জেনারেল রাইটিং:- মাদকাসক্ত যুব সমাজ।
| আমি @tuhin002, আমি আমার বাংলা ব্লগের সকল সদস্যগনকে আমার পক্ষ থেকে জানায় সালাম," আসসালামু আলাইকুম" সবাই কেমন আছেন ? আশা করি, মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে অনেক ভালো আছেন। আমি ও আপনাদের দোয়ায় এবং মহান আল্লাহুর অশেষ রহমতে ভাল আছি। আজকে আমি আলোচনা করবো এক দুঃখী মানুষের জীবন। আশা করি আপনাদের ভালো লাগবে। তাই শুরু করছি আমার আজকের ব্লগ... |
|---|
source
পৃথিবীতে হাজারো মানুষের বসবাস। এ পৃথিবীতে যত দেশ রয়েছে প্রত্যেকটা দেশের মূলে রয়েছে জনগণ। দেশের উন্নয়নের পেছে রয়েছে এই জনগণ। যে দেশ যত শিক্ষায় উন্নতি সে দেশ তত উন্নতির অর্থনৈতিক রাজনৈতিক যেকোনো দিক থেকে তারা অধিকতার উন্নতি। আজকে আমি পৃথিবীর অন্য কোন দেশ সম্পর্কে নয় আজকে আমি আমার নিজের দেশের জনগণের সম্পর্কে কিছু কথা বলবো। আমাদের দেশে আয়তনের দিক থেকে জনসংখ্যা বেশি। দেশের শিক্ষার হার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে কিন্তু সুশিক্ষা দিন দিন কমে যাচ্ছে। বর্তমানে আমাদের দেশে মূর্খ থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ শিক্ষা বিস্তার বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত যুব সমাজের মধ্যে মাদকাসক্ত সংখ্যা বেড়েই চলেছে। আর আজকে আমি এই সম্পর্কে আপনাদের সাথে কিছু উল্লেখযোগ্য তথ্য তুলে ধরবো।
একটা দেশকে ধ্বংস করার আগে ওই দেশে জাতিকে ধ্বংস করে দাও। আর জাতিকে ধ্বংসের উপায় এর মধ্যে সবচেয়ে বড় হচ্ছে শিক্ষা। কোন জাতিকে যদি মেধাশূন্য করে দেয়া যায় তাহলে সে জাতি এমনিতে ধ্বংস হয়ে যাবে। আর এই চক্রান্ত এখন বর্তমানে বাংলাদেশে চলছে। বর্তমানে স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় প্রত্যেকটা জায়গায় আমাদের দেশের যুব সমাজকে মাদকাসক্তের মধ্যে ঠেলে দিচ্ছে। ছাত্ররা যখন সুশিক্ষায় শিক্ষিত হবে তখন তারা সেদিকে না ঝুকে তারা ঝুঁকে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত মাদকের দিকে। বর্তমানে স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের কাছে পাওয়া যায় হিরোইন গাজা আফিম এসবের মতো বিষাক্ত জিনিস। যেগুলো এই সমাজ এই জাতি এই ধ্বংসের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। মাদকের এই তীব্র যন্ত্রণায় যুব সমাজ তাদের নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলছে। প্রতিদিন তাদের দ্বারাই ঘটছে অহরহ অঘটন। যে জাতি মাদকের আসক্তই নিজে বাবা-মা ভাই বোনের উপর অত্যাচার আঘাত করার মত এত জঘন্য কাজ করতে বিন্দুমাত্র কার্পোন গিরি করে না, সে জাতির কাছ থেকে কি আশা করা যায়।
