লাইফস্টাইল : স্লিপার বাসে প্রথমবার জার্নির অভিজ্ঞতা

in আমার বাংলা ব্লগ3 years ago (edited)

।আজ ১৪ আগস্ট,২০২৩ । ৩০ শ্রাবণ, ১৪৩০। রোজ- সোমবার।

হ্যাল্লো আমার বাংলা ব্লগবাসী৷ আশা করছি আপনারা সকলেই ভালো আছেন। আমিও মহান সৃষ্টিকর্তার আশির্বাদে বেশ ভালো আছি।



আজ আপনাদের সাথে নিজের একটি নতুন অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করতে হাজির হয়েছি। আশা করছি আপনাদের আমার আজকের পোষ্টটি ভালো লাগবে। কিছুদিন আগেই প্রথমবারের মতোন স্লিপার বাসে জার্নি করেছি। সেটার অভিজ্ঞতাই আপনাদের সাথে আজকের পোষ্টের মাধ্যমে আপনাদের সাথে শেয়ার করবো।



আমার আগের পোস্টে আমি বলেছিলাম যে আমরা দুইজন শ্বশুড়বাড়িতে গিয়েছিলাম, আমার শ্বশুড়কে দেখার উদ্দেশ্যে। ঢাকা থেকে যেহেতু আমার শ্বশুড়বাড়ি বেশ দূরে, জার্নিতে অনেক সময় লাগে। আমরা দুইজন বুধ আর বৃহস্পতিবার অফিস থেকে ছুটি নেই। এতে শুক্র বারের সাথে মিলিয়ে ৩ দিনের ছুটি হয়। যাত্রাপথে যদি জ্যাম না থাকে, তারপরেও আমাদের বাড়ি যেতে ৯-১০ ঘন্টা লাগে। আর রাস্তায় জ্যাম থাকলে তো কথাই নাই, কতক্ষণ লাগবে কেউ জানে না। আমরা শুক্রবার রাতের গাড়িতে রওনা দিয়ে শনিবার অফিস করবো -এই ছিলো প্লান। এমন দীর্ঘ নাইট জার্নির পর রেস্ট না নিয়ে সারাদিন অফিস করা খুবই ক্লান্তিকর। তাই এবারে ঠিক করি ঢাকা ব্যাক করার টিকিটটা স্লিপারে করবো। আমরা নরমালি এসি বাসে যাতায়াত করি, কিন্তু স্লিপারে আগে কখনো জার্নি করা হয় নি।

লালমনিরহাট থেকে বাস ছাড়ার কথা রাত ১০ টায়। আমরা ৯:৩০ টার দিকেই পৌঁছে যাই কাউন্টারে। শাহ আলী পরিবহন এর কাউন্টারটি খুব বেশি বড় না হলেও, মোটামুটি পরিষ্কার।



যথাসময়ে বাস আসে। যেহেতু স্লিপার বাস, বাসে উঠতে যেয়ে প্রথমেই দেখলাম গেটে সবাইকে একটি করে পলিথিন দিচ্ছে বাসের হেল্পার। এটির মধ্যে সবাই যার যার পায়ের জুতো রেখে তারপর ভেতরে যাচ্ছেন। আমরাও তাই করলাম। আমাদের সীট ছিলো দোতালায়, মানে উপরে। সীটের পাশে পা দিয়ে দিয়ে উঠার জন্য সিড়ির মতোন ব্যবস্থা করা। সেটার সাহায্যে উঠে বসলাম ভেতরে। আসলে ভেতরে যাওয়ার জন্য এই উইন্ডো টা আমার কাছে ছোট মনে হয়েছে। কিন্তু ভেতরে ঢোকার পর যথেষ্ট স্পেস রয়েছে। পায়ের কাছে দুইটি ছোট চেম্বার রয়েছে জুতো রাখার জন্য। বালিশ এর ব্যবস্থা রয়েছে। কম্বল রয়েছে। টিভির ব্যবস্থা রয়েছে। (অবশ্য চলে কিনা জানি না 🤨🤔, আমরা চালিয়ে দেখিনি 😊😊 এখন লিখতে গিয়ে মনে হচ্ছে, কেন দেখিনি?? 😶 জানি না! )



