★বার্থডে গিফ্ট কিনতে যাওয়া★
আসসালামু আলাইকুম
আমার বাংলাব্লগের বন্ধুরা সবাই কেমন আছেন ভাল আছেন নিশ্চয়ই। আমিও আল্লাহর রহমতে ভালই আছি আলহামদুলিল্লাহ।
আজকে আমি আবার হাজির হয়ে গেলাম আপনাদের সামনে নতুন একটি ব্লগ নিয়ে । আজকে আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করব ফানার ভাই মানে আমার পাশের বাসার ভাবির ছেলের বার্থডে উপলক্ষে গিফট কেনার মুহূর্ত । একমাস ধরে আমার ছেলেটা প্রস্তুতি নিচ্ছে যে ওর ভাইয়ের জন্মদিন তাই সে কি গিফট দিবে । তাকে সারপ্রাইজ দিবে সেটা তার জন্য একটি বিরাট ব্যাপার কারণ সে কাউকে যে সারপ্রাইজ দিবে সেটাই তার কাছে ভালো লাগছে । ওদের বাসার সবাই সবসময় ওদের জন্মদিন উপলক্ষে গিফট কিনে নিয়ে আসে, এসে আমার বাসায় লুকিয়ে রাখে এবং সেটা রাত বারোটা বাজলে ওরা সারপ্রাইজ দিয়ে থাকে আমার বাসা থেকে নিয়ে । সেটা দেখে আমার ছেলেটা শিখেছে সেজন্য ও গিফট কিনে এনে আবার লুকিয়ে রাখবে ওর জন্মদিনের দিন সেটা ওকে সারপ্রাইজ দিবে ।
কি কিনবে কি কিনবে সেটাই চিন্তা করছিল প্রথমে ভেবেছিলাম যে পারফিউম জাতীয় কিছু কিনে দিবে । পরে ভাবলাম যে ওরা আবার চকলেট অনেক বেশি পছন্দ করে এজন্য ভাবলাম যে চকলেট কিনে দেই । এজন্য আমি আর আমার হাজবেন্ড দুজনে মিলে চকলেট কিনতে চলে গেলাম ।আমাদের এলাকাতে খুব সুন্দর বড় একটি চকলেট এর শোরুম দিয়েছে । দোকানটা বাইরে থেকে দেখতে অনেক সুন্দর ভেতরটা আরো অনেক বেশি সুন্দর । তাই ভাবলাম যে নতুন দোকানটা যেহেতু দিয়েছে সেখানে থেকেই কিনি । ছেলেকে আর নিয়ে গেলাম না কারণ সে ওই বাসাতেই রয়েছে জন্মদিনের আয়োজন করায় ব্যস্ত রয়েছে । এজন্য আমরা দুজনে মিলে চলে গেলাম হাঁটতে হাঁটতে সেই দোকানে । সেখানে গিয়ে বিভিন্ন ধরনের চকলেট দেখে আমারই লোভ হচ্ছিল কোনটা রেখে কোনটা নেই । সেই ফাঁকে আমি কয়েকটি ছবিও তুলে নিলাম আপনাদের সাথে শেয়ার করার জন্য । কিন্তু এখানের চকলেট গুলোর অনেক বেশি দাম মনে হল আমার কাছে । ছোট্ট এক প্যাকেট চকলেট যার প্রাইস টা দেখলাম অন্যান্য জায়গা থেকে দ্বিগুণ । দোকানটা ভালো তবে এখানে ওদের প্রাইস টা অনেক বেশি হাই মনে হলো আমার কাছে ।সেজন্য আমরা সেখান থেকে চকলেট না নিয়ে আমাদের টুইন টাওয়ার মার্কেটে নিচে একটি চকলেটের দোকান রয়েছে সেখানে গিয়ে কিছু চকলেট কিনে নিলাম ।
এখানে সব সময় কেনাকাটা করি এবং এটায় অনেক রিজনেবল প্রাইজ রাখে ,যেটা আমাদের কাছে ভালো লাগে জন্য আমরা এখানেই আসি । এখানে আবার দেখলাম যে কফির ব্যবস্থাও আছে । সেখান থেকে আবার আমি কফিও খেয়ে নিলাম তারপর চকলেটের প্যাকেট নিয়ে বাসায় চলে এলাম । ছেলেকে সাথে সাথে ডেকে এনে ওকে দেখালাম । আমি দোকান থেকে রেপ করে আনি নাই কারণ ছেলেটাকে দেখানোর পরে রেপিং করব ভেবেছি । এরপর ছেলেটাকে ডাকলাম ও তো চকলেট গুলো পেয়ে খুবই খুশি । ওর জন্য একটা কিনে এনেছি আলাদা করে ও সেটাও প্যাকেটে দিয়ে দিবে তারপর সেটা আমি ওকে খেতে বললাম সে খুশি হয়ে খুলে নিলো । এরপর প্রত্যেকটা জিনিস দেখে খুবই খুশি হলো এবং সে খুবই এক্সাইটেড যে কখন সে গিফটটা দিবে ও কখন খাবে । কারণ ও জানে যে এই চকলেট গুলো ওরাই তিন ভাই ব মিলেই খাবে । এই কারণে তার আরো বেশি খুশি লাগছে ।
