স্পোর্টস :- ইন্টার মিয়ামি ও ন্যাশভেলির ফাইনাল ম্যাচ।
আমি @tuhin002, আমি আমার বাংলা ব্লগের সকল সদস্যগনকে আমার পক্ষ থেকে জানায় সালাম," আসসালামু আলাইকুম" সবাই কেমন আছেন ? আশা করি, মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে অনেক ভালো আছেন। আমি ও আপনাদের দোয়ায় এবং মহান আল্লাহুর অশেষ রহমতে ভাল আছি। আজকে আমি খেলাধুলা বিষয় সম্পর্কে আপনাদের সামনে একটি পোস্ট শেয়ার করতে যাচ্ছি।
আপনারা হয়তো অনেকেই জানেন গতকাল ২০ শে আগস্ট ন্যাশভেলিক এবং ইন্টারমিয়ামি এর ফাইনাল ম্যাচ ছিল। যে দলটি কখনো রাউন্ড সিক্সটিন ওঠার স্বপ্ন দেখেনি সেই ফাইনাল খেলছে। বলতে গেলে মেসির প্রভাবে এই দলটির এত পরিবর্তন। মেসি ফাইনালের আগ পর্যন্ত পুরা টুর্নামেন্ট ছিল অপ্রতিরোধ্য। যে দলটি যেকোনো দলের সাথে হেরে বসতো সে দলটি আজকে পরপর ছয়টি ম্যাচ জিতে এসে আজ ফাইনাল খেলছে তারা। আজকে দলের বিপক্ষে ফাইনাল খেলছে তারা অনেক শক্তিশালী একটি দল। খেলা শুরু হওয়ার আগের দিন আমি ফেসবুকে দেখেছিলাম একটি পাখি তার উক্তিতে বলেছিল যে ইন্টারমিয়ামি হেরে যাবে। তখনই মনের মধ্যে বলে উঠলো তাহলে এই দলটাই আর চ্যাম্পিয়ন হবে। আর সেটাকে সামনে রেখে সকালে বসে পড়লাম খেলা দেখার জন্য। অবশ্য খেলা দেখতে একটু সমস্যা হয় কারণ খেলা গুলো দেখতে হয় ফেসবুক লাইভে।
প্রথম দিক থেকে খেলা জাঁকজমকপূর্ণভাবে শুরু হয়ে যায়। দুই দল দারুন খেলতে থাকে। যে দলে বিশ্ব সেরা প্লেয়ার থাকে সে দল তো প্রথম এগিয়ে যাবে এটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। ঠিক খেলার ২৪ মিনিটের মাথায় মেসির ম্যাজিকে এক শূন্য গোলে এগিয়ে যায় আমি। অসাধারণ এক স্কেলে পাঁচজন ডিফেন্ডারকে বোকা বানিয়ে দূর থেকে এক শট নেই। আর তাতেই ইনি আমি এক শূন্য গোলে লিড পাই। প্রথম অর্ধে খেলা এক শূন্যতে খেলাটি শেষ হয়। যদিও প্রথমার্ধে আর কোন দলেই গোল করতে পারেনি। ন্যাশভেলি কিন্তু প্রচুর পরিমাণে সুযোগ তৈরি করেছিল কিন্তু তারা গোল করতে পারে নাই। প্রথমার্ধের খেলাটি খুবই দারুণ হয়েছিল দুই দলের পাল্টা আক্রমণে গিয়েছিল এবং খেলাটি খুব দারুণভাবে শেষ হয়েছে। ম্যাচটা যখন উপভোগ করেছিলাম মনে হয়েছিল যেন ফুটবল বিশ্বের বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচ খেলা হচ্ছে। এত টান টান উত্তেজনার মধ্যে দিয়ে প্রথম হাফটাইম খেলা শেষ হয়।
দ্বিতীয় অর্ধে খেলা শুরু হওয়ার পর পরের ন্যাশভেলি যেন আক্রমণাক্ত ফুটবল খেলতে শুরু করে। তারা ক্ষিপ্ত মনোভাব নিয়ে শুরু করে এবং তাদের খেলা মিয়ামি থেকে অনেক ভালো খেলে থাকেন। কিন্তু তাদের বাধা হয়ে দাঁড়ায় মিয়ামির গোলকিপার। হতে পারতো অনেকগুলো গোল কিন্তু সে প্রাচীর হয়ে দাঁড়ায়। অবসর শেষ পর্যন্ত ৫৮ মিনিটে গোল শোধ হয়ে যায়। এরপর থেকে চলে খেলা আরো তাড়াহুড়া। মেসি দূরপালে একশটি বার পোস্টে লেগে চলে আসে। আর বিপরীত প্লেয়ার গুলো যেন আরো আগ্রাসী মনোভাব নিয়ে খেলে। মিয়ামির গোলকিপার যেগুলো সেভ দিয়েছিল এসব সেভ গুলো না দিলে অনেক আগেই ইন্টার মিয়ামি আমি হেরে যেতো।
