★হঠাৎ করে হাতিরঝিলে ঘোরাঘুরি★
আসসালামু আলাইকুম
আমার বাংলাব্লগের বন্ধুরা সবাই কেমন আছেন ভাল আছেন নিশ্চয়ই। আমিও আল্লাহর রহমতে ভালই আছি আলহামদুলিল্লাহ।
আজ আমি আবার আপনাদের সামনে নতুন একটি ব্লগ নিয়ে হাজির হয়ে গিয়েছি । আজকে আপনাদের সাথে শেয়ার করব হঠাৎ করে হাতিরঝিলে ঘুরতে যাওয়ার আনন্দঘন কিছু মুহূর্ত । এখানে যাওয়ার সেদিন কোনো পরিকল্পনায় ছিল না । বিকেল বেলা আমরা শুয়ে আছি তখন আমার হাজবেন্ড কার যেন নৌকায় করে ঘোরার ছবি দেখে আমার কে জিজ্ঞাসা করল হাতির ঝিলে গেলে কি নৌকা চড়া যায় কিনা । আমি বললাম যে যায় তখন সে বলল যে চলো তাহলে আমরা যেয়ে একটু ঘুরে আসি । সে যেই বলা আমরা তো একেবারে যাওয়ার জন্য একেবারে রেডি । তারপরে আবার সে বলছে যে সন্ধ্যা হয়ে গিয়েছে এখন গেলে দেরি হয়ে যাবে । তারপরও আমরা কিছুতে ছাড়লাম না আমি আমার ছেলে বললাম যে যেতেই হবে পরে আমার হাজব্যান্ড ওর দ্বিমত না করে রাজি হয়ে গেল ।
আমরা ঝটপট রেডি হয়ে নিলাম তারপর টুইন টাওয়ার মার্কেটে কিছু ছোটখাটো শপিং করলাম । তারপর সেখান থেকে সন্ধ্যার কিছুক্ষণ পরে আমরা রিকশায় করে রওনা দিলাম হাতিরঝিলের উদ্দেশ্যে । সেখানে যেতে যেতে আমাদের রাত সাড়ে আটটা বেজে গিয়েছিল । চারিদিকে অন্ধকার ছিল দেখলাম যে সেই অন্ধকারের ভেতরের লোকজন নৌকায় করে ঘুরছে । কিন্তু আমরা আর বাচ্চা নিয়ে নৌকায় ওঠার সাহস করলাম না । এমনিতেই আমি সাঁতার জানি না তারপর আবার রাত হয়ে গেছে ।তারপর আমরা বেশ খানিকটা সময় হাতিরঝিলের এপাশ ওপাশ হাটাহাটি করলাম । ঘোড়া ফেরা করার জন্য খুবই সুন্দর একটি জায়গা । ওখানে লোকজনের কোন কমতি ছিল না আশেপাশে অনেক জায়গা থেকে লোকজন এসেছে ঘোরাফেরা করতে এবং কিছু কিছু লোকজন জায়গায় জায়গায় দেখলাম গিটার নিয়ে গান-বাজনা করছে দেখতে ভালই লাগছে ।
আমরা সেখানে ঘোরাফেরা করতে করতে ঝাল মুড়ি , পাপড় ভাজা, চানাচুর মাখা, চা ,কাঁচা আম মাখানো এগুলো খেতে থাকলাম আর ঘুরতে থাকলাম । এরপর সেখানে দেখলাম যে রাস্তার সাইডে খুব সুন্দর সুন্দর কয়েকটি রেস্টুরেন্ট রয়েছে দর্শনার্থীদের জন্যই মনে হয় ওই রেস্টুরেন্ট গুলো করা হয়েছে । রেস্টুরেন্ট টা দেখলাম ভালোই কিছু বসার ব্যবস্থা করেছে বাইরে রাস্তার পাশ দিয়ে লেকের পাড় দিয়ে উপর দিয়ে লতাপাতা দিয়ে ছাউনি দেওয়া হয়েছে জায়গাটা খুব সুন্দর ।আর তারই পাশে আবার এসি রুমের ব্যবস্থা করা হয়েছে ।আমরা প্রথমে বাইরে ছাউনির নিচে গিয়ে বসলাম এখানে গাছের নিচে বসতে ভালোই লাগছিল তবে একটু গরম ছিল ।ছেলে আবার কিছুতেই গরমের ভিতর বসবেনা এসি রুমের ভেতরে বসবে । তারপর বাধ্য হয়ে আবার রুমের ভিতরে গেলাম । গরমের ভিতর হেঁটে সেখানে বসতে আমার কাছেও খারাপ লাগেনি ভালই লেগেছে ।