তারপর আমি আমার ছেলে আর ছেলের বাবা তিনজন মিলে খুব সুন্দর করে রেপিং পেপার দিয়ে সুন্দরভাবে প্যাকেট করলাম । তারপর ছেলেটা সে প্যাকেটটা নিয়ে কোথাও একটা লুকিয়ে রাখল । যখন যাবে তখন সে গিফটটা দিবে । আবার আমরা বলে রেখেছি যে তুমি আগে থেকে ওকে বলবা না কিন্তু সে বলবেই । সে বাসায় গিয়ে ওর বোনকে ডেকে নিয়ে এসেছে গিফট টা দেখানোর জন্য । বারবার বলছে খুলে তাকে দেখাও কিন্তু ওর বোন দেখেনি বলেছি যে একবারে যখন দিবে তখন দেখবে । পরে ও আমাকে বারবার বলছে যে মা ওগুলো তো আমার খেতে ইচ্ছা করছে তুমি কিছু একটা করো । পরে আমি অনেক বুঝিয়ে শুনিয়ে চকলেট গুলো রেখে দিয়েছি । তারপর ওকে চকলেট গুলো পরের দিন গিফট করে দিল এবং সেখান থেকে সে নিজেও কি কি খাবে সেটার ভাগ বসলো এটাই আনন্দ ।
আশা করছি আমার আজকের এই ব্লগটি আপনাদের সকলের কাছে ভালো লেগেছে। আজকের মত এখানেই বিদায় নিচ্ছি। সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন।
| ফটোগ্রাফার | @tauhida |
|---|---|
| ডিভাইস | samsung Galaxy s8 plus |
ধন্যবাদ
| আমি তৌহিদা, বাংলাদেশ আমার মাতৃভূমি।বাংলাদেশে আমার জন্ম।আমি আমার মাতৃভূমিকে ভালোবাসি। আমি বিবাহিতা, এক সন্তানের মা। আমি রান্না করতে ও খেতে ভালোবাসি,আমি ঘুরতেও অনেক ভালোবাসি। |
|---|
বাচ্চাগুলো এমনি হয়,সেদিন আমার ননাসের ছেলের জন্য একটা গাড়ি কিনেছিলাম।আমার ছেলে বাসায় আসার পর বলছে ওর গাড়িটা বেশ পছন্দ হয়েছে গাড়িটা বাবুকো দিতে ইচ্ছে করছে না।আমাকে বলছে মা ও তো ভেঙে ফেলবে গাড়ি নিয়ে।অনেক বুঝিয়ে তারপর দিয়ে দিয়েছি।যাই হোক আসলে চকলেটের দোকানে গেলে লোভ সামলানো বেশ কঠিন।যাই হোক জন্মদিনে গিফট দিতে পেরেছে নিজে না রেখে তাই অনেক।আসলে বাচ্চা বলে কথা।ভালো লাগলো।ধন্যবাদ
একদম তাই আপু বাচ্চারা তো আর ওসব বুঝেনা মনে করে যে এটা ওরই । চকলেটের দোকানে গেলে একেবারে প্রত্যেকটা জিনিসের প্রতি লোভ লেগে যায় ।
বার্থডে গিফ্ট কিনতে যাওয়া অনুভূতি খুব সুন্দর করে আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন। ছোট বাচ্চারা এমনই হয় তাদের কাছে সবকিছুই ভালো লাগে। আপনার পাশের বাসার ভাবির ছেলের জন্য গিফট ক্রয় করার অনুভূতি। এত চমৎকার ভাবে আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই।
আমার পোস্টটি পড়ে আপনি সুন্দর একটি মন্তব্য করেছেন দেখে ভালো লাগলো । ধন্যবাদ আপনাকে ।
