খাবার পরে মজাদার চা খেয়ে কিন্তু অনেক ভালো লেগেছিল । ওই দোকানের চাটা যে এতটা মজা হবে সেটা তো ভাবতেই পারি নাই । না খেলেও হয়তোবা মিস করে যেতাম ।
হ্যাঁ আপু সেদিনে ঘোরা টা বেশ ভালোই ছিল ।আর চা টা এত মজার হবে আমিও চিন্তা করিনি ।না খেলে আসলেই মিস হতো ।অনেক ধন্যবাদ আপনাকে মন্তব্য করার জন্য।