★পুরোনো দিনের ঘোরাঘুরি করার কিছু সুন্দর সময়★
আসসালামু আলাইকুম
আমার বাংলাব্লগের বন্ধুরা সবাই কেমন আছেন ভাল আছেন নিশ্চয়ই। আমিও আল্লাহর রহমতে ভালই আছি আলহামদুলিল্লাহ।
আজ আমি আবার আপনাদের সামনে নতুন একটি পোস্ট নিয়ে হাজির হয়ে গিয়েছি । আজকে আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করব অনেকদিন আগের কিছু ঘোরাঘুরি করার মুহূর্ত ।প্রতিদিন নতুন নতুন পোস্ট করতে হয় এজন্য সব সময় মাথার ভিতরে ঘুরপাক থাকে যে কি পোস্ট করব । আজকে সেরকম ভাবছিলাম যে কি পোস্ট করা যায় এরকম ভাবতে ভাবতে ফোন ঘাঁটাঘাটি করছিলাম । দেখি ফোনের ভিতর কিছু পাওয়া যায় কিনা দেয়ার মত । কারণ আজকাল দেখা যায় যে ফোনে অনেক পুরনো কিছু ছবিও রয়ে যায় যেগুলো পোস্ট দেওয়ার জন্য রেখে দিয়েছি অথচ এখন পর্যন্ত দেওয়াও হয়নি । এরকম কিছু ছবি আজকে আমি খুঁজতে খুঁজতে পেয়ে গেলাম ।
বেশ কিছুদিন আগে শীতের সময় আমরা ফরিদপুরে গিয়েছিলাম সেখানেই কিছু ছবি আমার ফোনের গ্যালারিতে রয়ে গিয়েছিল । যেগুলো দিব দিব করে এই পর্যন্ত রয়ে গিয়েছে । তাই ভাবলাম কি সে পুরনো দিনের ছবিগুলো আপনাদের সাথে শেয়ার করি । আমাদের ফরিদপুরে বেশ কিছু জায়গা আছে ঘোরার জন্য । যেগুলো আমাদের কাছে খুবই ভালো লাগে । আমরা একেবারে ছোটবেলা থেকে ওই সব জায়গা গুলোতে ঘুরে ঘুরে অভ্যস্ত । আর ওইসব জায়গাগুলো ফরিদপুরে গেলে আমাদেরকে খুব টানে । আমরা যারা ফরিদপুর থেকে দূরে রয়েছি তার বিশেষ করে তাদের এসব জায়গার কথা খুবই মনে পড়ে । আর এজন্য ফরিদপুরে গেলে সেখানে আমরা চলে যায় । হঠাৎ করে একদিন বিকেল বেলা আমার হাজব্যান্ড বললো যে চলো আমরা কোথাও থেকে ঘুরে আসি । ঘুরার কথা আসলে আগে ফরিদপুরের সুইচগেট ধলার মোড় এসব জায়গার কথা মনে পড়ে । তখন ভাবলাম যে সুইচগেটের আশেপাশে তো এখন আর আগের মতো সেরকম সৌন্দর্য নেই । ধলার মোড় এখন অনেক ভালো করেছে । এখানে পদ্মা নদী ভেঙে সুন্দর হয়ে গিয়েছে এবং নদীর ওপারে সুন্দর চড় জেগেছে এসব জায়গাগুলোতে ঘুরতে খুবই ভালো লাগে । নদীর মাঝখান দিয়ে নৌকা নিয়ে ঘুরতে আরো ভালো লাগে ।
আমরা ধোলার মোড় ঘুরার উদ্দেশ্যেই রেডি হতে থাকলাম । এদিকে আমার আরো এক বোন রয়েছে ওকেও খবর দিলাম ও তাড়াতাড়ি চলে আসলো যাওয়ার জন্য । পরে আমরা দুই বোন বাচ্চাকাচ্চা ও আমার হাসবেন্ড আমরা কয়েকজনের মিলে চলে গেলাম ঘোরাফেরা করার জন্য । আমরা যখন সেখানে গিয়েছি তখন সন্ধ্যা এখনো হয়ে ওঠেনি আশেপাশটা খুব ভালো পরিষ্কার দেখা গিয়েছিল । কিছু কাশফুলের গাছ ছিল যেগুলো দূর থেকে দেখা যাচ্ছিল । সেখানের কিছু ছবিও আমরা তুলে নিয়েছিলাম । তারপর আমরা পদ্মা নদীতে ভেসে বেড়ানোর জন্য একটা নৌকা ভাড়া করলাম । সেই নৌকায় করে আমরা নদীর মাঝখান দিয়ে ভাসতে থাকলাম । যদিও আমি সাঁতার জানি না । আমরা যখন নৌকায় উঠি তখন সূর্য কিছুটা ডুবে গিয়েছে । আস্তে আস্তে নৌকায় ভাসতে ভাসতে সূর্য পুরোপুরি ডুবে গেল চাঁদও উঠে গিয়েছিল । আমরা নৌকায় ভাসতে ভাসতে কখন যে মাঝ নদীতে চলে এসেছি । খেয়াল করলাম যে আমরা পদ্মা নদীর একেবারে মাঝে অবস্থান করছি । তখন ছিল নদীতে একেবারে থৈ থৈ পানি ।
এদিকে ছোট ছোট বাচ্চাগুলোকে নিয়ে গিয়েছি হঠাৎ করে নদীর দিকে তাকিয়ে বুকের ভিতরটা কেমন যেন কেঁপে উঠলো