মাদকের আসক্ত যুব সমাজ আজকে কোথায় চলে গেছে আপনাদের একটা বাস্তব ঘটনা তুলে ধরছি। এইতো বেশ কয়েক মাস আগে পিএসসি পরীক্ষা হইল। আমি বাড়ি থেকে রাস্তার দিকে হাঁটছিলাম অর্থাৎ স্কুলের দিকে আসা মনে করে। পথে মধ্যে দেখি পাঁচ থেকে ছয় জন ছেলে সামনের দিকে এগিয়ে আসছে। তাদের বয়স হবে ৮ থেকে ৯ বছর। তাদের মধ্যে একজন বলছে এই আগুন নিয়ে এসেছিস। আরেকজন বলছে বিড়ি খাব আর আগুন আনবো না। তাদের এই কথা শুনে আমি একটু থমকে গেলাম। তারা কেবল প্রাইমারি লেভেল পার করে হাই স্কুল গণ্ডিতে এখনো পৌঁছায়নি। অথচ তারা বিড়ি সিগারেট খাচ্ছে। এই বয়সে যদি ওরা এটা খেতে পারে তাহলে এরা আর কিছুদিন পরে কি খাবে খুব সহজে এটা উপলব্ধি করা যায়। আমি খুব ছোটবেলা থেকে মানুষের মধ্যে বেশি মেলামেশা করি। অবসর সময়ের অভাবে এখন তা আর হয়ে ওঠেনা। আমি এর আগে শহরের মানুষেরা নাকি মাদক আসক্তের বেশি জড়িয়ে থাকে। কিন্তু বর্তমানে দেখছি গ্রামের মধ্যে আশি শতাংশ মানুষ এখন এরা এই মাদকাসক্তে জড়িত। দুর্ভাগা এই জাতি এই জাতির জন্য ভবিষ্যতে কি আশা করছে।
সমাজে যখন ছেলেরা মাদকাসক্ত হয়ে ভরাডুবি খাচ্ছে, ঠিক তখনই তাদের পাশাপাশি বা সম অধিকার মেয়েরা। হ্যাঁ এটা ঠিক যে ছেলেরা যেমন মাদক আসক্তই নিজেদেরকে জোরে রেখেছে ঠিক মেয়েরা এক্ষেত্রে কোন অংশে পিছিয়ে নেই। শহরাঞ্চলের মেয়েরা এখন বিন্দাস এই মাদকাসক্তের মধ্যে ভরাডুবি খাচ্ছে। রাতের বেলা তারা তাদের নিজের মান সম্মান সবকিছু বিসর্জন দিয়ে রাত্রে বড় বড় পার্টিতে যাচ্ছে এবং নিজেরা মদ জুয়া হিরোইন ফেনসিডিল সিগারেটের নেশায় নিজেরা বুধ হয়ে পড়ে থাকছে। এইতো কিছুদিন আগেই দেখলাম হাই স্কুলের কিছু মেয়ে টিফিনের সময় সিগারেট খাচ্ছে। তাহলে এরাই কি প্রমাণ করে না মাদকাসক্ত বা বর্তমানে বাংলাদেশের অবস্থান টা কোথায়। প্রতিনিয়ত বর্ডার এলাকা থেকে হাজার হাজার কোটি কোটি টাকার মদ ফেন্সিডিল আফিম এর মত বিষাক্ত জিনিসগুলো আমাদের দেশে ঢুকেছে। আর এগুলো আমাদের যুব সমাজেরা খেয়ে নিজেদেরকে ধ্বংস করছে।
আপনি যদি মনে করেন আপনার সমাজটাকে আপনি এই বিষাক্ত মুক্ত মাদকাসক্ত থেকে সমাজে ছেলেদের কে দূরে রাখবেন, আপনি কখনোই সেটা পারবেন না। কেন জানেন আমি একবার কিছু বাচ্চাদেরকে বলেছিলাম তোমরা সিগারেট খেও না সে আমাকে উল্টো বলেছিল আমি কি আপনার বাপের টাকায় খাই। ওই সময় আপনার কিছু বলার থাকবে না। সুতরাং আমার দৃষ্টিকোণ থেকে মাদকাসক্ত যুব সমাজকে কখনোই ফেরানোয়ার সম্ভব নয়। দিন যত যাবে ততো এই সমাজ এই জাতি এই দেশ ধ্বংসের মুখে পতিত হবে।
| সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন এই প্রত্যাশায় নিয়ে শেষ করছি। আল্লাহ হাফেজ। |
|---|
👨🦰আমার নিজের পরিচয়👨🦰
