মায়ের ভালোবাসা
আসসালামু আলাইকুম
আমার প্রিয় বাংলা ব্লগের বন্ধুরা আপনারা সবাই কেমন আছেন ?আশা করছি সবাই সুস্থ আছেন, ভালো আছেন।আমিও আল্লাহর রহমতে মোটামুটি ভাল আছি।
বন্ধুরা আজ আমি আপনাদের সামনে ভিন্ন ধরনের একটি পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি। প্রতিদিন একই ধরনের পোস্ট করতে আমার কাছে ভালো লাগে না ।তাই তো বিভিন্ন ধরনের পোস্ট করে থাকি । যাতে পোস্টে বৈচিত্র থাকে এবং আপনাদের পড়তেও ভালো লাগে ।আজ ও তেমনি ভিন্ন একটি পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি। আশা করছি আপনাদের কাছে আমার আজকের পোস্টটি ভালো লাগবে। তাহলে আর কথা না বাড়িয়ে সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে শুরু করছি আমার আজকের পোস্ট।
আজ আমি যে বিষয়টি নিয়ে লিখতে যাচ্ছি সেটি হচ্ছে মায়ের ভালোবাসা। আসলে মায়ের ভালোবাসা মানুষের ক্ষেত্রে যেমন প্রাণীদের ক্ষেত্রেও ঠিক একই ।সকল মা ই চায় তার সন্তানকে আগলে রাখতে ।সন্তানের বিপদে ঝাঁপিয়ে পড়তে।আমাদের মানবজাতির ক্ষেত্রে যেমন বাচ্চাদেরকে বিভিন্ন ধরনের শিক্ষা দিতে হয় , তেমনি প্রাণীদের ক্ষেত্রেও তাই ।প্রাণীদের ক্ষেত্রে তাদের কে স্কুলে ভর্তি করতে হয় না ঠিকই কিন্তু তাদের মা তাদেরকে শেখায় কিভাবে প্রকৃতিতে টিকে থাকতে হয়। তারা তাদের প্রকৃতির বিভিন্ন জিনিস থেকে শিক্ষা দিয়ে থাকে। অন্য প্রাণী থেকে কি করে টিকে থাকতে হয় সেই শিক্ষাও দেয়। প্রতিকূল পরিবেশের সাথে নিজেকে খাপ খাইয়ে চলতে শেখায় ।কিছুদিন আগে একটা প্রাণীর মাতৃত্ব দেখে সত্যিই আমার খুবই ভালো লেগেছিল সেই গল্পটিই আজ আমি আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করব।
মায়ের ভালোবাসা
কিছুদিন আগে শহর থেকে গ্রামের দিকে ঘুরতে গিয়েছিলাম গ্রামের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য । তো গ্রামের মাঠের ভেতর দিয়ে বেশ কিছুক্ষণ ঘুরে বেড়ালাম। তারপর একটি রাস্তা ধরে বেশকিছু দূর হাঁটতে লাগলাম। দেখলাম ওই এলাকাটিতে বেশ কিছু ভেড়া রয়েছে। সেই ভেড়াগুলো অনেক দূরে ছিল।তারপর পথে যেতে যেতে দেখি একটি ভেড়া তার বাচ্চাদের নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। বাচ্চাদেরকে কি যেন খাবার খুঁটেখুঁটে খাওয়াচ্ছে। বাচ্চা গুলো দেখতে বেশ সুন্দর ছিল । এত কাছ থেকে এই প্রথম ভেড়ার এত ছোট ছোট বাচ্চা আমি দেখলাম। দেখতে সত্যিই ভীষণ ভালো লাগছিল।
