★নিজ গন্তব্যে ফিরে আসা★

in আমার বাংলা ব্লগ3 years ago

আসসালামু আলাইকুম



আমার বাংলাব্লগের বন্ধুরা সবাই কেমন আছেন ভাল আছেন নিশ্চয়ই। আমিও আল্লাহর রহমতে ভালই আছি আলহামদুলিল্লাহ।




আজ আমি আবার আপনাদের সামনে নতুন একটি ব্লগ নিয়ে উপস্থিত হয়েছি। আজকে আমি আপনাদের সাথে নিজ গন্তব্যে ফিরে আসার কিছু মুহূর্তের ফটোগ্রাফি শেয়ার করব। এইবার ঈদের ছুটিতে ঢাকা না থেকে ফরিদপুরে গিয়েছিলাম আমাদের বাসাতে আম্মার সাথে ঈদ করার জন্য। আমরা ফরিদপুরে মোট ১০ দিন ছিলাম । বাবাকে হারিয়ে এবার আমাদের প্রথম ঈদ ছিল সব দিক দিয়েই কষ্টকর ছিল। তারপরও সময়টাকে আমরা একটু উপভোগ করার চেষ্টা করেছি। আমরা যখন ঢাকায় থাকি তখন তো বাসার ভেতরে বন্দী থাকি তেমন একটা ঘোরাফেরা হয় না। এবার ঈদে নানা বাড়ি দাদা বাড়ি সব জায়গায় ঘুরে বেরিয়েছি। সবাই মিলে ভালই একটু ঘোরাফেরা হলো অনেকদিন পরে। এই ঘোরাফেরার মাধ্যমে আমাদের সেই ছোটবেলার কথা মনে পড়ে গেল। কারণ ছোটবেলায় আমাদের ঈদ আসলে আমরা অনেক বেশি আনন্দ করতাম। হাতে মেহেদি পড়তাম এবং ঈদের দিন রিকশায় করে ঘুরাঘুরি ও ঈদের পরদিন পর্যন্ত এই ঘোরাঘুরি চলতো। এবার অবশ্য ঈদের দিন ঘুরতে পারিনি তবে ঈদের পরদিন অনেক ঘুরে বেড়িয়েছি, ভালোই ছিল সময়টা।

20230430_223357.jpg

20230430_223343.jpg


দেখতে দেখতে আমাদের আবার যান্ত্রিক জীবন মানে ঢাকায় চলে আসার সময় হয়ে গিয়েছে। প্রতিবার যখন আসি তখন তো আম্মাকে রেখে আসি ভালো লাগে না। মনে হয় যে আরো কটা দিন থেকে যায় । কিন্তু এইবার আগে থেকে ঠিক করে রেখেছিলাম এবার গিয়ে আসার সময় আম্মাকে সাথে করে নিয়ে আসব। বাবা ছাড়া আম্মা আর ভাই বাসায় একা থাকে। ভাই তো সারাদিন ওর কাজ কাম নিয়েই ব্যস্ত থাকে। আর আম্মার একা একা সারাটা দিন পার করতে হয়। এজন্য ভাবলাম কিছুদিন আমার বাসায়, বোনের বাসায় বেড়ালে ভালো লাগবে। তাই সাথে করে নিয়ে এসেছি।

