★রাঙামাটি গিয়ে সুইমিং পুলে গোসল করার অনুভূতি★
আসসালামু আলাইকুম
আমার বাংলাব্লগের বন্ধুরা সবাই কেমন আছেন ভাল আছেন নিশ্চয়ই। আমিও আল্লাহর রহমতে ভালই আছি আলহামদুলিল্লাহ।
আজকে আবার আমি আপনাদের সামনে নতুন একটি ব্লগ নিয়ে হাজির হয়ে গিয়েছি ।আজকে আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করব রাঙ্গামাটিতে গিয়ে সুইমিংপুলে গোসল করার সুন্দর অনুভূতি। বেশ কিছুদিন আগে আমরা রাঙ্গামাটি ঘুরতে গিয়েছিলাম। আমরা শীতের শুরুর দিকে গিয়েছিলাম তখন ঢাকায় খুব একটা শীত পড়েনি, তবে আমরা যখন রাতের বেলা রওনা দিয়েছি তখন রাস্তায় গিয়ে বেশ খানিকটা শীত অনুভূত হয়েছিল। এর আগে রাতের বেলা রাস্তায় বের হওয়া হয়নি দেখে এতটা শীত পড়েছে সেটা বুঝতেই পারিনি। রাঙ্গামাটিতে গিয়ে পৌঁছাতে পৌঁছাতে আমাদের ভোর হয়ে গিয়েছিল তখন দেখি ওখানে অনেকটা শীত ছিল। আমরা ৪-৫ দিনের জন্য গিয়েছিলাম এজন্য আমরা আগে থেকেই ঠিক করে রেখেছিলাম আমরা রাঙ্গামাটিতে গিয়ে কোথায় কোথায় ঘুরব এবং কি করব। তারপরে যে কদিন ছিলাম বেশ ভালই এনজয় করেছি ।
আমরা তিন ফ্যামিলি মিলে গিয়েছিলাম এজন্য আরও বেশি মজা হয়েছিল কারণ কোথাও গেলে একসাথে অনেক লোকজন থাকলে আরো বেশি মজা হয়। আমরা সারাদিন ঘুরে ফিরে রাতের বেলা হোটেলে ফিরে আসতাম এবং আবার সকালবেলা নাস্তা করেই বেরিয়ে পড়তাম। প্রথম দিন আমরা বোটে করে বিভিন্ন স্পটে ঘুরে বেড়িয়েছে এবং দ্বিতীয় দিন আমরা ঠিক করে রেখেছি আমরা সকালবেলা আগে চলে যাব সুইমিংপুলে সুইমিং করতে। এজন্য যথারীতি আমরা সকালবেলা উঠেই রেডি হয়ে নাস্তা করে বেরিয়ে পড়লাম বোটে করে। এখানে কোথাও যেতে হলে বোটে করে সব জায়গায় যেতে হয়।
রাঙ্গামাটি শহরের এই সুইমিং পুলটা কাপ্তাই লেকের ভেতর দিয়ে অনেক দূরে যেতে হয় এজন্য যেতে যেতে আমাদের প্রায় দুপুর হয়ে গিয়েছিল ।আমরা চার পাঁচ দিনের জন্য যে বোট ভাড়া করেছিলাম সেটা করে আমরা ওই সুইমিংপুল পর্যন্ত গিয়েছিলাম। ওইখান আবার ওদের পুলে গোসল করতে হলে আলাদা টিকিট কাটতে হয় এবং টিকিট কাটার পরে ওদের একটি বোট থাকে সে বোট এসে আমাদেরকে সুইমিংপুলে নিয়ে গিয়ে নামিয়ে দিয়ে আসলো। এটা কাপ্তাই লেকের ভেতরেই অবস্থিত কাপ্তাই লেক থেকে বেশ খানিকটা উপরে পাহাড়ের উপরে সুইমিং পুলটা তৈরি করেছে। যেটার আশেপাশটা খুব বেশি সুন্দর এবং সিঁড়ি দিয়ে অনেকটাই উপরে উঠে যেতে হয়। সেখানে গিয়ে প্রথমে জুতা স্যান্ডেল এক সাইডে খুলে রেখে ওয়াশরুমে গিয়ে চেঞ্জ করে নিতে হয়। কেউ যদি সুইমিং করার জন্য ড্রেস নাও আনে তারা ওখানে ড্রেস ভাড়া দিয়ে থাকে।
