আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়াবারকাতুহু
বাংলা ভাষায় ব্লগিং এর একমাত্র কমিউনিটি "আমার বাংলা ব্লগ"এর ফাউন্ডার "এডমিন ও মডারেটর প্যানেল সহ সকল সদস্যদের জানাই অন্তরের অন্তরস্থল থেকে প্রাণঢালা শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন। সবাই কেমন আছেন ? আশা করি আল্লাহর অশেষ রহমতে সবাই ভাল আছেন।আলহামদুলিল্লাহ্ আল্লাহ্র অশেষ রহমতে আমিও ভাল আছি।

Source
আমরা মাছে ভাতে বাঙালি। বাঙালি প্রতিটা মানুষের কাছে মাছ প্রিয়। সে যে কোন মাছ হোক না কেন। বিভিন্ন প্রকার মাছ রয়েছে। এর মধ্যে সাধারণত পুকুরে মাছ চাষের মধ্যে উল্লেখযোগ্য রয়েছে কাতল মাছ, মৃগেল মাছ, রুই মাছ, সিলভার মাছ, বাটা মাছ, পাঙাশ মাছ, তেলাপিয়া মাছ, আরো অনেক কিছু মাছ রয়েছে যেগুলো সাধারণত পুকুরে চাষ করে থাকে। এইসব বিভিন্ন প্রকার মাছের মধ্যে সব থেকে ক্ষুধার্ত মাছ হলো তেলাপিয়া মাছ ও নাইলনটিকা । আপনারা বিশ্বাস করবেন না এই মাছের খাবার হিসেবে যদি আপনি মাটি ছিটে ফেলেন তাও তারা দ্রুত গতিতে পুকুরের কোলে চলে আসবে। মাটি ফেললেও তারা মনে করবে যে নিশ্চয়ই খাবার ফেলেছে। এদের ভয় কম। আপনি ইচ্ছা করলে ডালি দিয়ে মাছ ধরে নিয়ে চলে আসতে পারবেন। আমি আজকে এই তেলাপিয়া মাছের ভিডিওগ্রাফি করেছি। আপনারা এই ভিডিওগ্রাফি দেখলেই বুঝতে পারবেন।

এই তেলাপিয়া মাছকে দুই ভাগে বিভক্ত করা হয়। একটি হলো দেশীয় তেলাপিয়া আরেকটা হল মনোসেক্স বা লালনটিকা। দেশীয় তেলাপিয়া মাছ গুলো খুব একটা বেশি বড় হয় না। যদি আপনি নিয়মিত খাবার দেন, তাহলে একটা তেলাপিয়া ৩০০ থেকে ৪০০ গ্রাম হয়ে থাকে। দেশিও তেলাপিয়া যেমন বেশি বড় হয় না কিন্তু এই তেলাপিয়া খেতে খুবই সুস্বাদু। বর্তমানে মানুষ নাইলনটিকা বাণিজ্যিক ভাবে মাছ চাষ করছে। আর বাণিজ্যিক ভাবে মাছ চাষ করার জন্য এই দেশেও তেলাপিয়ার কদর কমে গেছে। এসব তেলাপিয়া গুলো কেনা দাম পড়ে ০. ৪৫ পয়সা। এই মাছ গুলোর দামও অনেক কম। এর আগে এই মাছ গুলো আমরা ৪০ হাজার ৫০ হাজার করে পুকুরে দিতাম। যুগের পরিবর্তনের সাথে সাথে এই মাছর ও পরিবর্তন হয়েছে। আধুনিক মাছ হিসেবে এসেছে লাইলনটিকা ওরফে মনোসেক্স । এই মাছ গুলো বাজার দর পিস হিসেবে এক টাকা পঁচিশ পয়সা করে কেনা হয়ে থাকে। এবং এই মাছ গুলো পুকুরে চাষ করলে ৭ থেকে ৮ মাসের মধ্যে এক কেজির উপরে ওজন হয়ে থাকে। এখন প্রশ্ন করতে পারেন এত বড় হওয়ার কারণ কি? এদের শরীরের মধ্যে এক ধরনের হরমোন দেওয়া হয়। যতদিন এই হরমোন শরীরে থাকবে ততদিন এরা ডিম ফুটে বাচ্চা দিবে না। আর না দেওয়ার কারণে এদের শরীরে কোন সমস্যা হয় না। আর হরমোন থাকায় এদের খাবার দেয়াতে এরা দ্রুত বৃদ্ধি পায়।

