★ছেলের স্কুলের মিলাদের অনুষ্ঠান★
আসসালামু আলাইকুম
আমার বাংলাব্লগের বন্ধুরা সবাই কেমন আছেন ভাল আছেন নিশ্চয়ই। আমিও আল্লাহর রহমতে ভালই আছি আলহামদুলিল্লাহ।
আজ আমি আপনাদের সামনে নতুন একটি ব্লগ নিয়ে উপস্থিত হয়েছি। আজকে আমি আপনাদেরকে ছেলের স্কুলের প্রসঙ্গে আলোচনা করতে চলে এসেছি। দেখতে দেখতে ছেলের স্কুলে দেওয়ার বয়স হয়ে গিয়েছে, তাই স্কুলে দিয়ে দিয়েছি। স্কুলে ভর্তি করিয়েছি প্রায় এক মাস হয়ে গিয়েছে। আজকে পাঁচ তারিখ ছিল ওদের স্কুলের মিলাদ। সেই উপলক্ষে স্কুলে যাওয়ার কথা আগেই বলে রেখেছিল। তাছাড়া ওর স্কুলের ইউনিফর্ম , জুতা, ব্যাগ সবকিছু কেনা হয়ে গিয়েছে। এক একজন একেক কিছু গিফট করেছে যেটা পেয়ে ছেলেটা অনেক খুশি। স্কুলে ভর্তি হওয়াটা তার মোটেও ইচ্ছা ছিল না সে কিছুতেই স্কুলে যেতে চায় না। তার পরে এত সুন্দর সুন্দর কিছু গিফট পেয়ে সে আসলেই অনেক খুশি হয়েছিল। এখন সে এগুলো নিয়ে স্কুলে যাওয়ার জন্য সব সময় রেডি থাকে। আবার বাইরে কোথাও গেলে স্কুল ব্যাগ ঝুলিয়ে পানির পট নিয়ে রেডি হয় যাওয়ার জন্য, বলে যে তোমরা বাইরে যাওয়ার সময় ব্যাগ নিয়ে যাও এজন্য আমিও ব্যাগ নিয়ে বাইরে যাব। অনেক বুঝিয়ে শুনিয়ে রাখতে হয় যে এগুলো নিয়ে স্কুলে যেতে হয়।
আজকে মিলাদ হবে দেখে সে প্রতিদিনই এসে এসে জিজ্ঞাসা করে যে মা আমার স্কুলে কবে যেতে হবে। এখন তার স্কুলে যাওয়ার অনেক আগ্রহ হয়েছে। সে স্কুলে যেতে চাই তার নতুন নতুন বন্ধু হবে সেটা শুনেও অনেক খুশি। আজকে সকাল দশটায় মিলাদ উপলক্ষে স্কুলে যেতে হবে দেখে আগের দিন তাড়াতাড়ি ঘুমোতে চলে গিয়েছে, যাতে তাড়াতাড়ি সকালবেলা উঠতে পারে। অন্য দিন হলে তাকে তো রাত দুইটার আগে কোনভাবেই ঘুম পাড়ানো যায় না। আজ বলার সাথেই তাড়াতাড়ি সে শুয়ে পড়েছিল তাও সাড়ে বারোটার পরে। সকালবেলা এক ডাক দেওয়ার সাথে তাড়াতাড়ি উঠে গিয়েছে স্কুলে যেতে হবে। আবার বলে যে আমরা না খেয়েই যাবো খেয়ে গেলে আবার দেরি হয়ে যাবে তখন টিচাররা আমাকে বকবে তোমাদেরকে তো কিছু বলবে না। এখনই বুঝতে শুরু করে দিয়েছে কিভাবে কি করতে হবে সেটাই আমার কাছে অনেক ভালো লাগছে। আপনারা সবাই আমার ছেলেটার জন্য দোয়া করবেন।
এতদিন আমরা আরামে অনেক বেলা পর্যন্ত ঘুমিয়েছি এখন তো সকাল সকাল উঠে বাচ্চাকে রেডি করে স্কুলে যেতে হবে সেই ভয়ে আমি অস্থির। জানিনা ঠিকমতো সবকিছু করতে পারব কিনা। তারপর আমরা রেডি হয়ে স্কুলে চলে গেলাম। স্কুলে গিয়ে দেখি অন্যান্য বাচ্চারাও সবাই চলে এসেছে। তারপর দেখলাম মিলাদের জন্য সবকিছু রেডি করা হয়েছে। ছেলে তার বাবার সাথে একটা রুমে বসলো এবং আমি অন্যান্য গার্ডিয়ানদের সাথে ভিতরে গিয়ে বসলাম। তারপর সুন্দরভাবে মিলাদ পড়ানো হল , মাইকে সব কিছু বলে দেওয়া হল কোন দিন থেকে স্কুল শুরু হবে এবং কখন কিভাবে আসতে হবে। নয় তারিখ থেকে আমাদের স্কুল শুরু হয়ে যাবে। আমি ছেলেকে ডে শিফটে দিয়েছি সাড়ে ১১ টা থেকে ১টা পর্যন্ত আপাতত স্কুল হবে পরে হয়তো দেড়টা পর্যন্ত করতে হবে। মর্নিং শিফটে না দিয়ে আমি ডে শিফটে দিয়েছি যাতে একটু রিলাক্স ভাবে যেতে পারি। তারপর স্কুল থেকে আমরা বই সংগ্রহ করি।