সেখানে আবার দেখলাম যে কিছু কিছু পথও শিশুরা বসে ফুলের মালা বানাচ্ছে আবার ওরা সেই মালা গুলো বিক্রিও করছে লোকজনের কাছে । আবার মালা বিক্রির ফাঁকে ফাঁকে ওরা আবার সবাই মিলে খেলা করছে যেটা দেখতে ভালোই লেগেছিল ।
আমরা ঘোরাফেরা করে শেষে রেস্টুরেন্ট থেকে কিছু খাওয়া দাওয়া করলাম । বাইরে যাবো আর রেস্টুরেন্টে যাবো না তা কি হয় নাকি । তারপর বাসায় ফিরে আসলাম । আসার পথে ছেলের জন্য একটি খেলনা কিনলাম । ছেলেটা খেলনাটি পেয়ে সাথে সাথে আবার ও নাম রেখেও ফেলল । ও ওর নাম রাখল শেরু । নামটা আমার খুব পছন্দ হলো । আমার ফানার শেরু
রিকশায় উঠতে যাব তখন দেখলাম যে একটা লোক ভ্যানে করে খেলনা গুলো বিক্রি করছে । সেটা দেখে আমার পছন্দ হয়ে গেল আমি দাম জিজ্ঞাসা করলাম । লোকটি বলল ২০০ টাকা সেটা শুনে আরো পছন্দ হলো । তারপরও আমি একটু দামাদামি করলাম একটা জিনিস নিব দামাদামি না করলে কেমন হয় বলুন । আমি প্রথমে ১০০ টাকা বললাম সে দিল না পরে দেড়শ টাকা দিয়ে জিনিসটা কিনে নিয়ে আসলাম । ১৫০ টাকা হিসেবে খেলনাটি আসলেই খুবই চমৎকার হয়েছে এটা কোন শপিংমল থেকে কিনতে গেলে চার পাঁচশ টাকা তো নিতোই । সেটা পেয়ে ছেলেটা আমার খুবই খুশি হল । সবকিছুই আমাদের পূর্ণ হলো রেস্টুরেন্টে খাওয়া দাওয়াও হল ঘোরাও হলো এবং ছেলেকে খুশি করাও হলো । আসলে মাঝে মাঝে আমাদের জীবনে এরকম কিছু মুহূর্তের খুবই প্রয়োজন আছে যেটা আমাদের জন্য খুবই কাজে লাগে ।
আশা করছি আমার আজকের এই ব্লগটি আপনাদের সকলের কাছে ভালো লেগেছে। আজকের মত এখানেই বিদায় নিচ্ছি। সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন।
| ফটোগ্রাফার | @tauhida |
|---|---|
| ডিভাইস | samsung Galaxy s8 plus |
ধন্যবাদ
| আমি তৌহিদা, বাংলাদেশ আমার মাতৃভূমি।বাংলাদেশে আমার জন্ম।আমি আমার মাতৃভূমিকে ভালোবাসি। আমি বিবাহিতা, এক সন্তানের মা। আমি রান্না করতে ও খেতে ভালোবাসি,আমি ঘুরতেও অনেক ভালোবাসি। |
|---|
হঠাৎ করে হাতিরঝিলে ঘুরতে গিয়ে কত কিছুর স্বাক্ষী হয়ে গেলেন। কত কিছু খেলেন। অবশেষে আসার সময় ৪০০/৫০০ টাকার পুতুল ১৫০ টাকা দিয়ে নিয়ে আসলেন। ২৫০/৩০০ টাকা টাকা লাভ হয়ে গেল,হি হি হি। পুতুলটা সত্যিই সুন্দর। ধন্যবাদ।
রাতের বেলা কখনো হাতিরঝিলে যাওয়া হয়নি ভালোই লেগেছে যেয়ে । আর খেলনাটা সত্যি অনেক কমে পাওয়া গিয়েছে আমার কাছে মনে হল ।
রাত্রেবেলা তাহলে হাতিরঝিলে খুবই সুন্দর একটি মুহূর্ত অতিবাহিত করেছিলেন যদিও আপনারা হাতিরঝিলে ঘুরতে যাওয়ার উদ্দেশ্য ছিল নৌকার ভ্রমন করা। শেষ পর্যন্ত বেশি রাত হয়ে যাওয়ার কারণে নির্ণয় পথে উঠতে পারেননি তবে আশেপাশে খুবই সুন্দর মুহূর্ত অতিবাহিত করেছেন, আসলে হাতিরঝিলে রাত্রেবেলা অনেক সুন্দর একটি পরিবেশ বিরাজ করে। রাতের বেলা কয়েকবার হাতিরঝিলে যাওয়া হয়েছে অনেক রাত অব্দি সেখানে সময় কাটানো হয়েছে সত্যিই অনেক বেশি ভালো লাগে। শেষ পর্যন্ত বাঁচার জন্য খেলনা কিনে রেস্টুরেন্ট এর খাবার খাওয়া দাওয়া করে বাসায় ফিরেছেন জেনে ভালো লাগলো। আপনার কাটানো সুন্দর মুহূর্তটা শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ।
