একটি ছোট্ট প্রেমের গল্প
আসসালামু আলাইকুম
আমার প্রিয় বাংলা ব্লগের বন্ধুরা আপনারা সবাই কেমন আছেন ?আশা করছি সবাই সুস্থ আছেন, ভালো আছেন।আমিও আল্লাহর রহমতে মোটামুটি ভাল আছি।
বন্ধুরা আজ আমি আপনাদের সামনে একটি গল্প নিয়ে হাজির হয়েছি । আসলে গল্প মানেই আমাদের আশেপাশে ঘটে যাওয়া ঘটনা । যেটি এক একটি গল্প আকারে আমাদের কাছে এসে ধরা দেয় । আজ আমি যে গল্পটি আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করব সেটি মূলত একটি বাস্তব ঘটনাকে কেন্দ্র করে লেখা । আশা করছি আপনাদের কাছে গল্পটি ভালো লাগবে । তাহলে আর কথা না বাড়িয়ে চলুন চলে যাই মূল গল্পে।
একটি ছোট্ট প্রেমের গল্প
হৃদয় ও নীলিমা একই এলাকায় বসবাস করে । যার কারণে বিভিন্ন সময়ে তাদের দুজনের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ হয় । হৃদয় নীলিমাকে ভীষণ পছন্দ করতে শুরু করে । কিন্তু নীলিমার হৃদয়ের প্রতি তেমন কোন ফিলিংস তখনও তৈরি হয় নি। বিকেল বেলায় যখন নীলিমা বাইরে বের হতো তখন প্রায় সময়ই তার হৃদয়ের সঙ্গে দেখা হতো । সে দেখতো যে হৃদয় তার দিকে অপলক ভাবে বেশ ভালোলাগার দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে । তখন নীলিমা একটু লজ্জা লজ্জা পেতো।
এভাবে বেশ কিছুদিন কাটতে লাগলো । এভাবে কিছুদিন যাবার পর একদিন হৃদয় নীলিমাকে প্রপোজ করলো। নীলিমাকে জানালো সে নীলিমাকে ভীষণ পছন্দ করে ।তখন নীলিমা তার কথায় রাজি হল না । সে বলল আমি তো তোমাকে পছন্দ করি না । আসলে এটা নীলিমার মনের কথা ছিল না ,এটা শুধুমাত্র বলার জন্যই বলেছিল। তারপরেও হৃদয় নীলিমার পেছনে ঘুরতেই থাকলো।একটা সময় যাবার পর নীলিমার মন নরম হলো।সেও হৃদয় কে ভালোবেসে ফেললো।
এভাবে বেশ কিছুদিন যাবার পর হৃদয় নীলিমার জন্য একদম পাগল হয়ে গেল । তখন সে নীলিমাকে বিয়ে করতে চাইলো। যদিও তাদের বয়স খুবই কম ছিল। দুজনেই এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল। তারপরেও নীলিমা তাকে তাদের বাড়িতে প্রস্তাব পাঠাতে বলল।হৃদয় নীলিমার বাড়িতে বিয়ের প্রস্তাব পাঠালো।আসলে হৃদয়ের বাড়ির অবস্থা নীলিমা দের থেকে বেশ ভালো ছিল।যার কারণেই নীলিমার বাড়ির লোকজন রাজি হয়েছিল। কিন্তু এদিকে বাধা হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল হৃদয়ের বাবা। সে নীলিমার বাবার কাছে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করল। কিন্তু সেটা নীলিমার বাবার পক্ষে দেওয়া একদম সম্ভব ছিল না। যার কারণে তাদের বিয়ে ভেঙে গেল।