হালকা কিছু নাস্তা দেয় মিলাদ পড়ানো শেষে। এরপর নোটিশ বোর্ডে নোটিশ টানানো আছে সেগুলো সবাইকে দেখতে বলা হয় এবং আমরা সেগুলো দেখে সুন্দরভাবে স্কুল থেকে বের হয়ে আসি। আসার সময় বাইরে থেকে পরোটা ডাল সবজি এগুলো কিনে নিয়ে আসি খাওয়ার জন্য, কারন এই বাইরের নাস্তাটা আমার কাছে খুব ভালো লাগে। আমরা সকালবেলা ঘুম থেকে উঠতে পারি না দেখে এই নাস্তাটা খেতে পারি না আজকে যেহেতু সময় সুযোগ হয়েছে তাই কিনে নিয়ে আসলাম এবং বাসায় এনে খুব মজা করে খেয়েছি। এখন থেকে আমাদের স্কুলের জার্নি টা শুরু হয়ে গেল আশা রাখছি সবকিছু যেন ঠিকঠাক ভাবে আমরা করে যেতে পারি। আপনারা সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন।
আশা করছি আমার আজকের এই ব্লগটি আপনাদের সকলের কাছে ভালো লেগেছে। আজকের মত এখানেই বিদায় নিচ্ছি। সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন।
| ফটোগ্রাফার | @tauhida |
|---|---|
| ডিভাইস | samsung Galaxy s8 plus |
ধন্যবাদ
| আমি তৌহিদা, বাংলাদেশ আমার মাতৃভূমি।বাংলাদেশে আমার জন্ম।আমি আমার মাতৃভূমিকে ভালোবাসি। আমি বিবাহিতা, এক সন্তানের মা। আমি রান্না করতে ও খেতে ভালোবাসি,আমি ঘুরতেও অনেক ভালোবাসি। |
|---|
হা হা আপু আপনার বাবুর কথা গুলো পড়ে বেশ মজা পেলাম।আসলে বাচ্চারা মনে হয় এমনই।আমার ছেলের তো ক্লাস শুরু হয়ে গিয়েছে, আজ শুক্রবার বন্ধ ছিলো বিদায় কেন বন্ধ দিলো কবে খুলবে শুধু এই প্রশ্ন। মোটামুটি মজাই পাচ্ছে।যাই হোক বাচ্চাদের আসলে ডে শিফটেই দেওয়া ভালো কারন সকালে তাদের উঠানো যায় না তার উপর শীতের সকাল। আমিও ডে শিফটেই দিয়েছি।আপু আপনার বাবুর জন্য অনেক অনেক দোয়া রইলো। ধন্যবাদ
বাচ্চারা যদি স্কুলে গিয়ে মজা না পায় তাহলে তো ওদের জন্য কষ্টই হয়ে যাবে। যাক আপনার বাচ্চাটা মজা পাচ্ছে শুনে ভালো লাগলো। আমার বাচ্চাটাও যেন ঠিকমতো স্কুল করতে পারে সেই কামনাই করছি। ধন্যবাদ আপু অনেক সুন্দর একটি মন্তব্য করার জন্য।
যাক ও যে স্কুলে যাওয়ার জন্য অনেক বেশি বেশি এক্সাইটেড শুনে খুব ভালো লাগলো। আমি তো ভয়ে ছিলাম যে মনে হয় স্কুলেই যেতে চাইবে না। তাছাড়া ওর স্কুল মর্নিং শিফটে হলে আমি অনেক বেশি খুশি হতাম। স্কুলে যাওয়ার জন্য সকাল সকাল নিজেই ঘুম থেকে উঠেছে যা আসলেই খুবই ভালো খবর। মিলাদের দিন গিয়ে একটা এক্সপেরিমেন্ট হয়েছে বাকি দিনগুলোতে কি করবে। যাই হোক দোয়া রইল।
হ্যাঁ ও তো স্কুলে যেতে চাইতো না ইদানিং দেখছি স্কুলে যাওয়ার জন্য রাজি হয়েছে, যেতে চাই নিজে থেকেই। আর মর্নিং শিফটে দিলে তো আপনি ভালো বলবেনই আমার ঘুম যে আপনি দেখতে পারেন না।
আপু আপনি ঠিকই বলেছেন বাচ্চারা প্রথমে স্কুলে যেতেই চায় না কিন্তু একবার যাওয়ার পরে যখন অনেক বন্ধু বান্ধব হয় তখন কি আবার নিজেরা ইচ্ছে করেই স্কুলে যায়। মিলাদে যাওয়ার জন্য ছেলে আগেই ঘুমিয়ে পড়েছে এটাতে বোঝা যায় ছেলের মধ্যে স্কুল সম্পর্কে একটা পজেটিভ মাইন্ড সৃষ্টি হয়েছে। আমার মনে হয় ছেলেকে ডে শিফটে দিয়ে অনেক ভালো করেছেন তাতে করে ছেলের সাথে সাথে আপনি ও একটু রিলাক্স এ স্কুলে যেতে পারবেন। দোয়া রইলো ছেলের জন্য সে যেন মনোযোগ দিয়ে লেখা পড়া করে এবং স্কুলে যায়। ধন্যবাদ আপু ছেলের মিলাদ নিয়ে সুন্দর একটি পোস্ট শেয়ার করার জন্য।