নাটক রিভিউ :- সাদা কালো মন- ৩য় পর্ব।
আসসালামু আলাইকুম। আমার বাংলা ব্লগ স্টিম কমিউনিটির বন্ধুগন আমি @tuhin002 বাংলাদেশ থেকে বলছি আজ (০৮ - ১০ - ২০২৩)
আসলামু আলাইকুম,আমার স্ট্রিম বন্ধুগন। আশা করি আল্লাহুর রহমতে আপনারা সবাই অনেক ভালো আছেন। আপনাদের দোয়ায় আমিও ভালো আছি। আমি @tuhin002। আজকে আমি খুব সুন্দর একটি নাটক রিভিউ করতে ইচ্ছা পোষণ করেছি। আর তাই আজকে আমি যে নাটকটি আপনাদের মাঝে শেয়ার করতে যাচ্ছি, সেই নাটকের নাম" সাদা কালো মন পর্ব। এটি এই নাটকের তৃতীয় পর্ব।" নিচে স্ক্রিনশটের মাধ্যমে ধাপে ধাপে তুলে ধরা হলো ....
নাটকের গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য। |
|---|
| নাটকের নাম | সাদা কালো মন - ৩য় পর্ব। |
|---|---|
| রচনা | আলী ইমরান। |
| পরিচালক | আলী ইমরান । |
| অভিনয় | জাহিদ হাসান, তুষার খান, চ্যালেঞ্জার,নাদিয়, রহমত আলী,আহসানুল হক মিনু, নাজমুল হুদা বাচ্চু ,নুপুর ও আরো অনেকে। |
| দৈর্ঘ্য | ১৮ মিনিট ২৬ সেকেন্ড |
| ভাষা | বাংলা |
| মুক্তির তারিখ | ০৩ অক্টোবর ২০১৭ ইং। |
নাটকের সারসংক্ষেপ । |
|---|
আমরা গ্রামগঞ্জে দেখে থাকি একটা সময় বিদেশ থেকে যদি কেউ বাড়িতে এসেছিল তাহলে তাকে দেখার জন্য আশপাশে অনেক মানুষ আসে এবং চারপাশে ভিড় জমায়। এখানে জাহিদ হাসান সৌদি আরব থেকে দশ বছর পর বাড়িতে এসেছে। তাকে দেখার জন্য আশপাশের মানুষজন সবাই তাকে চারদিক থেকে ঘিরে রেখেছে। এখানে দুই গুরু শিষ্য যেটা ভেবেছিল সেটা তাদের মিথ্যা ধারণা হলো। তারা ভেবেছিল হয়তো বা গুরুর কোন ওছিলায় এই ব্যক্তি এসেছে। কিন্তু আসলে সে যে বিদেশ থেকে বাড়িতে আসলো এটা তারা বুঝতে পারলো পরে। তখন তারা হতাশায় তাদের মনটা ভেঙে গেল।
যেহেতু প্রায় ১০ বছর পরে ভাগ্নে বাড়িতে এসেছে সেহেতু মামাতো একটু কদর থাকতেই হবে। জাহিদ হাসানের মামা তার বাড়িতে নিয়ে আসে এবং তার মামীর সাথে পরিচয় করে দেয় তার মামীকে দেখে জাহিদ হাসানে একটু অবাক হয়ে যায় এবং সারবিতে এবং কিছু কথা বলে থাকে এই কথা তার মামা এবং মামীর ভাই বুঝতে পারে না তখন সে বাংলাতে বলে এটা মামী মানে আপনার বয়সের ভিতরে কতটা তফাৎ আপনি আবার দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন মামা তখন তার মামা বলে সবকিছু পরে বলব এখন তুই ফ্রেশ হয়ে ঘরে যা।
আপনারা এখানে যে স্ক্রিনশটটা দেখতে পাচ্ছেন হয়তোবা এটা অনেকেরই শৈশব কাল। আমিও ঠিক এই বয়সে গুলটি দিয়ে অনেক ধরনের খেলা করেছি পাখি মেরেছি, আম পেড়েছি, আরো কত কিছু করেছি। নাটকের এই অংশে এই ছেলেটা গোলটি দিয়ে আম পারছে। ঠিক সেই সময় জাহিদ হাসান আসে এবং জাহিদ হাসান তাকে ডাক দেয় এবং এই ছেলেটি জাহিদ হাসানের পোশাকে দেখে ভয়ে দৌড়ে পালায়। পরে যখন তাকে পুনরায় বাংলাতে কথা বলে তার নিজের কাছে ডাকে তখন পুনরায় তার সাথে কথাবার্তা হয়।