এদিকে নীলিমার পরিবার নীলিমাকে হৃদয়ের সঙ্গে দেখা সাক্ষাৎ করতে নিষেধ করল ।যেহেতু তাদের বিয়ে ভেঙে গিয়েছে। নীলিমার কাছেও বিষয়টা বেশ খারাপ লাগলো। হৃদয়ের বাবা ৫ লাখ টাকা দাবি করেছে এই জন্য।যার কারণে নীলিমা হৃদয় থেকে একটু একটু সরে আসতে লাগলো। এর কিছুদিন পর হৃদয় ও নীলিমার এসএসসি পরীক্ষা শেষ হল। তারপর কিছুদিন পর রেজাল্ট হল। নীলিমা পাস করল কিন্তু হৃদয় ফেল করলো।
এরপর হৃদয় ও নীলিমার দেখা সাক্ষাৎ একদম বন্ধ হয়ে গেল। হৃদয় ভাবলো হৃদয় ফেল করেছে যার কারণে নীলিমা তার সঙ্গে দেখা সাক্ষাৎ করা বন্ধ করে দিয়েছে। কিন্তু ব্যাপারটা ছিল অন্যরকম। একে তো হৃদয় ফেল করেছে তার উপর হৃদয়ের বাবা যৌতুক চেয়েছে। সব মিলিয়ে নীলিমা হৃদয়ের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে চাচ্ছিল না। একদিন হৃদয় নীলিমাকে তার সঙ্গে দেখা করতে বলল। তখন নীলিমা বলল সে তার সঙ্গে দেখা করবে না। তখন হৃদয় বলল নীলিমা যদি তার সঙ্গে দেখা না করে তাহলে সে আত্মহত্যা করবে। কিন্তু নীলিমা বিষয়টা খুব একটা গুরত্ব দিল না। যার কারণে সে নির্দিষ্ট সময়ে হৃদয়ের সঙ্গে দেখা করতে গেল না। তার বেশ কিছু সময় পর এলাকার সবাই জানতে পারল হৃদয় বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করেছে। এভাবেই নীলিমা ও হৃদয়ের ভালোবাসা পূর্ণতা পাবার আগেই শেষ হয়ে গেল।
আজকের মতো এখানেই শেষ করছি ।আগামীতে আবার দেখা হবে নতুন কোন লেখা নিয়ে ।সে পর্যন্ত সবাই ভাল থাকুন, সুস্থ থাকুন ।আমার ব্লগ টি পড়ার জন্য সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
| ফটোগ্রাফার: | @wahidasuma |
|---|---|
| ডিভাইস: | স্যামসাং গ্যালাক্সি এ৪০ |
🔚ধন্যবাদ🔚
@wahidasuma
আমি ওয়াহিদা সুমা।আমি 🇧🇩বাংলাদেশি🇧🇩।বাংলা আমার মাতৃভাষা।আমি বাংলায় কথা বলতে ও লিখতে ভালোবাসি।ধন্যবাদ আমার বাংলা ব্লগকে এই সুযোগটি করে দেওয়ার জন্য।
একটি ছোট প্রেমের গল্প আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ আপু। আপনার লেখা প্রেমের গল্পে বাল্য প্রেমের করুণ পরিনতির চিত্র ফুটে উঠেছে। যা আমাদের আশেপাশে অহরহ ঘটছে। আপনার গল্পে আর একটি সমাজের বাস্তব চিত্র উঠে এসেছে তা হচ্ছে যৌতুক। হয়ত ৫ লক্ষ টাকা যৌতুক দিলে নীলিমা ও হৃদয়ের ভালোবাসা পূর্ণতা পেত!যৌতুক একটা ব্যাধি যা আপনাকে ও আমাকেসহ সবাইকে রুখে দাড়াতে হবে। আসুন যৌতুককে "না"বলি। শুভ কামনা আপনার জন্য আপু।
হ্যাঁ আপু আপনি ঠিকই বলেছেন এই যৌতুকের কারণেই নীলিমা ও হৃদয়ের ভালোবাসা পূর্ণতা পায়নি ।এই যৌতুকের বিরুদ্ধে সবাইকে রুখে দাঁড়াতে হবে ।ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য।
এই ঘটনা গুলো শুনলে খুবই খারাপ লাগে। আত্মহত্যা মহাপাপ, সেটা জেনেও অনেকে আত্মহত্যা করে নিজেকে শেষ করে দেয়। হৃদয়ের আত্মহত্যার জন্য তার বাবা দায়ী। যদি তার বাবা যৌতুক না চাইতো,তাহলে গল্পটা অন্যরকম হতে পারতো। যৌতুকের জন্য প্রায়ই শুনি যে বিয়ে ভেঙে যায়। যাইহোক গল্পটি শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপু।
