পাথরে খোদাই করা ভাস্কর্যের সৌন্দর্য

20250322_181001.jpg

ভাস্কর্যগুলো আসলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কথা বলা এক নিঃশব্দ শিল্প। কলকাতার ইকো পার্কে একদিন ঘুরতে গিয়ে এমনই দুইটি ভাস্কর্যের মুখোমুখি হয়েছিলাম, যেগুলো দেখলে মনে হবে শতাব্দী পেরিয়ে তারা আজও কিছু বলতে চায়। এখানে একটি ভাস্কর্যতে আমরা দেখতে পাচ্ছি, একটা মুখের অবয়ব, যা অনেকটা দানব আকৃতির। চওড়া চোখ, দীর্ঘ নাক ও শান্ত। এছাড়া একটা গভীর দৃষ্টিভঙ্গির ছাপ রয়েছে। মুখটি সম্পূর্ণ সামনের দিকে তাকানো, যেন দেখে মনে হবে সামনের কারো সাথে কথা বলছে। এই ভাস্কর্যের প্রধান আকর্ষণের দিক হলো দুটো চোখ। চোখের পাতার বাঁক, ভ্রুর রেখা, সবকিছুতেই রয়েছে এক ধরণের বিশেষ সৌন্দর্য।

এরপরে যে ভাস্কর্যটি রয়েছে, সেটা একটু ভিন্ন ক্যাটাগরির। এখানে একটি মানবাকৃতি মূর্তি রয়েছে, যার দুই কাঁধে শস্য বা ফসলের বোঝা। এই ভাস্কর্যটি দেখেই বোঝা যায় যে, এটি একটি স্পষ্টতই গ্রামীণ জীবন ও কৃষিভিত্তিক সমাজের প্রতিচ্ছবি তুলে ধরা হয়েছে। এখানে সবচেয়ে যে বিষয়টা তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে, সেটা হলো শরীরী ভঙ্গি । এক পা সামান্য এগিয়ে শরীরের ভার সামলে রাখা, মুখে একটা ক্লান্তি ভাব, কিন্তু দায়িত্ববোধের বিষয়টা স্পষ্ট। এই দৃশ্যটা দেখে অনেকটা সাধারণ কৃষক বা শ্রমজীবী মানুষের প্রতীক বলেই মনে হয়। এই ভাস্কর্যে শিল্পী তার দক্ষতাকে পরিপূর্ণ ভাবে ফুটিয়ে তুলেছে। কারণ এখানে শস্যের নকশা, পোশাকের ভাঁজ, হাতের গঠন, সবকিছুতেই শিল্পীর দক্ষতা খুবই স্পষ্ট।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.32
JST 0.087
BTC 59898.70
ETH 1589.31
USDT 1.00
SBD 0.41