আমি আবুল বাশার খায়রুল আলম তুহিন। আমার বাসা মেহেরপুর জেলা,গাংনী থানা, জুগীর গোফা গ্রাম। আমি বিবাহিত। বর্তমানে আমার একটা পুত্র সন্তান আছে। আমি গ্রাজুয়েশন শেষ করেছি রাজশাহী নিউ গভমেন্ট ডিগ্রী কলেজ থেকে। আমার পক্ষ থেকে আপনাদের জানাই প্রাণঢালা শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। আমার মাতৃভাষা বাংলা। আমি বাংলা ব্লগে কাজ করতে অনেক ভালোবাসি। এই ব্লগে কাজ করার মাধ্যমে আলাদা প্রশান্তি পায়। আমি ছবি আঁকতে,গান গাইতে,কবিতা লিখতে অনেক পছন্দ করি। এছাড়া আমি বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে খুব পছন্দ করি। আর আমি স্টিমেটে জয়েন করেছি (২৭ - ০৬ - ২০২২) সালে। সংক্ষিপ্ত আকারে আমার নিজের পরিচয় আপনাদের মাঝে শেয়ার করলাম। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন। আমার পক্ষ থেকে আপনাদের জন্য শুভকামনা রইলো।
(১০% প্রিয় লাজুক খ্যাঁক এর জন্য )
VOTE @bangla.witness as witness
OR
https://twitter.com/ABashar45/status/1699635996290343199?t=dpysj7aQQOlY1mYhnlQc5w&s=19
বর্তমান সমাজে মাদকদ্রব্যের পরিমাণ অনেকটা বৃদ্ধি পেয়ে গেছে। বর্তমানে ছোট ছোট ছেলে মেয়েরাও মাদক এ আসক্ত হয়ে পড়ছে। তেমন একটি সুন্দর উদাহরণ আপনি আমাদের মাঝে দিয়েছেন। সত্যি এখনকার ৮- ৯ বছরের ছেলেরাও এরকম একটি জঘন্য কাজে আসক্ত হয়ে গিয়েছে। বিশেষ করে শহর অঞ্চলেও এটা বেড়ে গিয়েছে। অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া এরকম একটা শিক্ষানী পোস্ট আজকে আমাদের মাঝে উপস্থাপন করার জন্য।
এই পরিস্থিতি থেকে সমাজের মানুষ এসব ছোট বাচ্চাদের কখনো ফেরাতে পারবে না সুতরাং সমাজটা ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাবে। সুন্দর মন্তব্য করার জন্য ধন্যবাদ।
বর্তমানে যুবসমাজ মাদকের কারণে এই সব থেকে বেশি ধ্বংসের মুখে চলে যাচ্ছে। পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্ররা যদি এই ধরনের কাজের সাথে আসক্ত হয়ে যায় তাহলে কেমন হবে। এই সকল ছেলেদেরকে ভালো পথে আনার জন্য আমাদের সকলেরই একটু বেশি পরিমাণে সচেতন হতে হবে।
আমাদের থেকে বেশি সচেতন হতে হবে পিতা-মাতাদেরকে। স্কুলে পাঠানোর পরে তাদের সন্তানরা কোথায় কি করে নিয়মিত খোঁজ খবর রাখতে হবে, তাহলে পরিবর্তন সম্ভব।
শুধু বাংলাদেশ নয় ভাই, ভারতবর্ষেও এরকম স্কুল-কলেজে পড়া ছোট ছোট ছেলে মেয়েরা বিড়ি ,সিগারেট এ আসক্ত হয়ে পড়েছে। আর কিছুদিন পরে স্বাভাবিকভাবে এরাই বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য গ্রহণ করবে। আর নিজের পরিবারের মা, বাবা, ভাই ,বোনের উপর অত্যাচার চালাবে। আবার কিছু বলতে গেলে আপনাকে যেমন উল্টে উত্তর দিয়ে দিয়েছিল ,ঠিক তেমনি উত্তর দিয়ে দেবে। তাই এদেরকে ভালো কথা বলেও কোনো লাভ নেই। আসলেই এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যৎ জীবন অন্ধকার ছাড়া আর কিছুই না।
মাদকে আসক্ত শুধু আমার আপনার দেশি নই গোটা বিশ্ব ছড়িয়ে গেছে। এভাবে চলতে থাকে পুরো বিশ্বটাই অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে যাবে।ধন্যবাদ সুন্দর মন্তব্য করার জন্য।