20230430_223417.jpg

20230430_223328.jpg


আমরা সকাল বেলায় আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম কারণ ঝড় বৃষ্টির দিন । আর আমাদের একটা বাজে অভ্যাস কি আমরা সকালবেলা ঘুম থেকে উঠতে পারি না তাই দুপুরের দিকে টিকিটটা কেটে এনেছি। সাড়ে বারোটায় আমাদের টিকিট ছিল। আমরা যথারীতি সকাল দশটায় ঘুম থেকে উঠে নাস্তা টাস্তা করে রেডি হয়ে তারপর বাসা থেকে বের হয়েছি। আমরা ঠিক টাইম মতই বের হয়েছি কিন্তু বাসস্ট্যান্ডে এসে আধা ঘন্টা লেট করে বাস ছেড়েছে। শুধু শুধু আমরা তাড়াহুড়ো করে বাসা থেকে বের হই সব সময় বাস একটু লেট করেই ছাড়ে। আমরা কাউন্টারে বেশ খানিকটা সময় বসে ছিলাম । এখানে বসতে অতটা খারাপ লাগে না কারণ খুব সুন্দর করে ওরা এসি রুমের ব্যবস্থা করেছে যাত্রীদের জন্য এবং ওয়াশরুমটাও আমার কাছে অনেক ভালো লেগেছে। সবকিছু মিলিয়ে ভেতরের পরিবেশ ততটা খারাপ ছিল না ভালোই ছিল। নতুন অবস্থায় তো তাই সবকিছু ভালোই থাকে।

20230430_223316.jpg


বাস আসলে আমরা বাসে উঠে যাই আমার ভাই আমাদেরকে বাসে উঠিয়ে দিয়ে আসে। রাস্তায় চলতে চলতে বেশ কিছু ছবিও আমি তুলে নিয়েছি। প্রতিবার বাসে উঠলে আমি ঘুমিয়ে পড়ি। এবার আর ঘুম আসেনি রাস্তাটা দেখতে দেখতে এসেছি। পদ্মা ব্রিজ দিয়ে যখন পার হয় তখন খুব সুন্দর একটি অনুভূতি হয়। বাতাসে মনে হয় কি যে গাড়ির ভিতর থেকে বুঝি আমাদেরকে উড়িয়ে নিয়ে যাবে খুবই ভালো লাগে পদ্মা সেতু পার হতে। তারপর আবার এইবার আম্মা ছিল সাথে এজন্য আরো বেশি ভালো লেগেছে। সব সময় আম্মা আব্বু দুজনকে যখন রেখে আসি তখন রাস্তা দিয়ে যেতে খুব কষ্ট লাগে। এবার তো আব্বু নেই তাই আম্মাকে সাথে করে নিয়ে এসেছি তাই ভালোই লেগেছিল পুরা রাস্তাটা। আমরা যখন ঢাকায় এসে পৌঁছায় তখন সাড়ে তিনটা বেজে গিয়েছে। এবার আমার হাজব্যান্ড আমাদেরকে নিতে আসেনি ইচ্ছা করেই ওকে বলেছি যে আমরা একাই যেতে পারবো। তাই আমরা বাস থেকে নেমে একটি সিএনজি নিয়ে আমাদের বাসার উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে গেলাম। আমরা অল্প সময়ের ভিতরেই বাসায় চলে এসেছি ।সবকিছু মিলিয়ে রাস্তার জার্নিটা মোটামুটি ভালই ছিল।

animasi-bergerak-terima-kasih-0078.gif

আশা করছি আমার আজকের এই ব্লগটি আপনাদের সকলের কাছে ভালো লেগেছে। আজকের মত এখানেই বিদায় নিচ্ছি। সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন।

ফটোগ্রাফার@tauhida
ডিভাইসsamsung Galaxy s8 plus

ধন্যবাদ

@tauhida

আমি তৌহিদা, বাংলাদেশ আমার মাতৃভূমি।বাংলাদেশে আমার জন্ম।আমি আমার মাতৃভূমিকে ভালোবাসি। আমি বিবাহিতা, এক সন্তানের মা। আমি রান্না করতে ও খেতে ভালোবাসি,আমি ঘুরতেও অনেক ভালোবাসি।

logo.gif

@tauhida

2N61tyyncFaFVtpM8rCsJzDgecVMtkz4jpzBsszXjhqan9xBEnshRDSVua5J9tfneqYmTykad6e45JWJ8nD2xQm2GCLhDHXW9g25SxugWCoAi3D22U3571jpHMFrwvchLVQhxhATMitu.gif

