ক্রিয়েটিভ রাইটিং :- দেশ ও সমাজের অবক্ষয়।
আমি @tuhin002, আমি আমার বাংলা ব্লগের সকল সদস্যগনকে আমার পক্ষ থেকে জানায় সালাম," আসসালামু আলাইকুম" সবাই কেমন আছেন ? আশা করি, মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে অনেক ভালো আছেন। আমি ও আপনাদের দোয়ায় এবং মহান আল্লাহুর অশেষ রহমতে ভাল আছি। আজকে আমি আলোচনা করবো দেশ ও সমাজের অবক্ষয় সম্পর্কে। সমাজে আনাছে কানাচে অবক্ষয় ছড়িয়ে পড়েছে। আশা করি আপনাদের ভালো লাগবে। তাই শুরু করছি আমার আজকের ব্লগ...
অবক্ষয় শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো ক্ষয়প্রাপ্তি। সামাজিক মূল্যবোধ তথা নিষ্ঠা,ধৈর্য, উদারতা, মহানুভ্যতা, সত্য ইত্যাদি সমাজের মহৎ কাজ গুলো ক্রমে হ্রাস পাওয়াই হল অবক্ষয়।
আজ পৃথিবীর বুকে একটু ভালোভাবে তাকিয়ে দেখলে বোঝা যায় যে, পৃথিবীর মানুষের মধ্যে প্রত্যেকটা কাজে কর্মে কতটা অবক্ষয়। আজ ঘুষ ছাড়া চাকরি হয় না, মানুষ সুদে লিপ্ত, হারাম হালাল বোঝেনা। ন্যায় অন্যায় বোঝে না। সবকিছুই মানুষের ইচ্ছার উপর চলছে। যখন যার যেমন ইচ্ছা তখন সে সেভাবেই চলেছে। আর উশৃঙ্খলতা মানব সমাজে বিরূপ প্রভাব ফেলেছে। আপনি একটু আমাদের নিজের দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার উপরেই বিশ্লেষণ করে দেখেন। যেখানে বল হয়েছে কোন ছাত্রকেই ফেল করে দেওয়া যাবে না। আর এইসব ছাত্ররা কি করছে জানেন? পঞ্চম শ্রেণী থেকে শুরু করে এরা বিড়ি সিগারেট খায়। আপনারা শুনলে অবাক হয়ে যাবেন এইসব ছাত্ররা যখন পরীক্ষা দিতে আসে তখন পরীক্ষা শেষে সিগারেট না খেলে নাকি তাদের মাথায় কাজ করে না। এটা হল আমাদের সমাজের অবক্ষয়। এই অক্ষয়ের জন্য আমরা নিজেই দায়ী। ছাত্ররা পড়াশোনা কে তুচ্ছ মনে করছে। তারা নিজেরা বুঝতে পারছে, না পড়লেও তো পাশ করছি।
একটা বাস্তব উদাহরণ আপনাদের সামনে আমি তুলে ধরছি। একজন শিক্ষক এসএসসি পরীক্ষার খাতা দেখছেন। তো একজন ছাত্র পেয়েছে মাত্র ১৮ মার্ক,, তখন যে শিক্ষক খাতা দেখছিলেন উনি বলছেন যে, কোন ভাবে লিখে দিয়েও এই ছেলেকে পাশ করাতে হবে। এটা কি ওই ছাত্র শিক্ষকের দোষ? বোর্ড কর্তৃক বলা হয়েছে কোন ছাত্রকে ফেল করানো যাবে না। এমনকি যদি আপনি কোন ছাত্রকে ফেল করিয়ে দেন তাহলে আপনার খাতা আর দিবে না। এক্ষেত্রে স্যার চাইবে প্রত্যেকটা ছাত্র ছাত্রী পাস করুক। আর ছাত্রছাত্রী পড়াশোনা না করে যদি পাশ করতে পারে তাহলে তো সুশিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার চেষ্টা করবে না তারা। আর শিক্ষার অবস্থা যখন এমন তখন সমাজে একটা বড় সম্পদ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এটা সমাজের বড় অবক্ষয়।
বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় আপনি যদি টিভি ফেসবুক সংবাদ গণমাধ্যম পত্রিকার পাতা খুলেন তবে দেখতে পাবেন খুন,, ধর্ষণ হত্যা এই সমস্ত খবর গুলো এখন বেশি। আর এগুলো কখনো একটা দেশের সুখবর হতে পারে না। যখন সমাজে পিতার হাতে পুত্র খুন, মায়ের হাতে সন্তান খুন, ছোট ভাইয়ের হাতে বড় ভাই খুন এ ধরনের কাজ গুলো অহরহ ঘটতে থাকে তখন অবশ্যই আপনি জানবেন যেখানে সুশিক্ষার মূল্যবোধের অবক্ষয় রয়েছে। দেশের সর্বাঙ্গে নৈতিকতার অনুপস্থির কারণে এই অবক্ষয় দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সামাজিক অবক্ষয়ের পাশাপাশি রাজনৈতিক অবক্ষয় মানুষের উপরে অনেক প্রভাব ফেলছে। যেমন পদবী আপনি একজন সরকারি চাকরিজীবী, আপনার উদ্দেশ্য যেমন চাকরি করা তেমন আপনার উদ্দেশ্য পদবীরটাকে উন্নতি করা। আর এই পদবি উন্নয়নের জন্য আপনি বড় বড় আমলা সচিব এদের ধর্না ধরছেন। আর তারা মনুষ্যত্বকে বিসর্জন দিয়ে টাকাকে আপন মনে করছেন এবং যেকোন মানুষকে তারা উচ্চ পর্যায়ে নিয়োগ দিচ্ছেন। তার যোগ্যতা আছে কিনা সেটাও তারা যাচাই করার মত সে সময় তাদের হয়ে উঠছে না।এর কারণ তারা কি টাকাকে বেশি মূল্যায়ন করছে। আর এর কারণে দেশের অবক্ষয় দিন দিন বেড়েই চলেছে।
সমাজে নিম্ন পর্যায়ে থেকে শুরু করে উচ্চ পর্যায় পর্যন্ত মানুষের মধ্যে নীতি বোধ শেষ হয়ে গেছে। ছোটকালে বড়দের মুখে শুনেছি সন্তান মানুষের মত মানুষ হও। তখন আমি বলতাম, মানুষ তো মানুষই আবার মানুষের মত মানুষ কেমন করে হয়। এখন বুঝতে পারছি যে আসলে লেখাপড়া শিখলেই মানুষ হওয়া যায় না। যাদের মধ্যে মূল্যবোধ নেই। যাদের ভিতরে মনুষ্যত্ব বোধ নেই তারা কখনোই মানুষ নয়। আর এগুলো কারণে মানুষের মধ্যে অবক্ষয় বেড়ে গেছে। শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড। কিন্তু সেই শিক্ষায় আজকে আমাদের বাংলাদেশকে ধ্বংস করে দিয়েছে। আসলে নৈতিক শিক্ষা আজকে আমাদের দেশ থেকে উঠে গেছে। যার জন্যই সমাজের মানুষ এত উশৃঙ্খল হয়েছে।
যাহোক সমাজের এই মূলনীতি গুলোর ধারা পরিবর্তন করার জন্য আমাদেরকে অনেক কিছুর পরিবর্তন করতে হবে। সমাজের এই অবক্ষয় জাতিকে শুধু ধ্বংসের পথে নিয়ে যাবে কখনো উপকারে আসবে না। তাই আমাদের পরিবার থেকে শুরু করে সমাজ রাষ্ট্র পর্যন্ত সবাইকে সতর্ক হতে হবে। সুস্থ জীবন ব্যবস্থা তৈরি করতে হবে।
| নিজের এই ছোট্ট জ্ঞানে যতটুকু পেরেছি লিখেছি ভুল ত্রুটি হলে অবশ্যই ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন এই প্রত্যাশায় নিয়ে শেষ করছি। আল্লাহ হাফেজ। |
|---|
