নাটক রিভিউ :- সাদা কালো মন- ২য় পর্ব।
আসসালামু আলাইকুম। আমার বাংলা ব্লগ স্টিম কমিউনিটির বন্ধুগন আমি @tuhin002 বাংলাদেশ থেকে বলছি আজ (০২ - ১০ - ২০২৩)
আসলামু আলাইকুম,আমার স্ট্রিম বন্ধুগন। আশা করি আল্লাহুর রহমতে আপনারা সবাই অনেক ভালো আছেন। আপনাদের দোয়ায় আমিও ভালো আছি। আমি @tuhin002। আজকে আমি খুব সুন্দর একটি নাটক রিভিউ করতে ইচ্ছা পোষণ করেছি। আর তাই আজকে আমি যে নাটকটি আপনাদের মাঝে শেয়ার করতে যাচ্ছি, সেই নাটকের নাম" সাদা কালো মন পর্ব। এটি এই নাটকের দ্বিতীয় পর্ব।" নিচে স্ক্রিনশটের মাধ্যমে ধাপে ধাপে তুলে ধরা হলো ....
নাটকের গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য। |
|---|
| নাটকের নাম | সাদা কালো মন - ২য় পর্ব। |
|---|---|
| রচনা | আলী ইমরান। |
| পরিচালক | আলী ইমরান । |
| অভিনয় | জাহিদ হাসান, তুষার খান, চ্যালেঞ্জার,নাদিয়, রহমত আলী,আহসানুল হক মিনু, নাজমুল হুদা বাচ্চু ,নুপুর ও আরো অনেকে। |
| দৈর্ঘ্য | ১৮ মিনিট ১১ সেকেন্ড |
| ভাষা | বাংলা |
| মুক্তির তারিখ | ০২ অক্টোবর ২০১৭ ইং। |
নাটকের সারসংক্ষেপ । |
|---|
প্রথম পর্বে নাটকের শেষের দিকে নৌকায় চড়ে কে যেন আসছিল। গুরু শিষ্য তাকে দেখছিল, অবশেষে সেই লোকটি এবং নৌকা নদীর কিনারায় এসে পৌঁছায়। এরপরে তাকে সালাম দেয়, সে সালামের উত্তর দেয় এবং আরবিতে কি যেন কিছু একটা বলে। যেহেতু আরবি ভাষা সেহেতু গুরু এবং শীষ্য কেউই তার ভাষা বুঝতে পারে না। অবশেষে ওই ব্যক্তি হাতের ইশারায় বলে যে, আপনারা নৌকাতে উঠে আসেন। এরপরে তারা নৌকাতে উঠে আসে। এদিকে শিষ্য ঐ ব্যক্তির পোশাকের আচরণ দেখে সে তার মুখের দিকে হা করে তাকিয়ে থাকে আর মনে মনে কিছু যেন একটা বলতে থাকে।
এই নাটকের এই গ্রামটি হল নদীর পাশে একটি গ্রাম। তাই এখানে গঞ্জে যাওয়া আসার জন্য নৌকা পারাপার করতে হয়। কৃষি কাজকর্ম থেকে শুরু করে সবকিছুই এই নৌকার মধ্য দিয়ে তারা যাতায়াত করে। বলতে পারায় যায় এখানকার মানুষ হলো নদীর উপর নির্ভরশীল অর্থাৎ এরা নদীর উপর এদের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সমৃদ্ধ করে। এই নদীতে মাছ ধরার নৌকা চলাচল করা অর্থাৎ মানুষের একমাত্র আয়ের উৎস হলো এই নদী।
সময়টি ছিল অনেক পুরনো যুগের। আর ওই সময় মোবাইলে ফোন ছিল না। তাই ডাক যোগাযোগে মানুষের চিঠি আদান-প্রদান করা হতো। এখানে যিনি সাইকেল নিয়ে আসছেন উনি হলেন ডাক পিয়ন। নাদিয়া সামনে হেঁটে যাচ্ছিল হঠাৎ করে সাইকেলটির সামনে পড়ে। পিয়নের সাথে তার বেশ কিছু কথা হয়। নাদিয়া বলে সাইকেল এখনো তো আমার গায়ের উপরে উঠে পড়ছিল। ওই ব্যক্তি বলে তুমি সামনে চলে এসেছিলে বলেই তো আমি সাথে সাথে ব্রেক করেছি। আর আমার সাইকেলের ব্রেক যেখানে ধরবো সেখানেই দাঁড়িয়ে যাবে। এরপরে নাদিয়া ওই ব্যক্তিকে বলে আমার কোন চিঠি এসেছে কাকু। তখন ঐ ব্যক্তি বলে মা তোমার যদি কোন চিঠি আসতো তাহলে তোমাকে বলা লাগত না আমি তোমার বাড়িতে গিয়ে দিয়ে আসতাম।