Sort:  
 3 years ago 

বাবাকে ছাড়া প্রথম ঈদ অনেক কষ্টে কেটেছে বুঝতে পারছি আপু। আসলে কিছু কিছু অপূর্ণতা আছে যেগুলো আর কখনোই পূর্ণ হবে না। হয়তো মনের মাঝে অনেক কষ্ট জমা হবে। কিন্তু সেই প্রিয় মানুষটিকে আর কখনো ফিরে পাবেন না। যাই হোক আপনার মায়ের সাথে এবং সবার সাথে ঈদ করেছেন জেনে ভালো লাগলো। ঈদের ছুটি শেষ হওয়ার সাথে সাথে আবারো নিজের পুরনো জীবন যান্ত্রিক শহরে ফিরতেই হবে আপু। তাইতো আপনিও ফিরেছেন।

 3 years ago 

আমার পোস্টটি পরে সুন্দর একটি মন্তব্য করার জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ আপু।

 3 years ago 

বাবাকে ছেড়ে এই প্রথম ঈদ করলেন।কষ্টটা সারাজীবন ই মনে থেকে যাবে।যাক আম্মাকে নিয়ে এবার ঢাকা চলে এসে ভালো ই করেছেন।একটু ঘোরাফেরা করলে আপনার আম্মার ভালো লাগবে।আপনি খুব সুন্দর ফটোগ্রাফি করেছেন,বেশ ভালো লাগলো। আর রাস্তা এখনো ফাঁকা তাইতো কোনো কষ্ট হয়নি এবার।সুন্দর অনুভূতি গুলো শেয়ার করার জন্য অনেক ধন্যবাদ আপু।

 3 years ago 

আমার ফটোগ্রাফি গুলো আপনার ভালো লেগেছে যেনে সত্যি অনেক ভালো লাগলো ।আর ঈদের পরপর রাস্তাগুলো ভালোই ফাঁকা থাকে।

 3 years ago 

সত্যি আপু কারো যদি বাবা-মা না থাকে তখন ঈদের সময় বা বাড়িতে গেলে সেই অনুভবটি বুঝা যায়। যাইহোক ফরিদপুরে নিজের জন্মভূমিতে গিয়ে ঈদ করেছেন শুনে খুশি হলাম। ঈদের পরের দিন হইতে ঘুরাঘুরি এবং এদিক ওদিক গেলেন শুনে ভালো লাগলো। আসলে আপু যখন ঘুরাঘুরি করলেন তখন ছোটকালের কথা সত্যি অনেক বেশি মনে পড়ে গেল মনে হয়। যাইহোক সুন্দর মতে ঢাকা এসে পৌঁছেছেন শুনে খুব ভালো লাগলো। সাথে আপনার মাকে নিয়ে আসলেন খুব ভালোই করলেন। মা-বাবা সেবা করা ছেলে এবং মেয়েদের কর্তব্য।

 3 years ago 

একদম ঠিক বলেছেন আপু থাকতে মানুষ মর্ম বোঝে না না থাকলে তখন বোঝা যায় যে কতটা কষ্টকর । অনেক ধন্যবাদ সুন্দর একটি মন্তব্য করে পাশে থাকার জন্য।

 3 years ago 

বাবাকে ছাড়া আপনার এবং পরিবারের ঈদ করতে কষ্ট হয়েছে। এর আগের ঈদে আপনাদের সাথে আপনার বাবা ছিল এই কারণে হয়তো খারাপ লাগতেছে। তবে যারা শহরে থাকে তারা ঈদ করতে গ্রামে গেলে তাদের কাছে বেশি ভালো লাগে বিশেষ করে গ্রামের পরিবেশ। ঈদের পরের দিন হইতে ঘুরাঘুরি করলেন। যাক পরিবারের সাথে ঈদ করে খুব সুন্দর করে নিজের গন্তব্য এসে পৌঁছেছেন শুনে খুব ভালো লাগলো। এবং আসার সময় আপনার মাকে নিয়ে এসেছেন । এবং খুব ভালোই করলেন। আপনার গন্তব্য ফিরে আসা পোস্ট পড়ে খুব ভালো লাগলো।