দিতো হাফটাইমের খেলা প্রায় শেষ আর বাকি আছে মাত্র এক মিনিটের মত খেলা। ঠিক সেই সময় মিয়ামির একজন প্লেয়ার একদম ফাঁকা গোল পোস্ট পেও গোল দিতে পারে নাই। যে গোলটা হয়ে গেলে রেফারির বাঁশি দিয়ে খেলা শেষ করে দিবে। শিরোপার এত কাছ থেকে এসেও মিয়ামিকে আবারও অপেক্ষা করতে হয়। গোল না দেয়া আক্ষেপে পুড়তে থাকে ওই প্লেয়ার এবং মিয়ামি সকল দর্শক।
এরপর শুরু হয় টাইব্রেকার। নেসভালির ট্রাইবেকার করার সময় দ্বিতীয় ট্রাইবেকার মিস করে অর্থাৎ গোলকিপার ঠেকিয়ে দেয়। এরপরে শুরু হয় আর এক উত্তেজনা। এদিকে তিন চার গোলে এগিয়ে থাকে। যখন শেষ ট্রাইবেকার এই গোলটা দিলেই তারা জিতে যাবে ঠিক সেই সময় ইন্টার মিয়ামির আরেকজন প্লেয়ার টাইবেকার মিস করে আবার নতুন আরেক নাটকের জন্ম দেয়। এরপর থেকে একটা একটা করে চলতে থাকে গোল দেওয়া। দশ নম্বর তম প্লান্টি করতে আসে মিয়ামির গোলকিপার। সে অবশ্য ঠিক তার কাজটি করে আসে। এরপরে আসে বিপরীত দলের গোলকিপার। সে না পারলেও ইতিহাস গড়ে দেয় মিয়ামির গোলকিপার। বল ঠেকিয়ে দেয় এবং তারা জিতে যায় এখানে। তবে যদি মেয়ে আমি এখানে হেরে যেত তাহলে তারা আগুনে পুড়তো। কারণ পরপর দুইবার তাদের জেতার খুব সহজেই সুযোগ ছিল কিন্তু তারা সেই দুইটা সুযোগই মিস করেছিল। যাইহোক জিৎ যদি কপালে থাকে তাহলে যেকোনোভাবে জিতবে এটাই স্বাভাবিক। তবে আপনাদের একটু বলে রাখি এই খেলাটি সম্পূর্ণ হয় প্রথমে( ১-১)গোলে। পরবর্তীতে ট্রাইবেকারে (১০-৯)এই খেলাটির হার-জিত হয়। তবে একটা কথা না বললেই নয় এই খেলাটি প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত দুই দলই ভালো খেলেছে এবং সব সময় টানটান উত্তেজনার মধ্য দিয়ে খেলাটি শেষ হয়েছে। আমি যখন খেলাটি দেখেছিলাম তখন আমার মনে হয়েছিল পুনরায় আবার একটি বিশ্বকাপ খেলা দেখলাম।
যে দলটি কখনো যে তার তো দূরে থাক কখনো রাউন্ড অফ সিক্সটিনে আসেনি আমের কথাটি অনেক আগেই বলেছি আর সেই দলটি আজ চ্যাম্পিয়ন। দেখতেই পাচ্ছেন ডেভিড বেকহাম কত খুশি। বেঞ্চে বসে থাকা প্লেয়ার কোচ এবং সহকারীর সবাই উৎসাহে মেতে উঠেছে। আমি আগেই বলেছি এক বিশ্বমানের প্লেয়ারের প্রভাবে মিয়ামি তার পুরা দলটাকে যেন পরিবর্তন করে ফেলেছে। পুরা টুর্নামেন্টে মেসি ছিল যেন আগুন ঝরা। ৭ টা ম্যাচ খেলে দশটা গোল একটা এসিস্ট। আর এর মধ্য দিয়ে এসে সেরা খেলোয়ার এবং সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার। যদিও আমি এগুলো স্ক্রিনশট মারতে পারি নাই কারন ফেসবুক লাইভে দেখেছিলাম তখন ফেসবুকে সমস্যা করছিল। মেসি আসার পর থেকে এই দলটি এতটাই আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছিল যে পরপর সাত সাতটি ম্যাচ জিতে শিরোপা স্বাদ পেল।
| ভূল ত্রুটি হলে অবশ্যই ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন এই প্রত্যাশায় নিয়ে শেষ করছি। আল্লাহ হাফেজ। |
|---|
আজ এই পর্যন্ত। সাথে থাকার জন্য অনেক ধন্যবাদ।
| ডিভাইস | poco M2 |