আজ এই পর্যন্ত। সাথে থাকার জন্য অনেক ধন্যবাদ।
| ডিভাইস | poco M2 |
|---|---|
| লোকেশন | মেহেরপুর |
👨🦰আমার নিজের পরিচয়👨🦰
আমি তুহিন, আমার পক্ষ থেকে আপনাদের জানাই প্রাণঢালা শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।আমার মাতৃভাষা বাংলা। আমি বাংলা ব্লগে কাজ করতে অনেক ভালোবাসি। এই ব্লগে কাজ করার মধ্যমে আলাদা প্রশান্তি পায়। এছাড়াও আমার একটি বাগান আছে। বাগানে অনেক ফল ও সবজির চাষ করে থাকি। আমি ছবি আঁকতে পছন্দ করি। এছাড়া আমি বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে খুব পছন্দ করি। সংক্ষিপ্ত আকারে আমার নিজের পরিচয় আপনাদের মাঝে শেয়ার করলাম। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন। আমার পক্ষ থেকে আপনাদের জন্য শুভকামনা রইল।
(১০% প্রিয় লাজুক খ্যাঁক এর জন্য )
VOTE @bangla.witness as witness
OR
https://twitter.com/ABashar45/status/1669254610836688897?t=iz9OlAuq46FuwEtxab1G6g&s=19
অনেক সুন্দর লিখেছেন আপনি বর্তমান দেশ এবং সমাজের অবক্ষয়ের বর্ণনা করলেন। আসলে বর্তমান সমাজ অনেক বেশি ধ্বংসের দিকে এবং ক্ষয়ক্ষতির দিকে চলে যাচ্ছে দিন দিন। এই অবক্ষয় শুধু শিক্ষা কিংবা চাকরির ক্ষেত্রে না বর্তমান সমাজের প্রতিটি স্তরে অবক্ষয় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। একটা সমাজে যতটুকু নীতি থাকার কথা কিংবা সততা থাকার কথা সেই সততা আজ নেই। বর্তমানে সামাজিক গতি সব কিছু মিলিয়ে ধ্বংসের দিকে।আপনি অসাধারণ লিখেছেন।
আপু মাঝে মাঝে সমাজের পরিস্থিতি দেখলে নিজের কাছে বেশটুকু খারাপ লাগে আর সেই সম্পর্কে নিয়ে আজকে আমি লিখেছিলাম। ধন্যবাদ সুন্দর মন্তব্য করার জন্য।
আপনি একজন সচেতন নাগরিক। আর এই সচেতন দৃষ্টিভঙ্গি যে আমাদের মাঝে সুন্দর একটি পোস্ট লিখেছেন। যেখানে অনেক সুন্দর জ্ঞানমূলক বিষয় জানতে পারলাম। বর্তমান আমাদের দেশ আর সমাজটা বিভিন্ন কারণে যেন ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে চলছে। যেখানে ভালো নেতৃত্বের অভাব ভালো আইন শৃঙ্খলা এবং প্রশাসনের অভাব।
প্রত্যেকটা সচেতন নাগরিকের দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টাতে হবে এবং নিজেদেরকেও পরিবর্তন করতে হবে আর এর মধ্য দিয়ে সমাজের পরিবর্তন আসবে। ধন্যবাদ ভাইয়া চমৎকার মন্তব্য করার জন্য।
অসাধারন লেখা ভাই। আসলে এখন সমাজের প্রতিটি স্তরে অবক্ষয় যেন গুন পোকার মত বাসা বেধেঁ গেছে। কোথাও একটু শান্তি নেই। কি বাসে কি রাস্তায়। সমাজের এ ধরনের অবক্ষয়ের জন্য আসলে কে দায়ী বলতে পারেন? সামাজ, দেশ নাকি পরিবার? জানার ইচ্ছা রইল।