পদ্মা নদী যেন এখন ধুধু মরুভূমি
আসসালামু আলাইকুম
সবাইকে রমজান মাসের অনেক অনেক শুভেচ্ছা ।আশা করছি সবাই পরিবার-পরিজন নিয়ে বেশ ভালো আছেন ও ভালোভাবেই রোজা পালন করছেন । আমিও আল্লাহর রহমতে পরিবার পরিজন নিয়ে বেশ ভালো আছি ।
বন্ধুরা কয়েকদিন আগে আমি পদ্মা নদীর পাড়ে ঘুরতে গিয়েছিলাম । কিন্তু সেখানে গিয়ে তো আমি রীতিমতো অবাক হয়েছি । কয়েক মাস আগে যে পদ্মা নদী আমি দেখেছি পানি থৈথৈ করছিল , যে নদীতে আমি নৌকায় চড়েছিলাম সেই নদী এখন ধুধু মরুভূমির মতো । মাঠের পর মাঠ শুধু বালু আর বালু ।পানির ছিটে ফোটাও নেই । সত্যি আমি এতটা অবাক হয়েছিলাম যা বলে বোঝাবার নয় । এই অল্প কয়েক মাসেই পদ্মার পানি শুকিয়ে একদম মাঠ হয়ে গিয়েছে যা আমি একদমই চিন্তা করিনি । সেই ফটোগ্রাফিই আজ আমি আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করব ।
পদ্মা নদী যেন এখন ধুধু মরুভূমি
পদ্মা নদীর কথা চিন্তা করে আমি গিয়েছিলাম কিন্তু যখন রিকশা থেকে নামলাম তখন এই দৃশ্য দেখে সত্যিই আমি রীতিমতো অবাক হয়েছিলাম । যেখানে ছিল অথৈ পানি সেখান দিয়ে এখন লোকজন হেঁটে বেড়াচ্ছে । যেটা সত্যি অবাক হওয়ার মতো । যেখানে শুধু বালুর প্রান্তর ।
এখান দিয়ে কয়েক মাস আগে আমি নৌকায় করে ঘুরে বেড়িয়েছি । যখন মাঝ নদীতে নৌকা গিয়েছিল তখন এতটা ভয় লাগছিল যে বলার মত নয় । সেই মাঝ নদী এখন শুকনো সত্যিই অন্যরকম এক দৃশ্য ।যখন আমি নৌকায় এই নদীতে ঘুরেছিলাম সেই ফটোগ্রাফি আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করেছিলাম অনেকে হয়তো দেখে থাকবেন, সেই নদীর এখন এরকম অবস্থা । দেখলাম সবাই মাঠের পর মাঠ হেঁটে যাচ্ছে । আমরাও হাঁটতে শুরু করলাম । অনেক দূর হাঁটার পর নদীর কিছুটা অংশ যা এখনো শুকিয়ে যায়নি সেটা দেখার জন্য ।
বেশ কিছুদূর হাঁটার পর বেশ কিছু দোকানপাট দেখতে পেলাম । এর মধ্যে একটি চটপটির দোকানও দেখতে পেলাম । অনেকে কিছুদূর হাঁটার পর হয়তো এখানে এসে রেস্ট নিয়ে চটপটি খায় । আমরা অবশ্য ওখানে যায়নি ।
যারা আমার পোস্ট দেখেন তারা হয়তো চিনে থাকবেন এটি একটি ভাসমান রেস্টুরেন্ট ছিল । যার ফটোগ্রাফি আমি আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করেছিলাম । সেই রেস্টুরেন্ট এখন শুকনো মরুভূমির মধ্যে পড়ে আছে । দেখে বোঝারই উপায় নেই সেই ভাসমান রেস্টুরেন্ট এটি ।
এখানে অনেকে অনেক কিছু বিক্রি করছিল । আবার লোকজন সেগুলো কিনছিল । এখন এক অন্যরকম পরিবেশ হয়েছে দেখে বোঝারই উপায় নেই এখানে একসময় অথই পানি ছিল।
বেশ কিছুদূর হাঁটতে হাঁটতে অবশেষে নদীর কিছু অংশ দূর থেকে দেখতে পেলাম । তখন মনে হলো নদীর কিছু অংশ তো অন্তত রয়েছে , তাহলে কাছে যেয়ে নদীতে অন্তত পা ডুবিয়ে আসি । তবে বেশ খানিকটা পথ হাঁটতে হয়েছিল । দীর্ঘদিন পর এতটা পথ হেঁটেছি আমি । বালুর ভেতর দিয়ে হাঁটতে বেশ ভালই লাগছিল ।
অবশেষে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে আমরা নদীর একদম কাছে চলে এলাম। নদীর কাছে এসে হাঁটার সকল ক্লান্তি যেন দূর হয়ে গেল । বেশ ভালো লাগছিল । বিকেলবেলায় নদীর পাড়ের দৃশ্য সত্যিই অন্যরকম ।অনেক লোকজন এখানে জমা হয়েছিল কেউ হেঁটে এসেছে , কেউ বাইক নিয়ে এসেছে । অনেক সময় আমরা নদীর পাড় দিয়ে হাঁটাহাঁটি করলাম । তারপর আমরা নদীর ওপারে যাবার সিদ্ধান্ত নিলাম । সে গল্পটি আরেকদিন আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করব ।