বেশ কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে মা ভেড়া ও তার ছানাগুলোকে দেখছিলাম। দেখতে সত্যিই এত ভালো লাগছিল যে বেশ কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছিলাম। তাদের কিছু ফটোগ্রাফিও তুলেছিলাম। কিছুক্ষণ পরে একটি মেয়ে ওখানে আসলো। ওই মেয়েটিও আমাদের মত ওখানে ঘুরতে গিয়েছিল। তার কাছে ওই ভেড়ার ছানা গুলো দেখে খুবই ভালো লাগলো। সে ভেড়ার একদম কাছে গিয়ে একটি ছানাকে কোলে তুলে নিয়ে একটু দূরে এলো। তারপর বেশ আদর করতে থাকলো। ওদিকে মা ভেড়াটি একদম পাগলের মত হয়ে উঠল । চিৎকার শুরু করতে থাকল মেয়েটির দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে। যদিও ভেড়া খুবই নিরীহ প্রাণী। তারপরেও মাতৃত্বের কাছে সে প্রতিবাদী হয়ে এমন ভাবে চিৎকার করছিল যা দেখে আমার নিজেরই খুবই খারাপ লাগছিল। আমি দাঁড়িয়ে দৃশ্যটি দেখছিলাম। ভেড়ার চেঁচামেচি দেখে আশেপাশের লোকজনও অবাক হয়ে তাকিয়ে দেখছিল । তখন মেয়েটিও বুঝতে পারল তার কাজটি করা ঠিক হয়নি। যদিও সে বাচ্চাটিকে কোলে নিয়ে আদর করছিল। তারপরও সে বুঝতে পেরে বাচ্চাটিকে ভেড়ার কাছে গিয়ে দিয়ে বলল এই নাও তোমার বাচ্চা তোমাকে ফিরিয়ে দিলাম।
ছেড়ে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ছানা বাচ্চাটি দৌড়ে তার মায়ের কাছে গেল। তার মা তাকে অনেক ভাবে আদর করতে লাগলো । তার মায়ের কাছে যেন সে পরম শান্তি পেল । সবাই আমরা তাকিয়ে তাকিয়ে দৃশ্যটি দেখছিলাম । আর তখনই বুঝতে পারলাম প্রাণী কিংবা মানুষ যাই হোক না কেন মায়ের ভালোবাসা সবার জন্যই সমান। আজ এ পর্যন্তই । আশা করছি আপনাদের কাছে ভালো লেগেছে।
আগামীতে আবার দেখা হবে নতুন কোন লেখা নিয়ে ।সে পর্যন্ত সবাই ভাল থাকুন, সুস্থ থাকুন ।আমার ব্লগ টি পড়ার জন্য সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
| ফটোগ্রাফার: | @wahidasuma |
|---|---|
| ডিভাইস: | স্যামসাং গ্যালাক্সি এ৪০ |
🔚ধন্যবাদ🔚
@wahidasuma
আমি ওয়াহিদা সুমা।আমি 🇧🇩বাংলাদেশি🇧🇩।বাংলা আমার মাতৃভাষা।আমি বাংলায় কথা বলতে ও লিখতে ভালোবাসি।ধন্যবাদ আমার বাংলা ব্লগকে এই সুযোগটি করে দেওয়ার জন্য।
হ্যাঁ ভাইয়া আসলেই মা এবং সন্তানের ভালোবাসার দৃশ্য দেখে চোখ জুড়িয়ে গিয়েছিল । আপনার মন্তব্যের জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ ।
ঠিকই বলেছেন আপু, পৃথিবীর সব মায়েই সন্তাদপর আগলে রাখে,সেটা মানুষ কিংবা পশুপাখি হোক না কেন।সামন্য একটা ইঁদুর তার বাচ্চাদের কত যত্ন করে থাকে।যাই ভেড়ার ছবি গুলো বেশ সুন্দর হয়েছে।আর ছানাগুলোও মা ছাড়া কিছু বুঝছেনা। মেয়েটি পরে বুঝতে পেরে যে ছানাটাকে ছেড়ে দিলো।বেশ ভালো লাগলো ব্যপারটা। ধন্যবাদ
