জেনারেল রাইটিং :- সময় মানুষের রূপ বদলে দেয়।
আমি @tuhin002, আমি আমার বাংলা ব্লগের সকল সদস্যগনকে আমার পক্ষ থেকে জানায় সালাম," আসসালামু আলাইকুম" সবাই কেমন আছেন ? আশা করি, মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে অনেক ভালো আছেন। আমি ও আপনাদের দোয়ায় এবং মহান আল্লাহুর অশেষ রহমতে ভাল আছি। আজকে আমি আলোচনা করবো সময় মানুষের রূপ বদলে দেয়। এই সম্পর্কে। আশা করি আপনাদের ভালো লাগবে। তাই শুরু করছি আমার আজকের ব্লগ...
যে সৃষ্টিকর্তা এই মানুষকে সৃষ্টি করেছেন। সেই সৃষ্টিকর্তা এত নিয়ামত এই মানুষের ভোগের জন্য রেখেছেন তারপরও মানুষের এই চাওয়া দেখে মনে হয় সৃষ্টিকর্তা মানুষের চাওয়া পূরণ করতে সক্ষম হয়নি নাউজুবিল্লাহ। প্রত্যেকটা মানুষের এক একটি সময়ে এক একটা চাওয়া থাকে। এই চাওয়া পাওয়ার মধ্যে কখনো কোন চাওয়া পাওয়া মানুষের পূরণ হয় আবার কখনো পূরণ হয় না। না পাওয়ার বেদনাটা মানুষকে পরিবর্তন করে, আবার নিজের চাওয়াটা যদি পূর্ণ হয় তবুও মানুষের মধ্যে পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। তবে দুই পরিবর্তনের মধ্যে ভিন্নতা রয়েছে। ভালো সময় মানুষ আপনার পাশে থাকবে। কিন্তু যখনই হাওয়ার একটু পরিবর্তন ঘটবে তখনই সবার মুখের বিষন্নতা ছাপ দেখা যায়।
একই বস্তু অথবা নিজেদের খুব প্রয়োজন কোন জিনিস। এইগুলো কখনো আপনার জীবনে বসন্ত বয়ে নিয়ে আসবে, আবার কখনো আপনার জীবনের চৈত্র মাসের খরা বয়ে আনবে। মানুষের রূপ বদলাতে এক মুহূর্তের জন্য সময় নেই না। উদাহরণস্বরূপ বলতে গেলে বর্তমান সময়ের পরিবারের নিয়েই উদাহরণটা আমি দিয়ে থাকি, সেটা হলো আপনি আপনার পরিবারের জন্য সারা জীবন পরিশ্রম করবেন তাদেরকে খেতে দেবেন পড়তে দেবেন। অসুস্থ হলে তাদের সুস্থতা দানের জন্য ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাবেন ওষুধ পানি খাওয়াবেন। আবার এই পরিবারের জন্যই কখনো আপনার সামান্যতম ত্রুটি হয়ে থাকে তাহলে আপনি বিভিন্ন ভাবে লাঞ্ছিত হতে থাকবেন। যে মুখে একটা সময় আপনার সুনাম করতো সেই মুখে আপনার বদনাম করবে। মাঝেমধ্যে মানুষের এই বহুরূপী চেহারাটা আমার কাছে অবাক লাগে। মানুষের খারাপ সময়ে গেলে সেই সময়টা সে কখনো মেনে নিতে চায় না। মানুষ সম্ভবত সব সময় ভালো থাকতে চাই। আরে ভালো থাকতে গিয়ে কখনো মানুষের কাছে ভালো হয়ে যায় আবার কখনো কিছু মানুষের কাছে খারাপ হয়ে যায়। তবে সত্যি কথা বলতে বাংলায় আমরা বলে থাকি যদি আপনি কারো কিছু দিতে পারেন তাহলে আপনি মানুষের কাছে ভালো হবে না আর যদি সেটা না পারেন তাহলে কখনো ভালো হতে পারবেন না।
