আজ বিকেলের ঘোরাঘুরি
আসসালামু আলাইকুম
আমার প্রিয় বাংলা ব্লগের বন্ধুরা আপনারা সবাই কেমন আছেন ?আশা করছি সবাই সুস্থ আছেন, ভালো আছেন।আমিও আল্লাহর রহমতে মোটামুটি ভাল আছি।
বন্ধুরা আজ বিকেল বেলায় ঘুরতে বেরিয়েছিলাম । ঠিক ঘুরতে নয় হাঁটতে বেরিয়েছিলাম । কেননা গতকাল একবার হাঁটতে গিয়েছিলাম । তাই আজ ভাবলাম এখন থেকে বিকেল বেলায় প্রতিদিন একটু করে হাঁটবো। কেননা সারাদিন ঘরের ভেতর থাকার ফলে একদমই হাঁটাচলা করা হয় না । যেহেতু হাঁটাহাঁটি করা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ভালো তাই চিন্তা করলাম প্রতিদিন একটু হাঁটাহাঁটি করব । সে চিন্তা থেকেই আমার ভাড়াটিয়া আপার সঙ্গে হাঁটতে বেরিয়ে গেলাম, সঙ্গে আমার মেয়েও ছিল । মেয়েকে অবশ্য নিতে চেয়েছিলাম না কিন্তু জোর করে গিয়েছিল । আসলে আমাদের সকলেরই একটু আধটু হাঁটা হাঁটি করা দরকার ।হাঁটা হাঁটি করলে শরীর ও মন দুটোই ভালো থাকে । যাই হোক আর কথা না বাড়িয়ে চলুন আমার আজকের বিকেলের ঘুরে বেড়ানোর মুহূর্ত গুলো আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করি । আশা করছি আপনাদের ভালো লাগবে ।
আজ বিকেলের ঘোরাঘুরি
প্রথমে বাসা থেকে বেরিয়েই আমরা সিদ্ধান্ত নিচ্ছিলাম কোন দিকে যাওয়া যায় । তারপর আমার মেয়ে যেদিকে যেতে চাইল আমরা সেদিকেই রওনা দিলাম । হাঁটতে হাঁটতে আমরা যাচ্ছিলাম । তবে মেইন রোড হওয়ায় রাস্তায় বেশ গাড়ির চাপ ছিল । তাই চিন্তা করলাম মেইন রোড দিয়ে হাঁটা যাবে না । একটু ভেতরের দিক দিয়ে হাঁটতে হবে । সে চিন্তা থেকে আমরা ভেতরের রোড দিয়ে হাঁটতে শুরু করলাম ।হাঁটতে হাঁটতে আমরা বেশ কিছুদূর এগোতেই রেললাইন দেখতে পেলাম ।
তারপর আমরা একটু এগোতেই রেল লাইনে উঠে গেলাম । রেললাইনে যেয়েতো আমি অবাক । সমস্ত রেললাইন জুড়ে লোকজনে ভরপুর ছিল । সবাই বসে বসে গল্প করছিল । আশেপাশের সব বাড়ি থেকে লোকজন এখানে এসে জড়ো হয়েছিল । রেললাইনে এত লোকজন আমি সত্যিই চিন্তা করিনি । আর এই জায়গাটা বেশ ঠান্ডা ছিল, বেশ বাতাস ছিল ।রেললাইনে একটি ছোট ব্রিজও দেখতে পেলাম ।ব্রিজের পাশে একটি ফুচকার দোকান ছিল যেখানে সবাই ফুচকা খাচ্ছিল । তারপর আমার ভাড়াটিয়া আপা মেয়েকে জিজ্ঞাসা করল ফুচকা খাবে কিনা ? তারপর আমার মেয়ে ফুচকা খেতে চাইলো ,তারপর সে তাকে ফুচকা খাওয়ালো ।