হ্যাঁ আপু আসলেই ব্যাপারটা বেশ ভাল ছিল । আপনার কাছে ভেড়ার ছবিগুলো ভালো লেগেছে জেনে বেশ ভালো লাগলো । অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে মন্তব্য করার জন্য ।
ঠিকই বলেছেন আপু প্রতিদিন একই ধরনের পোস্ট করলে আসলেই পোস্টে একঘেয়েমি চলে আসবে। আর মা তো মা ই সব মাই তার সন্তানদেরকে যতনে আগলে রাখে, সে মানুষই হোক আর পশু পাখিই হোক। সব ধরনের শিক্ষাই মাদের সন্তানদেরকে দিতে হয়। মা ভেরাটি মনে করেছে মেয়েটি মনে হয় ওর বাচ্চাটিকে নিয়ে যাবে, আদর করছে সেটা ও বুঝতে পারেনি। মা তো মা-ই হয় আবার সন্তানকে কাছে পেয়ে বিভিন্নভাবে আদর করছে। আমি দৃশ্যটি চোখের সামনেই দেখতে পাচ্ছি আসলেই ভালো লাগলো আপু আপনার আজকের পোস্টটি।
আপু আপনি মন দিয়ে আমার পোস্টটি পড়েছেন ,এজন্য দৃশ্যটি আপনার চোখের সামনে ভাসছে জেনে বেশ ভালো লাগলো । অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে ।
আসলেই একই ধরনের পোস্ট করতে ভালো লাগে না। তেমনি অন্য কেউ পোস্ট পড়তেও বিরক্ত বোধ করে। তাই মাঝে মাঝে যদি ভিন্ন কিছু শেয়ার করা হয় তাহলে ভালো লাগে। আসলে মায়ের ভালোবাসার সাথে কোন কিছুর তুলনা হয় না। যে কোন প্রাণী নিজের সন্তানকে ভালোবাসে। নিজের ভালোবাসায় সন্তানকে আগলে রাখার চেষ্টা করে। যে কোন প্রাণী নিজের সন্তানের ভালোবাসা প্রদর্শন করে। সত্যিই আপু আপনার লেখাগুলো পড়ে অনেক ভালো লেগেছে।
আমার লেখাটি পড়ে আপনার কাছে ভালো লেগেছে জেনে সত্যিই ভীষণ ভালো লাগলো । এমন মন্তব্য পেলে সত্যি কাজ করার উৎসাহ বেড়ে যায়, ধন্যবাদ আপনাকে ।
মায়ের ভাল বাসার এক দারুন উদাহরন এর চিত্র আমাদের মাঝে তুলে ধরেছেন আপনি আপু।মানুষ কিংবা পশুপাখি সবারই ভালবাসা একই রকম।দারুন লিখেছেন।
অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে সুন্দর একটি মন্তব্য করে পাশে থাকার জন্য । সবসময় ভালো থাকবেন এই শুভ কামনা রইল ।
আসলে মায়েরা এরকমই হয়। সেটা মানবজাতি কিংবা প্রাণী। আসলে সকল মায়েরা তাদের সন্তানদেরকে সবকিছু থেকে আগলে রাখে। আপনি ঠিকই বলেছেন যদিও প্রাণীরা একেবারে তাদের সন্তানদেরকে স্কুলে পাঠিয়ে শিক্ষা দেয় না, কিন্তু তারা নিজেরাই তাদেরকে সবকিছু একটু একটু করে শেখায়। এইজন্য মেয়েটি যখন ভেড়াটিকে নিয়ে আদর করছিল তখন মা ভেড়াটি চিৎকার করছিল। আসলে ভেবেছিল হয়তো বা তার সন্তানকে কিছু করছে। এটাও কিন্তু একটা শিক্ষনীয় বিষয়। এখান থেকে আমাদের অনেক কিছুই শেখার রয়েছে।