 3 years ago 

আমার পোস্টটি পড়ে সুন্দর একটি মন্তব্য করার জন্য সত্যি অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।

 3 years ago 

আপু বাবা-মা আসলে কেউই চিরদিন পৃথিবীতে বেঁচে থাকেনা। আর বাবা মা ছাড়া যে ঈদ করা কত কষ্টের সেটা আমার চেয়ে কেউ ভালো উপলব্ধি করতে পারে না। যাইহোক আন্টিকে ঢাকায় নিয়ে ভালই করেছেন। বেশ ভালো কাটবে তার সময় গুলো।

 3 years ago 

আসলেই অনেক কষ্টকর ছিল আপু। ধন্যবাদ আপনাকে মন্তব্য করে উৎসাহ দেওয়ার জন্য।

 3 years ago 

ঈদ শেষ করে ঢাকা যাওয়ার সময় আপনার আম্মা কে নিয়ে গিয়ে ভালোই করেছেন আপু।আসলে আপনার আম্মা যেহেতু বাসায় একা থাকে,আপনার ভাই তার কাজ নিয়ে ব্যস্ত এজন্য।তাই অনেক ভালো সময় পার করবে আন্টি।আপনার বাসা এবং আপনার বোনের বাসায় গিয়ে।আর যান্ত্রিক শহরে তো যেতেই হয় প্রয়োজনের তাগিদে ,গ্রামের সুন্দর মুহূর্ত গুলো ছেড়ে।ঈদের সময় কেটে গেল এজন্য ভালো লাগেনা আমার।ধন্যবাদ আপু সুন্দর পোস্টটি শেয়ার করার জন্য।

 3 years ago 

ঈদের সময় গুলো যে কখন কথা দিয়ে চলে যায় টেরই পাওয়া যায় না। ধন্যবাদ মন্তব্য করার জন্য।

 3 years ago 

সব থেকে ভালো করেছেন আন্টিকে সাথে নিয়ে এসে। এবার দেখবেন আপনাদের দুজনারি সময়টা অনেক ভালো কাটছে। আর বাচ্চাদের আনন্দটাও বাড়বে। পদ্মা সেতু হওয়ার জন্য আপনাদের ওই দিক থেকে ঢাকায় যাতায়াত টা বেশ আরামদায়ক হয়ে গেছে। সুস্থভাবে যে বাড়িতে পৌঁছেছেন এটাই বড় কথা। অনেক শুভেচ্ছা রইলো আপু।

 3 years ago 

আসলেই পদ্মা সেতু হওয়ার কারনে আমাদের অনেক সুবিধা হয়েছে অল্প সময়ের ভিতরে আমরা যাওয়া আসা করতে পারি। অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া মন্তব্য করে পাশে থাকার জন্য।

 3 years ago 

আপু আপনার পোস্টটি পড়ে আমার খুবই ভালো লেগেছে। বিশেষ করে ঈদ উপলক্ষে আপনি আপনার নানু বাড়ি এবং দাদা বাড়িতে ঘুরে বেড়িয়ে নিশ্চয় অনেক আনন্দ উপভোগ করেছেন। যাহোক, শেষ পর্যন্ত যা আপনি সহিসালামতে আপনার নিজ গন্তব্যে পৌঁছাতে পেরেছেন এটা জানতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত। আপু আপনার পরিবারের জন্য অনেক অনেক শুভকামনা রইল।

 3 years ago 

সব জায়গায় ঘুরে আসলেই অনেক মজা হয়েছিল অনেকদিন পরে। ধন্যবাদ ভাইয়া।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.33
JST 0.105
BTC 64643.36
ETH 1912.74
USDT 1.00
SBD 0.37