আমিতো হোটেল থেকে ঠিক করেছি যে আমি সুইমিং করব না কারণ ওখানে আমাদের সাথে সব বাচ্চারাই সুইমিং পড়ার জন্য সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু ওরা আমাকে বারবার বলছিল যে আন্টি আপনি আপনার ড্রেস নিয়ে যান কারণ ওখানে গিয়ে আর আপনি সুইমিং না করে থাকতেই পারবেন না। আমিতো নেবোই না ওদের জড়াজড়িতে তারপরে নিয়ে গিয়েছিলাম। তবে ওখানে গিয়ে ঠিকই নামতে মন চাইছিল। আমি আমার বাচ্চা আমার হাজবেন্ড এবং আমাদের সাথে আরও চার-পাঁচজন ছেলে মেয়ে ছিল ওদেরকে নিয়ে আমরা একসাথে নেমেছিলাম এবং আরো অন্যান্য অনেক লোকজন ছিল সুইমিং পুলের ভিতরে। আমরা এতটাই মজা করেছিলাম যে ওখানে গিয়ে প্রায় তিন ঘণ্টা আমরা সুইমিং করেছি ।তারপরও আমাদের উঠতেই মন চাইছিল না। শীতের ভিতরে প্রথমে নামতে একটু ঠান্ডা লেগেছিল কিন্তু নামার পরে এতটাই ভাল লেগেছে যে আর উঠতে মন চাইছিল না। ওখানে পানির ভিতরে বিভিন্ন স্লিপারের ব্যবস্থা করা ছিল যেটার ভেতরে আমরা বারবার অনেক মজা করেছি।
ওখানে সুইমিং করার জন্য দুইটা জায়গা ভাগ করা ছিল একটাতে পানি বেশি ছিল একটাতে পানি কম ছিল ।আমরা দুটো জায়গাতেই নেমেছিলাম । যেই জায়গাটাকে পানি বেশি ছিল সেই জায়গাটিতে অনেক বেশি পানি ছিল প্রায় ডুবে যেতে হতো। একটু শর্ট যারা তাড়া পানিতে নামতে পারেনা কারণ তাদের পানি একেবারে উপর মাথার উপর দিয়ে যায় ।এজন্য আমরা কয়েকজন নেমেছিলাম একটু সাইডে সাইডে ছিলাম। গোসল করতে করতে এক পর্যায়ে আমাদের একজনের চশমা হারিয়ে গিয়েছিল ওই পানের ভেতরে ।অনেক কষ্ট করে পা দিয়ে দিয়ে আবার আমরা পেয়েছি। আমার ছোট্ট ছেলেটা জীবনে প্রথম এই সুইমিংপুলে নেমে গোসল করেছে। ও ওই পানি দেখে এতটাই এক্সাইটেড হয়ে গিয়েছিল যে একা একাই সাঁতার করার চেষ্টা করেছিলে এবং পানির মাঝখানে একবার ডুবে গিয়েছিল যদিও ওর বাবার সাথে ছিল। তারপরও আমরা ঐদিন এত বেশি এনজয় করেছি যে যা বলার অপেক্ষা রাখে না। আসলে সবাই মিলে সুইমিংপুলে গোসল করার মজাই আলাদা।
আশা করছি আমার আজকের এই ব্লগটি আপনাদের সকলের কাছে ভালো লেগেছে। আজকের মত এখানেই বিদায় নিচ্ছি। সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন।
| ফটোগ্রাফার | @tauhida |
|---|---|
| ডিভাইস | samsung Galaxy s8 plus |
ধন্যবাদ
| আমি তৌহিদা, বাংলাদেশ আমার মাতৃভূমি।বাংলাদেশে আমার জন্ম।আমি আমার মাতৃভূমিকে ভালোবাসি। আমি বিবাহিতা, এক সন্তানের মা। আমি রান্না করতে ও খেতে ভালোবাসি,আমি ঘুরতেও অনেক ভালোবাসি। |
|---|
তিন ফ্যামিলি মিলে গিয়েছেন তাহলে তো মনে হচ্ছে অনেক মানুষ। আমার কাছে যে কোন জায়গায় একা যাওয়ার থেকে সবাই মিলে একসাথে গেলে ভীষণ ভালো লাগে। যেহেতু আপনার ওখানে কয়েক দিন থেকেছিলেন তাই জায়গাটায় বেশ ভালোভাবেই ঘুরাঘুরি করেছেন। প্রথম দিন স্পিডবোটে করে ঘোরাঘুরি করেছিলেন। দ্বিতীয় দিন সুইমিং পুলে সুইমিং করেছেন। আসলে সুইমিং করার মুহূর্তটি দেখে এবং পড়ে ভালো লাগলো। আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য খুবই সুন্দর ফটোগ্রাফি করলেন দেখে ভালো লেগেছে।
