★হ্যাপি নিউ ইয়ারের শুরুটা ভালো ছিলো★
আসসালামু আলাইকুম
আমার বাংলাব্লগের বন্ধুরা সবাই কেমন আছেন ভাল আছেন নিশ্চয়ই। আমিও আল্লাহর রহমতে ভালই আছি আলহামদুলিল্লাহ।
প্রথমে আপনাদেরকে হ্যাপি নিউ ইয়ারের শুভেচ্ছা জানিয়ে আমি আমার ব্লগটি শুরু করছি। বছরের প্রথম দিনে আমরা খুব সুন্দর করে আমাদের শুরুটা করেছি, বাকিটা যেন ভালো যায় আল্লাহর কাছে সেই কামনাই করি। সব সময় প্রতি বছরই এই দিনে আমরা ভালো একটু আনন্দ করে সময়টা কাটানোর চেষ্টা করি । আমাদের পাশের বাসার পরিবারের সাথে আমরা আমরা এক হয়ে এই সময়টা খুব সুন্দর করে কাটানোর চেষ্টা করি । একে তো নিউ ইয়ার তারপরে আবার পাশের বাসায় ভাই এর ১ তারিখে জন্মদিন হওয়ার কারণে ঐদিন একটু বেশি আনন্দ করতে পারি। কারণ জন্মদিন উপলক্ষে উনাদের বাসায় আমাদের বড়সড় একটা দাওয়াত থাকে। আর আমার ছেলেটাকে ওরা খুব বেশি আদর করে। আদর বললে ভুল হবে ওরা নিজের ছেলেই মনে করে। আমার ছেলেটা দিনের বেশিরভাগ সময়ই তাদের সাথে কাটায় এজন্য তাদের কোন অনুষ্ঠান হওয়া মানে ওর জন্য বিরাট কিছু। ওদের বাসায় যাওয়ার জন্য ছেলেটা আমার সেই সন্ধ্যা থেকে আমাকে বলছে মা রেডি হও রেডি হও। তারপরে আবার বিকালবেলা এসে বায়না ধরেছে যে আমার বাবার জন্মদিন উপলক্ষে আমি তাকে একটা পারফিউম উপহার দিতে চাই। এখন সে বায়না ধরেছে নিচে চলো মার্কেটে গিয়ে তার জন্য পারফিউম কিনে নিয়ে আসবো। আগেই বলে রাখি পাশের বাসার ভাইকে আমার ছেলে ছোটবেলা থেকেই বাবা বলে এবং ভাইও বলে। দুটো বলেই ডাকে ভাই বলে আমরা ভাই বলি এই কারণে আর বাবা তাকে অনেক বেশি ভালোবাসে তার ছেলে মেয়েরা বাবা বলে সেজন্য ও তাকে বাবা বলে।
আমার হাজব্যান্ড ছেলেকে নিয়ে গেল পারফিউম কেনার জন্য তারপর পারফিউম নিয়ে তবেই তার বাসায় আসা। আবার এসে লুকিয়ে রেখেছে যখন আমরা সবাই মিলে যাব তখন সে তাকে গিফট টা দেবে এবং যথারীতি আমরা সন্ধ্যার পরে রেডি হয়ে তাদের বাসায় গেলাম। বাসায় যাওয়ার পরে ছেলেটা তাকে যখন গিফটটা দিল সে এতটাই খুশি হয়েছে বলে বোঝাতে পারবো না। সেও খুশিতে পাগল হয়ে বলছে আমার ছেলের দেওয়া আমার সেরা গিফট। তারপর আমরা সবাই মিলে নাস্তা করলাম । এরপর কেক কাটা ও রাতের খাবারের পালা। যেহেতু নিউ ইয়ার নিউ ইয়ার উপলক্ষে সন্ধ্যা থেকে কমবেশি বাজি ফুটছে শব্দ পাচ্ছিলাম। আমরা আমাদের ২২ তলার ছাদে গিয়ে সেই রাত বারোটার আগেই উপস্থিত হয়ে থাকি। আজও যাওয়ার জন্য আগে থেকে রেডি হয়ে রয়েছি । আগেই সিকিউরিটি কে বলে ছাদের গেট খুলে রাখা হয়েছে। তারপর যথারীতি আমরা বারোটা বাযার ১৫ মিনিট আগে ছাদের উদ্দেশ্যে রওনা হলাম । আমরা গিয়ে দেখি সেখানে আরো লোকজন আসছে এবার অন্যান্য বারের তুলনায় লোকজন অনেক হয়েছে। আমরা ছাদে বেশ খানিকটা সময় থাকলাম বারোটা বাজলে চারদিক থেকে বাজির শব্দ ও লাল নীল বাজি ফুটছিল যেটা দেখতে আসলেই অসাধারণ লাগছিলো। এই ঠান্ডার ভিতর ২২ তলার উপরে উঠে এত সুন্দর একটি দৃশ্য দেখার মজাই আলাদা ছিল।