পৃথিবীতে মানুষকে সৃষ্টিকর্তা বিভিন্ন ভাবে মানুষের সম্পদ সম্মান দিয়ে থাকেন। বর্তমান সময়ের সম্মানের থেকে সম্পদের মূল্য বেশি। যার টাকা পয়সার অভাব নেই তার কোন কিছুরই অভাব নেই। সম্পদের কাছে সম্মান অমূল্য। সময় পরিস্থিতি সবকিছুর মূল্যবান করে তোলে। আপনার সমাজ এবং যে কোন জায়গায় একটা বিষয় খেয়াল করে দেখবেন যখন যেটার উপরে মানুষের টান বেশি থাকে মূল্য বৃদ্ধি পেয়ে যায়। যদিও সেটা সে মূল্যের সমপরিবার না হলেও তার মূল্য বৃদ্ধি পায়। আর মূল্যবৃদ্ধি কিন্তু আমাদের মত মানুষই করে থাকে। যেকোনো দিক থেকে যদি আপনার খারাপ সময় যায় তাহলে সবাই আপনাকে তুসতাচ্ছিল্য করবে। আপনি যদি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকেন তবু আপনার দাম কমে যাবে। আর তার বিপরীতে আপনার যদি সনসম্পন্ন হয়ে থাকেন তাহলে আপনি যতই অ গুরুত্বপূর্ণ মানুষ হয়ে থাকেন না কেন তবু আপনার দাম দিবে মানুষ। এটাই হলো আমাদের সমাজের এখন বর্তমান পরিস্থিতি। প্রতিটা ক্ষেত্রে মানুষ আপনার বর্তমান অবস্থা দেখবে। আর এই অবস্থার উপরে আপনাকে মূল্যায়ন করা হবে। যখন আপনি সমাজে নিপীড়িত অবস্থায় থাকবেন তখন সবাই আপনার প্রতি বিভিন্ন ধরনের কথাবার্তা বলবে। আপনার প্রতি তারা ছিছি করবে। আর এই মানুষই যখন সম্পদশালী হবে ক্ষমতাশালী হবে তখন তাকে আপ্যায়ন করবে। সময় মানুষকে কতটা রূপ বদলে দেয় এটা একটা মুখ্য বিষয়।
সময় মানুষের রূপ বদলে দেয় এটা কতটা সত্য কথা একটা উদাহরণ আপনাদের সামনে বললেই বুঝতে পারবেন। একজন দাম্পত্যের সন্তান হয় না। সে অনেকটা নিরাশায় ভোগে। মাঝেমধ্যে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়াঝাঁটি হয়। দুই কোলে পিতা-মাতার মধ্যে নিরাশার সৃষ্টি হয়। একটা পর্যায়ে যখন তাদের কোলজুড়ে সন্তান হয় তখন সবার মুখে হাসি ফোটে। মুহূর্তের মধ্যে তাদের সমস্ত রুপ গুলো বদলে যায়। তাদের মধ্যে এমন একটা অবস্থা সৃষ্টি হয় মনে হয় যেন এদের মধ্যে কখনো কোন কিছু হয়নি। প্রয়োজনের মুহূর্তে যদি আপনি কিছু না পান তাহলে আপনার বিরক্ত লাগবে। আর অপ্রয়োজনীয় সময় যদি আপনি কিছু পান সেটা আপনার বিরক্ত লাগবে। কিন্তু কেন আমরা মানুষ হয়ে কেন আমাদের মধ্যে এমন বিরুপ মনেভাব সৃষ্টি হবে। সব থেকে বড় কথা হলো আমরা পজেটিভ ভাবে কোন কিছু নিতে পারি না। সবাই যদি নিজের জায়গা থেকে পজেটিভ কিছু নিতে পারত তাহলে সমাজ এমন কলুষিত হতো না। সমাজে কিছু দুমুখী মানুষ বসবাস করে। সেটা কিন্তু নিজে পরিবারের মধ্যেও থাকে। এদের কারণে অনেক সময় পরিবার এবং সমাজের শান্তি বিনষ্ট হয়।