|---|---|
| লোকেশন | মেহেরপুর |
| ভূল ত্রুটি হলে অবশ্যই ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন এই প্রত্যাশায় নিয়ে শেষ করছি। আল্লাহ হাফেজ। |
|---|
👨🦰আমার নিজের পরিচয়👨🦰
আমি আবুল বাশার খায়রুল আলম তুহিন। আমার বাসা মেহেরপুর জেলা,গাংনী থানা, জুগীর গোফা গ্রাম। আমি বিবাহিত। বর্তমানে আমার একটা পুত্র সন্তান আছে। আমি গ্রাজুয়েশন শেষ করেছি রাজশাহী নিউ গভমেন্ট ডিগ্রী কলেজ থেকে। আমার পক্ষ থেকে আপনাদের জানাই প্রাণঢালা শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। আমার মাতৃভাষা বাংলা। আমি বাংলা ব্লগে কাজ করতে অনেক ভালোবাসি। এই ব্লগে কাজ করার মাধ্যমে আলাদা প্রশান্তি পায়। আমি ছবি আঁকতে,গান গাইতে,কবিতা লিখতে অনেক পছন্দ করি। এছাড়া আমি বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে খুব পছন্দ করি। সংক্ষিপ্ত আকারে আমার নিজের পরিচয় আপনাদের মাঝে শেয়ার করলাম। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন। আমার পক্ষ থেকে আপনাদের জন্য শুভকামনা রইলো।
(১০% প্রিয় লাজুক খ্যাঁক এর জন্য )
VOTE @bangla.witness as witness
OR
https://twitter.com/ABashar45/status/1693444685518581886?t=CImP91oUZ3Somb59FB9GUw&s=19
এজন্যই মেসিকে বলা হয় ফুটবল জাদুকর। মেসি মানে আশা স্বপ্ন দেখা এবং সেই স্বপ্ন পূরণ করা।
যে দলটি শুধু হারতো হারতো কখনো স্বপ্ন দেখেনি এত বড় প্রাপ্তি তারা ছুঁয়ে দেখবে।
আজ তাদের এই আশাটি পূর্ণ হল শুধুমাত্র লিওনেল মেসির কারণে।
সারা বিশ্বের মেসি ভক্তদের আরও একটি আশা পূর্ণ হয়ে গেল আজকের খেলার মধ্য দিয়ে।
ধন্যবাদ আপনাকে পোস্টটি শেয়ার করে নেওয়ার জন্য।
ইন্টার মিয়ামির জন্য মেসি যেন কষ্টি পাথর হয়ে গেছে। শুনেছি কষ্টি পাথরে যা স্পর্শ করে তাই সোনা হয়ে যায়। সত্যি মেসি একজন উচ্চমানের ফুটবলার।
মেসির খেলা দেখতে আমার কাছে খুবই ভালো লাগে। ইন্টার মিয়ামি ও ন্যাশভেলির ফাইনাল ম্যাচ আমিও দেখছিলাম। তবে ঘুম থেকে উঠতে একটু দেরি হয়ে গিয়েছিল বলে ম্যাচটি শুরু হয়ে গিয়েছিল। অবশেষে মিয়ামি দল জিতে গেল। ধন্যবাদ ভাই এরকম একটি পোস্ট আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
মেসি ইজ দ্যা বেস্ট প্লেয়ার ইন দা ওয়ার্ল্ড। যে দলটা কোন সময় রাউন্ড অফ সিক্সটিনে উঠার কথায় চিন্তা করতে পারেনা সে দলটা হল কিনা চ্যাম্পিয়ন! এটা ভাবা যায় শুধু এটা হয়েছে মেসির কারণে।
এই খেলাটি দেখতে পারিনি আমি। তবে এর গোল গুলোর হাইলাইটস দেখেছি। মেসির গোলটা অসাধারন ছিলো। টাইব্রেকার টা বেশি মজার ছিলো। দুই দল পুরো হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করেছে। আপনার ম্যাচ রিভিউ পড়ে মনে হচ্ছে পুরো ম্যাচ দেখেছি আমি।
এই খেলাটা আমি সম্পূর্ণ দেখে শেষ করে। খেলাটি দেখার পরে মনে হল যেন আমি একটা বিশ্বকাপে ফাইনাল ম্যাচ দেখলাম। এত টান টান উত্তেজনার মধ্যে ম্যাচটি শেষ হয়েছে। তবে সত্যি মেসির গোলটা অসাধারণ ছিল। ধন্যবাদ ভাই মন্তব্য করার জন্য।