তারপর আমরা আরো কিছু ছবি তুলে নিলাম এরপর আরও বেশ কিছু সময় থেকে নিচে আসলাম। তারপর কেক কাটা হলো । কেকটা বরাবরের মতোই আমার ছেলেই কাটবে জন্মদিন যারই হোক না কেন কেকটা তাকেই কাটতে হবে, সে কেক না কাটলে হবেই না। আমরা রাত দুটার দিকে খাবারের জন্য বসে গেলাম। আমরা এতটাই আনন্দিত ছিলাম যে খাবারের মেইন ছবিগুলো তুলতেই আমি ভুলে গিয়েছিলাম। খাবারগুলো বেশ ইয়ামি ছিল কিন্তু ছবিগুলো আপনাদেরকে দেখাতে পারলাম না। তারপর আরো কিছু সময় থেকে আমরা কেক খেয়ে তারপর বাসায় চলে এলাম । কেকটা কিন্তু অনেক মজার ছিল ছবিতে আপনারা দেখতেই পারছেন । ভালই আনন্দময় কেটেছে আমাদের হ্যাপি নিউ ইয়ারের রাত্রিটি।
জন্মদিন উপলক্ষে ঘরের ভেতরটা খুব সুন্দর করে লাইটিং করে সাজানো হয়েছে। প্রতিবার আরো বেশি সুন্দর করে সাজানো হয় এবার একটু হালকা করে সাজানো হয়েছে। ভাই মনে করল যে আস্তে আস্তে বয়স হয়ে যাচ্ছে তাই একটু কমের ভেতর দিয়ে সাজালাম।
এখানে বিভিন্ন ধরনের নাস্তার আয়োজন করা হয়েছে আমি অল্প কিছু ছবি তুলেছি সবগুলো ছবি তুলতে পারিনি কারণ ছবিগুলো তোলার কথা আমি একেবারে ভুলেই গিয়েছিলাম শেষে গিয়ে মনে পড়েছে।
উপরের ছবিগুলো হচ্ছে ছাদের ছবি, ছাদে দাড়িয়ে যখন বাজির ধুমধাম আওয়াজ হচ্ছিল এবং চারিদিক থেকে আলো ঝলমল করছিল তখনকার ছবিগুলো তোলা হয়েছে। কুয়াশার কারণে এবারকার ছবিগুলো খুব একটা ভালো হয়নি, তবে অনেক বেশি আনন্দ আমরা করেছি।
আমরা তিনটি কেক কেটেছিলাম তার ভিতরে একটা ছিল জন্মদিনের কেক আর দুটো ছিল নিউ ইয়ারের কেক। নীল রংয়ের যে নিউ ইয়ার এর যে কেকটি এটা সুন্দর ছিল। এটাকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে ভেঙে তারপর উপরে চকলেট গুলো খাওয়া হয়েছিল এবং ভেতরে অনেক চকলেট ছিল যেটা আসলে দেখতে অনেক সুন্দর ছিল। আমিতো প্রথমে ভেবেছিলাম যে এটি বুঝি কাটতে হবে পরে দেখলাম যে না এটি হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে ভাঙতে হবে যেটা সত্যি সবার জন্য অনেক সুন্দর একটি মুহূর্ত ছিল।
আশা করছি আমার আজকের এই ব্লগটি আপনাদের সকলের কাছে ভালো লেগেছে। আজকের মত এখানেই বিদায় নিচ্ছি। সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন।
| ফটোগ্রাফার | @tauhida |
|---|---|
| ডিভাইস | samsung Galaxy s8 plus |
ধন্যবাদ
| আমি তৌহিদা, বাংলাদেশ আমার মাতৃভূমি।বাংলাদেশে আমার জন্ম।আমি আমার মাতৃভূমিকে ভালোবাসি। আমি বিবাহিতা, এক সন্তানের মা। আমি রান্না করতে ও খেতে ভালোবাসি,আমি ঘুরতেও অনেক ভালোবাসি। |
|---|
You've got a free upvote from witness fuli.