মেয়ের ফুচকা খাওয়া শেষ হলে আমরা আবার হাঁটতে শুরু করলাম । আমি রেললাইনের চিকন লাইনের উপর দিয়ে হাঁটছিলাম । দীর্ঘদিন পর এভাবে হাঁটতে আমার কাছে ভীষণ ভালো লেগেছিল । কারণ সেই ছোটবেলায় এভাবে হেঁটেছিলাম । অনেক বছর হয়েছে এভাবে হাঁটা হয়নি । সত্যিই চমৎকার অনুভূতি ছিল ।
হাঁটতে হাঁটতে আমার এই চমৎকার প্রাকৃতিক দৃশ্যগুলো চোখে পড়ল । যেখানে সামনে পুকুরের মতো আর ভেতরে গাছ পালার ভেতরে বাড়ি ঘর ।সত্যিই এই বাড়িঘর গুলোতে মনে হয় বেশ ঠান্ডা হবে ।এরকম সবুজ প্রকৃতির মাঝে বাড়ি সত্যিই চমৎকার ।বেশ ভালো লাগলো আমার জায়গাটি দেখে ।
কিছুদূর হাঁটতে হাঁটতে আমার এই চিকন রাস্তাটি চোখে পড়ল । যেটি রেললাইন থেকে নিচের দিকে একটি বাড়িতে ঢোকার রাস্তা । রেললাইন থেকে সিঁড়ি করে এরা রাস্তাটি তৈরি করেছে । রাস্তার দুই পাশে ফুলের গাছ ,পাতা বাহার গাছ এবং বিভিন্ন ফলের গাছ ও লাগিয়েছে । যেহেতু চিকন রাস্তার দুই পাশে পানি সেহেতু অতি দৃষ্টিতে আমার মনে হয় এই রাস্তাটি ডুবে যায় । তখন এই লোকগুলো বাড়ি থেকে কিভাবে বের হয় সেটা বেশ চিন্তার বিষয় । তারপরেও এই রাস্তাটা আমার কাছে ভীষণ ভালো লেগেছিল ।দেখতে সত্যি চমৎকার ছিল । আসলে আজকের বিকেলটা বেশ ভালই কাটিয়েছিলাম । যেহেতু এভাবে দীর্ঘদিন বাসা থেকে বের হওয়া হয় না । তাই হঠাৎ এভাবে হাঁটতে বেরিয়ে বেশ ভালো সময় কাটালাম । এমনিতে এতদিন এই সময়টাতে আমি বাসায় ঘুমাতাম । কিন্তু আজ আমি হেঁটে বেড়াচ্ছি সত্যিই নিজের কাছেই অবাক লাগলো । তবে বেশ ভালো সময় কাটিয়েছি ।আশা করছি আপনাদের কাছেও ভালো লেগেছে ।
আজকের মতো এখানেই শেষ করছি ।আগামীতে আবার দেখা হবে নতুন কোন লেখা নিয়ে ।সে পর্যন্ত সবাই ভাল থাকুন, সুস্থ থাকুন ।আমার ব্লগ টি পড়ার জন্য সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
| ফটোগ্রাফার: | @wahidasuma |
|---|---|
| ডিভাইস: | স্যামসাং গ্যালাক্সি এ৪০ |
| লোকেশন: | ফরিদপুর |
🔚ধন্যবাদ🔚
@wahidasuma
আমি ওয়াহিদা সুমা।আমি 🇧🇩বাংলাদেশি🇧🇩।বাংলা আমার মাতৃভাষা।আমি বাংলায় কথা বলতে ও লিখতে ভালোবাসি।ধন্যবাদ আমার বাংলা ব্লগকে এই সুযোগটি করে দেওয়ার জন্য।
আসলে প্রতিদিন একটু হাঁটাহাঁটি করা আমাদের শরীরের পক্ষে খুবই উপকারী। বিকালে হাঁটতে গিয়ে নিশ্চয়ই খুব সুন্দর কিছু মুহূর্ত উপভোগ করছেন। আরে হ্যাঁ যাদের বাড়ি ট্রেন লাইনের কাছে তারা বিকাল টাইমে ট্রেন লাইনের উপর বসে থাকে। এটা আমিও লক্ষ্য করেছি। যাইহোক আপনার পোস্টটি পড়ে ভালো লাগলো ধন্যবাদ আপনাকে এই সুন্দর পোস্টটি আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