ডাক পিয়নের সাথে কথা বলা শেষ হওয়ার পরে, নাদিয়া বাড়িতে ফিরে আসে। নাদিয়ার আপন মা মারা যায়। তার বাবা পরে আবার আর একটা মহিলার সাথে বিয়ে করে। যদিও এই মহিলার বয়স নাদিয়ার সমবয়সী প্রায়। যেহেতু সৎ মা তাই সৎ মায়ের সাথে তার সম্পর্কটা তেমন ভালো না। যে কোন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব লেগে থাকে। এমন বয়সে একটা মহিলা তার বুড়ো বাপের সাথে যে বিয়ে করেছে এ বিষয়টা কোন ভাবে মেনে নিতে পারে না। আসলে এই মহিলাটা বিয়ে করেছিল তার বাপের সম্পত্তি দেখে। আর এই মহিলার পরিবারে মানুষ গুলো সবাই বলে এমনই। তারা আর একটা বোন আছে সেও এমন একটি বুড়ো মানুষের সাথে বিয়ে করেছে শুধু সম্পত্তির লোভে। কথা শেষে পুনরায় সে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়।
এরপরে নাদিয়া বাড়ি থেকে বের হয়ে তার এক বান্ধবীর বাড়িতে যাই। সেখানে তাকে বাড়িতে না পেয়ে তার বান্ধবীর বাবাকে জিজ্ঞাসা করে তার কথা, তখন তার বান্ধবীর বাবা বলে হয়তো সে মাঠের দিকে গিয়েছে। এরপর সেখান থেকে সে চলে মাঠের দিকে ছুটে আসে এসে দেখে তার বান্ধবী কাঁচামরিচ তুলছে। তখন নাদিয়া তাকে বলে তুই একা একা এখানে এসেছিস আমাকে না ডেকে। তোকে আমি সারা এলাকা খুঁজে বেড়াচ্ছি। এমনকি তোদের বাড়িতেও গিয়েছিলাম তোর বাবা বললো এদিকে এসেছে তাই এসে তোকে পেলাম। এখন চল ওই দিকে যাব একটু কাজ আছে। এই বলিস নাদিয়া এবং তার বান্ধবী চলে আসলো ওখান থেকে।
এদিকে এরাবিয়ান লোকের সাথে সেই গুরু শিষ্যর কথা হয়ে যাচ্ছে। যেহেতু সৌদি আরব থেকে আসে তাই সে হাতে কিছু কুরবানী এসেছিল। সেই খুরমা একটি গুরুকে এবং অপরটি শিষ্যকে দিল। আর আপনারা ইতিমধ্যে বুঝতে পেরেছেন যে ব্যক্তি সৌদি আরব থেকে আসছে সেই ব্যক্তি হল জাহিদ হাসান। নাটকের সব সময় তার চরিত্র গুলো একটু আলাদা রূপ নেয়। এখানে তেমন একটি চরিত্রের অভিনয় করেছেন তিনি। তবে জাহিদ আসলে এখানে আরবি ভাষা ব্যবহার করছে বলে এরা দুইজন কোন কিছুই বুঝতে পারছে না। তাদের মধ্যে যা কথা হচ্ছে সবই হাতের ইশার মধ্যে দিয়ে।
এদিকে মাঠ থেকে নাদিয়া এবং তার বান্ধবী চলে আসে বাড়ির দিকে। গ্রাম অঞ্চলে কিছু বুড়ি থাকে যারা সব সময় গ্রামের যুবক মেয়েদের পিছনে পড়ে থাকে। আর এসব বুড়িকে শায়েস্তা করার জন্য কিছু মেয়ে থাকে, যারা খুবই ডান পিঠে। নাটকের এই দুইজনের চরিত্রটা ঠিক তেমনি তুলে ধরেছে। এই বয়স্ক মহিলা তাদেরকে জিজ্ঞেস করে তোরা ধিন ধিন করে কোথায় যাচ্ছিস? তখন তার বান্ধবী বলে আমরা পুজো দিতে যাচ্ছি। তার বান্ধবীর কাপড়ের মধ্যে ছিল কাঁচামরিচ তখন ওই বয়স্ক মহিলা তাদেরকে জিজ্ঞেস করে তোর ওখানে কি আছে রে টুপলার মধ্যে? তখন ওরা বলে এখানে বিদেশী মরিচ রয়েছে খাবে খুব মিষ্টি। বয়স্ক মহিলাটা তাদের কথা শুনে কাঁচামরিচ যখনই মুখের মধ্যে দিয়ে চিবিয়ে খেতে যায় তখন ঝালে সারা মুখ জ্বলে যায়। এটা দেখে তারা দুইজন ওখান থেকে পালিয়ে যায়।