এদিকে নাদিয়া জাহিদ হাসানের জন্য প্রত্যেকদিন নদীর ধারে বসে বসে অপেক্ষা করে এবং তার সে কখন আসবে এই নিয়ে এসে চিন্তিত থাকে। তার কিছুক্ষণ পরে তার বান্ধবী আসে এবং তাকে বলে তুমি কি তোমার মনের মানুষের কথা বসে বসে ভাবছো? তখন নাদিয়া মনের দুঃখে বলে কি করবো বল এতদিন হয়ে গেল তবু সে কোন চিঠি দেয় না,কোন খোঁজ খবরও তো নেয় না।
এখানে নাদিয়া কি করছে আপনার নিশ্চয় বুঝে ফেলেছেন। আমরা একসময় অনিশ্চয়তা কোন কিছু যদি মনে করতাম তাহলে চোখ বুঝে দুই হাতের আঙ্গুল এক জায়গায় করতাম। যদি মিলে যেত তাহলে আমরা বুঝে নিতাম যে, এই কাজটি নিশ্চয়ই আমাদের সফল হবে। ঠিক এমনই কাজটি করেছিল নাদিয়া। অবশ্যই এটা করতে করতে জাহিদ হাসান তখন নাদিয়ার পেছনে এসে দাঁড়িয়ে থেকে এটা দেখছিল। তার এই কাজটি দেখে সে হেসেও ছিল।
অনেকদিন পর খোঁজ না নিয়ে জাহিদ হাসান বাড়িতে এসেছে। নাদিয়ার তো একটু অভিমান দেখাবে তাই নাদিয়া তার উপরে একটু রাগান্বিত ছিল আবার মনে মনে খুব খুশি হয়েছিল। যখন জাহিদ হোসেন বলেছিল আমারও কি কম কষ্ট হয়েছে। আজ দশটা বছর তোমার কাছ থেকে আমি দূরে রয়েছি। তুমি জানো আমার বুকের ভেতরটা শুধু তোমার কথাই বলে। আর তোমাকে ছাড়া আমার কোন কিছু ভালো লাগে না। এই কথা শুনা মাত্রই নাদিয়া হেসে উঠলো এবং তার বুকে জড়িয়ে পড়ল।
এদিকে নাদিয়ার সৎ মা তার স্বামীর কাছে এসে বলছে যে, বাড়িতে তো কোন কিছু নেই ছেলেটা এসেছে তার জন্য তো ভালো কিছু খাবার তৈরি করতে হবে। তুমি বাজারে গিয়ে কিছু কিনে নিয়ে আসো। এই কথা শুনে নাদিয়ার বাবা তো একটু হতবাক হয়ে গেল। যে মহিলা তার নিজের সৎ মেয়ের পাতে ভাত দেয় না, সে নাকি অন্যের পাতে ভাত দিবে। আসলে যেহেতু বিদেশ থেকে এসেছে মনে হচ্ছে টাকা-পয়সা কিছু এনেছে তাই হয়তোবা সে লোভে পড়ে তার প্রতি এমন আচরণ করছে।
নদীর ধারে নাদিয়া এবং জাহিদ হাসানের কথাবার্তা শেষ হওয়ার পরে তারা বাড়ির দিকে ফিরে আসে। আসতে আসতে জাহিদ হাসান তার মামীর কথা বলে, তখন নাদিয়া বলে তোমার আবার মামী কে? তখন বলে কেন তোমার ওই যে বাবা বিয়ে করেছে ওই মামি। তখন নাদিয়া একটু রেগে যায় এবং বলে কি করে সে আমার মা হতে পারে। এই কথা নিয়ে দুই জনের ভেতরে একটু কথা কাটাকাটি হয়। তখন জাহিদ হাসান এখানে একটু হাস্যকর একটা কথা বলে, তখন বলে আমার এতো বয়স হয়ে গেল একটা বিয়ে করতে পারলাম না, তোমার বাবা বুড়ো বয়সে দুই দুইটা বিয়ে করে ফেলল। এই কথা শুনে নাদিয়া এবং তাদের বান্ধবী হাসতে থাকে। আর এখানে নাটকটি শেষ হয়ে যায়। আগামীতে চতুর্থ পর্ব নিয়ে পুনরায় আমি আপনাদের মাঝে হাজির হব ইনশাল্লাহ।