হ্যাঁ ভাইয়া দীর্ঘদিন পর রেললাইনে হাঁটতে যেয়ে সত্যি চমৎকার মুহূর্ত উপভোগ করেছি । ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য ।
আপু আপনি যে গতকাল থেকে ভেবেছেন প্রত্যেকদিন বিকেল বেলায় অল্প একটু করে হাঁটতে বের হবেন জেনে বেশ ভালো লাগলো। আমি মনে করি বিকেল বেলায় হাটাহাটি করলে মন এবং শরীর দুটোই অনেক ভালো থাকে। ঠিক বলেছেন আপু আপনি সারাদিন ঘরের মধ্যে থাকলে আসলেই মন শরীর দুটোই দুর্বল লাগে। আমিও মেসের মধ্যে ঠিক একই রকম অনুভব করি তাই বিকেল বেলায় একটু হাঁটতে বের হই আমিও। সঙ্গে আপনার মেয়ে ছিল জেনে বেশ ভালো লাগলো। আপনার মিষ্টি মেয়ে দেখে খুবই ভালো লাগলো আপু।
ভাইয়া আপনিও বিকেল বেলায় হাঁটতে বাইরে বের হন জেনে ভালো লাগলো । আর ছবিতে যে মেয়েটিকে দেখতে পাচ্ছেন সেটি আমার মেয়ে নয় । ওখানকার একটি বাচ্চা মেয়ে এবং ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য ।
আসলে এটা কিন্তু সত্যি প্রতিদিন হাঁটাহাঁটি করলে আমাদের শরীরের জন্য অনেক ভালো হবে। আপনি প্রতিদিন হাঁটার চিন্তা করেছেন এটা জেনে ভালো লাগলো। আপনারা তো দেখছি রেল লাইনের ওখানে হাটতে গিয়েছেন। জায়গাটা কিন্তু খুবই সুন্দর। এরকম জায়গায় বিকেল বেলায় হাঁটতে গেলে বেশ ভালোই লাগবে। আপনারা খুবই ভালো মুহূর্ত কাটিয়েছিলেন এবং আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য খুবই সুন্দর সুন্দর ফটোগ্রাফিও করেছেন সম্পূর্ণটা বেশ ভালো ছিল।
হ্যাঁ ভাই আমার কাছেও বেশ ভালো লেগেছে । কেননা দীর্ঘদিন পর রেল লাইনের উপর দিয়ে হেঁটেছি দারুন একটা অনুভূতি ছিল । ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য ।
আসলে হাটাহাটি করা আমাদের শরীরের পক্ষে খুবই উপকার। এভাবে প্রতিদিন একটু হাটা দরকার। আর সারাদিন ঘরের ভিতর থাকলেও তেমন একটা ভালো লাগে না মাঝেমধ্যে এরকম বিকেলে ঘুরতে যেতে ভালই লাগে। বিকেলের সময়টা বেশ ভালই কাটিয়েছেন। সাথে কিছু ফটোগ্রাফি শেয়ার করেছেন আপনি ফটোগ্রাফিগুলো বেশ ভাল ছিল। বিকেলে ঘোরাঘুরি করার মুহূর্ত আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ।
হ্যাঁ আপু আপনি ঠিকই বলেছেন বিকেলবেলা বাইরে একটু ঘোরাঘুরি করলে বেশ ভালোই লাগে। দীর্ঘ দিন পর বাইরে বের হয়ে বেশ ভালো লাগলো । ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য ।