ছোট বাচ্চারা চকলেট খেতে খুবই পছন্দ করে। বার্থডে গিফট হিসেবে ছোট বাচ্চাদের চকলেট দিলে তারা অনেক বেশি খুশি হয়। তাছাড়া গিফট লুকিয়ে রেখে রাত বারোটার পর সারপ্রাইজ দেওয়ার বিষয়টি আমার কাছে খুবই ভালো লেগেছে। শুভকামনা রইল আপনার জন্য।
ঠিক বলেছেন চকলেট পেলে সব বাচ্চারাই অনেক খুশি হয় আমার নিজের কাছেও ভালো লাগে ।
আসলে ছোট বাচ্চারা এরকম বিষয় নিয়ে একটু বেশি উৎসাহিত থাকে। আচ্ছা চকলেট এর ব্যাপারে তো আরো বেশি এক্সাইটেড। ছোট বাচ্চারা সব সময় এরকমই হয়। আপনার ছেলে তো দেখছি তার ওই ভাইটাকে গিফট দেওয়ার জন্য অনেক বেশি উৎসাহিত ছিল। পাশের বাসার ভাবির ছেলের সাথে তাহলে আপনার ছেলের বেশ ভাব এটা তো পোস্টটা পড়েই বুঝতে পেরেছি। বার্থডে গিফট কিনতে যাওয়ার অনুভূতিটা বেশ ভালোই উপভোগ করলাম।
গিফট দিতে সে খুবই পছন্দ করে গিফট কেনার জন্য একেবারে অনেক আগে থেকেই অস্থির হয়েছিল । ভাব মানে ওই বাসায় তার সবকিছু নিজের বাসা থেকে ওই বাসাতেই বেশি সময় কাটায় ।
ছোট বাচ্চারা জন্ম দিন আসলে তারা অনেক খুশি থাকে। তাদের চোখে মুখে অনেক আনন্দ থাকে। পাশের বাসায় ভাবির ছেলের জন্মদিনে আপনি তাকে চকলেট গিফট করেছেন। যদি এ ধরনের গিফট ছোট বাচ্চারা পায় তারা অনেক খুশি হয়। ছোট বাচ্চাদের মনটা সতেজ থাকে। ভালো কিছু গিফট পেলে তারা অনেক খুশি হয়ে যায়। তাদের বাসার লোক গুলো গিফট কিনে এনে আপনার বাসায় রাখে রাত্রে বাচ্চাকে দেওয়া জন্য জন্মদিনে। সুন্দর করে পোস্টটি আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ আপনাকে।
ছোট বাচ্চা কেন আমরা বড়রাও এ ধরনের চকলেট গিফট পেলে অনেক খুশি হই । বিশেষ করে আমার কাছেও ভালই লাগে ।
আমরা নিজেরা যদি কাউকে বার্থডে গিফট দেওয়ার কথা ভাবি, তখন আমাদের নিজের কাছেই অনেক বেশি ভালো লাগে। আর বাচ্চারা তো আরো বেশি পছন্দ করবে এই বিষয়টা এবং কি উৎসাহিত হবে। আর বাচ্চারা এমনিতেই চকলেট খেতে অনেক পছন্দ করে। এভাবে গিফট যদি লুকিয়ে রাখা হয়, আর সময়মতো উপহার হিসেবে দিলে তখন অনেক ভালো লাগবে। অনুভূতিটা সত্যি অনেক আনন্দের ছিল।
ঠিকই বলেছেন আপু গিফ্ট কিনে লুকিয়ে রেখে সারপ্রাইজ দেওয়াটা আমার কাছেও খুব ভালো লাগে অন্যরকম একটি আনন্দ হয় ।
আজকে আমাদের মাঝে অনেক সুন্দর একটি পোস্ট শেয়ার করেছেন আপনি। যেখানে জন্মদিন উপলক্ষে গিফট প্রদানের জন্য কেনাকাটার অসাধারণ অনুভূতি শেয়ার করেছেন। আসলে এ জাতীয় পোস্টগুলো আমার অনেক ভালো লাগে। আর এর মধ্যে অনেকের অনেক আশা প্রত্যাশা ভালোলাগা লুকিয়ে থাকে। বাচ্চাটার জন্য দোয়া করি যেন তার প্রত্যেকটা দিন হয় রঙিন এবং আনন্দময়।
আমার পোস্টটি পড়ে আপনার ভালো লেগেছে এবং আপনি সুন্দরভাবে মন্তব্য করে পাশে থেকেছেন দেখে ভালো লাগলো । ধন্যবাদ আপনাকে ।