আজ এই পর্যন্ত ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন, আল্লাহ হাফেজ।
সাদাকালো মন এই নাটকের এটি তৃতীয় পর্ব। যেহেতু নাটকটি তৃতীয় পর্ব চলছে সেহেতু আস্তে আস্তে নাটকে ভাব বুঝতে পারছি। জাহিদ হাসান বিদেশ থেকে বাড়িতে আসে, আর বাড়িতে আসার পরে তার মামার বাসায় যাই । বর্তমানে নাটকের যে অংশ চলছে তাতে বোঝা যাচ্ছে এটি একটি বিদেশী কেন্দ্রিক মানুষের ভালবাসার উপরে দেশে থাকা মানুষের ভালোবাসার সমন্বয়। ভালোবাসার মানুষকে দূরে রাখলে কি কষ্ট হয় সেই বিষয়টা এখানে মোটামুটি উঠে এসেছে। আর টাকা-পয়সা থাকলে সতীন আপন হয়ে যায় এরও একটা ব্যাপার রয়েছে। ভুল ত্রুটি থাকলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন,ধন্যবাদ সকলকে।
ব্যক্তিগত রেটিং । |
|---|
নাটকটিতে আমি আমার ব্যক্তিগত রেটিং পয়েন্ট ১০ এর মধ্যে ৮.৬ দিবো।
👨🦰আমার নিজের পরিচয়👨🦰
আমি আবুল বাশার খাইরুল আলম তুহিন। আমার জন্ম ১১ এপ্রিল ১৯৯৫ সালে। আমার বাসা মেহেরপুর জেলা,গাংনী থানা, জুগীর গোফা গ্রাম। আমি বিবাহিত। বর্তমানে আমার একটা পুত্র সন্তান আছে। আমি গ্রাজুয়েশন শেষ করেছি রাজশাহী নিউ গভমেন্ট ডিগ্রী কলেজ থেকে। আমার পক্ষ থেকে আপনাদের জানাই প্রাণঢালা শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। আমার মাতৃভাষা বাংলা। আমি বাংলা ব্লগে কাজ করতে অনেক ভালোবাসি। এই ব্লগে কাজ করার মাধ্যমে আলাদা প্রশান্তি পায়। আমি ছবি আঁকতে,গান গাইতে,কবিতা লিখতে অনেক পছন্দ করি। এছাড়া আমি বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে খুব পছন্দ করি। আর আমি স্টিমেটে জয়েন করেছি (২৭ - ০৬ - ২০২২) সালে। সংক্ষিপ্ত আকারে আমার নিজের পরিচয় আপনাদের মাঝে শেয়ার করলাম। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন। আমার পক্ষ থেকে আপনাদের জন্য শুভকামনা রইলো।
(১০% প্রিয় লাজুক খ্যাঁক এর জন্য )
VOTE @bangla.witness as witness
OR
Twitter Link
অনেকদিন আগের একটি নাটকের রিভিউ দিয়েছেন ভাইয়া ভালো লাগলো পড়ে। আগেকার নাটক গুলোর মজাই ছিল আলাদা। এখনকার নাটকগুলো দেখে সেই আনন্দ পাওয়া যায় না। যাইহোক যেহেতু পর্ব নাটক পরবর্তী পর্বগুলো পড়লে বুঝতে পারব নাটকটির আসল কাহিনী আপনি খুব সুন্দর ভাবে রিভিউ উপস্থাপন করেছেন। ধন্যবাদ আপনাকে।