আমাদের সবার উচিত এই ধরনের মনোভাব পরিবর্তন করা। মানুষ যদি মানুষের প্রতি সহানুভূতিশীল না হয়। পরিবারের মানুষ যদি পরিবারের মানুষের সাথে যদি ঘনিষ্ঠতা বজায় না রাখতে পারে, তাহলে একদিন আমরা নিজেরাই ধ্বংস হয়ে যাব। মানুষের যেসব বহুমুখী রূপ থাকে এই রোগ গুলো পরিবর্তন করতে হবে। এক নীতি বিশিষ্ট হতে হবে যেখানে নিজের কাজ এবং কথা একই থাকবে। আর এভাবেই যদি আমরা চলতে পারি তাহলে সমাজের শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারবো। নিজের পরিবার-পরিজন সবাই দ্বিধাদ্বন্দ্ব হলে বসবাস করতে পারবো এবং সবার মধ্যে ভালোবাসা থাকবে।
| ভূল ত্রুটি হলে অবশ্যই ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন এই প্রত্যাশায় নিয়ে শেষ করছি। আল্লাহ হাফেজ। |
|---|
আজ এই পর্যন্ত। সাথে থাকার জন্য অনেক ধন্যবাদ।
| ডিভাইস | poco M2 |
|---|---|
| লোকেশন | মেহেরপুর |
👨🦰আমার নিজের পরিচয়👨🦰
আমি আবুল বাশার খায়রুল আলম তুহিন। আমার জন্ম ১১ এপ্রিল ১৯৯৫ সালে। আমার বাসা মেহেরপুর জেলা,গাংনী থানা, জুগীর গোফা গ্রাম। আমি বিবাহিত। বর্তমানে আমার একটা পুত্র সন্তান আছে। আমি গ্রাজুয়েশন শেষ করেছি রাজশাহী নিউ গভমেন্ট ডিগ্রী কলেজ থেকে। আমার পক্ষ থেকে আপনাদের জানাই প্রাণঢালা শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। আমার মাতৃভাষা বাংলা। আমি বাংলা ব্লগে কাজ করতে অনেক ভালোবাসি। এই ব্লগে কাজ করার মাধ্যমে আলাদা প্রশান্তি পায়। আমি ছবি আঁকতে,গান গাইতে,কবিতা লিখতে অনেক পছন্দ করি। এছাড়া আমি বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে খুব পছন্দ করি। আর আমি স্টিমেটে জয়েন করেছি (২৭ - ০৬ - ২০২২) সালে। সংক্ষিপ্ত আকারে আমার নিজের পরিচয় আপনাদের মাঝে শেয়ার করলাম। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন। আমার পক্ষ থেকে আপনাদের জন্য শুভকামনা রইলো।
(১০% প্রিয় লাজুক খ্যাঁক এর জন্য )
VOTE @bangla.witness as witness
OR
https://twitter.com/ABashar45/status/1767473858511282240?t=L5EYCKeNyLgAeCfPTo2w0w&s=19
আসলে ভাইয়া এটা মানুষের বদ অভ্যাস বলা চলে। যে মানুষ অনেক আপন আবার তাকে পর করতে একটু সময় লাগবে না।আর কথায় আছে না তেলে মাথায় তেল সবাই দেয় কিন্তু তেল ছাড়া মাথায় যে দেয় সেই প্রকৃত মানুষ। আপনার লেখাটা পড়ে বেশ ভালো লাগলো। ধন্যবাদ আপনাকে।
অল্প কিছু মন্তব্যের মধ্যে আপনি খুবই চমৎকার একটা কথা লিখেছেন আপু। আপনার কথাটা আমি খুব পছন্দ করলাম। সুন্দর মন্তব্য করার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