আজকের মতো এখানেই শেষ করছি ।আগামীতে আবার দেখা হবে নতুন কোন লেখা নিয়ে ।সে পর্যন্ত সবাই ভাল থাকুন, সুস্থ থাকুন ।আমার ব্লগ টি পড়ার জন্য সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
| ফটোগ্রাফার: | @wahidasuma |
|---|---|
| ডিভাইস: | স্যামসাং গ্যালাক্সি এ৪০ |
🔚ধন্যবাদ🔚
@wahidasuma
আমি ওয়াহিদা সুমা।আমি 🇧🇩বাংলাদেশি🇧🇩।বাংলা আমার মাতৃভাষা।আমি বাংলায় কথা বলতে ও লিখতে ভালোবাসি।ধন্যবাদ আমার বাংলা ব্লগকে এই সুযোগটি করে দেওয়ার জন্য।
আপনার পোস্ট পড়ে অনেক ভালো লাগল। সত্যি বলেছেন আপনি, যেখানে আগে শুধু পানি থৈথৈ করতো কিন্তু সেখানে আজ ধুধু মরুভূমি , এটা আসলে অবাক করার বিষয়।সত্যি এ রকম বালুর ওপর দিয়ে হাঁটতে আসলে অনেক ভালো লাগে। যাইহোক অবশেষে কিছু দূর হেঁটে নদীর দেখা পেয়েছেন এটাই অনেক। পরিবারের সবাইকে নিয়ে বেশ ভালো একটা সময় কাটিয়েছেন জেনে অনেক ভালো লাগল। আপনাকে অনেক সুন্দর কাটানো মূহুর্ত আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
হ্যাঁ আপনি ঠিকই বলেছেন বেশ ভালো একটু সময় কাটিয়েছিলাম সেদিন বিকেল বেলায় । ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য । ভালো থাকবেন ।
পদ্মা নদী পাড়ে খুবি সুন্দর সময় পাড় করেছেন।আপনার প্রতিটা ফটোগ্রাফি দেখে খুবি ভালো লেগেছে আমার।নদী পাড়ের বালু চরের মধ্যে ভ্রমণ করতে আমারও খুবি ভালো লাগে।
নদীর বালু চরের মধ্যে ভ্রমণ করতে আপনার কাছেও ভালো লাগে যেনে সত্যি ভীষণ ভালো লাগলো । আসলে এ ধরনের জায়গায় গেলে সবারই মনে হয় ভালো লাগে । ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য ।
নদীর পারে বালু চরের মরুভূমির দৃশ্য অসাধারণ। আসলে নদীর পাড়ে গেছে খুবি ভালো লাগে।তাই আপনার ফটোগ্রাফি গুলো দেখে আমার অনেক ভালো লেগেছে।
আমার ফটোগ্রাফি গুলো আপনার কাছে ভালো লেগেছে জেনে ভালো লাগলো । অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে মন্তব্য করার জন্য । আপনার জন্য শুভকামনা ।
নদীর রুপ সৌন্দর্য প্রতিনিয়ত বদলে যায় ৷ আসলে এখন বসন্তকাল বলে নদীর জল শুকিয়ে গেছে ৷ তবে বর্ষা এলে আবার তার পূর্ন রুপ ফিরে পাবে ৷
তবে এই বালুর চর দিয়ে হাটতে বেশ ভালোই লাগে ৷ আর আপনার করা আলোকচিত্র গুলো দেখে ভাল লাগলো ৷ বেশ অনেক লোকের সমাগম সেই সাথে ছোট্ট ছোট্ট দোকান পাট ৷ বলা যায় একটা সুন্দর সময় অতিবাহিত করার জায়গা ৷
হ্যাঁ ভাইয়া আপনি ঠিকই বলেছেন বর্ষা এলে নদী আবার অথৈ পানিতে ভরে উঠবে । এখন বসন্তকাল তাই এই অবস্থা । ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য ।ভালো থাকবেন ।
পদ্মার চিরচেনা ভয়ংকর রূপ যেন এখন বালির সাথে মিশে রয়েছে।। ছোটবেলা থেকে দেখেছি পদ্মার ভয়ংকর রূপ অথৈ পানি।
এ সময় পদ্মার পানি কমে দু পাড়ে চর লেগে উঠে। কোথায় হারিয়ে গেল পদ্মার সেই থৈথৈ পানি আর গর্জন।। আমিও মাঝে মাঝে পদ্মার পাড়ে বসে এটাই ভাবি।।
যাহোক আপু আপনি অনেক সুন্দর সময় অতিবাহিত করেছেন পদ্মার পার ভ্রমণ করে ফটোগ্রাফি গুলো অসাধারণ ছিল।।
