★হঠাৎ বাইরে খেতে যাওয়া★
আসসালামু আলাইকুম
আমার বাংলাব্লগের বন্ধুরা সবাই কেমন আছেন ভাল আছেন নিশ্চয়ই। আমিও আল্লাহর রহমতে ভালই আছি আলহামদুলিল্লাহ।
আজ আবার আপনাদের সাথে নতুন একটি ব্লগ নিয়ে হাজির হয়ে গেলাম। আপনারা হয়তো জানেন যে কদিন আগে আমাদের বেশ বড় ধরনের একটা আঘটন ঘটে গিয়েছে যার কারণে কোন কিছুতেই আজকাল মন বসাতে পারছি না এবং কোন কিছু করতেও ভালো লাগে না সারাদিন শুধু শুয়ে বসেই থাকতে মন চায়। সবকিছু যেন এলোমেলো হয়ে গিয়েছে ।তারপরও তো জীবন কারো জন্য থেমে থাকে না সময় সময় মতই চলে যায় । কদিন ধরে কোন কাজকর্ম করতে ইচ্ছা করে আর রান্না তো দূরের কথা। একদম রান্না করতে মন চায় না যতই সবকিছু রেডি করা থাক তারপরও মনে হয় না যে রান্না করে কিছু খাই।
রেস্টুরেন্টের ভিতর রিক্সা দিয়ে সাজানো
কাল বাইরে থেকে অর্ডার করে সন্ধ্যার সময় কিছু খাবার খেয়েছিলাম । খাবারগুলো দেখে খুব ইয়াম্মি লাগছিল তাই সাথে সাথে অর্ডার দিয়ে দিয়েছিলাম। অর্ডার দিয়ে যখন খাবারটা হাতে পেলাম তখন মনে হলো যে টাকাটাই যেন লস হলো। খাবারগুলো ইয়ামি ছিল ঠিকই কিন্তু খাবারের পরিমাণ এতটাই কম দিয়েছিল যে তা বলার নয়। তারপরও মজা ছিল দেখে খেতে পেরেছি। আজকে আবার রাতের বেলা মন চাইছিল যে না যে কিছু রান্না করে খাই। এদিকে বাচ্চাটাকে নিয়ে প্রতিদিন স্কুলে যেতে হয় আসতে আসতে দুটো বেজে যায় তাই দিনের বেলায় রান্না করাই হয় না। রাতের বেলায় রান্না করতে হয় কিন্তু রাত আসলে আমার সবচেয়ে বেশি আলসেমী ধরে আর কিছুই করতে মন চায় না, তাই ভাবলাম আজকে বাইরে থেকে কিছু একটা খেয়ে নিব। কিন্তু আমি আমার হাজব্যান্ড কে যখন বললাম সে কিছুতেই যেতে রাজি হচ্ছিল না সে সবজি আনতে বাইরে চলে গেল । তারপর কি আর করার বসে বসে অনেকক্ষণ আমি একা একাই ফোন টিপছিলাম আর ভাবছিলাম যে কি করা যায় রান্না তো করতে মোটেও ইচ্ছা করছে না ।
হঠাৎ করে খুব কাচ্চি খেতে মন চাইছিল তাই হাজবেন্ড যখন বাসায় আসলো তখন তাকে বললাম যে আমার খুব কাচ্চি খেতে ইচ্ছা করছে চলো কাচ্চি ভাইয়ের কাচ্চি খেয়ে আসি। তখন দেখলাম যে সে কিছু বলল না। তারপরে আমি আবার বললাম যে আমার বাসায় কিছুতেই ভালো লাগছে না বাইরে যেতে ইচ্ছা করছে তখন সে রাজি হয়ে গেল। এদিকে ছেলেটাকে পড়াতে হবে তাই তাড়াতাড়ি তাকে পড়াতে বসালাম। পড়া শেষ হতে হতে রাত ৯ টা বেজে গেল তখন নয়টার পরে আরও কিছু সময় নষ্ট হল ফোনে কথা বলে। তারপর সাড়ে নটার পরে আমরা বাসা থেকে বের হলাম সোজা চলে গেলাম কাচ্চি ভাইয়ের রেস্টুরেন্টে কাচ্চি খেতে । কিন্তু রেস্টুরেন্টে ঢোকার পরে তারা বলল যে আমাদের খাবার শেষ হয়ে গিয়েছে শুধু প্লেন পোলাও আর রোস্ট রয়েছে। কিন্তু আমরা গিয়েছি কাচ্চি খেতে প্লেন পোলাও রোস্ট কিভাবে খাই ।না খেয়ে চলে গেলাম ফখরুদ্দিনের বিরিয়ানি হাউজে ।সেখানে গিয়ে বিরিয়ানি খাওয়ার জন্য যেই না ঢুকতে যাবো তখন সেখানকার লোকজন বলল যে আমাদের খাবার আজকে শেষ হয়ে গিয়েছে। কারণ আমাদের যেতে যেতে প্রায় দশটা দশটার বেশি বেজে গিয়েছিল। তখন কি আর কি আর করার হাসবেন্ড বলে যে চলো আজকে আর দরকার নেই বাসায় চলে যায়। তখন আমি বললাম যে এখন তো বাসায় গিয়ে কিছুই খাবার নেই রান্না করতে হবে দেরি হয়ে যাবে।