বর্তমানে যেসব নাটক গুলো হয় এই নাটক গুলা আমি তেমন দেখি না। পুরোনো নাটক গুলো দেখতে আমার ভীষণ ভালো লাগে, তাই আমি পুরনো নাটক গুলো শেয়ার করে থাকি। ধন্যবাদ আপু চমৎকার মন্তব্য করার জন্য।
অনেক পুরনো একটি নাটক এর রিভিউ করেছেন ভাই নাটকটি দেখা হয়েছিল। অনেক চমৎকার একটি নাটক ছিলো। ধন্যবাদ আপনাকে যথাযথভাবে আমাদের মাঝে এই নাটকের রিভিউ শেয়ার করার জন্য। ভালো থাকবেন সবসময় এই কামনা করি।
পুরনো নাটক গুলো দেখার মধ্যে বেশ একটা মজা রয়েছে। আর আমি বেশি পুরনো নাটক গুলো দেখে থাকি। ধন্যবাদ ভাই সুন্দর মন্তব্য করার জন্য।
এরকম পুরনো নাটকগুলো যদিও এখন দেখা হয় না, তবে আপনি অনেক সুন্দর করে নাটকটার রিভিউ করেছেন। এই নাটকটার তৃতীয় পর্ব আজকে পড়তে পেরে ভালো লেগেছে। সাদাকালো মন নাটকটার কাহিনী দারুণ ভাবে তুলে ধরা হয়েছে পুরো রিভিউর মাধ্যমে। আসলে আমি নাটক দেখতে অনেক পছন্দ করি, আর নাটকের রিভিউ পড়তেও ভালো লাগে।
পুরনো নাটক হলেও আপনার যে ভালো লেগেছে রিভিউ পড়ে এটা জেনে ভালো লাগলো ধন্যবাদ আপু।
পুরনো নাটকগুলো আগে প্রচুর পরিমাণে দেখা হতো, তবে এখন ব্যস্ততার জন্য নাটক খুব একটা দেখা হয় না। তবে এমনিতে সময় পেলে নাটক দেখার চেষ্টা করি, কিন্তু এই নাটকগুলো দেখি না। সাদাকালো মন নাটকটার তৃতীয় পর্ব আপনি আজকে রিভিউ পোস্টের মাধ্যমে আমাদের মাঝে ভাগ করে নিয়েছেন দেখে ভালো লেগেছে ভাই। আসলে ভালোবাসার মানুষকে দূরে রাখলে অনেক বেশি কষ্ট হয়। আর এই কষ্টটা উপলব্ধি তখনই করা যায় যখন সে আমাদের কাছ থেকে দূরে থাকে।
নাটকের এই পর্বের মূল থিমটাই ছিল এটাই ভাই, যে নিজের ভালোবাসার মানুষ দূরে থাকলে কতটা কষ্ট হয় তা নাদিয়া এখানে তার অভিনয়ের মধ্যে তুলে ধরেছে। ধন্যবাদ ভাই সুন্দর মন্তব্য করার জন্য।
সাদাকালো মন নাটকটি তৃতীয় পর্বটি বেশ ভালো লাগলো। সত্যিই আমরা আগে দুই আঙুল একত্রে করে দেখতাম মিলে গেলেই মনে হতো সফল হব। যেমনটা নাটকে নাদিয়া করেছে। অনেক ভালো লাগলো ভাই আপনার নাটক রিভিউ ধন্যবাদ।
আমি লক্ষ্য করে দেখলাম এই নাটকে দুইটা জায়গায় ছোটবেলায় আমার এইসব করতাম সেগুলো তুলে ধরেছে। আসলে গ্রাম্য নাটক তো তাই এগুলো অভিনয়ের মধ্যে উঠে এসেছে।
আসলেই টাকা পয়সা মানুষকে অনেক বদলে দেয়।যেমন সতীন আপন হয়ে যায় টাকার লোভে,অনেকদিন পর বিদেশ থেকে মানুষ বাড়ি ফিরলে তার কদর আলাদাই থাকে।বাংলাদেশের নাটকগুলো খুবই শিক্ষনীয় ও মজার হয়।সময় পেলে মাঝে মাঝেই আমি দেখে থাকি,তাছাড়া আপনি সুন্দর রিভিউ দিয়েছেন।ধন্যবাদ ভাইয়া।
পৃথিবীতে টাকার কাছে অনেক কিছু মাথানত করে আপু। এটা বললে হয়তো মিথ্যা হবে না টাকার কাছে মানুষ বিক্রি হয়ে যায়। এই সৎ মা ঠিক এমনি একজন। ধন্যবাদ আপু আপনি চমৎকার মন্তব্য করেছেন।