হ্যাঁ আপু প্রাণীরাও তাদের বাচ্চাদেরকে বিভিন্নভাবে শিক্ষা দিয়ে থাকে । আপনার মন্তব্যের জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ । ভাল থাকবেন ।
আপু হয়তো আজকের পোস্ট এর ভিন্নতা ছিল অন্যরকম। কিন্তু প্রসঙ্গটা ছিল মানুষ এবং প্রাণীর মধ্যে মায়ের ভালোবাসা। পৃথিবীর মধ্যে মা নিঃস্বার্থভাবে ভালবেসে যায় সন্তানকে। আপনি খুব সুন্দর করে উপস্থাপন করেছেন। আর ঠিকই বলেছেন হয়তো প্রাণিজগতে কোন স্কুল নেই, কিন্তু পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে চলার যে শিক্ষা দেওয়া প্রয়োজন তা মা শিখিয়ে দেয়। এত সুন্দর করে গুছিয়ে লিখার জন্য, আপনার প্রতি রইল আন্তরিক অভিনন্দন।
সময় নিয়ে আমার পোস্টটি পড়ে গঠনমূলক মন্তব্য করে আমাকে উৎসাহ দেয়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ ভাইয়া । এভাবে পাশে থাকবেন আশা করছি । ভাল থাকবেন ।
এই পৃথিবীতে মা এর মতো আপন আর কেউ নেই। মা আপন রক্তে লালন পালন করে তার নিজের সন্তানকে। সময় আগলে রাখে। তাই মায়ের কাছ থেকে তার বাচ্চাকে কেড়ে নিলে মা অসহায় হয়ে পরে। ওর জন্য ভেড়াটি যখন ওর বাচ্চাকে ফিরে পেল তখন অনেক অনেক আদর করলো। মা ভেড়া ও বাচ্চাটি শান্তি পেল।
মনোযোগ দিয়ে আমার পোস্টটি পড়ে মন্তব্য করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ । এভাবে মন্তব্য করে পাশে থাকবেন আশা করছি । ভাল থাকবেন ।
পৃথিবীতে মা এমনই একটা শব্দ যা সবসময়ই তার সন্তানদেরকে আগলে রাখে। এই ভালোবাসাটা এমনই একটা ভালোবাসা যা অর্থ দিয়ে কিনতে পাওয়া যায় না। প্রাণীদের হয়তোবা মানুষের মত শিক্ষা দেবার স্কুল নেই, কিন্তু আমরা তাদের মায়ের ভালোবাসা দেখে আপনি মুগ্ধ হয়ে যায়। সত্য কথা বলতে আপনার পোস্টটি পড়ে খুবই ভালো লাগলো আপু।
আমার পোস্টটি পড়ে আপনার কাছে ভালো লেগেছে জেনে সত্যি ভীষণ ভালো লাগলো ভাইয়া । মন্তব্য করে পাশে থাকবেন আশা করছি । ভালো থাকবেন ।
পৃথিবীতে যদি কোন নিঃস্বার্থ ভালোবাসা থেকে থাকে সেটি শুধুমাত্র মায়ের ভালোবাসায় । ঠিক বলেছেন আপু মানুষ থেকে শুরু করে প্রতিটি প্রাণী তাদের মায়ের কাছ থেকেই প্রথম শিক্ষাটা লাভ করে । মা ভেড়াটি বোধহয় ভাবছিল যে তার বাচ্চাটিকে নিয়ে যাচ্ছে। এই জন্য সে প্রতিবাদী হয়ে উঠেছিল। পরে যখন বাচ্চা ভেড়াটি মায়ের কাছে ছুটে গেল তখন তাদের দুশ্চিন্তা দূর হলো এবং সে জন্যই মা বাচ্চাকে খুব আদর করছিল। খুব সুন্দর করে মায়ের ভালোবাসার বিষয়টি লিখেছেন আপু। ভালো লাগলো।
আপনাকে অনেক ধন্যবাদ আপু মনোযোগ দিয়ে আমার পোস্টটি পড়ে মন্তব্য করার জন্য । সব সময় ভালো থাকবেন শুভকামনা রইল ।