এক অকৃতজ্ঞের গল্প শেষ পর্ব

in আমার বাংলা ব্লগ3 years ago

আসসালামু আলাইকুম



আমার বাংলাব্লগের বন্ধুরা সবাই কেমন আছেন ভাল আছেন নিশ্চয়ই। আমিও আল্লাহর রহমতে ভালই আছি আলহামদুলিল্লাহ।



Picsart_23-10-20_01-45-08-339.png


আজ আমি আবার আপনাদের সামনে নতুন একটি ব্লগ নিয়ে হাজির হয়ে গিয়েছি । আজকে আমি আপনাদের সাথে একটি গল্প শেয়ার করে নেব । আসলে গল্পগুলো লিখতে আমার কাছে খুব ভালো লাগে সেটা নিজের মতো বানিয়ে হোক অথবা কারো জীবন কাহিনীই হোক । অনেক সময় মানুষের জীবনে এমন অনেক সুন্দর সুন্দর ঘটনা রয়েছে যেগুলো গল্প আকারে লিখলে সত্যি পড়তে খুব ভালো লাগে ।আমার তো সবাই যখন গল্প লেখে সেটা পড়তে খুব ভালো লাগে ।ফেসবুক ঘাটতে ঘাটতে এমন অনেক ছোট ছোট ঘটনা ও গল্প সামনে আসে সেটা আমি খুব মনোযোগ সহকারে পড়ি । আমিও চেষ্টা করি আপনাদের সাথে মানুষের জীবনের ছোট ছোট কিছু কাহিনী গল্প আকারে লিখতে । আজও সেরকম একটি ছোট্ট কাহিনী আপনাদের সামনে তুলে ধরব । গত পর্বে শেষ করেছিলাম পিঙ্কির বাবা মিলনের বিষয়টা নিয়ে কারো সাথে আলাপ করে না । এখন তার পর থেকে শুরু করছি ।


সারারাত সে এটা নিয়ে ভাবতে থাকে কিন্তু সে এ ব্যাপারে কারো সাথে কোন আলাপ করে না রাগে নিজে নিজেই কষ্ট পেতে থাকে । তারপর যথারীতি পরদিন সেতু যখন স্কুলে যাচ্ছে তখন সেতুর বাবা সেতুর সাথে যায় । সেতুর মা এবং সেতু দুজনই খুব অবাক হয় । কেন সে সেতুকে নিয়ে স্কুলে যেতে চাইছে কিন্তু সেতুর বাবা তারপরও কিছু বলে না ।


সেতুর বাবা মেয়েকে স্কুলে নিয়ে স্কুলের গেটের ভিতরে ঢুকিয়ে দেয় । স্কুলের ভিতরে ঢোকার পরে পেছনের দিকে তাকালে গেটের বাইরে সবকিছু পরিষ্কারভাবে দেখা যায় । সেতু স্কুলের ভিতরে ঢুকে পড়ল এবং এবং সেতুর বাবা গেটের বাইরেই রয়ে গেল । তখন সেতুর বাবা দেখল যে মিলন একটা রিক্সায় করে ওর স্কুলে এসেছে । সেটা দেখে সেতুর বাবা মিলন কে রিকশা থেকে টেনে নামিয়ে প্রচন্ড রকম ভাবে এসে মারতে থাকে । সে এতটাই রেগে গিয়েছিল যে সে তাকে অনেক মারে । সেতুর বাবা শান্ত কিন্তু একবার রেগে গেলে তাকে কিছুতেই থামানো যায় না । পরে আশেপাশের লোকজন এসে তাকে থামায় ।


এদিকে সেতু স্কুলের ভিতর থেকে তার বান্ধবীদের কাছ থেকে শুনে তোর বাবার কি হয়েছে সে কেন একটি ছেলেকে মারছে ।এটা শুনে সেটু দৌড়ে আসে এবং সে দেখে যে তার বাবা মিলন কে প্রচন্ড রকম ভাবে মারধর করছে । তারপর স্কুল থেকে সেতুর বাবা সেতুকে নিয়ে বাসায় আসার পরে সব কাহিনী সেতুর মা ও সেতু দুজনে জানতে পারে । ওরা মিলনকে অনেক গালিগালাজ করে এবং তাকে দোকান থেকে বের করে দেয়া হয় । মানুষ আসলে কতটা অকৃতজ্ঞ হলে এরকম কাজ করতে পারে । যাকে আদর করে ভালোবেসে পিংকির বাবা দোকানে রেখে দিল আর সেই তার অগোচরে ক্ষতি করার চেষ্টা করল ।আসলে আজকালকার দিনে কোন মানুষকে বিশ্বাস করা একেবারেই ঠিক নয় কিছু কিছু ঘটনা সেটাই প্রমাণ করে দেয় ।

animasi-bergerak-terima-kasih-0078.gif

আশা করছি আমার আজকের এই ব্লগটি আপনাদের সকলের কাছে ভালো লেগেছে। আজকের মত এখানেই বিদায় নিচ্ছি। সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন।

ফটোগ্রাফার@tauhida
ডিভাইসsamsung Galaxy s8 plus

ধন্যবাদ

@tauhida

আমি তৌহিদা, বাংলাদেশ আমার মাতৃভূমি।বাংলাদেশে আমার জন্ম।আমি আমার মাতৃভূমিকে ভালোবাসি। আমি বিবাহিতা, এক সন্তানের মা। আমি রান্না করতে ও খেতে ভালোবাসি,আমি ঘুরতেও অনেক ভালোবাসি।

logo.gif

@tauhida

2N61tyyncFaFVtpM8rCsJzDgecVMtkz4jpzBsszXjhqan9xBEnshRDSVua5J9tfneqYmTykad6e45JWJ8nD2xQm2GCLhDHXW9g25SxugWCoAi3D22U3571jpHMFrwvchLVQhxhATMitu.gif

Sort:  
 3 years ago 

সত্যি বলতে মানুষের মাঝে কৃতজ্ঞতা অনেক কমে গিয়েছে। যার যার স্বার্থ মনে নিয়ে চলছে সবাই। কৃতজ্ঞতা স্বীকারকারী লোক বর্তমানে খুব একটা পাওয়া যাবে না। আর যারা উপকার করবে দেখা যাবে তাদেরই ক্ষতি করে এরা।

 3 years ago 

একদম তাই আজকালকার বেশিরভাগই মানুষই অকৃতজ্ঞ । কৃতজ্ঞতা কখনোই স্বীকার করে না ।

 3 years ago 

আপু আপনার গল্পের আগের দুই পর্ব পড়েছিলাম। শেষ পর্বের জন্য বেশ অপেক্ষায় ছিলাম।আজ শেষ টা পড়ে বেশ ভালো লাগলো।আসলে এখন মানুষকে বিশ্বাস করা খুবই কঠিন।কে ভালো কে খারাপ বোঝা মুশকিল।বেশ ভালো ছিল গল্পটি।ধন্যবাদ।

 3 years ago 

আজকার দিনে কোন মানুষকে বিশ্বাস করা ঠিক না ।বিশেষ করে যে বাড়িতে মেয়ে আছে তাদের তো একদমই উচিত হয় ।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.32
JST 0.098
BTC 64715.35
ETH 1920.72
USDT 1.00
SBD 0.38