গাড়ি ঠিক সময়মতোন ছেড়ে দিলে আমরা আমাদের মতোন আরাম করে ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে চলে এসেছি। রাতে হোটেলে যাত্রাবিরতির সময় টুকু ছাড়া মোটামুটি পুরো সময়ই রেস্ট নিয়ে ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে আসায় পরদিন সকালে অফিস করতেও আহামরি তেমন ক্লান্তিভাবটাও আসে নি। অবশ্য আমি এম্নেও ঘুম কাতুরে মানুষ। "যেখানে রাত, সেখানেই কাৎ" টাইপের। অসুবিধা হতো আমার হাসবেন্ড এর। ও এবার খুব ভালোভাবে ঘুমিয়ে আসতে পেরেছে।


এক নজরে কিছু কথা :

  • যে উইন্ডো দিয়ে ভেতরে ঢুকতে হয় সেটা একটু ছোট লেগেছে আমার কাছে।
  • বয়স্ক কেউ সাথে গেলে উপরে সীট নেয়াটা বোকামো হবে। সেক্ষেত্রে নিচের সীটগুলোই ভালো।
  • ভেতরে এনাফ স্পেস রয়েছে দুই জনের জন্য। আরামসে জার্নি করা যায়।
  • জার্নির অভিজ্ঞতা এক কথায়- 'পয়সা উসুল' 😇


আজ এপর্যন্তই। এতক্ষণ ধরে আমার পোষ্টটি পড়ার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ 🌻🌻

VOTE @bangla.witness as witness witness_proxy_vote.png OR
SET @rme as your proxy
witness_vote.png

Posted using SteemPro Mobile

Sort:  

You've got a free upvote from witness fuli.
Peace & Love!

 3 years ago 

আমিও রংপুরে গেলেই এই বাসটিতে যাতায়াত করি। বাচ্চাদেরকে নিয়ে খুব আরামে যাওয়া যায় তাছাড়া ভিতরে অনেক জায়গা থাকার কারণে বাচ্চারা সহ ঘুমিয়ে আসা যায়। উপরের সিটে আমি কখনো টিকিট কাটি না। কারণ উপরে সিটগুলোতে একটু ঝাকি বেশি হয়। নিচে আরো বেশি আরামে যাওয়া যায়। এর পরেরবার গেলে আপু নিচের টিকিট কাটবেন। তাহলে আরো আরামে যাওয়া যাবে। আপনার টিভির কথা শুনে আমারও মনে হল যে আমিও তো কখনো চালিয়ে দেখিনি। আসলেই কি চলে এই টিভি?

 3 years ago 

ধন্যবাদ আপু আপনার অভিজ্ঞতা শেয়ার করার জন্য। এরপর থেকে স্লিপারে গেলে অবশ্যই নিচেই সীট বুক করবো।

Posted using SteemPro Mobile

 3 years ago 

স্লিপার বাস আমাদের এলাকায় যাতায়াত করে এটা জানি কিন্তু কখনো উঠা হয়নি।অনেক দূরের জার্নি করা সত্যিই অনেক কষ্টদায়ক তাই স্লিপার বাসের টিকিট কেটে খুব ভালো করেছো।এতে করে যাত্রা পথের যে কষ্ট তা কিছুটা হলেও কমেছে।অনেক দিন দূরের জার্নি করা হয় না।বোনেরা দাওয়াত দিলে তাও একটু স্লিপার বাসে উঠতে পারতাম তাও দেয় না।🤭যাইহোক সবমিলিয়ে অনেক ভালো লেগেছে তোমার জার্নির গল্পটা।সুন্দর করে গল্পটা শেয়ার করার জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ মনা।❤️

 3 years ago 

অবশ্যই পরিবার সমেত চলে আসো, এর জন্য আলাদা করে দাওয়াত দিতে হবে বুঝি?? সরি সরি, সেটা তো দিবো না.. 🤨
বড় দিদি হইসো, ছোট বোনকে দেখতে মন চাইলেই চলে আসবা। স্লিপারে করে আসবা, তাহলে জার্নির ক্লান্তিও লাগবে না 😇

Posted using SteemPro Mobile

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.33
JST 0.102
BTC 64902.80
ETH 1947.74
USDT 1.00
SBD 0.37