সত্যি ভাইয়া আমাদের একে অন্যের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া অনেক বেশি দরকারি। না হলে আমরা নিজেরাও ধ্বংস হয়ে যাব। সময় আমাদের কাছের মানুষগুলোকে যেমন বদলে দেয় তেমনি তাদের ভিন্ন রূপ আমরা দেখতে পাই। আসলে সময় মানুষকে বদলে দেয়। ভাইয়া আপনার লেখাগুলো পড়ে অনেক ভালো লাগলো। দারুন লিখেছেন আপনি।
সময় থাকতে মানুষ সময়ের গুরুত্ব বোঝেনা। আর অসময়ে মানুষ যার পাশে থাকে সে পরে তার ওই সময়ের কথাটা ভুলে যায়। যার জন্য মানুষের দূরত্বটা বেড়ে চলেছে। আর তাই ভিন্ন সময়ে মানুষের ভিন্ন রূপ দেখা যায়।
আসলে সত্যি পরিবেশ এবং পরিস্থিতির পরিবর্তনের সাথে সাথে মানুষের অনেক কিছু পরিবর্তন হয়ে যায়। সময় পরিবর্তন হওয়ার সাথে সাথে মানুষের রূপ পরিবর্তন হয়ে যায় যা প্রকৃতির সত্য। আসলে অন্যের প্রতি সহানুভূতিশীল না হলে প্রকৃত মানুষ হওয়া সম্ভব নয়। আপনার পোস্টটি পড়ে বেশ ভালো লাগলো ধন্যবাদ আপনাকে ভাই।
আমরা যে যেখানেই থাকি না কেন? যে অবস্থায় থাকি। আমাদের সময় সব সময় এক যায় না। আর সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে মানুষের রূপটা বদলে যায়। দুইটা সময় রূপ বোঝা যায় এক হচ্ছে অসহায় সময়, আরেক সময় ধনসম্পদের সময়ে। ধন্যবাদ সুন্দর মন্তব্য করার জন্য।
সবচেয়ে তখন বেশি খারাপ লাগে যখন প্রিয় মানুষ গুলো বদলে যায়। এই বদলে যাওয়াটা বিভিন্ন কারণে হয়ে থাকে। কেউ বয়সের কারণে বদলে যায়। আবার কেউ বদলে যায় টাকা-পয়সার অহংকার এর কারণে। সত্যিই বদলে যাওয়াটা মেনে নেওয়া খুবই কষ্টকর হয়। আসলেই এটা খুবই খারাপ একটি দিক মানুষের। আপনার গুরুত্বপূর্ণ লেখা গুলো পড়ে অনেক বেশি ভালো লাগলো।
বর্তমান সময়ে প্রত্যেকটা মানুষ মানুষের প্রতি বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছে। টাকা পয়সা পদমর্যাদা মানুষকে সব সময় ভিন্ন পথে পরিচালিত করে। আর মানুষের চরিত্র বোঝা যায় তার ধন-সম্পদের সময়। আপনাকে ধন্যবাদ সুন্দর মন্তব্য করার জন্য।
প্রতিনিয়ত মানুষ তার রূপ পরিবর্তন করে আসছে৷ এই রুপ পরিবর্তন করার পেছনে অনেক ধরনের কারণ রয়েছে৷ অনেকে অনেক কারণে তার রূপ পরিবর্তন করে৷ যারা এতদিন ভালো মানুষ হিসেবে সকলকে দেখিয়েছিল হঠাৎ করে যারা যখন খারাপ হয়ে যায় তখন অনেক কষ্ট লাগে৷ প্রিয় মানুষগুলো যখন তাদের রুপ বদলে ফেলে তখন সে কষ্ট কাউকে টিকিয়ে রাখতে পারে না। অনেক ধন্যবাদ এরকম সুন্দর একটি পোস্ট শেয়ার করার জন্য৷
বর্তমান সময়ে মানুষ চেনা অনেক কঠিন। কেউ ভালো মানুষের ছত্রছায়ায় থেকে খারাপ কাজ করে চলেছে। মানুষের রূপটা ক্ষণে ক্ষণে বদলে ফেলছে। আর এ কারণে ভালো খারাপের মধ্যে পার্থক্যটা করাটা কঠিন হয়ে পড়েছে।
একদম ঠিক বলেছেন। তারা প্রতিনিয়ত ভালো মানুষের মুখোশ পরে খারাপ কাজ করে যাচ্ছে।