আমরা নবাবী ভোজ নামে একটা রেস্টুরেন্টে ঢুকলাম সেখানে দেখলাম যে ওদের কাচ্চি আছে। কিন্তু ওদের কাচ্চিটা আমার ভালো লাগলো না কারণ বাসমতি চালের কাচ্চি ছাড়া খেতে ভালো লাগে না ।তাই আমরা প্লেন নান ও বটি কাবাব শিক কাবাব সাথে বিফ কারী অর্ডার করলাম। কিন্তু খাবার যখন আসলো তখন এই খাবারটি দেখেও আমরা হতাশ হলাম। কারণ এতোটুকু এতোটুকু খাবার প্রচুর পরিমাণে দাম লিখে রেখেছে যেটা দেখে সত্যিই হতাশ হতে হলো ।তখন কি আর করা সেই খাবার টাই খেয়ে নিলাম ।কিন্তু খাবারটা অনেক মজার ছিল । যার জন্য বাসায় বসে অর্ডার দিলাম না যে না দেখে খাবার অর্ডার দিলে কেমন হয় এজন্য রেস্টুরেন্টে গিয়ে খাওয়ার জন্য গেলাম। এখানে গিয়েও একই অবস্থায় পড়লাম। রেস্টুরেন্টে বসে আর বাসায় বসে খাওয়ার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে এজন্যই রেস্টুরেন্টে যাওয়া। মাঝেমাঝে আমার এমন ইচ্ছে করে যে বাসার কোন কিছুই খেতে মন চায় না মনে হয় যে বাইরে গিয়ে খেলে বুঝি ভালো লাগবে, সে যেটাই হোক না কেন। এদিকে বাচ্চাটা বার্গার খাওয়ার জন্য বায়না করেছিল আজকে অনেক বুঝিয়ে শুনিয়ে এখানে গিয়ে খাওয়া দাওয়া করে বাসায় ফিরে আসলাম।
আশা করছি আমার আজকের এই ব্লগটি আপনাদের সকলের কাছে ভালো লেগেছে। আজকের মত এখানেই বিদায় নিচ্ছি। সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন।
| ফটোগ্রাফার | @tauhida |
|---|---|
| ডিভাইস | samsung Galaxy s8 plus |
ধন্যবাদ
| আমি তৌহিদা, বাংলাদেশ আমার মাতৃভূমি।বাংলাদেশে আমার জন্ম।আমি আমার মাতৃভূমিকে ভালোবাসি। আমি বিবাহিতা, এক সন্তানের মা। আমি রান্না করতে ও খেতে ভালোবাসি,আমি ঘুরতেও অনেক ভালোবাসি। |
|---|
আমিও গত দুইদিন ধরে রাতে বাইরে খাচ্ছি। রান্নাবান্না তেমন একটা করতে ইচ্ছা করে না। কাচ্চি ভাইয়ের কাচ্চি না খেয়ে ভালোই করেছেন। কিছু দিন আগে দেখলাম যে পচা খাবারের জন্য কাচ্চি ভাইদের অনেক টাকা জরিমানা করেছে। তাছাড়া ইদানিং একটি ফ্যাশন হয়েছে যে অল্প খাবার দিয়ে এত বেশি দাম লিখে রাখে দেখলেই মেজাজ খারাপ হয়। যাই হোক খাবার গুলো দেখে বেশ লোভনীয় লাগছে। কিছুটা সময় বাইরে কাটিয়ে ভালো লেগেছে নিশ্চয়ই।
সত্যিই তাই মনা ভাল লা থাকলে রান্না বান্না কেন কোন কাজেই মন থাকে না। আপনি বাহিরে খেতে বের হয়ে ভাল করেছেন এতে মন একটু ভাল থাকার কথা। কয়েকটি রেস্টুরেন্ট ঘুরেও কাচ্চি পাননি, আসলে কাচ্চি জাতীয় খাবার গরম রাখতে হয় । তাই একটু দেরি করে গেলে আর পাওয়া যায় না। আপনাদের কাবাব এবং প্লেইন রুটি দেখে খেতে ইচ্ছে করছে। ধন্যবাদ আপু।
মন মানসিকতা ভালো রাখার জন্য বাইরের পরিবেশ আমাদের সকলের জন্য প্রয়োজন। আসলে শহরের জীবন বলুন আর ব্যস্ততম মুহূর্ত বলুন পরিবারে একঘেয়েমিতা দূর করতে হলে সকলের বাইরে পরিবেশে এভাবে যাওয়া বা খাওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। এতে মনের প্রশান্তি মেলে, মন প্রফুল্ল থাকে এবং আবারও পারিবারিক কাজে নিজেকে সক্রিয় করা যায়।