হ্যাঁ ভাইয়া আপনি ঠিকই বলেছেন আসলেই হৃদয়ের মৃত্যুর জন্য তার বাবাই দায়ী ।যৌতুক না চাইলে হয়তো তাদের জীবনটা অন্যরকম হতে পারতো ।ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য।
গল্পটা এভাবে শেষ হবে একবারও চিন্তা করিনি। হৃদয়ের পরিবারের অবস্থা ভালো হলেও তাদের মন মানসিকতা খুবই ছোট। তা না হলে যৌতুক হিসেবে পাঁচ লাখ টাকা চাইত না। নীলিমারও উচিত ছিল হৃদয় সঙ্গে খোলাখুলি সব বিষয়ে আলাপ করে নেয়া। নীলিমা এখানে ভুল করেছে হৃদয়কে কোন কিছু না জানিয়ে সম্পর্ক ছিন্ন করে। হৃদয় অল্প বয়সে আবেগের কারণে এত বড় একটা ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলল। আসলেই খারাপ লাগলো শেষে পড়ে।
আসলে এই অল্প বয়সী ছেলেমেয়েগুলো খুবই আবেগপ্রবণ হয়। কোনটা ঠিক কোনটা বেঠিক তারা বুঝতে পারে না ।যার কারণে এই ভুলগুলো করে থাকে। ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য।
আপু আপনি আজকে আমাদের মাঝে ছোট্ট একটি প্রেমের গল্প শেয়ার করেছেন। আপনার শেয়ার করা গল্পটি পড়ে আমার কাছে বেশ খারাপ লাগলো আপু। আসলে আত্মহত্যা করা মহাপাপ জেনেও আত্মহত্যা করেছে। আমি মনে করি হৃদয়ের এই আত্মহত্যার জন্য তার বাবা দায়ী। আসলে আমি মনে করি যেসব পরিবার এখন ছেলে মেয়েদের বিয়ে দেওয়ার জন্য যৌতুকের টাকা চাই তাদের থেকে নিচু মন মানসিকতার মানুষ আর পৃথিবীতে খুঁজে পাওয়া যায় না। অনেক শিক্ষা নিয়ে একটি গল্প আপু ধন্যবাদ শেয়ার করার জন্য।
হ্যাঁ ভাই আপনি ঠিকই বলেছেন তবে আমাদের সমাজে এখনো এরকম নিচু মন মানসিকতার অসংখ্য লোক মুখোশ পরে ঘুরে বেড়াচ্ছে। ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য।
আপু আপনার লেখা গল্পটি পড়ে ভীষণ খারাপ লাগলো। বর্তমানে আমাদের সমাজে আত্মহত্যা বেড়ে গেছে। আরে আত্মহত্যা বেড়েজার মূল কারণ হলো ভালোবাসা। অল্প বয়সে কিশোর কিশোরীরা ভালবাসায় জড়িয়ে না পাওয়ার বেদনা সহ্য না করতে পেরে তারা আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছে। তবে এখানে নীলেমার কিছু ভুল ছিল। আর আপনার এই গল্পে যৌতুকের খুব সুন্দর একটি বিষয় তুলে ধরেছেন। সমাজে এই যৌতুকের জন্য কত বিয়ে ভেঙে যাচ্ছে কত মেয়ে আত্মহত্যা করছে। কত সংসার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। যৌতুকের বিষয় নিয়ে আমাদের সমাজের মধ্যে সতর্ক করা উচিত।
আসলে ভাইয়া এই অল্প বয়সি কিশোর-কিশোরীরা ভালোবাসার সম্পর্কে জড়িয়ে ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে। যার কারণেই এই আত্মহত্যা গুলো ঘটে যাচ্ছে ।যাই হোক ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য।