এখানে দুই বয়স্ক লেক বসে আছে একজন হল নাদিয়ার কাকু আর একজন হল নাদিয়ার বাবা। পাশের ব্যক্তি নাদিয়ার বাবাকে বলে তোমাকে এই বয়সে বিয়ে করাটা ঠিক হয়নি। তোমার ঘরে এত বড় একটা মেয়ে আছে। এই কথা শুনে নাদিয়ার বাবা মন খারাপ করে বলে আমার মেয়ের জীবনটাকে তাহলে আমি নষ্ট করলাম। আসলে এটা করা আমার অনেক ভুল হয়েছে। এই বলে আর আফসোস করতে থাকে। আর এই নাটকে দ্বিতীয় পর্বটি এখানেই শেষ হয়ে যায়। চলবে....
আজ এই পর্যন্ত ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন, আল্লাহ হাফেজ।
সাদাকালো মন এই নাটকের এটি দ্বিতীয় পর্ব। এই নাটকটি যেহেতু ধারাবাহিক তাই এই নাটকের মূল বিষয়বস্তু এখনো বুঝতে পারি নাই। তবে একটা বিষয় বুঝতে পারছি এটা নদীর আশেপাশে মানুষের জীবন কিছু চিত্র তুলে ধরেছে। দেশের বাইরে থেকে মানুষ আসলে তারা আচরণ গুলো কেমন হয়ে থাকে। তবে নাটকের প্রথমে দেখে যেভাবে শুরু হয়েছে তাতে বোঝা যাচ্ছে নাটকটির মধ্যে অনেক শিক্ষনীয় বিষয় রয়েছে এবং নাটকটা অনেক মজার। ভুল ত্রুটি থাকলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন,ধন্যবাদ সকলকে।
ব্যক্তিগত রেটিং । |
|---|
নাটকটিতে আমি আমার ব্যক্তিগত রেটিং পয়েন্ট ১০ এর মধ্যে ৮.৮ দিবো।
👨🦰আমার নিজের পরিচয়👨🦰
আমি আবুল বাশার খাইরুল আলম তুহিন। আমার জন্ম ১১ এপ্রিল ১৯৯৫ সালে। আমার বাসা মেহেরপুর জেলা,গাংনী থানা, জুগীর গোফা গ্রাম। আমি বিবাহিত। বর্তমানে আমার একটা পুত্র সন্তান আছে। আমি গ্রাজুয়েশন শেষ করেছি রাজশাহী নিউ গভমেন্ট ডিগ্রী কলেজ থেকে। আমার পক্ষ থেকে আপনাদের জানাই প্রাণঢালা শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। আমার মাতৃভাষা বাংলা। আমি বাংলা ব্লগে কাজ করতে অনেক ভালোবাসি। এই ব্লগে কাজ করার মাধ্যমে আলাদা প্রশান্তি পায়। আমি ছবি আঁকতে,গান গাইতে,কবিতা লিখতে অনেক পছন্দ করি। এছাড়া আমি বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে খুব পছন্দ করি। আর আমি স্টিমেটে জয়েন করেছি (২৭ - ০৬ - ২০২২) সালে। সংক্ষিপ্ত আকারে আমার নিজের পরিচয় আপনাদের মাঝে শেয়ার করলাম। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন। আমার পক্ষ থেকে আপনাদের জন্য শুভকামনা রইলো।
(১০% প্রিয় লাজুক খ্যাঁক এর জন্য )
VOTE @bangla.witness as witness
OR
https://twitter.com/ABashar45/status/1708719019334029396?t=vSCcnpdd1-pxMBKEZuLk6A&s=19