কখনো কখনো ছোট ছোট অনুভূতি গুলো জীবনকে রাঙিয়ে দেয়। রাঙামাটি ঘুরতে যেয়ে সুইমিং পুলে গোসল আপনাদের রাঙিয়ে দিয়েছে। বাচ্চা কাচ্চা সহ সবাই বেশ ইনজয় করেছেন । দারুণ বর্ণনা দিয়েছেন, সুইমিং পুলে গোসলের। শুভ কামনা আপনার জন্য আপু।
রাঙামাটি গিয়ে সুইমিং পুলে গোসল করার অনুভূতি পড়ে খুবই ভালো লাগলো। সত্যিই রাঙ্গামাটির এই সুন্দর পরিবেশের মধ্যে অনেক সুন্দর সময় পার করেছেন। গোসল করা মুহূর্তটা অসাধারণ শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।
মানুষের জীবনের অনুভূতির শেষ নেই। তবে এই অনুভূতি গুলো এক একটা এক এক রকম হয়ে থাকে। আপনি রাঙ্গামাটি গিয়ে সুইমিংপুলে গোসল করা অনুভূতিটা আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন এটা পড়ে আমার কাছে খুব ভালো লাগলো। আপনার সুইমিং করার কোন ইচ্ছা ছিল না। কিন্তুু সবার জড়াজড়ি তে আপনি শেষ পর্যন্ত সুইমিং করেছেন। তিন ঘন্টা সুইমিং করার পরও আপনাদের উঠতে ইচ্ছা করছিল না। আসলে সবাই মিলে একত্রিত সুইমিং করলে খুব ভালোই লাগে। আপনার ছোট ছেলে জীবনে প্রথম সুইমিং পুলে গোসল করেছে এটা জেনে ভালো লাগলো। রাঙ্গামাটিতে সব মিলে খুব সুন্দর মুহূর্ত কাটিয়েছেন।
রাঙামাটি গিয়ে সুইমিং পুলে গোসল করার দৃশ্য দেখে আমার গোসল করতে মন চায়ছে।অনেক সুন্দর পরিবেশ।ফটোগ্রাফি ও অনুভূতি শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ।
সুইমিং পুলে ঢাকা থাকতে আমিও বেশ কয়েকবার গোসল করেছি ভালই লাগে বন্ধুরা মিলে একসাথে গেলে।।
তবে ছোটবেলায় যখন বন্ধুদের সাথে নদীতে গোসল করতাম সাঁতার কাটতাম তখনকার মতো মজা ওখানে গিয়ে পেলাম না।।
আপনারা নিশ্চয়ই অনেক সুন্দর সময় অতিবাহিত করেছেন।।
যেহেতু আপনারা তিন ফ্যামিলি মিলে রাঙ্গামাটি গিয়েছিলেন তাই বেশ ভালোই মজা করেছিলেন দেখে বুঝতে পারছি। আসলে যে কোন জায়গায় সবাই মিলে গেলে একটু বেশি ভালো লাগে এবং ভালোই এনজয় করা যায়। আপনারা তো দেখছি রাঙ্গামাটি গিয়ে সুইমিংপুলে সুইমিং করার মুহূর্ত খুবই সুন্দরভাবে শেয়ার করলেন। এরকম একটা অনুভূতি মূলক পোস্ট পড়ে ভালো লাগলো। বেশ ভালোই এনজয় করলেন তাহলে।
রাঙামাটি গিয়ে সুইমিং পুলে গোসল করার অনুভূতি পড়ে খুবই ভালো লাগলো। বেশ চমৎকারভাবে আপনার অনুভূতিগুলো আমাদের মাঝে তুলে ধরেছেন। আপনার অনুভূতিগুলো পড়ে খুবই ভালো লাগলো। শুভকামনা রইলো আপনার জন্য।
আপু আপনারা তিন ফ্যামিলি মিলে ঘুরতে গিয়েছিলেন জেনে সত্যি ভাল লাগল। যদিও এই বিষয়ে এর আগে পোস্ট দেখেছিলাম। তবে আজকে সুইমিংপুলে গোসল করার অনুভূতি সম্পর্কে জেনে ভালো লাগলো আপু। আসলে এরকম কোন জায়গায় গিয়ে সময় কাটালে অনেক ভালো লাগে। যদিও অনেক আগে রাঙ্গামাটি গিয়েছিলাম। অনেক অনেক শুভকামনা রইল আপু।