হ্যাঁ ভাইয়া এখন পানি শুকিয়ে চড় জাগে উঠেছে। তবে বর্ষাকাল এলেই নদী আবার আগের মত তার রূপ ফিরে পাবে । ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য ।
আসলেই পরিবারের কাউকে অথবা পুরো পরিবার নিয়ে ঘুরতে যেতে আমারও ভীষণ ভালো লাগে। আপনারা পদ্মা নদীর পাড়ে ঘুরতে গিয়েছেন দেখে আরো ভালো লাগলো। নদীর পানি শুকিয়ে যাবার কারণে আপনারা ঘুরাঘুরিটা বেশ জমিয়ে করেছেন দেখে খুশি হলাম। আসলেই যে নদীতে পানি ভরপুর ছিল এখন শুকিয়ে কাঠ হয়ে যাচ্ছে। এটার জন্য একটু খারাপ লাগলো। যাইহোক সুন্দর সময় কাটিয়েছেন দেখে খুবই খুশি হলাম।
আপু এইতো বর্ষাকাল এলেই নদী আবার তার আগের রূপ ফিরে পাবে । মাঝখানে স্বল্প সময় নদী এরকম থাকে । ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য ।
পদ্মা নদী নাম শুনেছি আপু কখনো দেখার সুযোগ হয়নি কিন্তু আমার বাংলা ব্লগে এসে পদ্মা নদীর সুন্দর সুন্দর ফটোগ্রাফি দেখেছি। এই মৌসুমে আপু খাল-বিল, ন্দী-নালা সব শুকিয়ে চৌচির হয়ে যাবে। এখন যেহেতু বেশ গরমকাল পানি শুকিয়ে অনেক বড় আকারের একটি বালুচরে পরিণত হয়েছে পদ্মা নদী। কিন্তু আবার যখন দেখবেন বৃষ্টি হবে তখন পানিতে ভরপুর করবে। অনেক সুন্দর সময় কাটিয়েছেন অনেক লোকজনের সমাগম দেখতেছি সেখানে।
হ্যাঁ আপু আপনি একদম ঠিক বলেছেন বর্ষাকালে নদী আবার পানিতে ভরপুর হয়ে উঠবে । তখন নদী দেখলেই ভয় লাগবে । ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য ।
আপনার পোস্ট পরে আসলে আমার অনেক ভালো লাগলো। আসলেই নদীর পারে বালু চরের মরুভূমির দৃশ্য অসাধারণ ছিল দেখে বেশ আমার ভালো লাগলো। দেখে বোঝা যাচ্ছে যে আপনি অনেক ঘোরাঘুরি পছন্দ করেন। ঠিক আমার মত আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ আপু এত সুন্দর কাটানো মুহূর্ত আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
হ্যাঁ ভাইয়া ঘুরাঘুরি করতে আমার কাছে ভীষণ ভালো লাগে । তাই তো মাঝে মাঝেই এখানে সেখানে ঘুরতে চলে যাই । ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য ।
বর্ষাকালে পানিতে থৈ থৈ করলেও সত্যি বলতে এই সময়ে কোনো পানি থাকে না। নদীগুলো একেবারে পানি শূণ্য হয়ে যায়। আর মাইলের পর মাইল দীর্ঘ চর পড়ে যায়। আবার একটু রোদ উঠলে এই বালি এতটা গরম হয়ে যায় যে ঐ বালির উপর দিয়ে হাঁটা যায় না হা হা। তবে শেষমেশ নদীর কাছে পৌছায়ছেন ওটা বেশ ভালো লাগছে। ঐ দৃশ্যটা বেশ চমৎকার ছিল।
হ্যাঁ ভাইয়া বর্ষাকালে এই নদী আবার ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করে । তখন নদীতে নৌকায় চড়তেও ভীষণ ভয় লাগে । ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য ।
বিকেল বেলা পদ্মা নদীর পাড়ে গিয়ে খুবই সুন্দর একটি মুহূর্ত অতিবাহিত করেছেন দেখে ভালো লাগলো। এখন চৈত্র মাস আর এই চৈত্র মাসে পদ্মা নদীর পানি একদম শুকিয়ে যায় যেমনটা আমাদের বাসার পাশে ছোট নদীতে লক্ষ্য করলে দেখা যায়। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে পদ নদীর পানির কাছে গিয়ে সুন্দর মুহূর্ত অতিবাহিত করেছেন বোঝাই যাচ্ছে। সুন্দর এই মুহূর্তটা আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
হ্যাঁ ভাইয়া আপনি ঠিকই বলেছেন এ সময় নদীর পানি শুকিয়ে যায় । আবার বর্ষার সময় ভরে ওঠে । ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য ।