রাত হয়ে গিয়েছে দেখে শেষ পর্যন্ত আর চড়া হলো না কিন্তু পরিবেশটা অনেক ভালো লেগেছে । ধন্যবাদ আপনাকে ।
হাতিরঝিল জায়গাটা আসলেই অনেক সুন্দর। আমিও অনেকদিন রাতে এখানে ঘুরতে গিয়েছি, এমন জায়গাতে খুবই ভালো লাগে সময়টা অতিবাহিত করতে। তাহলে তো খুবই ভালো কাজ করেছেন শপিং মল থেকে না কিনে হাতিরঝিল থেকে দেড়শ টাকা দিয়ে খেলনা টা কিনে।
আমি আগে কখনো রাতের বেলা যাইনি প্রথম গেলাম ভালই লেগেছে ।
মনে হয় হাতিরঝিল জায়গাটি অনেক সুন্দর। আসলে এরকম জায়গা গুলোর মধ্যে পরিবারের লোকের সাথে ঘুরতে গেলে অনেক ভালোই লাগে। যাইহোক হঠাৎ করে তাহলে হাতিরঝিল ঘুরে দেখলেন। তবে আপনার মত আমিও নৌকাতে উঠতে ভয় পাই কারণ আমি নিজেও সাঁতার জানি না। আপনি তো দেখতেছি বাবুর জন্য খুব চমৎকার একটি খেলনা কিনলেন ১৫০ টাকা দিয়ে। যদি এটি মার্কেট থেকে কিনতেন তাহলে ৪০০ টাকার উপরে হতো। যাইহোক সুন্দর সময় কাটিয়েছেন দেখে খুব ভালো লাগলো ধন্যবাদ আপনাকে।
সাঁতার জানা না থাকলে নৌকাতে উঠতে একটু ভয় লাগে তবে নৌকায় উঠতে কিন্তু ভালই লাগে ।
সন্ধ্যাবেলা এরকম জায়গাগুলোর মধ্যে ঘুরতে গেলে এমনি তো অনেক ভালো লাগে। ভাইয়া বলার সাথে সাথে আপনি ঘুরতে যাওয়ার জন্য রাজি হয়ে গেলেন। এবং হাতিরঝিলে ঘুরতে গেলেন। যদি নৌকার মধ্যে উঠতেন তাহলে আরো ভালো লাগতো। তবে বেশিরভাগ মানুষ নদীতে নৌকার মধ্যে উঠতে ভয় পাই। তবে আপনি আপনার বাচ্চার জন্য খুব চমৎকার একটি পুতুল কিনলেন ভ্যান গাড়ি থেকে। সত্যি বলতে ১৫০ টাকা দিয়ে সুন্দর পুতুলে কিনেছেন। আসলে দামটি বড় কথা নয় পছন্দটাই বড় কথা। যাইহোক আপনার অনুভূতি আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।
আমার তো ঘুরতে অনেক বেশি ভালো লাগে । এই জন্য কেউ যদি ঘোরার কথা বলে আমি সাথে সাথেই রাজি হয়ে যাই ।ঠিকই বলেছেন পছন্দের জিনিস কিনতে পারাটাই বড় কথা।
আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন হাতিরঝিলে ঘোরাঘুরির কিছু মুহূর্ত। আসলে ঘোরাঘুরি করতে প্রত্যেকটি মানুষের কাছেই বেশ ভালো লাগে আপু। সেখানে ঘুরতে গিয়ে আপনি বেশ কিছু খাওয়া দাওয়া করেছেন সেগুলো আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন। পথশিশুরা রাস্তার পাশে বসে তাদের জিনিস সামগ্রী বিক্রয় করছে সেগুলোর ছবি তুলে আপনি আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন দেখতে বেশ ভালো লেগেছে আপু। দেখে বোঝা যাচ্ছে আপনি সেখানে বেশ ভালো সময় অতিবাহিত করেছেন। ধন্যবাদ এত সুন্দর একটি পোস্ট শেয়ার করার জন্য।
বাইরে ঘুরতে যাব আর খাওয়া-দাওয়া করবো না এটা কি হয় নাকি , এটা তো ঘোরারই একটা অংশ ।