এই মাছ গুলোকে আপনি যত বেশি খাওয়াবেন তত বেশি দ্রুত বড় হবে। এক কেজির উপরে এই সব মাছ গুলো হয়। এই মাছ গুলো খেতে দারুণ সুস্বাদু। এদের শরীরে প্রচুর পরিমাণ তেল হয়ে যায়। আর শরীরে ভিতরে কিছু চর্বি জমে যায়। দেশীয় তেলাপিয়া থেকে নাইলনটিকা তেলাপিয়া চাষ করার একটাই কারণ হলো এটা অধিকতর লাভজনক । দেশীও তেলাপিয়া মাছ গুলো প্রায় সারা বছর চাষ করে হয়তোবা আপনি কিছু টাকা ইনকাম করতে পারবেন। কিন্তু এই লাইলনটিকা বা মনোসেক্স আপনি স্বল্প সময়ে অধিক মুনাফা লাভ করতে পারবেন। আজকে আমি এই লাইলনটিকা মাছের ভিডিওগ্রাফি করেছি। এই ভিডিওগ্রাফিটি করার উদ্দেশ্য হলো আপনারা যারা শহর এলাকায় থাকেন তারা হয়তোবা জানেন না যে কিভাবে এই মাছ গুলো চাষ করে। পুকুরে খাবার দেয়ার সময় বা এমনিতেই স্বাভাবিক সময় এই মাছ গুলো কেমন করে বেড়ায়, সেগুলো আপনাদের দেখানোর জন্য মূলত আমি এই ভিডিওগ্রাফিরা করেছি। আমি আগেই বলেছি আপনারা আশ্চর্য হবেন। আমি এখানে মোবাইলে ভিডিওগ্রাফি করেছি। এই মাছ গুলো মনে করছে খেতে দিতে এসেছি তাই তারা ছুটে চলে আসছে। আবার ঢেউয়ের মতো করে ছুটে চলে যাচ্ছে। কিছুক্ষণ পর আবার পুনরায় তারা ফিরে আসছে। এই দৃশ্যটা যদি স্বচক্ষে দেখা যায় তাহলে দারুন একটা অনুভূতি আসবে মনের ভিতর। আর সব থেকে মজার কথা হল আপনি যদি ছিপ দিয়ে এই মাছ ধরেন তাহলে ১০ মিনিটে ৩০ টা মাছ ধরতে পারবেন। বরশি শুধু ফেলা দেরি উঠতে দেরি হবে না। আপনারা নিজেই বুঝতে পারবেন এই ভিডিওগ্রাফির মধ্য দিয়ে।
https://twitter.com/ABashar45/status/1694650948659061158?t=Gwp0QsqwS29KHZgULuf4EQ&s=19
মামা আপনি আজকে আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন লাইলনটিকা মাছের ভিডিওগ্রাফি। আসলে এই মাসকে আমরা সবাই চিনে থাকি তেলাপিয়া মাছ বলে। কিন্তু এই মাছের মধ্যে অনেক ধরনের মাছ পাওয়া যায়। কিন্তু তেলাপিয়া মাছের তুলনায় এই লাইলনটিকা মাছের ওজন অনেক বেশি হয়ে থাকে। ধন্যবাদ মামা এত সুন্দর একটি মাছের ভিডিওগ্রাফি শেয়ার করার জন্য।
ধন্যবাদ ভাগ্নে এত সুন্দর ভাবে মন্তব্য করার জন্য। তবে মাছ লিখতে গিয়ে মাস লিখে ফেলেছো।