। রাতের বেলা ছোট ছোট বাচ্চাদের নিয়ে নদীর মাঝখানে একটু ভয়ই করছিল । তারপরও চুপ করে বসে নদীটাকে উপভোগ করছিলাম ভয়টাকে দূরে সরিয়ে রেখে । কারণ এখন যদি ভয়ের কথা বলি তাহলে সবার ভেতরে একটা আতঙ্ক কাজ করবে যার কারণে চুপ করে বসে ছিলাম । পরে ঘুরছিলাম আর কিছু সুন্দর সুন্দর ছবিও তুলে নিয়েছিলাম । এরপর ঘুরে ফিরে নদীর ওপারে চলে এসে আরো কিছু ছবি তুলে নিলাম । কারণ নদীর ওখানে অনেক মানুষজন ঘুরতে আসে যার কারণে আশেপাশে কিছু রেস্টুরেন্ট ও ছোট ছোট বাচ্চাদের খেলনার দোকানে রয়েছে । যেগুলো দেখতে ভালো লাগছিল এবং অনেক লোকজন সেখান থেকে কেনাকাটা করছিল । আমরা ছোটখাটো কিছু খেলনা বাচ্চাদের জন্য কিনে নিয়েছিলাম ।
নদীর ধারে ছোট ছোট রেস্টুরেন্টগুলোতে ফুচকা চটপটি এগুলো পাওয়া যাচ্ছিল । যেগুলো আমরা ওখানে বসে খেয়ে নিয়েছিলাম । তারপর ওখানে ঘোরাফেরা করে আমরা রাতের বেলা বাসায় ফিরে আসলাম । খুব ভালো এনজয় করেছিলাম ।সেই দিন টা হঠাৎ করে মনে পড়লে খুব ভালো লাগে । আসলে এই জায়গা গুলো আমরা খুব মিস করি আর ফরিদপুর গেলে এই জায়গা গুলোতে চলে যাওয়ার চেষ্টা করি ।
আশা করছি আমার আজকের এই ব্লগটি আপনাদের সকলের কাছে ভালো লেগেছে। আজকের মত এখানেই বিদায় নিচ্ছি। সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন।
| ফটোগ্রাফার | @tauhida |
|---|---|
| ডিভাইস | samsung Galaxy s8 plus |
ধন্যবাদ
| আমি তৌহিদা, বাংলাদেশ আমার মাতৃভূমি।বাংলাদেশে আমার জন্ম।আমি আমার মাতৃভূমিকে ভালোবাসি। আমি বিবাহিতা, এক সন্তানের মা। আমি রান্না করতে ও খেতে ভালোবাসি,আমি ঘুরতেও অনেক ভালোবাসি। |
|---|
শীতের মধ্যে ফরিদপুরে গিয়েছিলেন এবং সেখানে গিয়ে অনেক ঘোরাঘুরি করেছেন করেছেন। আসলে নদীর পাড়ে বেড়াতে ভীষণ ভালো লাগে। নদীর পাড় গুলো দেখতে অনেক সুন্দর। নদীতে নৌকায় চড়তে অনেক মজা। আপনি এবং আপনার হাসবেন্ডের সাথে খুবই সুন্দর কিছু সময় কাটিয়েছে। এবং সেখানে কিছু ফটোগ্রাফি করেছেন সেটা আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন ধন্যবাদ আপনাকে।
নদীর পাড়ে ঘুরতে সবসময় খুব ভালো লাগে আমরা সুযোগ পেলেই চলে যাই ।
ফরিদপুরে এসে নদীর পাড়ে শীতের সময় ভ্রমণ করে অনেক সুন্দর সময় পার করেছিলেন ।তার কিছু স্মৃতি আমাদের মাঝে আজ তুলে ধরেছেন ।দেখে খুবই ভালো লাগলো।
নদীতে সারি সারি নৌকা আর কাশফুলের দৃশ্য সত্যিই অসাধারণ একদম নয়ন জুড়িয়ে গেল।
সেই সময়টা অনেক ভালো কেটেছিল আর কাশফুল গুলো দেখতে সত্যি অনেক সুন্দর ছিল ।
শীতের মধ্যে ফরিদপুরে গিয়ে বেশ ভালোই করেছেন আপু। নদীর ধারে এরকম কাশফুলের দৃশ্য দেখতে অনেক ভালো লাগে। আর নদীর ভেতর নৌকা নিয়ে ভ্রমণ করার মজাটাই আলাদা। নদীর ধারে বসে ফুচকা চটপটি খাওয়া বেশ মজার একটি সময় আপনি পার করেছেন আপু। ধন্যবাদ আপু।
সত্যি নদীর ধারে এরকম কাশফুলের দৃশ্য দেখতে অসাধারণ লাগে ।
জীবনটা সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে চলছে। সেই সময়ের ফাঁকে ফাঁকে আমরা সুন্দর মুহূর্ত উপভোগ করি যেগুলো অতীত হয়ে যায়। শীতকালীন সময়ে দারুন একটা সময় অতিবাহিত করেছিলেন কাশফুলের দৃশ্য গুলো দেখতে খুবই সুন্দর ছিল। ভালো লাগলো আপনার পুরনো স্মৃতি দেখতে পেয়ে।
সুন্দর সুন্দর মুহূর্তগুলো যেগুলো অতীত হয়ে যায় সেগুলো পরবর্তীতে ক্যামেরা বন্দী ছবিগুলো দেখতে ভালোই লাগে ।