Peace & Love!
আপু আপনাকেও নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানাই। আপনারা এই আনন্দ উপভোগ করার জন্য ২২তলার ছাদে উঠেছেন শুনে আমি রীতিমতো অবাক হয়ে গেলাম। আপনারা সবাই এত উপরে উঠে আনন্দ করেছেন আর আমি হলে মাথা ঘুরে নিচে পরে যেতাম। একসাথে দুটো দিন উদযাপন করেছেন তাহলে তো আরও বেশি মজা হয়েছিল। তবে নিউ ইয়ারের নীল কেক দেখতে সত্যি অনেক সুন্দর ছিল। এটাকে হাতুড়ি দিয়ে ভেঙে তারপর ভিতরের চকোলেট খেয়েছেন শুনে মজা পেলাম। ধন্যবাদ আপু আপনার সুন্দর মুহূর্ত আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য।
আমরা নিউ ইয়ারে সব সময় ছাদে যাই আমাদের কাছে অনেক ভালো লাগে। নিউ ইয়ারের সময় ছাদে গেলে অন্যরকম একটা অনুভূতি হয় খুব সুন্দর লাগে। ধন্যবাদ আপু আপনাকে সুন্দর একটি মন্তব্য করার জন্য।
নিউ ইয়ারের শুভেচ্ছা আপু! দুই পরিবার মিলে ভালোভাবেই নতুন বছরটাকে বরণ করে নিলেন! বাসার ছা থেকেই দেখা গেছে আকাশে ফানুস উড়াতে! ফানুস দেখতে সুন্দর লাগছিল! কিন্তু এই ফানুসের জন্যও অনেক দূর্ঘটনাও হয়েছে। নীল রঙের কেকের রহস্যটা কি আপু! এতো শক্ত যে, হাতুড় দিয়ে ভাঙতে হলো!
আসলেই অনেক সুন্দর সময় কেটেছে। আর ছাদ থেকে সব দৃশ্য দেখতে খুবই ভালো লাগে। নীল রংয়ের কেকের রহস্যটা হলো ওটা হল চকলেট দিয়ে তৈরি এজন্য হাতুড়ি দিয়ে ভাঙতে হয়েছে। এটার সিস্টেমই হাতুড়ি দিয়ে ভাঙা ধন্যবাদ আপনাকে।
আপু আপনাকেও নতুন বছরের অনেক অনেক শুভেচ্ছা ৷ নতুন বছরের প্রথম দিনটা পাশের বাসার সাথে বেশ ভালোই কাটিছেন ৷ আপনাদের নতুন বছরকে বরণ করা এবং কাটানো সুন্দর মুহূর্ত গুলো দেখে বেশ ভালো লাগলো ৷ আশা করি নতুন বছরটা এভাবেই আনন্দের সাথে কেটে যাবে আপনাদের ৷ ধন্যবাদ আপনাকে সুন্দর অনুভুতি এবং সুন্দর মুহূর্ত গুলো শেয়ার করার জন্য ৷