আপনি সাদাকালো মন নাটকটার দ্বিতীয় পর্ব আমাদের মাঝে খুব সুন্দর করে শেয়ার করেছেন। আপনার করা এই নাটকটার রিভিউ পোস্ট আমার কাছে খুবই ভালো লেগেছে। যদিও এরকম নাটক গুলো আমার দেখা হয় না তবে রিভিউ পড়তে ভালো লাগে। আপনার এই নাটকটার রিভিউ সম্পূর্ণভাবেই সুন্দর করে পড়ার চেষ্টা করলাম।
আমি সবসময় পুরনো নাটক গুলো দেখতে পছন্দ করি আপু। তাই আমি পুরনো নাটক গুলো আপনাদের মাঝে রিভিউ করে যাচ্ছি। ধন্যবাদ সুন্দর মন্তব্য করার জন্য।
যদিও সাদা কালো মন নাটকের ২য় পর্বটি দেখা হয়নি। তবে আপনি যে সুন্দর ভাবে রিভিউ করেছেন তাতে নাটকটি দেখার জন্য অনেকটা আগ্রহ পেয়েছে। সময় করে এক সময় এই পর্বটি দেখবো।অসংখ্য ধন্যবাদ ভাই,এত সুন্দর করে সাদা কালো মন নাটকের ২য় পর্বটির রিভিউ পোস্ট করে আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য ।
এসব নাটকগুলো দেখতে বেশ ভালো লাগে ভাই। আরে নাটকগুলোর মধ্যে অনেক কিছু শিক্ষনীয় জিনিস থাকে। আসলে পুরনো দিনের নাটক গুলো সব সময় ভালো। ধন্যবাদ আপনাকে মন্তব্য করার জন্য।
নাদিয়া বাবা বিয়ে করে যে ভুল করেছে সেটা সে বুঝতে পেরে খবই কষ্ট পায়। কারন তার মেয়ে অনেক বড় হয়ে গেছে। খুবই সুন্দর একটি নাটক আমাদের মাঝে শেয়ার করবছেন। এই নাটকের দ্বিতীয় পর্ব আমার এখনো দেখা হয়নি আপনার রিভিউ পড়ে দেখার ইচ্ছা জাগলো। সময় করে একদিন দেখে নিবো। ধন্যবাদ ভাই সুন্দর একটি নাটকের রিভিউ দেওয়ার জন্য।
ধন্যবাদ চমৎকার মন্তব্য করার জন্য।
সু স্বাগতম ভাই।
আপনার মতো আমিও এ নাটকের বিষয়বস্তু বুঝতে পারিনি। তবে আগের নাটকগুলোতে সামাজিকতা ছিল। সমাজের দৃশ্যপট খুব সুন্দর করে ফুটিয়ে তুলতো। ভালো ছিল আপনার রিভিউ
যেহেতু এই নাটক গুলো পর্ব আকারে সুতরাং অনেক গুলো পর্ব দেখার পরে হয়তোবা এর মূলভাব বুঝতে পারবো। আপনাকে ধন্যবাদ ভাই চমৎকার মন্তব্য করার জন্য।
সাদা কালো মন নাটকটির রিভিউ অনেক সুন্দর করে লিখেছেন। নাটকটার দ্বিতীয় পর্বটি পড়ে আমার কাছে ভালো লেগেছে। নাদিয়ার বাবা মন খারাপ করে শেষে অনেক কথা বলেছে। এখন দেখা যাক এর পরবর্তীতে কি হয়। পরবর্তীতে কি হয় এটা আশা করছি আপনি আমাদের মাঝে শেয়ার করবেন।
জি ভাই পরবর্তীতে কি হয় সেটা তো অবশ্যই আপনাদেরকে জানাবো। কারণ এই নাটকের প্রত্যেকটা পর্ব আমি প্রতি সপ্তাহে আপনাদের সাথে শেয়ার করবো। ধন্যবাদ ভাই চমৎকার মন্তব্য করেছেন আপনি।
এই নাটকটি আমার দেখা হয়নি।আপনি চমৎকার ভাবে নাটকের রিভিউ পোস্ট দেখে করলেন।নাটকটি ধারাবাহিক ভাবে হবে বুঝলাম।নাটকটি গ্রাম কেন্দ্রীক।নদীর পাড়ের মানুষের জীবন নিয়ে নাটকটি।আপনি খুব সুন্দর ভাবে তুলে ধরেছেন। ধন্যবাদ আপনাকে।
জি আপু নাটকটি গ্রাম কেন্দ্রিক। গ্রাম কেন্দ্রিক নাটক গুলো দেখতে ভীষণ ভালো লাগে। ধন্যবাদ আপনাকে সুন্দর মন্তব্য করার জন্য।